এক অনির্বাণ জ্যোতি



সাতাত্তরের সাতগাছিয়া।
তখনও জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হননি। তার আগেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন।
নির্বাচনের দু’দিন আগে, মার্কিন পাঠকের কাছে সাতগাছিয়াকে চেনাতে টাইমসের প্রতিবেদক কস্তুরি রঙ্গন লিখছেন: ‘কলকাতা থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে, একটি উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলের জেলা শহর, যার অর্থ ‘সাতটি গাছের বাগান’। এমন উর্বরতা সত্ত্বেও, জেলাজুড়ে শুধু দারিদ্র আর বেকারি— আর মার্কসবাদ।
প্রতি চারজনে একজনের কাজ নেই। শ্রমিক এবং উৎপাদনের সমস্যার কারণে জেলায় পাঁচটি চটকলের ঝাঁপ বন্ধ থাকে প্রায়শই, আর তার অনিবার্য পরিণতি ছাঁটাই। বিপুল সংখ্যায় উদ্বৃত্ত খেতমজুর, খুব কমই সারা বছর কাজ পান। চাষ হয় একেবারে আদিম প্রক্রিয়ায়, কোথাও নেই সেচের ব্যবস্থা। টিউবঅয়েল যা দেখা যায় দেশের সর্বত্র, নেই এখানে।’
সেদিনই এমনই ছিল রাজ্যের ছবি। দারিদ্র, আর বেকারির হাহাকার। বন্ধ কারখানা। কৃষির আদিম চেহারা। যেমন টাইমসের প্রতিবেদক কস্তুরিকে সেদিন বলেছিলেন কৃষক সত্যচরণ মণ্ডল, তাঁর ‘দশজনের পরিবার, কিন্তু বছরে কাজ পান মেরেকেটে চার-মাস।’ যেমন বলেছিলেন চটকল শ্রমিক পুরুষ চন্দ্র সামন্ত, ‘তিন-মাস ধরে কোনও কাজ নেই’।
এখান থেকে পরিবর্তন।
শ্রমিক-কৃষক, সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক বাংলার প্রকৃত রূপকার কমরেড জ্যোতি বসু।
তথাকথিত ‘বাংলার রূপকার’, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধান চন্দ্র রায়, কিংবা রাজ্যের গণতন্ত্রের ‘কালাপাহাড়’ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় বাংলাকে শুধুই ‘হতদরিদ্র’ রেখে গিয়েছেন।
গ্রামীন দারিদ্রে দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে গরীব, সার্বিক দারিদ্রের হারে দ্বিতীয় ছিল পশ্চিমবঙ্গ।
যোজনা কমিশনের একাদশ পরিকল্পনায় (ভলিউম-৩, পৃষ্ঠা ১০০-১০১) তার স্বীকারোক্তি: ১৯৭৩-৭৪, গ্রামীন দারিদ্রের হার ছিল ৭৩.২ শতাংশ (সমস্ত রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে, এমনকি ওড়িশারও পিছনে), যেখানে জাতীয় গড়ছিল ৫৬.৪ শতাংশ।

সাতাত্তর, জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার।
ভূমি সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত।
২০০৪-০৫, দারিদ্রের হার নেমে আসে ২৮.৬ শতাংশে।

সার্বিক দারিদ্রের হার এই সময়ে ৬৩.৪ শতাংশ থেকে কমে হয় ২৪.৭ শতাংশ।
যেখানে জাতীয় গড় ৫৪.৯ শতাংশ থেকে কমে হয় ২৭.৫ শতাংশ।
দারিদ্র হ্রাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।
জাতীয় নমুনা সমীক্ষা (এনএসএসও)-র ৬৯ দফার প্রতিবেদন: ২০১০-১১, রাজ্যে গ্রামীন বাজারের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,০০০ কোটি টাকা।
এই দুরন্ত বাস্তবকে, জ্যোতি বসু, রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের এই বেনজির সাফল্যকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না ইতিহাসের পাতা থেকে।
১৭ জানুয়ারি, ২০১০। তিনি প্রয়াত হওয়ার পরে সেই নিউ ইয়র্ক টাইমস-ই লিখছে, ‘যাঁর বৃহত্তম নীতি উদ্যোগ ছিল পশ্চিমবঙ্গে ভূমি সংস্কার। জমি বন্টন করা হয়েছিল ২০ লক্ষের বেশি ভূমিহীন পরিবারকে।’

১৮ মার্চ, ১৯৮৭। নির্বাচনী জনসভা। সাতগাছিয়া।

১৯৮৯, সাতগাছিয়াতে প্রচারে।
প্রকাশ: ০৭-জুলাই-২০২০

সাতাত্তরের সাতগাছিয়া।
তখনও জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হননি। তার আগেই নিউ ইয়র্ক টাইমসে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন।
নির্বাচনের দু’দিন আগে, মার্কিন পাঠকের কাছে সাতগাছিয়াকে চেনাতে টাইমসের প্রতিবেদক কস্তুরি রঙ্গন লিখছেন: ‘কলকাতা থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে, একটি উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলের জেলা শহর, যার অর্থ ‘সাতটি গাছের বাগান’। এমন উর্বরতা সত্ত্বেও, জেলাজুড়ে শুধু দারিদ্র আর বেকারি— আর মার্কসবাদ।
প্রতি চারজনে একজনের কাজ নেই। শ্রমিক এবং উৎপাদনের সমস্যার কারণে জেলায় পাঁচটি চটকলের ঝাঁপ বন্ধ থাকে প্রায়শই, আর তার অনিবার্য পরিণতি ছাঁটাই। বিপুল সংখ্যায় উদ্বৃত্ত খেতমজুর, খুব কমই সারা বছর কাজ পান। চাষ হয় একেবারে আদিম প্রক্রিয়ায়, কোথাও নেই সেচের ব্যবস্থা। টিউবঅয়েল যা দেখা যায় দেশের সর্বত্র, নেই এখানে।’
সেদিনই এমনই ছিল রাজ্যের ছবি। দারিদ্র, আর বেকারির হাহাকার। বন্ধ কারখানা। কৃষির আদিম চেহারা। যেমন টাইমসের প্রতিবেদক কস্তুরিকে সেদিন বলেছিলেন কৃষক সত্যচরণ মণ্ডল, তাঁর ‘দশজনের পরিবার, কিন্তু বছরে কাজ পান মেরেকেটে চার-মাস।’ যেমন বলেছিলেন চটকল শ্রমিক পুরুষ চন্দ্র সামন্ত, ‘তিন-মাস ধরে কোনও কাজ নেই’।
এখান থেকে পরিবর্তন।
শ্রমিক-কৃষক, সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক বাংলার প্রকৃত রূপকার কমরেড জ্যোতি বসু।
তথাকথিত ‘বাংলার রূপকার’, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধান চন্দ্র রায়, কিংবা রাজ্যের গণতন্ত্রের ‘কালাপাহাড়’ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় বাংলাকে শুধুই ‘হতদরিদ্র’ রেখে গিয়েছেন।
গ্রামীন দারিদ্রে দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে গরীব, সার্বিক দারিদ্রের হারে দ্বিতীয় ছিল পশ্চিমবঙ্গ।
যোজনা কমিশনের একাদশ পরিকল্পনায় (ভলিউম-৩, পৃষ্ঠা ১০০-১০১) তার স্বীকারোক্তি: ১৯৭৩-৭৪, গ্রামীন দারিদ্রের হার ছিল ৭৩.২ শতাংশ (সমস্ত রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে, এমনকি ওড়িশারও পিছনে), যেখানে জাতীয় গড়ছিল ৫৬.৪ শতাংশ।

সাতাত্তর, জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার।
ভূমি সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত।
২০০৪-০৫, দারিদ্রের হার নেমে আসে ২৮.৬ শতাংশে।

সার্বিক দারিদ্রের হার এই সময়ে ৬৩.৪ শতাংশ থেকে কমে হয় ২৪.৭ শতাংশ।
যেখানে জাতীয় গড় ৫৪.৯ শতাংশ থেকে কমে হয় ২৭.৫ শতাংশ।
দারিদ্র হ্রাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।
জাতীয় নমুনা সমীক্ষা (এনএসএসও)-র ৬৯ দফার প্রতিবেদন: ২০১০-১১, রাজ্যে গ্রামীন বাজারের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,০০০ কোটি টাকা।
এই দুরন্ত বাস্তবকে, জ্যোতি বসু, রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের এই বেনজির সাফল্যকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না ইতিহাসের পাতা থেকে।
১৭ জানুয়ারি, ২০১০। তিনি প্রয়াত হওয়ার পরে সেই নিউ ইয়র্ক টাইমস-ই লিখছে, ‘যাঁর বৃহত্তম নীতি উদ্যোগ ছিল পশ্চিমবঙ্গে ভূমি সংস্কার। জমি বন্টন করা হয়েছিল ২০ লক্ষের বেশি ভূমিহীন পরিবারকে।’

১৮ মার্চ, ১৯৮৭। নির্বাচনী জনসভা। সাতগাছিয়া।

১৯৮৯, সাতগাছিয়াতে প্রচারে।
শেষ এডিট:: 07-Jul-20 23:59 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/shantanu-dey-jyoti-basu
Categories: Current Affairs
Tags: #longlivejyotibasu, cpim, cpimwb, jyoti basu
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (157)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (142)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





