নভেম্বর বিপ্লব ও তার শপথ

Author
শ্রেয়সী চৌধুরী

“আপনার বহুল প্রকাশিত জালিয়ানওয়ালাবাগের রক্তাক্ত সঙ্ঘর্ষের বিবরণ পড়েছেন মিস্টার লেনিন। তাঁর পক্ষ থেকে ভারতীয় জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আমাকে একথা জানাতে বলেছেন যে, তাঁর ভারতীয় ভ্রাতাদের ন্যায্য আদর্শের প্রতি সোভিয়েত সরকারের পূর্ণ সহানুভুতি আছে।”

November Revolution: The Oath

কী এই নভেম্বর বিপ্লব? কেন এটি বিশ্বের খেটেখাওয়া মানুষের কাছে শ্রেণীসংগ্রামের দিকনির্দেশক হয়ে উঠল? ঐ শব্দ দুটি কানে গেলে লুটে খাওয়ারাই বা কেন আজও থরহরিকম্প যায়?

সাম্রাজ্যবাদ কথাটা শোনা গেলেও তার আসল কামড় কোথায় তা বুঝতে পারা, অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারার জন্য তৃতীয় বিশ্বের বাস্তবকে নাড়াঘাটা করা বড়ই দরকার। নয়া উদারবাদের বাজার নীতি মেনে বিশ্বের যেখানেই যাবেন, একদল মানুষ পাবেন যাদের প্রশ্ন “আদৌ কি কোনও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে নভেম্বর বিপ্লবের?” এ লেখা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সামান্য চেষ্টা, তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা যে আমাদের দেশের নির্মানকালীন অঙ্গীকারের ইতিহাস, লুটেরা ব্রিটিশ শাসকের হাত থেকে জন্মভুমিকে ছিনিয়ে আনার ঐতিহ্যকে, যা কিনা প্রস্তুত হয় সাম্রাজ্যের আগ্রাসন বিরোধী লড়াই-এর মাধ্যমে, কমিউনিস্টদের হাত ধরেই।

জয়দেব বসু ছোটোদের জন্য লেনিনের শুরুর দিনের গল্প ধরে ধরে একটি বই লিখেছিলেন, বইটির প্রথম অধ্যায় শুরুই হয় ১৯১৯-এর জালীয়ানওয়ালাবাগে। ব্রিটিশ শাসকের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামী সৈফুদ্দিন কিচলু এবং সত্যপালকে নির্বাসন দণ্ড দেবার প্রতিবাদ সভা। মাঠের ভেতরে, সব গেট বন্ধ করে নিরস্ত্র জমায়েতে অনর্গল গুলিবর্ষণ, এবং হতভম্ভ জনতা দিশেহারা হয়ে মাঠের একটি কুয়োতে ঝাঁপ দেয়, চিৎকার, মৃত্যুর পাহাড়। কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই প্রায় হাজার খানেক মানুষ নিহত। আজকের দুনিয়াতেও গাজা থেকে সুদান অবধি এমনই কিছু দৃশ্য দেক্ষা যাচ্ছে।

সেসময়, ১৯১৯-এর এপ্রিলে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত অমৃতবাজার পত্রিকায় ছোটো একটি চিঠি ছাপা হয়, লেখক? ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। চিঠির বয়ান, “আপনার বহুল প্রকাশিত জালিয়ানওয়ালাবাগের রক্তাক্ত সঙ্ঘর্ষের বিবরণ পড়েছেন মিস্টার লেনিন। তাঁর পক্ষ থেকে ভারতীয় জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আমাকে একথা জানাতে বলেছেন যে, তাঁর ভারতীয় ভ্রাতাদের ন্যায্য আদর্শের প্রতি সোভিয়েত সরকারের পূর্ণ সহানুভুতি আছে।”

জয়দেব বসু লিখছেন,”কে এই মিস্টার লেনিন?” অত্যাচারী জারের শাসন নির্মূল করে যিনি সমাজতন্ত্র প্রতীষ্ঠা করেছিলেন রাশিয়ায়। মানুষকে শিখিয়েছিলেন জেতা যায়, সাম্রাজ্যবাদ অপরাজেয় নয়।

১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা জারতন্ত্রের উৎখাত করে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এই ইতিহাস, পালটে দিয়েছে পৃথিবীকে। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা সামাজিক অসাম্য, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বিপ্লবের জমি প্রস্তুত করেই রেখেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাব বিস্ফোরক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। জার দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনামলে, রাশিয়ার অত্যাচারী সরকার শ্রমিক ও কৃষকদের নিপীড়নের শেষ সীমায় পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের মধ্যেকার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার ফলে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক যন্ত্রণায় অতীষ্ঠ। ১৯১৭ সালের প্রথম দিকে, খাদ্য সংকট, ব্যাপক ধর্মঘট এবং সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ দেশটিকে উত্তাল পরিবর্তনের প্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সূচনা হয় যখন পেট্রোগ্রাডের মহিলা টেক্সটাইল শ্রমিকেরা ‘শান্তি, জমি এবং রুটি’ দাবি করে ধর্মঘট শুরু করে। তাদের আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, সৈন্যদের যোগদানের মাধ্যমে, যাদের কিনা বিক্ষোভ দমন করতে পাঠায় জার। জার দ্বিতীয় নিকোলাস ২রা মার্চ সিংহাসন ত্যাগ করেন, ৩০০ বছরেরও বেশি রোমানভ শাসনের অবসান ঘটে। সে জায়গায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Provisional Government) গঠিত হয়, কিন্তু এই শাসন উদারপন্থী ও মধ্যপন্থী সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদদের সরকার, এবং তাদের দৌড় বটড়জোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি অবধি। এই সরকার, স্বাভাবিকভাবেই, শ্রমিক ও কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে ব্যর্থ হয়। এদিকে, সোভিয়েত নামে পরিচিত স্থানীয় পরিষদগুলি—যেগুলি গঠিত শ্রমিক ও সৈনিকদের দ্বারা— সেগুলি ইতিমধ্যেই ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসে। এই ‘দ্বৈত ক্ষমতা’ (dual power) ব্যবস্থা বিপ্লবী সোভিয়েতগুলিকে রক্ষণশীল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়।

এমনসব অস্থিরতার মধ্যে, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ও বলশেভিকরা একটি আমূল বিকল্প উপস্থাপন করেন। এপ্রিল মাসে নির্বাসন থেকে ফিরে, লেনিন এপ্রিল থিসিস (April Theses) প্রচার করেন, যাতে তিনি যুদ্ধের অবসান, কৃষকদের মধ্যে জমি পুনর্বন্টন এবং সোভিয়েতগুলির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান। তাঁর “শান্তি, জমি এবং রুটি” এবং “সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতদের হাতে” স্লোগান জনগণের মধ্যে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা বাড়তে থাকায়, বলশেভিকরা সোভিয়েতগুলির মধ্যে প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং সিদ্ধান্তমূলক সমাধান দেওয়া একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

এসময়, জুলাই ডেজ (July Days) বিদ্রোহ এবং কর্নিলভ কেলেঙ্কারী (Kornilov Affair) বিপ্লবের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। জুলাই মাসের বিক্ষোভ যদিও অকালপক্ব ছিল তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক রোষ প্রকাশ করে, অন্যদিকে আগস্ট মাসে কর্নিলভের ব্যর্থ অভ্যুত্থান—যা বলশেভিকদের সংগঠিত শ্রমিক ও সৈনিকদের দ্বারা পরাজিত হয়—সরকারকে অকার্যকর প্রমাণিত করে এবং বলশেভিকদেরকে বিপ্লবের রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অক্টোবরের মধ্যে, বলশেভিকরা পেট্রোগ্রাড এবং মস্কোর মূল সোভিয়েতগুলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাভ করে এরপর দ্বৈত ক্ষমতা ব্যবস্থা আর টিকে থাকতে পারেনি।

২৫-২৬ অক্টোবর (নতুন নিয়মে ৬-৭ নভেম্বর), বলশেভিক নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত বাহিনী শান্তিপূর্ণভাবে পেট্রোগ্রাডের নিয়ন্ত্রণ দখল করে, সরকারী ভবনগুলি দখল করে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে এটিকে একটি অভ্যুত্থান বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তার বিপরীতে এই বিদ্রোহটি ছিল সোভিয়েতগুলির মাধ্যমে সঞ্চালিত একটি গণতান্ত্রিক কর্ম, যা সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছাকে প্রতিনিধিত্ব করছিল। নতুন সরকার অবিলম্বে শান্তি ও জমির বিষয়ে ডিক্রি জারি করে, রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে এবং কৃষকদের কাছে জমি হস্তান্তর করে। শ্রমিকরা কারখানা ও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়, একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন হয়।

বিপ্লবের সাফল্য সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে, ইউরোপ ও অন্যান্য জায়গায় বিদ্রোহ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়। যাইহোক, নতুন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র শীঘ্রই প্রতিবিপ্লব ও বিদেশী আক্রমণের মুখোমুখি হয়, কারণ ২১টি সেনাবাহিনী শ্রমিক রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করার প্রয়াসে হস্তক্ষেপ করে। যদিও বলশেভিকরা পরবর্তী গৃহযুদ্ধে টিকে থাকে, এবং শেষ পর্যন্ত অক্টোবর বিপ্লব প্রমাণ করে যে শ্রমিক ও কৃষকরা পুঁজিবাদকে উৎখাত করে তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। এর ঐতিহ্য মানব ইতিহাসের একটি মাইলফলক এবং সামষ্টিক সংগ্রাম কী অর্জন করতে পারে তার প্রতীক। ১৯১৭-র বিপ্লবের ঐতিহাসিক শিক্ষা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত একটি বিপ্লবী দলের প্রয়োজনীয়তায় নিহিত— যারা আজও সমাজতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমস্ত দমণ-পীড়ণের হাত থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য এ শিক্ষা, যাকে বলে শেষ কথা।

১৯১৭ সালের অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-এর সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়, ঐতিহাসিক চীনা বিপ্লব, ভিয়েতনাম, কোরিয়া এবং কিউবায় সমাজতান্ত্রিক শক্তির সাফল্যের পাশাপাশি প্রাক্তন উপনিবেশগুলির রাজনৈতিক স্বাধীনতা এই গটা পথটাই শুরু অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে। সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রথম প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানবতার জন্য একটি নতুন পথ প্রশস্ত করেছিল, শ্রেণী শোষণমুক্ত সমাজ তৈরি করেছিল। উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব অর্জন করেছিল দ্রুত শিল্পায়ন, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আবাসনে বিশাল সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে বাস্তবায়িত এই অর্জনগুলি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলির উপরওচাপ সৃষ্টি করেছিল, তাদের জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করেছিল।
সমাজতন্ত্রের নির্মাণ ছিল একটি অজানা পথ, যা কিনা অক্টোবর বিপ্লব বাস্তবান্বিত করে এবং বিংশ শতাব্দীতে মানব সমাজের উন্নয়নের লক্ষে সমাজতন্ত্র এবং গণআন্দোলনের গভীর প্রভাব প্রদর্শন করেছে।
বিপরীতে, বিশ্ব পুঁজিবাদ মানবতার মৌলিক সমস্যা সমাধানে মৌলিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তার অক্ষমতা প্রমাণিত। এটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলিতে উৎপাদনশীল শক্তি বিকাশ করেছে ঠিকই কিন্তু তা জন্ম দিয়েছে বেকারত্বের। আয় ও সম্পদের বৈষম্যকে তীব্রতর করেছে, এবং শ্রমিকদের শোষণকে অবর্ণনীয় করে তুলেছে। লুণ্ঠনমূলক এবং ধ্বংসাত্মক এই ব্যবস্থা পৃথিবীকে ঠেলে দিয়েছে দুটি বিশ্বযুদ্ধের বর্বরতায়। অস্ত্রব্যবসাকে তার অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে তৈরী করেছে। নয়া-উদারবাদ যাবতীয় সামাজিক নিরাপত্তার ধ্বংসসাধন করেছে, শ্রমের অবনতি এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুনাফার জন্য লোভী প্রবণতা পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং উৎপাদনের সামাজিকীকৃত প্রকৃতি এবং উদ্বৃত্ত মূল্যের ব্যক্তিগত দখলের মধ্যে মৌলিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

পুঁজিবাদের বর্তমান পর্যায়টি অর্থ পুঁজির অভূতপূর্ব ঘনীভূতকরণ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ দ্বারা চিহ্নিত। এই বিশ্বব্যাপী চলমান ‘অনুমানমূলক অর্থ পুঁজি’ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির জাতীয় সার্বভৌমত্বকে আক্রমণ করে, অতি-মুনাফার জন্য বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার খোঁজে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ডব্লিউটিওর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই অন্যায্য-উত্তর-ঔপনিবেশিক বিশ্ব ব্যবস্থার হাতিয়ার। অর্থ পুঁজির এই আধিপত্য উন্নত দেশগুলিতে মন্থর প্রবৃদ্ধি এবং তৃতীয় বিশ্বের জন্য শোষণ ও ঋণের একটি দুষ্টচক্রের সৃষ্টি করে, ধনী ও দরিদ্র দেশগুলির মধ্যে ব্যবধানকে আরও প্রশস্ত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের উতপাটনের সাথে সাথে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বব্যাপী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রাসীভাবে তার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করেছে, যা ন্যাটো সম্প্রসারণ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে শক্তির বর্তমান পারস্পরিক সম্পর্ক সত্ত্বেও, পুঁজিবাদ এখনও নিপীড়ন ও শোষণের একটি সংকট-কবলিত ব্যবস্থা হিসাবে রয়ে গেছে। এই যুগের কেন্দ্রীয় সামাজিক দ্বন্দ্ব হলো সাম্রাজ্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে। অন্যান্য মূল দ্বন্দ্ব—সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির মধ্যে এবং শ্রম ও পুঁজির মধ্যে—ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, শ্রমিক শ্রেণী এবং তার দলগুলিকে একটি নিরলস সংগ্রাম পরিচালনার জন্য আদর্শিক, রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে নিজেদেরকে সজ্জিত করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য এবং বর্তমান অন্যায্য বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিশ্ব ব্যাপী বাম, গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সর্বহারা আন্তর্জাতিকতার উপর ভিত্তি করে একটি দল হিসাবে শান্তি, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করা সমস্ত শক্তির সাথে সিপিআই(এম) সংহতি প্রকাশ করে। এই হল অঙ্গীকার, নভেম্বর বিপ্লবকে চেতনায় রেখে নেওয়া শপথ।


প্রকাশ: ১২-নভেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 12-Nov-25 10:19 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/november-revolution-the-oath
Categories: Campaigns & Struggle
Tags:
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড