এমএনরেগাঃ একটি বিশ্লেষণ (পর্ব ৩)

চলতি আইন মোতাবেক কাজ শেষে ১৪ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্ত প্রকল্প শুরু হওয়ার কুড়ি বছর পরেও তাদের সে হোক এক ‘অধরা অধিকার’ হিসাবেই রয়ে গেছে।

জঁ দ্রেজ
রাহুল আর
জঁ দ্রেজ, এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাণিতিক অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স, দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্সে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এবং দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্সে সম্মানীয় অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্বরত। উন্নয়নমূলক অর্থনীতি এবং জনস্বার্থনীতি বিষয়ে তার নির্দিষ্ট অবদান রয়েছে, বিশেষ করে ভারতের প্রসঙ্গে। তার গবেষণার মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক বৈষম্য, প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যপরিষেবা এবং খাদ্য নিরাপত্তা। ‘হাঙ্গার অ্যান্ড পাবলিক অ্যাকশন (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৯) এবং অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইটস কনট্রাডিকশনস (পেঙ্গুইন, ২০১৩)’ বইগুলিতে তিনি অমর্ত্য সেনের সহ লেখক। ‘পাবলিক রিপোর্ট অন বেসিক এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া’তেও তিনি লেখকদের অন্যতম একজন, যা ‘প্রোব রিপোর্ট’ নামেও পরিচিত।
রাহুল আর, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার ছাত্র।
মূল প্রবন্ধটি আইডিয়াজ ফর ইন্ডিয়া প্ল্যাটফর্মে ৩১ জুলাই ২০২৫ [1] প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকৃত মজুরি
প্রকল্পের শুরুর দিকে ব্যবস্থাপনায় আইন অনুযায়ী মনরেগা-র কর্মীদের কৃষি শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকার ছিল। কিছু ক্ষেত্রে মনরেগা-তে মজুরির পরিমাণ বাজার মূল্যের চেয়েও বেশি ছিল। ২০০৯ সালে কেন্দ্র সরকার আইন সংশোধন করে, মনরেগা-র মজুরি ঠিক করার ক্ষমতা সরকার নিজের হাতে নেয়। সার্বিকরূপে ১০০ টাকা প্রতিদিন নির্ধারণ করা হয়েছিল (যেখানে কৃষিশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বেশি ছিল সেখানেই শুধু টপ-আপ)। এরপর থেকে মজুরি শুধুই মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য করে বাড়ে, প্রকৃত অর্থে আদৌ বাড়ে না– কার্যত একই জায়াগায় আটকে থাকে[i]।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকার পর ২০০৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে খেতমজুরদের প্রকৃত মজুরি বাড়ে। ২০১৪-পরবর্তী সময়ে আবার স্থবির বা ধীরগতিসম। চিত্র-৮’এ দেখানো হয়েছে মনরেগা’তে প্রথমদিকে মজুরির পরিমাণ খেতমজুরির চাইতে বেশি হলেও পরে সেই তুলনায় কমে যায়। ২০১৪-১৫ সালে মনরেগা-র মজুরি পুরুষ খেতমজুরদের মজুরির মাত্র দুই-তৃতীয়াংশে নেমে আসে; সেই ব্যবধান এখনও বিদ্যমান।
চিত্র - ৮, মনরেগা এবং কৃষি শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি (২০১৪-১৫ মূল্যে প্রতিদিন টাকা)
দ্রষ্টব্য: STW = বপন, রোপণ, আগাছা পরিষ্কার করা; HTW = ফসল কাটা, মাড়াই, ঝাড়া।
সূত্র: ভারত সরকার ঘোষিত MNREGA মজুরির (২০১৩) শীট ১ এবং ১৫, ২০১১-১২ পর্যন্ত। ভারত সরকারের (২০১৫, ২০২৫) ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪; MNREGA-MIS, রিপোর্ট R7.1.2 ২০১৪-১৫। ২০১৪-১৫’র আগের বছরগুলিতে MNREGA’র গড় মজুরি মোট মজুরি ব্যয়কে মোট ব্যক্তি-দিন দিয়ে ভাগ করে গণনা করা হত। কৃষি মজুরি গ্রামীণ ভারতের মজুরি হার সিরিজ থেকে নেওয়া যা ফাউন্ডেশন ফর অ্যাগ্রেরিয়ান স্টাডিজের যুগ্ম-পরিচালক অরিন্দম দাস দ্বারা সংকলিত হয়েছে। মজুরির সমস্ত অর্থ খেতমজুরদের জন্য সাধারণ ক্রেতা মূল্য সূচকের নিরিখে বিবেচিত।
এ চার্টে মনরেগা’র সর্বভারতীয় মজুরি MIS থেকে সরাসরি সংগৃহীত। যখন সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় না তখন মজুরি বাবদ মোট ব্যয়কে মনরেগা-র কর্মসংস্থানের কর্মদিবসের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়। উভয় পদ্ধতিতেই সরাসরি তথ্য পাওয়া যাবে এমন বছরগুলিতে প্রায় একই ধরনের ফলাফল দেখা যায়। কৃষিকাজে লিঙ্গ-নির্দিষ্ট মজুরি তিনটি আলাদা আলাদা পেশার উপর এক সাধারণ গড় হিসাবে গণনা করা হয়। প্রাথমিক কার্যকলাপের জন্য (বীজ বপন, রোপণ, আগাছা পরিষ্কার করা ইত্যাদি), ফসল কাটার সময়কার কার্যকলাপের জন্য আলাদাভাবে (ফসল কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ইত্যাদি)[ii]। এ দুটি কাজের জন্য মজুরির গড় প্রায় একই রকম। CPI-AL[2] ব্যবহার করে ২০১৪-১৫-র সময়কার মূল্যের নিরিখে যাবতীয় মজুরিই প্রকৃত মজুরিতে রূপান্তরিত হয়।
একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা (প্যাটার্ন) দেখা যাবে। মনরেগা-র গড় মজুরি প্রথম পর্যায়ে খেতমজুরির চাইতে কিছুটা বেশিই ছিল। কিন্তু পরে তা কমে যায়, আসলে একদিকে ঐ কাজে মজুরির পরিমানে আর বৃদ্ধি ঘটেনি আরেকদিকে মজুরির বাজারদর ক্রমাগত বাড়তেই থেকেছে। ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ, মনরেগা’র কাজে মজুরি পুরুষ কর্মীদের খেত মজুরি বাবদ প্রাপ্যের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ ছিল, তারপর থেকে সেই ব্যবধান অব্যাহতই ছিল [iii]।
এক জায়গায় আটকে থাকা প্রকৃত মজুরি, বেতনের সমস্যা (প্রধানত বেতন মিটিয়ে দেওয়ায় দেরি আবার অন্যদিকে স্থানান্তরিত, প্রত্যাখ্যাত, বা মজুরি আটকে থাকার সমস্যা) সহ গ্রামাঞ্চলের বহু শ্রমিকদের জন্যই মনরেগা-র প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের স্তর হ্রাসের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন না হওয়ার দুটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। একটি হল মনরেগা’র কাজের জন্য প্রথমদিকে বিরাট চাহিদা ছিল। আরেকটি কারণ মনরেগা’য় কর্মদিবসের ক্রমবর্ধমান অনুপাতে ভুয়ো কর্মদিবসের সৃষ্টি হতে থাকা। দুঃখের বিষয় সরকারী পরিসংখ্যানে এধরনের সমস্যার কোনও গুরুত্বই নেই।
প্রশাসনিক খাতে ব্যয়
চিত্র ৯-এ দেখা যাবে, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে মনরেগা’র খাতে মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রশাসনিক খরচের অংশ দ্রুত কমেছে।
চিত্র - ৯, মনরেগা’র ব্যয়ে প্রশাসনিক ব্যয়ের অংশ (%)
সূত্র: ভারত সরকার (২০১৩), শীট- ১৫, ২০১১-১২। ২০১২-১৩ সাল থেকে প্রশাসনিক খরচ বাবদ মোট ব্যয়কে (ভারত সরকার, ২০২৫) MNREGA বাবদ ব্যয় (ভারত সরকার, ২০১৫ ও MGNREGA-MIS, রিপোর্ট ৭.১.১ থেকে সংগৃহীত) দিয়ে ভাগ করে পরিসংখ্যান গণনা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক ব্যয়ের মঞ্জুরি দেয়, আবার তা পরিশোধও করে। প্রশাসনিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা রাজ্যভিত্তিক মনরেগা-তে মোট ব্যয়ের ৬% হিসেবে নির্ধারিত আছে যা এখনও প্রযোজ্য। বাস্তবে প্রশাসনিক ব্যয় ২০১৪-১৫ পর্যন্ত ৬%এ প্রায় ওঠেইনি, তবে ঐ পর্বের পরে তা হঠাৎ করে ৩-৪% পর্যন্ত নেমে আসে।
সাধারণত প্রশাসনিক খরচ বাবদ কম ব্যয় হলে তাকে ভালো ঘটনা বলেই ধরা হয়, কিন্তু এটি কার্যত বিভ্রান্তিকর। মনরেগা-র বাস্তবায়নে প্রশাসনিক খরচ বাবদ ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ খাতের খরচ আসলে গ্রামীণ কর্ম সহায়ক, প্রোগ্রাম অফিসার, কম্পিউটার অপারেটর, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সহ অন্যান্য কর্মীদের বেতন ও কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধায় ব্যয় হয়। সামাজিক নিরীক্ষা (সোশ্যাল অডিট)’র জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও এখান থেকেই ব্যয় হয়।
মাত্র ৬% বাজেট বরাদ্দ, এমন প্রকল্পের পক্ষে এরুপ সমর্থন সাধারণ কাঠামোর জন্য খুবই সাধারণ ও কম, কিন্তু তা হলেও গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসের জন্য সেই অর্থ অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। এই আলোকে প্রশাসনিক ব্যয়ের অংশ দ্রুত হ্রাস পাওয়া মনরেগা-র বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা করা চলে।
মজুরি
প্রতিবেদনের শেষ চার্টটি এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মনরেগা-র MIS সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বেশ তথ্যবহুল এবং বিভ্রান্তিকরও। বিষয়টি মজুরি মেটানোয় দেরি। চলতি আইন মোতাবেক কাজ শেষে ১৪ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্ত প্রকল্প শুরু হওয়ার কুড়ি বছর পরেও তাদের সে হোক এক ‘অধরা অধিকার’ হিসাবেই রয়ে গেছে।
মনরেগা-র মজুরি প্রদান প্রক্রিয়া দুটি ‘পর্যায়ে’ ঘটে। তহবিল স্থানান্তরের নির্দেশ (FTO) তৈরির আগে ও পরে, দুবার। প্রথম পর্যায়ের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকার (এখন অতিকেন্দ্রীক নীতিতে চলা) সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মজুরি পাঠিয়ে দেয়। মনরেগা-র নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকটি পর্যায় সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত। তবে ১০টি রাজ্যের মজুরি মেটানোর চিত্রে একটি সমীক্ষা অনুসারে ২০১৬-১৭ সালে প্রথম পর্যায়ে ১৫ দিনেরও বেশি সময় লেগেছিল। এমন ঘটনা প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মজুরি মেটানোর ক্ষেত্রেই ঘটেছিল[iv]। এর পর থেকে প্রথম পর্যায়ের বিলম্ব ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে, MIS’র তথ্য অনুসারে, আজকাল এমন কিছু ঘটা বিরল।
তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের মজুরি মেটানোর বিষয়ে দেরি হওয়ার ব্যাপারটি অব্যাহতই থাকে। কারণ আর্থিক বর্ষ শেষ হওয়ার আগেই MNREGA’র তহবিল শেষ হয়ে যায়। এর ফলে মজুরি মেটানোর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। MIS-পোর্টালে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে দেরি হওয়ার খবর কিন্তু মেলে না। আরও চিন্তার বিষয়, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক নিয়মিতভাবে প্রথম পর্যায়ের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সময়মতো মজুরি মেটানোর দাবি করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে[v]। তবে, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ২০২১-২২ সালে ১০টি রাজ্যে ৩১ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যায় মজুরি দিতে দেরি হওয়ার অবস্থা সম্পর্কে একটি স্বাধীন বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিলম্বের অনুমানকে উপস্থাপিত করা হয়েছে (ভীমারসেট্টি এবং অন্যান্যরা ২০২৫ দ্রষ্টব্য)।
মূল ফলাফলগুলি চিত্র ১০-এ তুলে ধরা হয়েছে। স্পষ্টই বোঝা যায় সময়মতো মজুরি মেটানোর নিয়মের চেয়ে ব্যতিক্রম: নির্ধারিত হিসাবে FTO তৈরির সাত দিনের মধ্যে মাত্র ৩৭% মজুরিই মেটানো হয়েছিল। FTO তৈরির ১৫ দিনেরও বেশি সময় পরে প্রায় অর্ধেক (৪২%) মজুরি দিতে দেরি হয়েছিল।
চিত্র - ১০, ৭ এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত পেমেন্ট অর্ডারের অনুপাত, ২০২১-২২ (%)
উৎস: ভীমরাসেট্টি এবং অন্যান্য (২০২৫), এই রাজ্যগুলিতে ৩১ মিলিয়নেরও বেশি মজুরি মেটানোর একটি ‘র্যান্ডম সিলেকশন মারফত নির্বাচিত’ নমুনার উপর ভিত্তি করে (প্রত্যেক জেলায় ‘র্যান্ডম সিলেকশন মারফত নির্বাচিত’ ব্লকে যাবতীয় মজুরির তথ্য)
দ্বিতীয় ধাপের পরিশোধে অবিচ্ছিন্ন কারদায় দেরি হয়েছে। কারণ অর্থ বর্ষের শেষে তহবিলের অভাব হলে মজুরি পরিশোধ আপৎকালীনরূপে বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ধাপে দেরির তথ্যের কোনও প্রতিফলন MIS-এ রিপোর্ট হয় না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক প্রাথমিক ধাপের তথ্য দিয়েই সময়মতো পরিশোধের কাজে ভুল দাবি করে।
২০২১-২২ সালে ১০টি রাজ্যের ৩ কোটি ১০ লক্ষ মজুরি পরিশোধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার (FTO) জেনারেশনের সাত দিনের মধ্যে মাত্র ৩৭% পরিশোধ হয়েছে। প্রায় অর্ধেক (৪২%) পরিশোধ হয়েছে ১৫ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর। এক্ষেত্রে রাজ্যগুলির অবস্থা আলাদা, যেমন বিহারে ২১%, আবার পশ্চিমবঙ্গে ৬৪% ক্ষেত্রে দেরি হয়।
এমন পার্থক্যের কারণ স্পষ্ট নয়। রাজ্য সরকারের সক্ষমতা এবং কেন্দ্রের শর্তাবলী মানার ক্ষেত্রে পার্থক্য হতে পারে। কখনও কখনও রাজনৈতিক সুবিধাবাদও[vi] কারণ হিসাবে কার্যকর, তবে, পদ্ধতিগত পক্ষপাতিত্বের কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
একই গবেষণা থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটি হল আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট কিন্তু অ্যাকাউন্ট-ভিত্তিক পেমেন্টের চেয়ে আদৌ দ্রুত নয়। আধার-ভিত্তিক পেমেন্টগুলি আধার পেমেন্ট ব্রিজ সিস্টেম (APBS[3]) দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি একটি ফিউচার বেসড পেমেন্ট সিস্টেম, যদি বাইজেন্টাইন না হয়, যা একজন ব্যক্তির আধার নম্বরকে তার আর্থিক লেনদেনের ঠিকানা হিসাবে বিবেচনা করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সর্বশেষ আধার-সংযুক্ত অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠায়[vii]। এ তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ APBS’র সুবাদে মনরেগা’য় যুক্ত কর্মীদের জন্য যথেষ্ট অসুবিধার সন্মুখীন হতে হয়েছে (সুত্রঃ Dhorajiwala et al. ২০১৯)। অথচ ঐ ABPS’র সপক্ষে প্রচার চালানো এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারী থেকে তাকে বাধ্যতামূলক করার প্রধান যুক্তিই ছিল এই যে এর মাধ্যমে মজুরি মেটানোর কাজে দেরি হওয়া কমবে। বাস্তবে তেমন কিছু আদৌ ঘটেনি।
উপসংহার
মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA)-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এখানেই শেষ হল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পের রেকর্ড অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এ প্রকল্পটি বিশেষ করে সংকটের সময়ে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত গোষ্ঠীর জন্য বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি করে। অর্থনৈতিক সংকট, সরকার পরিবর্তন এবং বাজেট বরাদ্দ কমানোর চেষ্টার পরেও, গত ২০ বছর ধরে এই প্রকল্পটি যথেষ্টই স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। মনরেগার বিস্তৃত সুবিধার উপর সমৃদ্ধ আলোচনার সাথে যদি আমরা এটি পড়ি তাহলে চিত্রটি আরও উৎসাহব্যঞ্জক হবে[viii]। তবে, মনরেগা-র সাফল্য কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্যান্য অনেক রাজ্যে, চাহিদা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার মূল নীতিটি এখনও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। সেখানে মনরেগা এখনও একটি বৃহৎ কিন্তু কেবল ওপর থেকে চাপানো সরকারি কাজের প্রকল্প হিসেবেই রয়ে গেছে। দুঃখের বিষয়, পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলির তালিকায় ভারতের বহু দরিদ্রতম রাজ্যের নামও অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও মনে রাখা দরকার যে সরকারী চিত্রটি কিন্তু অসম্পূর্ণ। সম্ভবত কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকরও। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় সরকারী পরিসংখ্যানে মনরেগা-র কাজের অপূর্ণ চাহিদা, মজুরি মেটানোয় দেরি বা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলিকে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সম্পর্কে খুব কম তথ্যই দেয়[ix]। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এ কোনও গোপন বিষয় নয় যে মনরেগা-র সরকারি কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানকে অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে যা ঘটে তা হল কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতির নথিতে (মাস্টার রোল) দুর্নীতিবাজ মধ্যস্বত্বভোগীরা মনরেগা-র তহবিল হাতিয়ে নেয়।
এটি একটি কারণ যার জন্য সরকারী পরিসংখ্যান গৃহস্থালি জরিপের মতো স্বাধীন উৎস থেকে তথ্যগুলিকে যাচাই করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশাল ফাঁক রয়ে গেছে। স্বাধীনভাবে রুপায়িত জরিপ (সার্ভে) থেকে মনরেগা-র পরিসংখ্যানকে যাচাই করা শুরু হয়েছে ২০১১-১২ সালে। গত বছরের পর থেকে আমরা অন্ধকারে রয়েছি। যদিও শ্রমশক্তি সংক্রান্ত পর্যায়ক্রমিক জরিপ (PLFS[4]) থেকে কিছু কার্যকর তথ্য অবশ্যই মেলে[x]।
সরকারি পরিসংখ্যান যাচাই করা হোক বা না হোক, আরও প্রমাণের সাহায্যে সেগুলিকে সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন, কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাতে বাদ পড়ে যায়। এর জন্য কেস স্টাডি এবং গৃহস্থালির কাজ সংক্রান্ত জরিপের পাশাপাশি সামাজিক নিরীক্ষার মতো আরও অনেক কার্যকর উৎসই রয়েছে। কিন্তু এখানে আবার, কয়েকটি রাজ্য (যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং তামিলনাড়ু) অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে[xi]। দুটি ক্ষেত্রেই (বৈধতা এবং পরিপূরক) মনরেগা-র বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের আরও অনেক তথ্যের প্রয়োজন।
একটি দরিদ্র দেশে গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্ব মনরেগা প্রমাণ করেছে। কিন্তু যা এখনও প্রমাণিত হয়নি তা হল কর্মসংস্থান গ্যারান্টির সম্পূর্ণ সম্ভাবনা। যদিও এ দুটি বিষয় এক নয়, কারণ বাস্তব পরিস্থিতি প্রায়শই আইনের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন হয়। এখনও পর্যন্ত আমাদের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে চাহিদা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার অধিকারের বাস্তব রূপায়ণের দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কিন্তু সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো অনেকটা পথ বাকি।
সহায়ক আলোচনা এবং তথ্য ভাগ করে নেওয়ার জন্য রীতিকা খেরার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। রেওয়াদি ইয়া হক মনরেগা সম্পর্কিত পুরানো তথ্যের স্বাধীন সারসংক্ষেপ সহ তালিকা নিজের সাম্প্রতিক বই (২০২৫)’তে উপস্থাপন করেছেন। অতি সম্প্রতি MNREGA’র আগেকার কিছু তথ্য MIS পোর্টালে যা আগে ছিল nrega.nic.in, এখন nrega.dord.gov.in এ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে, ২০১০-১১ পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ের কাজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু জায়গা প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত সরকারী প্রতিবেদন (২০১৩) থেকে পূরণ করা যেতে পারে।
বাংলায় অনুবাদঃ অঞ্জন মুখোপাধ্যায়, সৌভিক ঘোষ
বাংলা শিরোনামঃ রাজ্য ওয়েবডেস্কের নিজস্ব
তিন পর্বের লেখায় ব্যবহৃত ফটোর সুত্রঃ সোশ্যাল মিডিয়া
অন্তিম পর্ব (তিন পর্বে প্রকাশিত)
তথ্যসুত্র:-
Abreu, Dilip, et al. (2014), “Do Not Dilute NREGA [An Open Letter to the Prime Minister on NREGA by economists based in India and elsewhere in the world.]”, Economic and Political Weekly, 18 October. https://www.epw.in/journal/2014/42/letters/do-not-dilute-nrega.html
Angad, A (2024), ‘Govt panel recommends overhaul of MGNREGS, adjusting wages every 5 years’, Hindustan Times, 20 December. https://www.hindustantimes.com/india-news/govt-panel-recommends-overhaul-of-mgnregs-adjusting-wages-every-5-years-101734706894329.html
Bhaskar, Anjor, Sunil Gupta and Pankaj Yadav (2016), “Well Worth the Effort”, Economic and Political Weekly, 51(19). https://www.epw.in/journal/2016/19/special-articles/well-worth-effort.html
Bheemarasetti, Suguna, Anuradha De, Rajendran Narayanan, Parul Saboo and Laavanya Tamang (2025), “MGNREGA as a Technological Laboratory: Analysing Wage Payment Delays as a Result of Two Digital Interventions”, Indian Journal of Labour Economics, 68: 681-706. https://doi.org/10.1007/s41027-024-00539-9
Central Employment Guarantee Council (2010), ‘Report of the Working Group on Wages’. Dhorajiwala, S, J DrΦze and N Wagner (2019), ‘A Bridge to Nowhere’, The Hindu, 27 March. https://www.thehindu.com/opinion/lead/a-bridge-to-nowhere/article62110043.ece
DrΦze, J (2014), ‘Learning from NREGA’, The Hindu, 23 August. https://www.thehindu.com/opinion/op-ed/Learning-from-NREGA/article62117988.ece
DrΦze, J and N Nair (2023), ‘The Return of Mangoes’, Economic Times, 14 March. https://economictimes.indiatimes.com/opinion/et-commentary/mango-plantation-a-reminder-of-how-nrega-can-tremendously-contribute-to-rural-development/articleshow/98613894.cms?from=mdr
DrΦze, J and A Somanchi (forthcoming), ‘Alarm Bells for Job Guarantee’.
Government of India (2013), 'MIS Data from MGNREGA Website', a guest compilation of MGNREGA data in spreadsheet format. Accessed from rural.gov.in on 6 April 2025 and available on request. http://rural.gov.in/
Government of India (2015), ‘Response to Rajya Sabha Unstarred Question No. 2048 (“Implementation of NREGA”)’, Ministry of Rural Development, New Delhi. https://sansad.in/getFile/annex/234/Au2048.pdf?source=pqars
Government of India (2020), ‘Population Projections for India and States 2011-2036’, National Commission on Population, New Delhi. https://mohfw.gov.in/sites/default/files/Population%20Projection%20Report%202011-2036%20-%20upload_compressed_0.pdf
Government of India (2023), ‘Response to Rajya Sabha Starred Question No. 45 (6 December)’, Ministry of Rural Development, New Delhi. https://sansad.in/getFile/annex/262/AS45.pdf?source=pqars
Government of India (2024), ‘MGNREGA Annual Master Circular 2024-25’, Ministry of Rural Development, New Delhi. https://nregaplus.nic.in/netnrega/WriteReaddata/Circulars/AMC_2024-25-English.pdf
Government of India (2025), ‘Scheme at a Glance’, Dashboard (based on MGNREGA’s Management Information System), accessed January 2025. https://nreganarep.nic.in/netnrega/nrega_ataglance/At_a_glance.aspx
Khera, R (2025), Revadi ya Haq: Samajik Suraksha par Ek Nazariya, Rajkamal, Delhi.
Khera, Reetika and Nandini Nayak (2009), “Women Workers and Perceptions of the National Rural Employment Guarantee Act”, Economic and Political Weekly, 44(43). https://www.epw.in/journal/2009/43/special-articles/women-workers-and-perceptions-national-rural-employment-guarantee
Liu, Yanyan and Christopher B Barrett (2013), “Heterogeneous Pro-poor Targeting in the National Rural Employment Guarantee Scheme”, Economic and Political Weekly, 44(43). https://www.epw.in/journal/2013/10/special-articles/heterogeneous-pro-poor-targeting-national-rural-employment
Muralidharan, Karthik, Paul Niehaus and Sandip Sukhtankar (2023), “General Equilibrium Effects of (Improving) Public Employment Programs: Experimental Evidence from India”, Econometrica, 91(4): 1261-1295. https://onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.3982/ECTA18181
Narayanan, Rajendran, Sakina Dhorajiwala and Rajesh Golani (2019), “Analysis of Payment Delays and Delay Compensation in MGNREGA”, Indian Journal of Economics, 62: 113-133. https://link.springer.com/article/10.1007/s41027-019-00164-x
National Statistics Office (2025), ‘Household Consumption Expenditure Survey 2023-24: Fact Sheet’, NSO, New Delhi. https://www.mospi.gov.in/sites/default/files/publication_reports/HCES%20FactSheet%202023-24.pdf
Ranaware, Krushna, Upasak Das, Ashwini Kulkarni and Sudha Narayanan (2015), “MGNREGA Works and Their Impacts”, Economic and Political Weekly, 50(13). https://www.epw.in/journal/2015/13/special-articles/mgnrega-works-and-their-impacts.html
Tamang, L (2025), ‘Why MGNREGA Wage Rates Should be Revised’, Indian Express, 11 April. https://indianexpress.com/article/explained/explained-economics/why-nrega-wage-rates-should-be-revised-9937389/
Yadav, A (2014), ‘Changes in MGNREGS May Cut Into Wages’, The Hindu, 22 September. https://www.thehindu.com/news/national/changes-to-mgnregs-may-cut-into-wages/article6432716.ece
[1] আইডিয়াজ ফর ইন্ডিয়া হল অর্থনীতি ও জনস্বার্থ সম্পর্কিত একটি ওয়েব পোর্টাল যা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলির উপর প্রমাণ-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ভাষ্য প্রকাশ করে। অর্থনীতিবিদ, অন্যান্য সমাজ বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের জন্য এক মতামত প্রকাশের এক আদর্শগত ও নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসাবে এই পোর্টাল কাজ করে যেখানে তারা নিজেদের গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার করে মূল নীতিগত প্রশ্নগুলির উপর চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।
[2] কৃষিকাজে যুক্ত শ্রমিকদের জন্য ক্রেতা মূল্য সূচক (CPI-AL) হল এমন এক মাসিক সূচক যা ভারতে খেতমজুরদের কেনা পণ্য ও পরিষেবার খুচরা মূল্যের পরিবর্তনকে পরিমাপ করতে আকজে লাগে।
[3] আধার পেমেন্টস ব্রিজ সিস্টেম। এটি ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা তৈরি একটি পেমেন্ট গেটওয়ে প্ল্যাটফর্ম যা একজন সুবিধাভোগীর আধার নম্বরকে ইলেকট্রনিকভাবে সরকারি ভর্তুকি এবং সুবিধাগুলি সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহার করে।
[4] পি.এল.এফ.এস :- পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে, জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসও) দ্বারা পরিচালিত এক জরিপ যা মূল কর্মসংস্থান এবং বেকারত্বের সূচকগুলির উপর উচ্চ-পর্যায়ক্রমিক (হাই ফ্রিকোয়েন্সি) তথ্য সরবরাহ করে। ২০১৭ সালে চালু হওয়া এই জরিপের লক্ষ্য হল শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার, কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত এবং বেকারত্বের হারের মতো সূচকগুলির উপর মাসিক এবং বার্ষিক প্রতিবেদন সহ শ্রমশক্তির পরিসংখ্যানকে আরও নিয়মিত কায়দায় সংগ্রহ করা।
[i] আরও বিস্তারিত জানার জন্য, কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কাউন্সিল (২০১০) দেখুন। এই রূপান্তরটি আসলে তিনটি স্বতন্ত্র ধাপে ঘটেছিল: ধারা ৬(১) সক্রিয়করণ, ১০০ টাকার নীতিমালা প্রবর্তন এবং সূচীকরণ। প্রথম দুটি ২০০৯ সালে, তৃতীয়টি ২০১০ সালে অথবা সম্ভবত ২০১১ সালে ঘটেছিল।
[ii] এই বার্ষিক গড় তথ্যগুলি ফাউন্ডেশন ফর অ্যাগ্রেরিয়ান স্টাডিজের যুগ্ম-পরিচালক অরিন্দম দাসের সহযোগীতায় সংগৃহীত হয়েছে।
[iii] অনেক রাজ্যে, মনরেগা মজুরি, ন্যূনতম কৃষি মজুরির চেয়েও কম রয়ে গেছে (তামাং ২০২৫ দ্রষ্টব্য)। মনরেগা কর্মীদের এর চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার বৈধতা নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে (কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কাউন্সিল, ২০১০)।
[iv] নারায়ণন, ধোরাজিওয়ালা এবং গোলানি (২০১৯), টেবিল ৪ এবং ৫ থেকে তথ্য সংগৃহীত করা হয়েছে।
[v] সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে: - ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে, “[মজুরি-প্রদান] বিলম্বের গড় সময়কাল” সম্পর্কে একটি প্রশ্নের উত্তরে, মন্ত্রণালয় উত্তর দেয় যে ৯৯% FTO ১৫ দিনের মধ্যে তৈরি হয়, FTO প্রক্রিয়াকরণ বিলম্বের কোনও উল্লেখ দক্ষতার সাথে বাদ দেওয়া হয়েছে।
[vi] বিজেপি আসলে সেই সময় বিহারে ক্ষমতাসীন জোটের অংশ ছিল। পশ্চিমবঙ্গে, তৃণমূল কংগ্রেস (বহু বছর ধরে বিজেপির দৃশ্যতঃ প্রতিপক্ষ – মোটা হরফ অনুবাদকের মন্তব্য সংযোজিত) ২০২১-২২ সালে ক্ষমতায় ছিল। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, কেন্দ্রীয় সরকার ‘কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশাবলী অমান্য করার’ অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য মনরেগা-র তহবিল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেয়। তহবিল জব্দ করা আজও অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগগুলি এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি (যদিও পঞ্চায়েতে অনেক চুরি এবং বে-আইনী কার্য্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে – অনুবাদকের মন্তব্য সংযোজিত)। এমনকি সংসদে, গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক কোনও বিবরণ দিতে পারেনি (ভারত সরকার, ২০২৩ দেখুন)।
[vii] আধার হল ভারতের অনন্য পরিচয় নম্বর, যা বায়োমেট্রিক্সের সাথে যুক্ত।
[viii] এই আলোচনার জন্য একটি দরকারী নির্দেশিকা https://www.jobguarantee.org/ ওয়েবসাইটে একটি বিস্তৃত টীকাযুক্ত গ্রন্থপঞ্জি আকারে পাওয়া যাবে।
[ix] আরেকটি ব্ল্যাক হোল হল মনরেগা-র কাজের উৎপাদনশীল মূল্য। আমরা জানি যে কিছু ধরণের মনরেগা কাজ খুবই উৎপাদনশীল; Ranaware et al. (2015), Bhaskar et al. (2016), Drèze and Nair (2023) দেখুন। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে অনেক ‘প্রতীকী’ কর্মক্ষেত্র রয়েছে যেখানে খুব কম উৎপাদনশীল কাজ হয়। মনরেগা-র কাজের সামগ্রিক উৎপাদনশীল মূল্য সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়।
[x] আরও আলোচনার জন্য, ড্রেজ এবং সোমাঞ্চি (আসন্ন প্রকাশিতব্য) দেখুন।
[xi] MNREGA-এর উপর একাডেমিক আলোচনা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার উপর কেন্দ্রীভূত গবেষণা দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে এলোমেলোভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগুলি ছাড়াও কিছু কার্যকর জরিপ (উদাহরণস্বরূপ, ইয়ং লাইভস স্টাডি) পরিচালিত হয়েছে (মুরালিধরন এবং অন্যান্যরা। 2023)। অন্যান্য অনেক রাজ্যের জন্য, খুব কমই উপাদান পাওয়া যায়।
প্রকাশ: ১৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫
শেষ এডিট:: 16-Sep-25 14:44 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/mgnrega-a-brief-note-part-iii
Categories: Fact & Figures
Tags: agrieconomy, economic crisis, economic discrimination, economic downslide, mgnregs, mgnrega, digitaleconomy
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (157)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (142)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





