বই পড়ায় নিষেধাজ্ঞাঃ একটি প্রতিবেদন

গত ৫ অগাস্ট ২৫টি বই নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়। এরপর শুরু হয় খানা তল্লাশি। উপত্যকার দোকানে দোকানে পুলিশ গিয়ে বাজেয়াপ্ত করে সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া বইগুলি। ডাল লেকের ধারে চলছে বইমেলা। চিনার বুক ফেস্টিভ্যাল। পুলিশ সেখানেও তল্লাশি চালালো। প্রায় ২০০ বইয়ের স্টল। বাজেয়াপ্ত হল নিষিদ্ধ বই।

‘ওরা যত বেশী জানে
তত কম মানে
তাই আজ থেকে পাঠশালা বন্ধ!’
তবেই না প্রজা সকল তারস্বরে চিৎকার করে বলবে- ‘যায় যদি যাক প্রাণ, হীরকের রাজা ভগবান।’
হীরকের রাজার দূরদৃষ্টি ছিল বটে! মোদী সরকার হীরক রাজার দেশে দেখেছেন কিনা জানা নেই তবে জম্মু কাশ্মীরে ২৫টি বই ব্যান করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের তরফ থেকে। অভিযোগ? এই বইগুলোতে নাকি মিথ্যা বা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে রাজ্য সম্পর্কে এবং সন্ত্রাসবাদকে গৌরবান্বিত করে দেখানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের যুব সমাজের মধ্যে হিংসা ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে উৎসাহ জোগাতে ঐতিহাসিক কিংবা রাজনৈতিক ভাষ্যের আড়ালে সাহিত্যকর্মের নামে মিথ্যা বক্তব্য ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এক নির্দেশে বলা হয়েছে, কিছু সাহিত্যকর্ম জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে মিথ্যা ব্যাখ্যা খাড়া করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয়দানকারী মতপ্রকাশ করছে। সরকারের কাছে এ ব্যাপারে খবর এসে পৌঁছেছে। এরপর তদন্ত করে এবং প্রামাণ্য গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সরকার। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নির্দেশে এমন সিদ্ধান্ত বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রবিভাগের প্রধান সচিব চন্দ্রকর ভারতী। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু সাহিত্য ভুয়ো ভাষ্য ছড়ায়, জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি জোগায়। যুবসমাজের মনে গভীর প্রভাব ফেলছে এই সব বই, নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করছে তারা, নিজেদের শিকার মনে করছে তারা, সন্ত্রাসবাদকে বীরত্ব ভেবে বসছে’। তাই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর অন্তর্গত ৯৮ ধারায় বইগুলি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ধারা ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭-এ উল্লিখিত অপরাধের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য ষড়যন্ত্র করে বলছে বইয়ের মুদ্রণে এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসলে জম্মু ও কাশ্মীরের ভাবনাচিন্তাকে সেন্সর করা হচ্ছে।
গত ৫ অগাস্ট ২৫টি বই নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়। এরপর শুরু হয় খানা তল্লাশি। উপত্যকার দোকানে দোকানে পুলিশ গিয়ে বাজেয়াপ্ত করে সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া বইগুলি। ডাল লেকের ধারে চলছে বইমেলা। চিনার বুক ফেস্টিভ্যাল। পুলিশ সেখানেও তল্লাশি চালালো। প্রায় ২০০ বইয়ের স্টল। বাজেয়াপ্ত হল নিষিদ্ধ বই।
ঘটনাচক্রে ন'দিন ব্যাপী ওই বইমেলার উদ্বোধন করেছিলেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
এই নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় রয়েছে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেখক ও গবেষকের কাজ। যাদের মধ্যে অন্যতম ভারতের প্রখ্যাত সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ এ.জি. নুরানির লেখা ‘দ্য কাশ্মীর ডিসপিউট’, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন্ত্র বোসের ‘কাশ্মীর অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অ্যান্ড কনটেস্টেড ল্যান্ডস’ এবং ‘কাশ্মীর‘, ডেভিড দেবাদাসের ‘ইন সার্চ অব আ ফিউচার: দ্য কাশ্মীর স্টোরি’, বুকার পুরস্কারজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের ‘আজাদি’, ‘ডিসম্যান্টলড স্টেট’, সাংবাদিক অনুরাধা ভাসিনের ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব কাশ্মীর আফটার আর্টিকেল ৩৭০’, ইতিহাসবিদ আয়েশা জালাল ও সুগত বসুর কাশ্মীর অ্যান্ড ফিউচার অফ সাউথ এশিয়া, ক্রিস্টোফার স্নেডেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাশ্মীর, স্টিফেন পি. কোহেন সম্পাদিত কনফ্রনটিং টেররিজম, ভিক্টোরিয়া স্কোফিল্ড-এর কাশ্মীর ইন কনফ্লিক্ট- ইন্ডয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড দ্য আনএনডিং ওয়ার। ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম হাসান আল-বানা ও মওলানা মওদূদী-র দুটি গ্রন্থ। এছাড়াও ড. আফাক আজিজের শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-র জীবনী ‘তারিখ-ই-সিয়াসত কাশ্মীর‘ রয়েছে এই তালিকায়। প্রত্যেকটি বইয়ের নাম পড়েই বলে দেওয়া যায় কেন এরা নিষিদ্ধ হল।
এই তালিকাতেই রয়েছে আরও একটি বই। পাঁচ জন কাশ্মীরী মহিলা রচিত ‘ডু ইউ রিমেম্বার কুনন পসপোরা?’। ২০১৬ সালের প্রকাশিত নন-ফিকশন। লেখক পাঁচ কাশ্মীরি নারী হলেন এসার বাতুল, ইফরাহ বাট, মুনাজা রশিদ, নাতাশা রাদার এবং সামরিনা মুশতাক। বইটিতে ১৯৯১ সালে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা গণধর্ষণের নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে কাশ্মীরে বা কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল না। তবুও এই বইটি নিষিদ্ধ করার যুক্তি কী? কারণ বইটিতে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপি ও সংঘ পরিবারের অতিরাষ্ট্রবাদী কল্পনায় যেখানে আর্মি দেশ তথা দেশভক্তির প্রতীক এবং ভোটব্যাঙ্কের হাতিয়ারও বটে সেখানে এর থেকে গুরুতর অপরাধ আর কী হতে পারে?
এ খবর পড়তে গিয়ে মনে পড়ছে বাক্ স্বাধীনতা রুখতে, ভারতীয়দের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে যেতে, সংবাদপত্রের মুখ বন্ধ করতে ১৮৭৮ সালে ভার্নাকুলার প্রেস আইন এনেছিল ব্রিটিশ সরকার। যাদের সাথে আবার ‘বীর‘ সাভার্কারের সম্পর্ক ছিল ভাল।
কাশ্মীরে সেন্সরশিপ নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে সশস্ত্র আন্দোলনের সময় বহু সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর সংবাদমাধ্যমের উপর কড়া নজরদারি ও ইন্টারনেট শাটডাউন হয়। ঘটনাচক্রে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ষষ্ঠ বছরপূর্তির দিনই নিষিদ্ধ করা হল ২৫টি বই। যা স্পষ্ট করে দেয় কাশ্মীর এখনও ঠিক কাদের দ্বারা পরিচালিত এবং সেখানকার সরকারের ভূমিকা। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের তাৎপর্য কি তাহলে শুধুই লিথিয়াম খনি? লিথিয়াম আবার ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ব্যাটারি নির্মাণের অন্যতম উপাদান। সদ্য ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বাড়ানো, নরেন্দ্র মোদির ‘বন্ধু স্থানীয়‘ ট্রাম্পের আমেরিকার, এলন মাস্কের সাথে নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ হয়েছে কয়েকমাস আগেই। বিষয় ছিল ভারতে স্টারলিংক এবং টেসলার প্রবেশ। বাকিটা দুয়ে দুয়ে চার করে নেওয়াই যায় না কী?
কাশ্মীরের সাংসদরা সংসদে এসে প্রশ্ন করছেন, সরকার কাশ্মীরের জনতাকে চায় নাকি কাশ্মীরের জমিন? রাহুল্লা মেহেদী সংসদে সরাসরি তার বক্তব্যে জানিয়েছেন পেহেলগাম হামলার পর বিনা প্রমাণে, কেবলমাত্র সন্দেহের বশে কাশ্মীরের ১৩টি পরিবারের বাড়ি বোম দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে আর্মি। সরকার তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে বলে কথা। তবুও ধরা পরেনি আতঙ্কবাদীরা। ধরা পড়েছে কবে? ঠিক সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার আগের মুহুর্তে। কাকতালীয়? কে জানে! তবে যা জানতে চাই তা হল, যাদের মাথা গোঁজার ঠাই কেবল সন্দেহের বশে মুহুর্তের মধ্যে আকাশে উড়িয়ে ধুলোয় বিলীন করে দেওয়া হল তাদের এবার কী হবে? সরকার ক্ষমা চাইবে? ক্ষতিপূরণ দেবে? মানুষের সন্ধিহান দৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে? কাজ তো চলে গেছে ‘টেররিস্টের পরিবার‘ হওয়ার অপরাধে। কাজ খুঁজে দেবে সরকার? বা আর্মি? এই প্রশ্ন কি শুধু আমার মনেই জেগেছে? কাশ্মীরের মানুষকে কি ভাবায়নি? কী মনে হয়?
অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় পুঞ্চ এবং রাজৌরিতে মারা গিয়েছেন বেশ কিছু সিভিলিয়ান। অফিশিয়াল রেকর্ড বলছে পুঞ্চে নিহত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মহম্মদ ইকবাল, পুঞ্চের এক মাদ্রাসার শিক্ষক। মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের হামলায়। মৃত মহম্মদ ইকবালকে টেররিস্ট আখ্যা দিয়ে দিল গোদি মিডিয়া। তার পরিবার পুলিশে নালিশ করার পর পুলিশ মিডিয়ার বক্তব্য খন্ডন করে। তার ভাই ফারুক আহমেদ বলছেন ‘ওরা শুধু আমার ভাইয়ের মাথার ফেজ টুপি আর দাড়ি দেখেছে। আমার ভাইকে আমরা হরিয়েছি, এবার মিডিয়ার এই মিথ্যাচারের জন্য ভুগতে হচ্ছে আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যদেরও। এ কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা ছাড়া আর কী?‘
অন্যদিকে আইআইটি মাদ্রাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বললেন পাকিস্তানের হামলায় ভারতের নাকি একটা কাঁচও ভাঙেনি। ভারতবর্ষে ভাঙা কাঁচেরও হিসেব হয়, মৃত কাশ্মীরীদের হিসেব হয় না। পহেলগাম জঙ্গি হামলার পরবর্তী কাশ্মীরি এবং মুসলিম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডা দেখেছি আমরা সকলে। দেখেছি কীভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরি ছাত্রদের হেনস্থা করছে সহি দেশভক্তরা। কীভাবে তাদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে রাতারাতি। কাশ্মীরের সাংসদরা অবশ্য এই বিষয়ে সংসদে বলছেন, এই ঘটনায় দোষ আসলে কাশ্মীরের মানুষেরই। কারণ তারা কাশ্মীরে জন্মেছেন। কাশ্মীরের জন্মলগ্ন থেকেই সেখানকার মানুষ এই ব্যভিচার দেখে আসছে। তবে আগে যা কখনও দেখা যায়নি তা এইবার দেখা গিয়েছে। কাশ্মীরের মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। মিছিলে স্লোগানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেখা গেছে। ফলত খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি এন্টি কাশ্মীরি প্রপাগান্ডা। কাশ্মীরের এই রুখে দাঁড়ানোকেই কি ভয়? তাই কি নিষিদ্ধ বই?
বই তো কেবল কাগজের মুদ্রণ নয়— এটি স্মৃতি, সংস্কৃতি ও মুক্ত চিন্তার বাহক। কাশ্মীরের ইতিহাস—রাজনৈতিক সংগ্রাম, মানবাধিকার আন্দোলন, ১৯৪৭ থেকে বর্তমানের সংঘাত—এই সবকিছুর রেকর্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই সকল বইগুলিতে। সেই বই নিষিদ্ধ করার অর্থ হচ্ছে একটি জনগোষ্ঠীর স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার উৎস ছিন্ন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সমালোচনা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। কিন্তু সমালোচনাকে রাষ্ট্রদ্রোহের সমান মনে করলে, জনমতের বহুমুখিতা ধ্বংস হয়। যা সংবিধানের আর্টিকেল ১৯/১(এ) এর রাইট টু ফ্রিডম অফ স্পিচ অ্যান্ড এক্সপ্রেশনকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। মজার বিষয় হল আমরা এই বছর আমাদের স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষ উৎযাপন করলাম। তবে এখনও আমাদের সহনাগরিকরা বাক্ স্বাধীনতার অধিকার পেলেন না।
আমরাও কী পেলাম?
যদি পেয়ে থাকি তাহলে তার মেয়াদ কতদিন?
যে বিষয়টি খালি চোখে ধরা পড়েছে না তা হল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর অন্তর্গত ৯৮ ধারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই ধারা গোটা ভারতবর্ষে প্রযোজ্য। আজ যে নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র কাশ্মীরে সীমাবদ্ধ কাল যে তা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং জল সেই দিকে গড়ানোর ইঙ্গিতই বেশি।
এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার দ্বারা সরকারের সমালোচনাধর্মী মতামত চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। তবে এত সরাসরি এই নিয়ন্ত্রন প্রতিস্থাপন করার দৃষ্টান্ত বিরল (এমার্জেন্সি ব্যতীত)। ইতিমধ্যেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে। মানুষের কাছে যাতে তথ্য না পৌঁছয়, তার জন্যই যে বইগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই ঘটনা যে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী তা সরাসরি জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু বর্তমান সরকার কাউকেই গুরুত্ব দেয় না যতক্ষন না তারা ‘বন্ধু স্থানীয়’ বিশেষ কেউ হয়।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত, বিতর্ক ও সমালোচনা গ্রহণ করা শক্তি যদি সরকারের না থাকে তাহলে সেই দেশের সরকারের প্রতি প্রশ্ন ওঠে। সে প্রশ্ন যারা করেছেন তাদেরই বই নিষিদ্ধ হয়েছে। দেশের মাথাকে (ভৌগলিক) কিছুতেই মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া যাবে না। দরকার পড়লে ইতিহাসকে বদলে ফেলতে হবে বইয়ের পাতায়। মুঘলদের চ্যাপটার তো অলরেডি বাতিল করে দেওয়া গেছে পাঠ্যপুস্তক থেকে। ঐ পথে কাশ্মীর বাকি ছিল? কারণ আমরা তো জানি-
তবেই না প্রজা সকল তারস্বরে চিৎকার করে বলবে- ‘যায় যদি যাক প্রাণ, হীরকের রাজা ভগবান’।
প্রকাশ: ১৬-আগস্ট-২০২৫
শেষ এডিট:: 16-Aug-25 16:05 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/ban-on-books-a-report
Categories: Fact & Figures
Tags: antidemocratic, constitution, democracy, democraticright, wethepeople
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (157)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (142)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





