একালের শিক্ষা (চতুর্থ পর্ব)

Author
প্রতীম দে

অধ্যাপক পদ ৭৯৩। আছেন ৩৯৫ জন অধ্যাপক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বিভাগের ৫৫টি বিভাগের এই হাল। তৃণমূলের সরকার গুরুত্ব দেয়নি নিয়োগে। তাই এই দুর্দশা নিয়ে পঠনপাঠন চলছে ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। নয়া শিক্ষা নীতি অনুযায়ী যেই পাঠ্যক্রম শুরু হয়েছে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে তাতে যেই পরিমান অধ্যাপক থাকা প্রয়োজন সেটা নেই। তাহলে কি ভাবে চলছে কলেজ গুলো?

The Flaws of Modern Education

চতুর্থ পর্ব


কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা রাজ্য খালি একাধিক অধ্যাপক পদ



ওবিসি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে বন্ধ রয়েছে নিয়োগ। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়াও বিস্তর বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু আসল কথা শুধু রাজ্য নয়। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ওবিসি এবং তফসিলি উপজাতি (এসটি) অধীনে ৮০ শতাংশ অধ্যাপক পদ খালি রয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে এই তথ্য দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। গত জুলাই মাসে বাদল অধিবেশন সরকার এই পরিসংখ্যান দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকদের জন্য বিভাগভিত্তিক অনুমোদিত পদের সংখ্যা এবং কত গুলো পদ খালি আছে সেই তথ্য দিয়েছিলেন সংসদে। রাজ্যসভার আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা প্রশ্নটি তোলেন।
তাতে সরকার জানিয়েছে ওবিসি বিভাগের অধীনে, অধ্যাপকের জন্য অনুমোদিত ৪২৩টি পদের মধ্যে মাত্র ৮৪টি পূরণ করা হয়েছে। তফসিলি উপজাতি (এসটি) বিভাগের জন্য, ১৪৪টির মধ্যে ২৪টি পূরণ করা হয়েছে যার অর্থ ৮৩ শতাংশ শূন্য। তফসিলি জাতি (এসসি) বিভাগে ৩০৮টি অধ্যাপক পদের মধ্যে ১১১টি পূরণ করা হয়েছে যার অর্থ ৬৪ শতাংশ অধ্যাপক পদ খালি রয়েছে। 
জেনারেল বিভাগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ১,৫৩৮টি পদের মধ্যে ৯৩৫টি এখনও পূর্ণ, যার অর্থ ৩৯ শতাংশ শূন্য। এই সব শূন্য পদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর।
বর্তমানে ভারতে ৫৬টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সংসদের একটি আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং ভারত সরকারের সম্পূর্ণ অর্থ সাহায্যে তা পরিচালিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগ এগুলি তত্ত্বাবধান করে।

মনোজ কুমার ঝা, যিনি নিজেই একজন অধ্যাপক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "গত পাঁচ বছরে সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকের মোট অনুমোদিত কতো গুলি পদ আছে? এবং পূর্ণ হয়েছে এমন পদের সংখ্যা কতো?"


কেন্দ্রীয় সরকারের কথায়, সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্যে, ৩০৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১০৮টি উপজাতি শ্রেণির জন্য। ৮৮৩টি পদের মধ্যে ২৭৫ গুলো ওবিসি দের জন্য। এসসি শ্রেণির ৬৩২ গুলো অনুমোদিত সহযোগী অধ্যাপক পদের মধ্যে ৩০৮ গুলো পূরণ করা হয়েছে।
জেনারেল ক্যাটেগরির, ৩,০১৩টি সহযোগী অধ্যাপক পদের মধ্যে ২,৫৩৩ গুলো পূরণ করা হয়েছে। ১৬ শতাংশ পদ খালি রয়েছে।
সহকারী অধ্যাপক পদে শূন্যপদ কিছুটা কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ২,৩৮২টি পদের মধ্যে ১,৮৩৮গুলো, উপজাতি শ্রেণির ৭০৪ পদের মধ্যে ৫৯৫টি এবং উপজাতি শ্রেণির ১,৩৭০ অনুমোদিত পদের মধ্যে ১,১৮০ গুলো পদ পূরণ করা হয়েছে।
সহকারী অধ্যাপেকের জেনারেলদের জন্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ৬,২৮৫ গুলো অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫,৭৮৬ গুলো পদ পূরণ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকদের ১৮,৯৫১টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেনারেল ১০,৮৩৬, এসসি ২,৩১০, এসসি (২)১,১৫৫ এবং ওবিসি ৩৬৮৮।
এবার আসা যাক এরাজ্যে এই রাজ্যেরও একাধিক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা রয়েছে অধ্যাপক পদ। নিয়োগ হয়নি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন অধ্যাপকের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন বিভাগও। হয় না গবেষণার কাজও।

অধ্যাপক পদ ৭৯৩। আছেন ৩৯৫ জন অধ্যাপক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বিভাগের ৫৫টি বিভাগের এই হাল।
তৃণমূলের সরকার গুরুত্ব দেয়নি নিয়োগে। তাই এই দুর্দশা নিয়ে পঠনপাঠন চলছে ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। নয়া শিক্ষা নীতি অনুযায়ী যেই পাঠ্যক্রম শুরু হয়েছে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে তাতে যেই পরিমান অধ্যাপধ থাকা প্রয়োজন সেটা নেই। তাহলে কি ভাবে চলছে কলেজ গুলো? একাধিক কলেজ কাজ চালাচ্ছে অতিথি অধ্যাপক দিয়ে। তাদের যেই বেতন তা দিয়ে হয় কলেজের নিজস্ব ফান্ড থেকে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই টাকার অঙ্ক অনেকটাই কম। 
রাজ্যে সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত কলেজের সংখ্যা ৪৫২। রাজ্যের কলেজগুলিতে অনেক শিক্ষক, অধ্যাপক পদ শূন্য আছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে সমস্যা মেটেনি। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে ৪ বছরের স্নাতক পর্যায়ের পঠনপাঠন শুরু হলে কলেজগুলি আরও সঙ্কটে পড়বে বলেই আশঙ্কা শিক্ষক, অধ্যাপকদের। শুধু কলেজে নয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়তেও ৫৫টা বিভাগে পর্যাপ্ত অধ্যাপক নেই। মানে যতজন থাকার কথা ততজন নেই। ফিজিক্স, স্ট্যাটিসটিক্সের মতো একাধিক বিষয় যা অধ্যাপক সংখ্যা থাকার কথা তা নেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫টা বিভাগে অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৭৯৩। শূন্য পদ ৩৯৮। অর্থাৎ ৫০%-র বেশি পদ শূন্য। 
উদাহরণ হতে পারে ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সরদার কলেজ। ১৯৫৫ সালে তৈরি হয় কলেজ। ইংরেজি, ভূগোল, এডুকেশনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই।


আগামীকাল পঞ্চম পর্ব
প্রথম পর্ব লিঙ্ক

দ্বিতীয় পর্ব লিঙ্ক
তৃতীয় পর্ব লিঙ্ক
প্রকাশ: ২২-অক্টোবর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 27-Oct-25 14:15 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-flaws-of-modern-education-4
Categories: Fact & Figures
Tags: jobless, no job, righttoeducation, colleges without professors
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড