পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের আমলেই শিল্পের মজবুত ভিত্তি গড়ে উঠেছিলঃ আরবিআই'র রিপোর্ট

Author
ওয়েবডেস্ক প্রতিবেদন

Left Front Government Created A Base For Industrialization In West Bengal : RBI Report
রাজ্য সরকার এবছরের বাজেট ঘোষণায় যতই নিজেদের উন্নয়নের গল্প শোনাক না কেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের আসল চিত্র স্পস্ট হয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এই দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূল জমানার সার্বিক ব্যর্থতা উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্টে পরিসংখ্যান দিয়ে দেখানো হয়েছে বামফ্রন্ট আমলের শেষ দুবছর শিল্পক্ষেত্রের প্রসার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। বস্তুত রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পস্থাপনের কাজে মমতা ব্যানার্জীর সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই ভিত্তিস্থাপন হয়েছিল বাম আমলে।

শিল্পস্থাপনে এখন সারা দেশে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে থাকা গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তুলনায় বামফ্রন্টের আমলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক এগিয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল এমএসই (Medium and Small Enterprises) ক্ষেত্রের সবচেয়ে দ্রুত ও সর্বাধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নতিসাধন, যা আসলে কোন রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের মেরুদন্ড হিসাবে কাজ করে। সেইসময় শিল্পস্থাপনে সারা দেশের মধ্যে গুজরাট ছিল ৭ নম্বরে, অন্ধ্রপ্রদেশ ছিল ৬ নম্বরে - ৪ নম্বরে ছিল পশ্চিমবঙ্গ।

রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ২০১২ থেকে শুরু করে ২০১৯’র মার্চ অবধি ৭ বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অংকের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পে। অথচ ২০০৯’র মার্চ থেকে ২০১১’র মার্চ অবধি এ রাজ্যে ২৩,০৮৭ কোটি ৮৫ লক্ষের বেশি টাকার ছাড়পত্র দিয়েছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি। এধরনের বিনিয়োগ করার সময় ব্যাংক অথবা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ঋণ পরিশোধ হবার নিশ্চয়তা বিচার করতে গিয়ে রাজ্যে শিল্পস্থাপনের অনুকূল পরিবেশকেই প্রাধান্য দেয়।

কোন রাজ্য শিল্পে কতটা এগিয়ে তা নির্ণয় করার সময় এমএসই (Medium and Small Enterprises) ক্ষেত্রে Credit Growth (ক্রমবর্ধমান ঋণের পরিমাপ)'কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুচক ধরা হয়। বাম আমলে সেই সুচক সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়।

আরবিআই'র রিপোর্টে ২০০৮ থেকে ২০১০ অবধি Outstanding Credit Growth'র হিসাব দেখলেই বোঝা যাবে পশ্চিমবঙ্গ তখন কিভাবে শিল্পক্ষেত্রে উন্নতি করেছিলঃ

Outstanding
Credit
Detail
West Bengal
(Crores)
Gujarat
(Crores)
AndhraPradesh
(Crores)
200813,222.00 Rs****
200915,260.00
Rs
****
201027,865.00
Rs
20,500.00
Rs
22,500.00
Rs


ঐ সময়ে (২০১০ সালে) মহারাস্ট্রে Outstanding Credit ছিল 71,566 কোটি টাকা। তামিলনাড়ুতে গতবছর Outstanding Credit হয়েছে 41,787 কোটি টাকা।

এরকম মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ যখন রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সেই উন্নত অবস্থান থেকে এগোনোর বদলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পে ক্রমশ পিছিয়েছে। রাজ্যে নতুন কলকারখানা স্থাপন, পুরোনো বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা খোলা, সামগ্রিক কর্মসংস্থান, গ্রামীন বাংলায় বাজারের প্রসার সমস্ত ক্ষেত্রেই মমতা ব্যানার্জির সরকার সেই ভরসা নষ্ট করে ফেলেছে, তাই এধরনের বিনিয়োগে এত বিপুল পরিমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গণশক্তি ১

গণশক্তি ২

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া

টাইমস অফ ইন্ডিয়া
প্রকাশ: ১৯-ফেব্রুয়ারি-২০২০

রাজ্য সরকার এবছরের বাজেট ঘোষণায় যতই নিজেদের উন্নয়নের গল্প শোনাক না কেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের আসল চিত্র স্পস্ট হয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এই দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূল জমানার সার্বিক ব্যর্থতা উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্টে পরিসংখ্যান দিয়ে দেখানো হয়েছে বামফ্রন্ট আমলের শেষ দুবছর শিল্পক্ষেত্রের প্রসার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। বস্তুত রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পস্থাপনের কাজে মমতা ব্যানার্জীর সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই ভিত্তিস্থাপন হয়েছিল বাম আমলে।

শিল্পস্থাপনে এখন সারা দেশে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে থাকা গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তুলনায় বামফ্রন্টের আমলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক এগিয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল এমএসই (Medium and Small Enterprises) ক্ষেত্রের সবচেয়ে দ্রুত ও সর্বাধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নতিসাধন করা, যা আসলে কোন রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের মেরুদন্ড হিসাবে কাজ করে। সেইসময় শিল্পস্থাপনে সারা দেশের মধ্যে গুজরাট ছিল ৭ নম্বরে, অন্ধ্রপ্রদেশ ছিল ৬ নম্বরে - ৪ নম্বরে ছিল পশ্চিমবঙ্গ।

রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ২০১২ থেকে শুরু করে ২০১৯’র মার্চ অবধি ৭ বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অংকের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পে। অথচ ২০০৯’র মার্চ থেকে ২০১১’র মার্চ অবধি এ রাজ্যে ২৩,০৮৭ কোটি ৮৫ লক্ষের বেশি টাকার ছাড়পত্র দিয়েছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি। এধরনের বিনিয়োগ করার সময় ব্যাংক অথবা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ঋণ পরিশোধ হবার নিশ্চয়তা বিচার করতে গিয়ে রাজ্যের শিল্পস্থাপনের অনুকূল পরিবেশকেই প্রাধান্য দেয়।

কোন রাজ্য শিল্পে কতটা এগিয়ে তা নির্নয় করার সময় এমএসই (Medium and Small Enterprises) ক্ষেত্রে Credit Growth (ক্রমবর্ধমান ঋণের পরিমাপ)'কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুচক ধরা হয়। বাম আমলে সেই সুচক সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছয়।

আরবিআই'র রিপোর্টে ২০০৮ থেকে ২০১০ অবধি Outstanding Credit Growth'র হিসাব দেখলেই বোঝা যাবে পশ্চিমবঙ্গ তখন কিভাবে শিল্পক্ষেত্রে উন্নতি করেছিলঃ

Outstanding
Credit
Detail
West Bengal
(Crores)
Gujarat
(Crores)
AndhraPradesh
(Crores)
200813,222.00 Rs****
200915,260.00
Rs
****
201027,865.00
Rs
20,500.00
Rs
22,500.00
Rs

ঐ সময়ে (২০১০ সালে) মহারাস্ট্রে Outstanding Credit ছিল 71,566 কোটি টাকা। তামিলনাড়ুতে গতবছর Outstanding Credit হয়েছে 41,787 কোটি টাকা।

এরকম মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ যখন রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সেই উন্নত অবস্থান থেকে এগোনোর বদলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পে ক্রমশ পিছিয়েছে। রাজ্যে নতুন কলকারখানা স্থাপন, পুরোনো বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা খোলা, সামগ্রিক কর্মসংস্থান, গ্রামীন বাংলায় বাজারের প্রসার সমস্ত ক্ষেত্রেই মমতা ব্যানার্জির সরকার সেই ভরসা নষ্ট করে ফেলেছে, তাই এধরনের বিনিয়োগে এত বিপুল পরিমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

Ganashakti 1

Ganashkati 2

Reserve Bank of India

Times Of India

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 19-Feb-20 14:09 | by 0
Permalink: https://cpimwestbengal.org/left-front-government-created-a-base-for-industrialization-in-west-bengal-rbi-report
Categories: Current Affairs
Tags:
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড