ভগত সিং : লড়াইয়ের আইকন, মতাদর্শের নেতা

ডঃ দীপ্তজিৎ দাস
ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্রের মতে, 'সমসাময়িক নেতাদের মধ্যে গান্ধীজি ছাড়া যিনি সাম্প্রদায়িকতার চক্রান্ত বুঝতে পেরেছিলেন তিনি ভগত সিং।' সেই ভারতে আজ সাম্প্রদায়িকতার বিপদ। সরাসরি সরকারি দলের পৃষ্টপোষকতায় বুলডোজারে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে সংখ্যালঘু মানুষের ঘর। SIR এর নামে কেড়ে নেওয়াই হচ্ছে সংখ্যালঘু মানুষের ভোটাধিকার। কেবল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে খুন হতে হচ্ছে শ্রমিককে। ভগত সিংয়ের ভারতের অস্তিত্ব আজ সংকটে বিজেপির হাতে।

"আমার জীবন অন্তত আমার কাছে অতটা মূল্যবান নয় যতটা তুমি ভাবছো। তা কোনো মূল্যেই আমার মূল্যবোধকে কিনে নিতে পারে না। আমি জানি আগাগোড়া তুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছো। কিন্তু এই মুহূর্তে কেন এমন দুর্বলতা প্রদর্শন করছো ? আমি কোনোভাবেই তোমার পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারলাম না।"
বাবা কিশান সিং ছেলের প্রাণভিক্ষা করে চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশরাজকে। তেইশ পেরানো ভগত সিংয়ের কাছে তা চরম অসম্মানের। দেশের জন্য মৃত্যু তার কাছে অনেক অনেক শ্রেয়। তাই সপাটে প্রত্যাঘাত বাবাকে। তার ইচ্ছাতেই চিঠি প্রকাশ্যে আনেন কিশান সিং। ব্রিটিশের কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ আপোষহীন যুবক। তাই কোর্ট ট্রায়াল হয়ে ওঠে তার কাছে নিজের আদর্শ, রাজনীতি ছড়ানোর মোক্ষম উপায়। নিশ্চিত মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তার লড়াইয়ের লক্ষ্য রাজবন্দীর স্বীকৃতি আদায় করা। অনশনে যতীন দাসের মৃত্যু, বিস্ফোরণে ভগবতী চরণ ভোরার মৃত্যু, পুলিশের গুলিতে আজাদের মৃত্যু উদ্বেল করে তাকে। ব্রিটিশরাজকে চিঠি লিখে জানান তাদেরও যেন গুলি করেই মারা হয়। একদিকে যখন ভগত সিংরা লড়ছেন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে, নিজেদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ করছেন দেশের তরুণ সমাজকে তার কিছু বছর আগেই মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন সাভারকার। সাভারকরদের দাসত্বের বিরুদ্ধে ভগত সিংদের বীরত্বই জবাব এদেশের। সেই সময়। আজও তাই সাভারকারদের মডেল অনুসরণ করা বিজেপি মসনদে এলে আক্রান্ত হয় ভগত সিংয়ের ভারতের ঐতিহ্য।
২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯০৭। খাজনা মুকুবের দাবিতে কৃষক বিদ্রোহে উত্তাল পাঞ্জাব। লায়ালপুরে নবাগত শিশুর জন্মের সময় বাবা কিশান সিং, কাকা স্বর্ণ সিং জেলবন্দী। পরিবারের শিকড় থেকেই স্বাধীনতার অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষা সঞ্চারিত হয় ভগতে সিংয়ের মধ্যে, এর পরের দশক পাঞ্জাব উত্তাল হয়ে ওঠে গদর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। ১৯১৫ সালের ১৬ নভেম্বর ব্রিটিশরা ফাঁসির দড়িতে ঝোলায় ২০ বছরের কর্তার সিং সারাভাকে। ফাঁসির আগে কর্তার সিংয়ের শেষ কথা ছিল, 'আমার একমাত্র চাওয়া - স্বাধীনতা। যদি একের বেশি জীবন পাই প্রতিটাই এভাবে উৎসর্গ করবো স্বাধীনতার জন্য।' কর্তার সিং সারাভাই হয়ে ওঠেন ভগত সিংয়ের আইকন। শেষ দিন পর্যন্ত তার সাথে থাকতো কর্তার সিং সারাভার ছবি। এরপর ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যা হয়ে গভীর রেখাপাত করে ভগত সিংয়ের মনে।ঘটনার পরদিন ১২ বছরের কিশোর ৫৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে কুড়িয়ে আনা দেশের মানুষের রক্ত মাখা মাটি। আজীবন দেশপ্রেমের নিখাদ মোটিভেশন হিসেবে এটাই যথেষ্ট ছিল তার। দেশের মানুষকে যারা মারে তাদের থেকে স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়াই ছিল তার তীব্রতম আকাঙ্ক্ষা। স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোষহীন ভগত সিং, কর্তার সিংদের দেশ আজ নরেন্দ্র মোদীদের বদান্যতায় মাথা ঝোঁকায় ট্রাম্পের আস্ফালনের কাছে। ভারত পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি। আমেরিকা ইজরায়েলের দাসত্ব করতে গিয়ে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রনায়কের খুনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে পারে না ভারত। পরিণামে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রশ্নের মুখে পরে জনতার পেটের ভাত। ভারতে নৌ মহড়ায় এসে আমেরিকার হাতে আক্রান্ত হয় ইরানের জাহাজ। ধিক্কার জানাতে পারে না ভারত। ভগত সিংয়ের ভারত আজ বিজেপির শাসনে পরিণত হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের দালালে।
যে সাম্রাজ্যবাদের পাপেটে পরিণত হয়েছে আজকের ভারত তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ভগত সিং আগাগোড়া। বর্তমান সময়ে আমেরিকার শুল্ক হুঙ্কারে সামনে মাথা নত করে দেশের অর্থনীতির সামনে সংকট নামিয়ে এনেছে দেশের সরকার। অথচ এই সাম্রাজ্যবাদকেই মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন ভগত সিং। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব, বিভিন্ন দেশে উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রামের উত্তাল স্রোতের ছোঁয়া আসতে থাকে ভারতে। তার সাপেক্ষেই জারিত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারা। মূলত ভগত সিংয়ের প্রস্তাবেই 'হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন' পরিণত হয় 'হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনে'। প্রধানত ভগত সিং এবং ভগবতী চরণ ভোরার নেতৃত্বে লেখা ম্যানিফেস্টোতে তারা দেশের মানুষের দুর্গতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদকে। তার পরিণামেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম যন্ত্রণা। কংগ্রেসের যে লাহোর অধিবেশনে গৃহীত হয় পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব সেখানেই হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বিতরণ করেন এই ম্যানিফেস্টো।
প্রারম্ভিক পর্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম সীমাবদ্ধ ছিল কিছু অভিজাত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নিপীড়িত মানুষের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ জন্ম নেয় কিন্তু তাদের প্রতিদিনের যন্ত্রণা নিরসনের কোনো বার্তা সেই সংগ্রামে ছিল না। বিপ্লববাদী ধরার উত্থানে এক নতুন পর্যায় শুরু হয় এই সংগ্রামে। ধীরে ধীরে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিপ্লব বিশ্বজোড়া কমিউনিস্ট আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। তার আলোকেই ধীরে ধীরে শৃঙ্খল ভেঙে জেগে ওঠে সাধারণ মেহনতি জনতা। স্বাধীনতার বিভিন্ন আন্দোলনে লাগতে থাকে শ্রেণী সংগ্রামের ছোঁয়া। কমিউনিস্ট পার্টির পাশাপাশি এই শ্রেণীর মানুষকে স্বাধীনতার আন্দোলনে যুক্ত করা এবং তাদের মুক্তি সংগ্রামকে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের বিপ্লবীরা। তাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিলেন ভগত সিং। বিভিন্ন দেশী বিদেশী সাহিত্য এবং দর্শন চর্চাই তার মধ্যে এই চেতনার উন্মেষ ঘটায়। তার দীর্ঘদিনের সহযোগী শিব ভার্মা তার সম্পর্কে লেখেন 'এমন কোনো দিন ছিল না যেদিন ভগত সিংয়ের পকেটে কোনো বই থাকতো না।' জেল ডায়েরির বিভিন্ন পাতায় তিনি উল্লেখ করেছেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কৃষক, শ্রমিকদের নিয়োজিত করার গুরুত্ব। বিভিন্ন সময় 'কীর্তি', 'মাতোয়ালি' পত্রিকায় তার লেখায় ফুটে ওঠে সেই কথা। ওয়ার্কার পিসেন্ট পার্টির কলকাতা অধিবেশনেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পাঞ্জাবের কীর্তি কিষান পার্টির সাথেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ছিল তার। দেশের যুব সম্প্রদায়ের উদ্যেশ্যে জেল থেকে লেখা এক চিঠিতে তিনি লেখেন, 'প্রকৃত ভারতকে দেখতে গেলে যাও গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায়। জাগিয়ে তোলো শ্রমিক কৃষকদের। তাহলেই জাগবে ঘুমন্ত সিংহ। সেদিন ব্রিটিশ পালাতে বাধ্য হবে।'
ব্রিটিশের চক্রান্তে উনিশ শতকের শুরু থেকেই সমাজ জীবনে বাসা বাঁধতে থাকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মেহনতির দাবিকে চ্যাম্পিয়ন করার পক্ষেই সওয়াল করেন ভগত সিং। বাংলা, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্রে আন্দোলনের তীব্রতা, জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার আলোড়নে তীব্রতর হয় অসহযোগ আন্দোলন কিন্তু ১৯২২ সালে উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায় বিক্ষোভকারীরা থানায় অগ্নিসংযোগ করার ঘটনায় গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। এই সময়েই দেশজুড়ে বাড়তে থাকে সাম্প্রদায়িকতার বিপদ। কৃষক, শ্রমিকদের হতাশাকে অপব্যবহার করতে চায় স্বার্থান্বেষীরা। ১৯২৫ সালে আর.এস.এস-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সময়েই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল ওঠে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে। সেই ধারাই প্রভাবিত করে জাতীয় কংগ্রেসকে। ভগত সিং এবং তার সহচররাও সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ছিলেন আপোষহীন। ভগত সিংয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠন নওজোয়ান ভারতসভার ড্রাফটে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, 'সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং সাম্প্রদায়িকতার পক্ষের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযোগ রাখা যাবে না।' 'কীর্তি' পত্রিকায় পাঞ্জাবি এবং উর্দু ভাষায় লেখা তিনটি প্রবন্ধ 'ধর্ম এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম', 'সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং তার সমাধান', 'অস্পৃশ্যতার সমস্যা' তার সাম্প্রদায়িকতা এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে জোরদার সওয়ালের দলিল। লালা লাজপত রাইকে আগাগোড়া নেতা মানলেও শেষ জীবনে তার বিচ্যুতি এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে রবার্ট ব্রাউনিংয়ের 'The lost leader' নামক কবিতা ছাপিয়ে প্যামফ্লেট বিলি করেন ভগত সিং। ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্রের মতে, 'সমসাময়িক নেতাদের মধ্যে গান্ধীজি ছাড়া যিনি সাম্প্রদায়িকতার চক্রান্ত বুঝতে পেরেছিলেন তিনি ভগত সিং।' সেই ভারতে আজ সাম্প্রদায়িকতার বিপদ। সরাসরি সরকারি দলের পৃষ্টপোষকতায় বুলডোজারে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে সংখ্যালঘু মানুষের ঘর। SIR এর নামে কেড়ে নেওয়াই হচ্ছে সংখ্যালঘু মানুষের ভোটাধিকার। কেবল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে খুন হতে হচ্ছে শ্রমিককে। ভগত সিংয়ের ভারতের অস্তিত্ব আজ সংকটে বিজেপির হাতে। তাদের অ্যাজেন্ডাই বাংলায় বাস্তবায়িত করছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আরএসএসের গুণের কথা। কমিউনিটির কথা তুলে আঁচ বাড়াচ্ছেন বিভাজনে। তাই ভগত সিংয়ের ভারতকে বাঁচাতে গেলে লড়তে হবে সাম্প্রদায়িকতার সমস্ত পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে।
পরাধীন ভারতে ভগত সিং ছিলেন বিপ্লবের প্রচারক। একদিকে সাম্প্রদায়িকতাকে দূর করা, অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক যুবদের স্বাধীনতা সংগ্রামে টেনে আনা ছিল তার অভিপ্রায়। শোষিত দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে শ্রেণী সংগ্রামের আলোকে বাঁধতে চেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে মিলিয়ে দিতে। সমস্ত শোষণের মুক্তিই তার কাছে বিপ্লব, স্বাধীনতার স্বাদ। লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালীন ১৯২৯ সালের ৬ জুন কোর্টে এক ঐতিহাসিক বক্তব্যে ভগত সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত তুলে ধরেন বিপ্লবের কথা। তাদের ভাষ্যে, 'বিপ্লব কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্যেশ্যে নয়। এটা কেবল বোমা, পিস্তলের আস্ফালন নয়। বিপ্লবের দ্বারা আমরা বোঝাতে চাইছি বর্তমান ব্যবস্থা যা বৈষম্যের উপর তৈরী তার পরিবর্তন। সমাজের উৎপাদকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা প্রতিনিয়ত লুণ্ঠিত হন শোষকদের দ্বারা। যে কৃষক ফসল ফলান তার পেটের ভাত জোটে না। যে শ্রমিক কাপড় বোনেন, তার শিশুর গায়ে কাপড় নেই। এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।' নওজোয়ান ভারত সভার ম্যানিফেস্টোতে তারা উল্লেখ করেছিলেন, 'স্বরাজ চাই। বিপ্লব চাই। দেশের মানুষের দ্বারা। দেশের মানুষের জন্য।'
বৈষম্য, অবিচার, অত্যাচার দূর করে স্বাধীন ভারত গঠনে সমাজতান্ত্রিক মডেলকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন ভগত সিং। মৌলিক মার্কসবাদের গভীর চর্চার ফলে নতুন ভাবে উদ্দীপ্ত হন ভগত সিং। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লব আলোড়ন ফেলে তার চিন্তার জগতে। ভারতের যুবদের তিনি তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আবেদন জানান। এমনকি লেনিনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি এবং তার সহচররা লাল স্কার্ফ পরে কোর্টে হাজির হন। ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হতেই তারা স্লোগান তোলেন, 'long live revolution', 'Lenin name will never die.' এমনকি আদালতের অনুমতি নিয়ে তৃতীয় আন্তর্জাতিকে টেলিগ্রাম পাঠান ভগত সিং। পরবর্তী সময়ে ভগত সিংয়ের সহযোদ্ধারা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। ভগত সিংয়ের সাথেই লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া শিব ভার্মা, জয়দেব কাপুর, বিজয় কুমার সিনহা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর বিজয় কুমার সিনহা সোভিয়েতে জন স্টালিনের সাথে সাক্ষাতের জন্য। ভগত সিংয়ের সাথে লাহোর জেলে অনসংকারী অজয় ঘোষ পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ফাঁসির কিছু দিন আগে ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ তিনি দেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্যেশ্যে একটি চমৎকার চিঠি লেখেন। আমাদের লেনিনের খুব প্রিয় শব্দবন্ধ 'পেশাদার বিপ্লবী' আরও বেশি করে ব্যবহার করা উচিত। সর্বক্ষণের কর্মী যাদের বিপ্লব ছাড়া জীবনের অন্য কোনো লক্ষ নেই। যত বেশি সংখ্যায় সেই কর্মীরা পার্টিতে ঐক্যবদ্ধ হবেন তত সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে। পার্টির নাম হতে হবে অবশ্যই কমিউনিস্ট পার্টি। নিয়ম শৃঙ্খলায় বাঁধা সেই পার্টিই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে। তারা কৃষক, শ্রমিকদের সংগঠিত করবে। তাদের শ্রেণী চেতনায় শাণিত করবে।' ভগত সিংয়ের চেতনা জুড়ে ছিল মতাদর্শের উদ্বুদ্ধ বিপ্লবের প্রেরণা। দেশের মানুষের শৃঙ্খল মুক্তি তার অভিপ্রায়। তার সাথেই ভাঙতে হবে সমাজের সমস্ত বৈষম্য, শোষণকে। তার নেতৃত্বের অভিমুখ হবে শ্রেণী সংগ্রাম। নেতৃত্ব দেবে সমাজতন্ত্রের বার্তাবাহকরা। বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বাহানা নয়, বিকিয়ে যাওয়া নয় মানুষের জন্য লড়াই তার প্রধান কমিটমেন্ট। তাই ভগত সিংয়ের দেশে আজও তার উত্তরাধিকার কমিউনিস্টরাই।
১৯৩১ সালের ২৩ এপ্রিল লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসি হয় ভগত সিং, রাজগুরু, সুখদেবের। শতকের দোরগোড়ায় এসে এই মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীদের শাহাদাতকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানোর উপায় তাদের স্বপ্নের দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে লড়াই করা। সরাসরি ভাবে রুখতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্যকে। জনপ্রিয় করতে হবে সমাজতন্ত্রের দাবিকে। মানবমুক্তির সংগ্রাম জারি রাখতে হবে নিরন্তর।
প্রকাশ: ২৩-মার্চ-২০২৬
শেষ এডিট:: 23-Mar-26 11:45 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/bhagat-singh-icon-of-struggle-leader-of-ideology
Categories: Fact & Figures
Tags: bhagatsingh, martyrdom day
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (80)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
গ্রেট নিকোবর প্রকল্পঃ পরিবেশ বিধ্বংসী নকশা
- সৌরভ চক্রবর্ত্তী
বৈষম্যের স্থাপত্য
- শমীক লাহিড়ী
এসআইআর রায়: গণতন্ত্রের ওপর এক চরম আঘাত
- ওয়েবডেস্ক





