হিউম্যান জিনোম প্রসঙ্গে

এস কৃষ্ণস্বামী

বহু উপজাতিগোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নভাবে থাকা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট জিনের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ বানানোর যে প্রয়াস, তার সুফল এঁরা পাবেন না।

Writing the Human Genome

ইউনাইটেড কিংডমের কিছু সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েলকাম ট্রাস্টের অর্থানুকূল্যে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি বাজেট নিয়ে বেশ নতুন ধরনের একটি গবেষণা আরম্ভ করেছে। এ গবেষণার উদ্দেশ্যে মানুষের জিনোম তৈরী করা বা সহজ ভাষায়, জীবন সৃষ্টির মূল চাবিকাঠির উদঘাটন করা। প্রথমে মানুষের ক্রোমোজোম এবং পরে সম্পূর্ণ জিনোম তৈরি করার উদ্দেশ্যে সিনথেটিক হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট (SynHG) কাজ করছে। এ গবেষণায় প্রাথমিকভাবে ১ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ হয়েছে। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ, ম্যানচেস্টার ও কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন।

মানুষের জিনোমে প্রায় ৩০০ কোটি নানা প্রকারের রাসায়নিক অক্ষরের মত বিন্যস্ত থাকে। এদের বলা হয় A, T, C এবং G- ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে এ বিন্যাস (কোড) প্রোটিনগুলিকে ঘিরে  সজ্জিত থাকে। পুরো ব্যবস্থাটাই প্রায় সমস্ত কোষের মধ্যেই রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে হিউম্যান আর্টিফিসিয়াল ক্রোমোজোম (HAC)’র একটি স্থিতিশীল সিঙ্গেল কপি তৈরী করার কথা ঘোষণা করে জে ক্রেগস ভেন্টার ইনস্টিটিউট (JCVI)। SynHG সেই ঘোষণার সূত্র ধরেই কাজ করছে। বিগত বেশ কিছু দশক ধরে কৃত্রিম শারীরবিদ্যার গবেষকরা সফলভাবে হিউম্যান আর্টিফিসিয়াল ক্রোমোজোম (HAC) তৈরির চেষ্টা করছেন। এতদিন ঐ লক্ষ্যে যাবতীয় গবেষণার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল ‘মাল্টিমেরিজেশন’। এক্ষেত্রে কোষের মধ্যে কৃত্রিম উপায়ে তৈরী ক্রোমোজোমটি নিজের মত আরও ক্রোমোজোম বানাতে শুরু করে এবং সে কাজের মধ্যে মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে একে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা নিরীক্ষা বা চিকিৎসার কাজে লাগানো যায় না। JCVI’ প্রকল্পের প্রধান সাফল্যই হল সমস্ত পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। এর ফলে কৃত্রিম শারীরবিদ্যার গবেষকরা মানব কোষের মধ্যে সহজেই, নিজেদের ইচ্ছা অনুসারে প্রচুর জেনেটিক তথ্য প্রবিষ্ট করতে পারবেন। JCVI’র তরফে এ কাজের উপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যের SynHG’র ঐ প্রচেষ্টাকে এখন আর আকাশ কুসুম স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে না। কিছুটা ভেবে দেখলে উপলব্ধি হয়, বিষয়টি বৈপ্লবিক। এর মাধ্যমে মানবশরীরে এমনসব টিস্যু তৈরী করা সম্ভব যেগুলি ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয় না, একেবারে কোষের স্তরে নেমে এসে বিভিন্ন রকম চিকিৎসা করা যাবে। জেনেটিক সূত্রে প্রাপ্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগগুলিকেও প্রতিরোধ করা যাবে।

কোনও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের প্রয়োগই নিরপেক্ষ হয় না। কৃত্রিম শারীরবিদ্যার এই নতুন জগৎ কাদের উপকারে আসবে, সে প্রশ্ন থাকছেই।

অনেকের নাকি হাতে গোনা কয়েকজনের?

জিনোমের গঠন কী করে পড়া গেল, কী ধরণের সমস্যা ছিল?

কেন এ প্রশ্ন সামনে আসছে তা বুঝতে গেলে আগে বোঝা দরকার ঠিক কী তৈরী করার কথা হচ্ছে? স্ট্রিং (সুতো)’র মতো দেখতে হলেও ক্রোমোজোমের গঠন রীতিমত জটিল। প্রথমত, জুতোর ফিতের মাথায় প্লাস্টিকের টুপির মত এঁটে যেভাবে তাকে সুরক্ষিত করা হয়, ক্রোমোজোমের মাথাতেও টেলোমেয়ার বলে একধরণের টুপি পরানো থাকে। ক্রোমোজোমের মাঝের দিকটি সরু হয়। এ অংশটিকে বলে সেন্ট্রোমেয়ার। কোষ বিভাজনের সময়ে ক্রোমোজোম বিভক্ত হয় ঐ জায়গা থেকেই। বহুদিন ধরে সে বিন্যাসটির পাঠোদ্ধার করাই ছিল মূল নির্ধারক কাজ। একেই জিনোম ‘সিকোয়েন্স’ বলে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রকল্প হিসাবেই সেই বিরাট কাজ আরম্ভ হয়। ১৯৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি এবং ইউনাইটেড কিংডমের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’র যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার খরচ করে শুরু হয় ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট (HGP)। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান এবং পরবর্তীতে চীনের বিভিন্ন সরকারী গবেষণা এ কাজে যুক্ত হয়। মুক্ত গবেষণার নীতি ও জনগণের পয়সা থেকে ব্যয় বরাদ্দ নির্ধারণ করেই বিজ্ঞানের জয়যাত্রা ঘোষিত হয়। বারমুডা প্রিন্সিপলস্ নামক নীতি অনুযায়ী গবেষণালব্ধ যেকোনও আবিষ্কার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রতিজ্ঞাও নেওয়া হয়। যৌথ মালিকানার প্রতি এ ছিল এক দৃঢ় অঙ্গীকার। শীঘ্রই HGP’র কাজে এক প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে চলে আসে। ক্রেগ ভেন্টারের ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থা সেলেরা জিনোমিকস। এদের উদ্দেশ্য ছিল HGP’র আগেই বিভিন্ন জিনের সিকোয়েনসিং করে নিয়ে সেগুলির মালিকানা সত্ত্ব দখল নেওয়া। এমনটি ঘটলে মানবজাতির যৌথ উত্তরাধিকার খর্ব করে অর্থের বিনিময়ে ওদের থেকে তথ্য খরিদ করতে হবে।

HGP ও সেলেরা জিনোমিকসের মধ্যে এমন লড়াইয়ের শেষে রাজনৈতিকভাবে ঘোষিত এক যুদ্ধবিরতি জারি করা হয়। যদিও সেই অর্থে শান্তি আদৌ আসেনি। ২০০০ সালের জুন মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ঘোষণা করেন যে দুটি সংস্থাই প্রাথমিক ভাবে জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে। এ যুগান্তকারী কাজে যুক্ত সরকারি ও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা অভিনন্দিত হন। ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম সিকোয়েন্সিং কনসর্টিয়াম ঘোষণা করে HGP নিজেদের কাজে সফল হয়েছে, নিখুঁতভাবেই মানব জিনোমকে সিকোয়েন্স করা হয়েছে। সেই দাবীর পক্ষে জনসাধারণের সামনে উপযুক্ত তথ্যও তারা প্রকাশ করেছে। কিন্তু HGP’র এমন সাফল্যই সংশ্লিষ্ট গবেষণার শেষ কথা না, এটি এক প্রধান পদক্ষেপ মাত্র। সেসময় প্রযুক্তি অত উন্নত ছিল না। বিজ্ঞানের সাফল্য বুঝতে ভাষায় ব্যবহৃত রূপক তুলে ধরে বলা চলে তখনকার প্রযুক্তি জিনোমের এক একটি ‘অনুচ্ছেদ’ পড়তে সক্ষম হয়। টেলোমেয়ার ও সেন্ট্রোমেয়ারের জটিল, বহুল ‘বাক্য’র পাঠোদ্ধার করা তখনও সম্ভব হয়নি। HGP নিজেদের কাজ শেষ করতে পারেনি কারণ তার পক্ষে জিনোমের প্রায় ৮ শতাংশ, মোটামুটি ২০ কোটি ‘অক্ষর’ পড়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ঐ অক্ষরগুলি রয়েছে টেলোমেয়ার আর সেন্ট্রোমেয়ারের জটিল অংশগুলিতে অর্থাৎ পুনরাবৃত্ত হওয়া বিন্যাস এবং জটিল ‘বাক্য’ গুলির মধ্যে।

শেষমেষ ২০২২ সালের মার্চ মাসে টেলোমেয়ার টু টেলোমেয়ার কনসর্টিয়াম ক্রোমোজোমের একদিক থেকে অন্যদিক অবধি গোটা সিকোয়েন্সটির পাঠোদ্ধার করতে সফল হয়। ঐ গবেষণার কাজে নেতৃত্ব দেয় সরকার, অর্থের যোগানদার আবারও সেই একই অর্থাৎ জনগণের পয়সা।

কার জিনোম?

বিজ্ঞানের এই বিজয় আমাদের এক গভীরতর ও মারাত্মক প্রশ্নের সামনে এনে দাঁড় করায়। ‘গড়পড়তা’ জিনোমের যে গল্পকথা এমনিতে চলে সেই ধারণা এর প্রভাবে বিপাকে পড়ল। আসলে HGP যে রেফারেন্স বা উদাহরণ স্বরূপ জিনোম গঠনের কাজ আরম্ভ করেছিল তার প্রায় ২০ শতাংশই ছিল বেনামী দাতাদের, ৭০ শতাংশ ছিল কেবল একজনই ব্যক্তির তরফে দান করা। ঐ সমস্ত ডিএনএ’কে একত্র করে একটি রেফারেন্স জিনোমের সিকোয়েন্স লেখার চেষ্টা হয়। ঐ একজন ব্যক্তির পারিবারিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় তার পূর্বপুরুষ মূলত ইউরোপীয়। তাই HGP’র ঐ রেফারেন্স জিনোম ছিল বিচ্ছিন্ন এবং অসমাপ্ত এক কাহিনী। এটাকেই ‘গড়’ বলে চালানো হত। এমন পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন রীতিমত সমস্যা তৈরী করে। ঐ গবেষণার ফলও হয় পক্ষপাতদুষ্ট। ফলে সামগ্রিক মানবজাতির স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলোচনায় এক বিরাট অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্রই বাদ রয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পক্ষপাতজনিত সমস্যার সমাধানের প্রয়াস জারি রয়েছে। হিউম্যান প্যানজিনোম রেফারেন্স কনসোর্টিয়াম বিবিধ রকমের মানব জিনোমের তালিকা তৈরী করতে চেষ্টা করছে। স্বীকার করা হচ্ছে আমাদের ডিএনএ আসলে সুপ্রাচীন তথ্যসমৃদ্ধ এক কাহিনী। এর মধ্যে ঐতিহাসিক পরিযান ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেকার সংকর সংক্রান্ত ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জিনোমিক তথ্যভাণ্ডারে ভারতীয় জিনোমের অনুপাত এখনও সামান্যই। ২০১৯ সালে CISR’র ইন্ডিজেন প্রকল্পের মাধ্যমে ১০২৯ জন সুস্থ ভারতীয়র জিনোম সিকোয়েনসিং করা হয়। জিনোম ইন্ডিয়া নামক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০০০ জন ভারতীয়কে পরীক্ষা করে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ধরণের বিভিন্ন প্রকার জিন সংক্রান্ত বৈচিত্র্য মেলে। কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট রোগের সম্ভাবনা, তার প্রতিকার এ সমস্ত জানতে এ ধরণের প্রকল্প খুবই জরুরী। সারা পৃথিবীতে প্রাপ্ত জিনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের মধ্যে ঐ নির্দিষ্ট তথ্যের পরিমাণ অতি সামান্যই। যেমন বহু উপজাতিগোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নভাবে থাকা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট জিনের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ বানানোর যে প্রয়াস, তার সুফল এঁরা পাবেন না।

মানব জিনোম তৈরীর প্রচেষ্টার কথায় ফিরে আসা যাক। অধ্যাপক জ্যাসন চিনের নেতৃত্বে SynHG কনসর্টিয়াম আপাতত কেবল একটি নির্দিষ্ট মানব ক্রোমোজোম তৈরীর চেষ্টা করছে। এ কাজে সফল হলে সম্ভাব্য সুফল প্রচুর। কৃত্রিম মাইটোকন্ড্রিয়া তৈরী করে মাইটোকন্ড্রিয়া সংক্রান্ত  সম্ভাব্য রোগকে প্রতিহত করা যাবে। শরীরে বাইরে কোষ তৈরী করে তার সাহায্যে মানব শরীরের চিকিৎসা করা যাবে। জিনোমের গঠন কীভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু সেলেরার স্মৃতি মাঝেমধ্যেই নানা আশঙ্কা উস্কে দিচ্ছে। এই নতুন জিনোমগুলির মালিক কারা হবে? মালিকানার স্বত্ব নেওয়া হবে কি? বিপুল খরচে তৈরী হওয়া এই প্রযুক্তি কি কেবলই ধনকুবেরদের স্বার্থে ব্যবহৃত হবে? এর ফোলে বিশ্বজোড়া স্বাস্থ্য বৈষম্য কি আরও তীব্র হবে?

কাদের উদ্দেশ্যে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়, SynHG কনসর্টিয়ামের মধ্যে যুক্ত রয়েছে ‘কেয়ারফুল সিনথেসিস’ নামের এক প্রকল্প। এর নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয় ঝাং। এ প্রকল্পটির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য আগ্রহীদের প্রতি নির্দেশও তারা জারি করেছে। পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ (গ্লোবাল সাউথ) ব্যাপী সামাজিক গোষ্ঠীগুলির অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। নতুন জ্ঞান বিকাশের বিবিধ ধরণের অন্তর্ভুক্তির কথাও রয়েছে। ঐ বিবৃতি অনুসারে কোনও জনগোষ্ঠীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসব পদ্ধতি তাদের উপরে প্রয়োগ করা যাবে না। পৃথিবীর উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনও প্রযুক্তি তৈরীর প্রকল্প এটি না। এর লক্ষ্য হল কোষের স্তরে মানুষের ইচ্ছানুযায়ী উন্নতি ঘটানোর হাতিয়ার তৈরী করা এবং একই সাথে প্রকল্পের সুষম বিস্তার ও প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় এক আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরী করা। এর কাজ হল মূল গবেষণার গোড়ার দিক থেকেই তার মধ্যে ন্যায় ও নীতির প্রতিষ্ঠা। ‘কেয়ারফুল সিনথেসিস’র দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি অবিচল থাকলে SynGH অবশ্যই প্রগতির অভিমুখে এক পদক্ষেপ। কিন্তু জিনোম সংশ্লেষ গবেষণায় সবচেয়ে বেশী এগিয়ে থাকলেও এ প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত হতে হবে। গ্লোবাল সাউথের নানা প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকদের এ কাজে যুক্ত করতে হবে। তথ্য এবং গবেষণালব্ধ ফল যাতে জনসাধারণের নাগালের মধ্যে থাকে সে বিষয়ে নিশ্চয়তার প্রয়োজন রয়েছে। কৃত্রিম মানব জিনোম সংশ্লেষ পদ্ধতির সাফল্য সম্ভাব্য  বহু সুফলকে সূচিত করবে ঠিকই, কিন্তু নিরপেক্ষভাবে সে গবেষণা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থাকছেই। এমন গবেষণাকে যে ব্যাপক আর্থিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে, এটুকু অবধারিত। সেই সকল বাধা অতিক্রম করে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে ঐ প্রকল্প কাজে লাগতে পারে কিনা দেখার বিষয় সেটিই।


বাংলায় অনুবাদঃ সাত্যকি ভট্টাচার্য

মূল প্রবন্ধটি পিপলস ডেমোক্র্যাসি পত্রিকার ১৫-২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত


প্রকাশ: ২০-সেপ্টেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image


অন্যান্য মতামত:

We are demanding for more financial assistance of Indian government for Indian institutes for making better infrastructure.
- Sudhansu Sekhar Mallick, ২১-সেপ্টেম্বর-২০২৫



শেষ এডিট:: 20-Sep-25 12:41 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/writing-the-human-genome
Categories: International
Tags: science, humangenome, synhg
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড