নভেম্বর বিপ্লব ও লেনিনের শিক্ষা

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য
ল্যাটিন আমেরিকা, সর্বত্র মানুষের এই লড়াই-সংগ্রাম বাড়ছে। যত লড়াই, সংগ্রাম বাড়ছে, তত মার্কসবাদের যে অমোঘ আকর্ষণ, সেটা নতুন করে অনুভূত হতে শুরু করেছে। আবার ওই মার্কসীয় মতবাদ, সমাজ পরিবর্তনের মতবাদ, এক নতুন শোষণহীন বিশ্ব গড়ার মতবাদ, আরও শক্তি নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচার মাধ্যমের একতরফা প্রচার যাই হোক, বর্তমান বিশ্বের এটাই বাস্তবতা

১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর কমরেড লেনিন, তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রুশ দেশের কমিউনিস্ট পার্টি, অর্থাৎ বলশেভিক পার্টি,এই পার্টির নেতৃত্বেই নভেম্বর বিপ্লব শুরু হয়েছিল।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে ইতিপূর্বে অনেক বিপ্লবের হদিস থাকলেও, পূর্বেকার সমস্ত বিপ্লবের থেকে নভেম্বর বিপ্লব গুণগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের বিপ্লব। কারণ এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এক শাসকের পরিবর্তে আরেক শাসকের প্রতিষ্ঠা হলো না।
একটি দেশে, অর্থাৎ রুশ দেশে, শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমাজ ব্যবস্থায় চিরকালের জন্য শ্রেণী শোষণের অবসান ঘটিয়ে এক শোষণহীন সমাজ গড়ে তোলা হলো। ৭ই নভেম্বর, অর্থাৎ বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুসারে, এ বিপ্লব শুরু হলেও মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বিপ্লব সফল হলো। জারের নেতৃত্বে রুশ দেশের সমস্ত প্রতিক্রিয়ার শক্তির মিলিত প্রতিরোধকে সশস্ত্র বিপ্লব ভেঙে চুরমার করে দিল। সর্বহারার প্রথম রাষ্ট্র ব্যবস্থা মানব সভ্যতার ইতিহাসে নভেম্বর বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো। নভেম্বর বিপ্লবের পর ১০৮ বছর অতিক্রান্ত। বিগত ১০৮ বছরে সমগ্র বিশ্ব তথা বিশ্ব পরিস্থিতির বহু পরিবর্তন ঘটেছে।কিন্তু নভেম্বর বিপ্লবের যে মূল আহ্বান, অর্থাৎ মানব সমাজ হবে শোষণহীন, বৈষম্য, অভাব, দারিদ্র, কর্মহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, শিক্ষাহীনতা, বাসস্থানহীনতা, এই সমস্ত কিছুর অবসান ঘটিয়ে সমস্ত মানুষের সমান অধিকারের দুনিয়া, যেখানে মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ আর থাকবে না। এই ধরনের সমাজ মানব সমাজে গড়ে তুলতে হবে। এই আহ্বানেই সংগঠিত তথা সফল হয়েছিল নভেম্বর বিপ্লব। তাই প্রতিবছর নভেম্বর বিপ্লবের শুরুর দিন, অর্থাৎ ৭ই নভেম্বর, সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, মানুষের সমস্ত অধিকার নিয়ে যারা বাঁচবার লড়াই করছেন, তারা এই দিনটাতে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার জন্য সমবেত হন। সেই স্বপ্নের দুনিয়া, যেখানে শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচার, লুণ্ঠন কোন কিছুর আর অস্তিত্ব থাকবে না , নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, ভাষা, ধর্ম, জাত, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার। সেই স্বপ্নের দুনিয়া গড়বার লক্ষ্যেই নতুন করে শপথ নেওয়ার জন্য নভেম্বর বিপ্লব দিবস আজও বিশ্বের মেহনতি তথা সংগ্রামী মানুষের কাছে ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
মার্কসবাদ, মার্কসীয় মতবাদের সফল প্রয়োগ-নভেম্বর বিপ্লব :
উনবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে মানব সভ্যতার দুনিয়ায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংযোজন মার্কসীয় মতবাদ। এই মতবাদ প্রথমবারের জন্য বিজ্ঞানের সাহায্যে, বিজ্ঞানের ভিত্তিতে মানব সমাজের বিকাশ ধারাকে আলোচনা করলো এবং এই আলোচনার মধ্য দিয়েই মার্কসীয় মতবাদ দেখালো পৃথিবীর বুকে আবির্ভাব লগ্ন থেকেই মানব সমাজে শোষণ ছিল না। বিকাশের ধারায় অর্থাৎ মানব সভ্যতার বিকাশের ধারায় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, তথা মানব উৎপাদিকা শক্তির বিকাশকে অবলম্বন করেই মানব সমাজে উদ্বৃত্ত উৎপাদন, যাকে ইংরেজিতে বলে সারপ্লাস প্রোডাকশন, অর্থাৎ শোষণের ভিত্তি প্রস্তুত হলো। শোষণহীন আদিম সাম্যবাদী মানব সমাজের উত্তরণ ঘটলো শোষণভিত্তিক মানব সমাজে।শোষণভিত্তিক মানব সমাজের প্রথম রূপ ছিল দাস সমাজ। উৎপাদক-উৎপাদিকা শক্তির বিকাশের ধারায় মানব সভ্যতায় নতুনতর সমাজের আবির্ভাব ঘটেছে। দাস সমাজ থেকেই মানব সমাজ ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজ। শ্রেণী সমাজের এক রূপ থেকে আরেক রূপের পরিবর্তনে শ্রেণী সংগ্রামই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে এবং এইভাবেই মানব সমাজ উত্তরণের ধারায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় উপনীত হয়েছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রেণী শোষণ হয়েছে অনেক সরল রূপের। একদিকে পুঁজির মালিক, আরেকদিকে উৎপাদনে নিযুক্ত শ্রমিক। স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রেণী সংগ্রামের অর্থ পুঁজির বিরুদ্ধে শ্রমের লড়াই বা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের লড়াই।
মার্কসীয় মতবাদ বিজ্ঞানকে অবলম্বন করে মানব সমাজের বিকাশ ধারা বিশ্লেষণ করে যে বক্তব্য উপস্থিত করলো, তা হলো পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই মানব সমাজে সর্বশেষ শোষণভিত্তিক ব্যবস্থা। বিকাশের ধারায় এ ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটবেই। তবে এই রূপান্তর এক ধরনের শ্রেণী শোষণ থেকে আরেক ধরনের শ্রেণী শোষণ নয়। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাদের অবসান ঘটবে এবং পুঁজিবাদের অবসানের সাথে সাথে মানব সমাজের বুক থেকে শ্রেণীবিভক্ত সমাজের পতন ঘটবে। মার্কসীয় মতবাদ শুধুমাত্র এই বক্তব্য উপস্থিত করেনি। এই সমাজ বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাদের সৃষ্টি শ্রমিক শ্রেণী (মডার্ন ওয়ার্কিং ক্লাস)। শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে সমাজের অপরাপর সমস্ত শোষিত, বঞ্চিত, মেহনতি মানুষ তাদের একত্রিত করেই একমাত্র শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বেই এই সমাজ বিপ্লবের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে, সঠিকভাবে পুঁজিবাদের পতন ঘটাতে পারে, সর্বহারার রাজ অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
মতবাদের দুই প্রতিষ্ঠাতা যথাক্রমে কার্ল মার্কস এবং ফ্রেড্রিক এঙ্গেলস। তাদের মৃত্যু হলো যথাক্রমে ১৮৮৩ ও ১৮৯৫ সালে। কিন্তু এই সময়কালে বিশ্বে যেমন পুঁজিবাদের প্রসার ঘটছে, আবার পুঁজিবাদের বিকাশের ধারায় পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর, একচেটিয়া পুঁজিবাদ তথা সাম্রাজ্যবাদের আবির্ভাব সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্কস-এঙ্গেলস এই আবির্ভাব সম্ভাবনার কথা বললেও, তাদের জীবদ্দশায় সাম্রাজ্যবাদী কোন দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের দুজনের মৃত্যুর পর ১৯০১, ১৯০২, ১৯০৩, ১৯০৪ এই সময় বিশ্বে একচেটিয়া পুঁজির নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি গড়ে উঠছে। রুশ বিপ্লব তথা বিশ্ব বিপ্লবের মহান নেতা কমরেড ভি.আই .লেনিন সমকালীন পরিস্থিতিতে মার্কসীয় মতবাদকে আরও সমৃদ্ধ করে সাম্রাজ্যবাদকে ব্যাখ্যা করলেন। তিনি দেখালেন, সাম্রাজ্যবাদ হলো পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর। তার সঙ্গে এটাও তিনি দেখালেন, ইম্পেরিয়ালিজম ইজ নট অনলি দ্য হাইয়েস্ট স্টেজ অফ ক্যাপিটালিজম (সাম্রাজ্যবাদ শুধুমাত্র পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর নয়) ,ইম্পেরিয়ালিজম ইজ অলসো মরিবান্ড ক্যাপিটালিজম(সাম্রাজ্যবাদ হলো মুমূর্ষু পুঁজিবাদ)। এই সময় থেকে পুঁজিবাদের পতন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। লেনিন এই আলোচনাকে আরও অগ্রসর করে বললেন, মার্কস-এঙ্গেলস সঠিকভাবে বুঝেছিলেন, দেখেছিলেন, যেহেতু সমাজতন্ত্র পুঁজিবাদ-উত্তর সমাজ (পোস্ট-ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটি) তাই কোন উন্নত পুঁজিবাদী দেশেই প্রথম সর্বহারার বিপ্লব সংঘটিত হবে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের যুগ বিশ্ব বিপ্লবের নতুন সম্ভাবনা উপস্থিত করেছে। লেনিন সাম্রাজ্যবাদের আলোচনা করতে গিয়ে এই দিকটা বিশেষভাবে তুলে ধরলেন, বিশ্লেষণ করলেন।
যেহেতু সাম্রাজ্যবাদ সমগ্র বিশ্বটাকে একই পুঁজিবাদী শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলেছে, তাই আজকে আর শুধুমাত্র উন্নত পুঁজিবাদী দেশেই সর্বহারা বিপ্লব শুরু হবে, একথা বলাটা সমীচীন নয়, সাম্রাজ্যবাদ যখন বিশ্বটাকে পুঁজিবাদের শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলেছে তখন এই শৃঙ্খলের দুর্বলতম গ্রন্থি, দ্য উইকেস্ট লিঙ্ক ইন দ্য ইম্পেরিয়ালিস্ট চেইন, সেই দুর্বল গ্রন্থিটাকে যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায় এবং শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবী সংগ্রাম যদি ওই দুর্বলতম জায়গায় সঠিক সময় আঘাত করতে পারে, তাহলে এমনকি পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশেও সর্বহারা বিপ্লব শুরু হতে পারে। লেনিন মার্কসীয় মতবাদ তথা বিপ্লবের তত্ত্বকে বিকশিত করে এই কথাগুলিই শুধুমাত্র বললেন না, এই তত্ত্বকে তিনি রুশ দেশের মাটিতে প্রয়োগ করলেন।বিপ্লব-পূর্ব রুশ দেশকে বলা হতো ব্যাকইয়ার্ড অফ ইউরোপিয়ান ক্যাপিটালিজম( ইউরোপীয় পুঁজিবাদের পশ্চাৎভূমি)। জারের রুশ দেশ খুব পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশ।কিন্তু লেনিন দেখালেন, বিপ্লবের মতবাদ সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, যেহেতু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন চলছে, বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের নিজেদের মধ্যেকার সংকট বাড়ছে, যার পরিণতি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, এবং রুশ দেশে একদিকে জারের শাসন, ভয়াবহ শোষণ, যার শিকার ওখানকার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সাধারণ জনগণ। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়ার ফলে রুশ দেশে জনগণের উপরে চেপেছে ভয়াবহ বোঝা।
সংকটে হাবুডুবু খাওয়া রুশ জনগণ বাঁচবার রাস্তা খুঁজছেন। সেই সময় রুশ দেশের মাটিতে কমরেড লেনিন এবং বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে জারের শাসন পাল্টাও, জারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দাও, এবং এই অত্যাচারী শাসনের বদল ঘটাও, এই স্লোগানে লক্ষ কোটি রুশিরা এক জায়গায় এসে সমবেত হলেন এবং এক অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে সমগ্র বিশ্বের মেহনতি মানুষের কাছে এক নতুন পথের নিশানা উপস্থিত করে সংঘটিত হলো রুশ দেশে নভেম্বর বিপ্লব।
অনেক বিপ্লবের কথা আমরা জানি, আমরা ফরাসি বিপ্লবের কথা জানি, আমরা আমেরিকান বিপ্লবের কথা জানি। এরকম বহু বিপ্লবের কথা আমরা শুনেছি। নো আদার রেভোলিউশন ক্যান বি কম্পেয়ার্ড উইথ দ্য নভেম্বর রেভোলিউশন(কোনো বিপ্লবের তুলনা হতে পারে না নভেম্বর বিপ্লবের সাথে)। কারণ এই প্রথম মানব সমাজ প্রত্যক্ষ করলো এক নতুন ব্যবস্থা, যেখানে অত্যাচারী শোষকরা আর রাষ্ট্র বা সমাজকে পরিচালনা করছে না।সর্বাধিক লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, শোষিত শ্রমিক, তার সঙ্গে কৃষক এবং অপরাপর সমস্ত মেহনতি জনগণের যৌথ উদ্যোগে সফল বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে স্থাপিত হয়েছে এক নয়া রাষ্ট্র -সোভিয়েত ইউনিয়ন।
কে অস্বীকার করতে পারে, যে নভেম্বর বিপ্লব শুধু রুশ দেশে সংঘটিত হয়নি , যার জন্য নভেম্বর বিপ্লবকে বলা হয়, ইট ওয়াজ এ রেভোলিউশন উইথ ইন্টারন্যাশনাল সিগনিফিকেন্স। আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নিয়েই এই নভেম্বর বিপ্লব। কারণ এই বিপ্লব সমগ্র বিশ্বে এক নতুন বার্তা উপস্থিত করলো।
কমরেড হো চি মিনের অসামান্য বর্ণনা - "অরোরা যুদ্ধজাহাজের কামান গর্জনের মধ্যে দিয়ে আমরা প্রাচ্যের জনগণ মার্কসীয় মতবাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম।" অরোরা যুদ্ধজাহাজের কামান গর্জন, এটা কথা হয়েছিল, ইট উড বি দ্য সিগন্যাল। রেভোলিউশন হ্যাজ স্টার্টেড। এই বার্তা দেবে ওই পিটার্সবার্গের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা অরোরা যুদ্ধজাহাজের কামান গর্জন। এবং এর মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল বিপ্লব। সেইজন্যে কমরেড হো চি মিন এই অসামান্য কথাটা বলেছেন।
বিশ্বের বহু মনীষী, রোম্যাঁ রোলাঁ থেকে শুরু করে, কেউ তারা মার্কসবাদী ছিলেন না। কিন্তু নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে কেবল স্মরণ করেননি, তারা বিশ্বব্যাপী ওই বিপ্লবের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, এই আশাও ব্যক্ত করেছিলেন।
নভেম্বর বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন, এই সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যা আমরা দেখেছি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী তথা উন্নত দেশ। এর গড়ে ওঠার বা উন্নত শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক দেশে পরিণত হওয়ার ইতিহাসটাও খুব উল্লেখযোগ্য এবং আকর্ষণীয়।
প্রশ্ন উঠেছিল, একটা পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশ, সেখানে সমাজতন্ত্র কিভাবে গড়ে উঠবে? মার্কসীয় মতবাদকে আরও সমৃদ্ধ করে, লেনিন বললেন, পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশকে পুঁজিবাদ-উত্তর সমাজে পরিণত করা অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া, ঠিক। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে এ কাজ সফলভাবে করা যায়। রুশ দেশে আমরা দেখলাম এই সফলভাবে মার্কসীয় মতবাদের প্রয়োগ, যার ফলে পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশ সমাজতন্ত্রের মধ্য দিয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হলো। মার্কসীয় মতবাদের ভিত্তিতে লেনিন দেখালেন, ঝুঁকির রাস্তা না নিলে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন রুশ দেশে। সেই জন্যে ঘোষিত হলো নয়া অর্থনৈতিক নীতি। প্রথমে অনেকে বুঝতে পারেনি। এমনকি পার্টিরও অভ্যন্তরে অনেকে। প্রশ্ন উঠলো, রুশ দেশে কি আমরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছি? লেনিন দেখালেন, একটা পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশ সমাজতন্ত্রের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যে যে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাকে অস্বীকার করতে পারে না, সেই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা ধরেই এগোতে হবে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাই উপস্থিত করেছিল নয়া অর্থনৈতিক নীতি।
কত সঠিক ছিলেন লেনিন! শুরু হলো নয়া অর্থনৈতিক নীতির প্রয়োগ ১৯২১ সালে, বিপ্লবের মাত্র চার বছর পরে। লেনিন মারা গেলেন ১৯২৪-এ। কিন্তু ১৯৩০-এর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত অত্যন্ত শক্তিশালী দেশে - অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সর্বদিক দিয়ে পরিণত হলো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তো মার্কসবাদী ছিলেন না। ১৯৩০ সালে রুশ দেশ পরিভ্রমণ করে বলেছিলেন, "এ আমার জীবনের পরম তীর্থদর্শন।" উনি বলছেন, "এতকাল মনের মধ্যে যে স্বপ্ন ছিল, একটা জাতির সব সদস্য শিক্ষার আলোকে আলোকিত হবে, এই জীবনে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হতে দেখবো, আমি কল্পনাও করতে পারিনি। কিন্তু এই দেশে (রুশ দেশে) পরিভ্রমণে এসে আমি চমকে উঠেছি। এরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। সমগ্র জাতিকে শিক্ষার আলোকে জাগিয়ে তুলেছে।" শুধুমাত্র শিক্ষায় না। কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সর্বদিক দিয়ে সমাজতন্ত্রের পথে অসাধারণ অগ্রগতি ঘটাতে সক্ষম হলো।
যার ফলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর সময় যখন সমগ্র দুনিয়া ফ্যাসিবাদের চরম আক্রমণের মুখে, সেই সময় ফ্যাসিবাদের আক্রমণের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রয়োগে, এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও, তারা ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বড় ভয়াবহ যুদ্ধের ইতিহাস। একটা মহাযুদ্ধে ৬ কোটি মানুষ মারা গেছিল। বিশ্বের সব মহাদেশকে এই যুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু যাদের নেতৃত্বে এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ, সেই ফ্যাসিবাদ, হিটলারের নেতৃত্বে, ১৯৩৯ থেকে শুরু হওয়া বিশ্বযুদ্ধে তারা ছিল অপ্রতিহত। বিশ্বের একের পর এক দেশ ক্রমান্বয়ে পদানত ফ্যাসিবাদের পদতলে। সমগ্র বিশ্ববাসী শঙ্কিত। মানব সমাজ কি আবার সেই অন্ধকারের দিকে যাবে? ফ্যাসিবাদ যা চাইছে? সমস্ত মানুষের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের জনগণ এবং বীর লাল ফৌজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আসল লড়াই সংঘটিত হয়েছিল রুশ দেশের মাটিতে। মস্কোর যুদ্ধ হোক, লেনিনগ্রাডের যুদ্ধ হোক, স্টালিনগ্রাডের যুদ্ধ হোক। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার বাহিনী পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করলো রুশ রণাঙ্গনে। পশ্চাদপসরণ শুরু হলো নাৎসি বাহিনীর। পরাজয় ঘটলো হিটলার তথা ফ্যাসিবাদের।
সমগ্র মানব সভ্যতাকে চরমতম বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছিল রুশজনগণ। ২ কোটি রুশি মারা গেছিল। কিন্তু বিশ্বকে রক্ষা করা গেছিল। এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্যাসিবাদ পরাস্ত। সাম্রাজ্যবাদও কিছুটা কোণঠাসা। একটা সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন আর না। পূর্ব ইউরোপের দেশে দেশে সমাজতন্ত্র। চীনের বিপ্লব দ্রুত এগোচ্ছে। ইন্দোচীনে বিপ্লবী বাতাবরণ গড়ে উঠছে। আর বিশ্বের দেশে দেশে স্বাধীনতার লড়াই বাড়ছে। এ এক নতুন দুনিয়া। ফ্যাসিবাদের পরাজয় তথা সাম্রাজ্যবাদ, তাকেও তার আগ্রাসনকে প্রতিহত করে সমগ্র দুনিয়ায় সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্রের অগ্রগতি সুনিশ্চিত করার প্রাক-পরিস্থিতি, প্রি-কন্ডিশন গড়ে তুলেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বীরত্বপূর্ণ ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রাম। সমাজতন্ত্রের শুধু এই ভূমিকার জন্যেই বিশ্ববাসী চিরকাল স্মরণে রাখবে তাকে এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় যেসব দেশ সদ্য স্বাধীন ভারত সহ, স্বাধীনভাবে যাতে তাদের অর্থনীতির বিকাশ হয়, তারা স্বয়ম্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তার জন্যে সমস্ত ধরনের সাহায্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভারত তার সেরা উদাহরণ। এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দুনিয়ায়, যেখানে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে বোমা ফেলে আমেরিকা সমগ্র দুনিয়ার উপরে নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে চাইছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দুনিয়ায় শান্তির লড়াই সোভিয়েত ইউনিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পেল। সমাজতন্ত্র এত ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধে স্বীকার করেও নতুনভাবে অগ্রগতি ঘটালো। কে অস্বীকার করতে পারে? ১৯৫০-৬০ এই সময়কালে বিশ্বে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি, খেলাধুলা সর্বক্ষেত্রে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদকে টেক্কা দিচ্ছে বিশ্ব সমাজতন্ত্র। একটিমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ আর আমেরিকা নয়। তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে শান্তির সংগ্রামীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। আবার বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতেও তারা টেক্কা দিল পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদকে। পৃথিবীর প্রথম নভশ্চর ইউরি গ্যাগারিন, রুশি মানুষ। পৃথিবীর প্রথম মহিলা নভশ্চর ভ্যালেন্টিনা তেরেস্কোভা, রুশি। এইভাবেই সর্বক্ষেত্রে তারা টেক্কা দিতে শুরু করলো, এমনকি পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদকেও।
এত সাফল্যের পরেও, ১৯৮০ দশকের শেষে তথা ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয় ঘটেছে।বিশ্ব পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ এই বিপর্যয়ে উল্লসিত হলেও, মার্কসীয় বিজ্ঞানকে ব্যবহার, প্রয়োগ করে, বিশ্বের মার্কসবাদী-লেনিনবাদীরা দেখালেন, ওই বিপর্যয় সমাজতন্ত্রের বিপর্যয় না। সমাজতন্ত্রের যে মতাদর্শগত ভিত্তি, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ, সেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মতাদর্শ থেকে গুরুতর বিচ্যুতির পরিণতি ওই বিপর্যয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন। এবং তার থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকে সমগ্র বিশ্বে নতুনভাবে এই কমিউনিস্ট আন্দোলন আরও সংহত হওয়ার প্রয়াসে রত।সোভিয়েতের বিপর্যয়ে উল্লসিত পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বা সোভিয়েত বিপর্যয়ে যতই উল্লাস প্রকাশ করুক পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ তো কিছুতেই তার সংকট থেকে আর মুক্ত হতে পারেনি।
১৯৯০-এর দশক, বিগত শতাব্দী। বর্তমান শতাব্দীর প্রথম দুই দশক অতিক্রান্ত। তৃতীয় দশক। পুঁজিবাদ বিশ্বব্যাপী তার সংকট আরও জোড়ালো। এবং এবারে বলা যায়, ২০০৮ সাল থেকে তৈরি হওয়া সংকট, এ এক অতিকায় বিশাল মন্দার চেহারা নিয়েছে।কিছুতেই এই সংকট থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কারণ এই সংকট থেকে বাঁচার একটাই উপায়, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। সমগ্র বিশ্বের পুঁজিবাদী দেশ, সেই পুঁজিবাদী দেশের মেহনতি মানুষ তথা জনগণ, আজকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংকটের দুঃসহ বোঝা তাদের বইতে হচ্ছে। এমন কোনো পুঁজিবাদী দেশ নেই, যেখানে আজকে মানবতার সংকট তৈরি হয়নি, মানুষের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়নি। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত, বিশ্বের এক নম্বর পুঁজিবাদী দেশ, সেখানেও নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জনগণকে বিশালভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালনে উদ্যোগী করতে পেরেছে। তাই বিশ্বব্যাপী এই পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের যে সংকট যত বাড়ছে, যত দিন যাচ্ছে, এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ, কোনো দেশ-এর বাইরে নেই।আমেরিকা মহাদেশও।
আজকে বাঁচবার তাগিদে মানুষের লড়াই বিশ্বের দেশে দেশে, এই মুহূর্তে যদি আমরা দেখি, উন্নত পুঁজিবাদ ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলি, প্রত্যেকটাতেই শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, বেকারদের লড়াই। আমরা যদি আফ্রিকা মহাদেশের দিকে তাকাই, সুদানের মতো দেশে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। কিন্তু একের পর এক দেশে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বাড়ছে, অধিকারের লড়াই বাড়ছে। তাকিয়ে দেখুন এশিয়া মহাদেশ, ওদিকে ল্যাটিন আমেরিকা, সর্বত্র মানুষের এই লড়াই-সংগ্রাম বাড়ছে। যত লড়াই, সংগ্রাম বাড়ছে, তত মার্কসবাদের যে অমোঘ আকর্ষণ, সেটা নতুন করে অনুভূত হতে শুরু করেছে। আবার ওই মার্কসীয় মতবাদ, সমাজ পরিবর্তনের মতবাদ, এক নতুন শোষণহীন বিশ্ব গড়ার মতবাদ, আরও শক্তি নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচার মাধ্যমের একতরফা প্রচার যাই হোক, বর্তমান বিশ্বের এটাই বাস্তবতা। বাঁচা এবং অধিকার রক্ষা করার লড়াই বিশ্বজুড়ে প্রসারিত হচ্ছে। ওই সমাজতান্ত্রিক দেশগুলি, চীন, ভিয়েতনাম, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, লাওস, এই দেশগুলি যেমন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদাহরণ তৈরি করেছে, আর এই পাঁচটা দেশকে বাদ দিয়ে সমগ্র বিশ্বে সমস্ত পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশে মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রবণতা বাড়ছে আর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মতাদর্শগত ভিত মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। নভেম্বর বিপ্লব যে বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থিত করেছে, নয়া বিশ্ব শুধু গড়া সম্ভব না, নয়া বিশ্ব গড়ার মতাদর্শগত হাতিয়ার, সেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদকেও বিশ্ববাসীর সঙ্গে পরিচিত করেছে নভেম্বর বিপ্লব।
তাই নভেম্বর বিপ্লবের ১০৮ তম বার্ষিকীতে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুটি-রুজি-অধিকারের সপক্ষে মানুষের লড়াই ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে শুধু তাই না, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মতাদর্শগত আকর্ষণ, সেটাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নভেম্বর বিপ্লবের ১০৮ তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে শোষণভিত্তিক দুনিয়া, তার পরিবর্তনের লড়াই, তাকে আমরা আরও জোরদার করবই। কমরেড লেনিন আমাদের সামনে যে পথ উপস্থিত করেছেন, সেই পথকে অবলম্বন করেই, আর মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মতাদর্শ অর্থাৎ মার্কসীয় মতবাদকে ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। কোনো বাধা মানবো না।
নভেম্বর বিপ্লবের ১০৮ তম বার্ষিকীতে এই হোক আমাদের শপথ।
প্রকাশ: ০৯-নভেম্বর-২০২৫
শেষ এডিট:: 09-Nov-25 18:31 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-november-revolution-and-lenins-teachings
Categories: Fact & Figures
Tags: lenin, marxist economist, marxistliterature, november revolution
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
এসআইআর রায়: গণতন্ত্রের ওপর এক চরম আঘাত
- ওয়েবডেস্ক
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (তৃতীয় পর্ব)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (দ্বিতীয় পর্ব)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি
- ওয়েবডেস্ক
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (পর্ব ১)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
ধুমকেতু’র গল্প
- শমীক লাহিড়ী





