পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশ: আমরা কী চাই

মালিনী-ভট্টাচার্য

The Cultural Environment of West Bengal: What Do We Want
বাংলা আজ এক অরাজকতার অন্ধকারে বন্দি। একদিকে চলছে লুটের রাজত্ব, অন্যদিকে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা আর অবিশ্বাসের বিষ। সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে, অথচ, শাসক দল ক্ষমতার দম্ভে আর লুটের অর্থে ফুলে-ফেঁপে উঠছে। কাজ, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষকের ফসলের দাম, শ্রমিকের মজুরি, ক্ষেতমজুরের কাজ, মহিলাদের সম্মান নেই কিছুই নেই। মানুষের প্রকৃত জীবনযন্ত্রণা অর্থাৎ আসল সমস্যাগুলো জাত-ধর্ম-ভাষার নামে বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে, বিঘ্নিত  হয়েছে পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতিক পরিমন্ডল। 

চোর আর দাঙ্গাবাজ-দুজনেই আজ একজোট। তাই আমাদের লড়াইও হোক একজোট। মধ্যবিত্ত থেকে গরিব মানুষ-সবার অধিকার ফেরাতে হবে। বিভাজন নয়, আমরা চাই কাজ আর অন্ন। বাংলার সম্প্রীতি আর মানুষের অধিকার রক্ষায় আজ ময়দানে নামতে হবে।
বাংলা বাঁচানোর এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষ থেকে  রাজ্যে বিকল্প সংস্কৃতি রাজ্যের মানুষের সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে। অন্ধকারে নিমজ্জিত আমাদের প্রিয় বাংলা এবার আলো ফেরানোর লড়াই শুরু হোক। 
আমরা পশ্চিমবাংলার ঐতিহ্য কে পুনরায় ফিরে পেতে যে কাজগুলি করতে চাই.....



১) বাংলাসহ সমস্ত ভারতীয় ভাষার মর্যাদা এবং বিকাশের অনুকূল পরিবেশ চাই। ভাষার নামে জুলুম চলবে না।

২) সাক্ষরতা আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, বিশেষ করে স্কুল ছুট হওয়া ঠেকাতে এবং স্কুল ছুট শিশুদের স্কুলে ফেরাতে।

৩)সমস্ত সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মঞ্চে সমস্ত সাংস্কৃতিক দলের স্বল্প মূল্যে অনুষ্ঠানের সমান অধিকার চাই।

৪) চলচ্চিত্রশিল্পী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের দলমত নির্বিশেষে নিজেদের কাজ করার অধিকার চাই। আগ্রহী তরুণদের বিষয়ভিত্তিক documentary ও short film তৈরির প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে হবে।

৫)বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপদে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার ব্যবস্থা চাই। সাম্প্রদায়িক বিষছড়ানোর সবরকম চেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো ধর্মস্থল তৈরি  বা বিস্তারের কাজে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা খরচ বন্ধ করতে হবে। সকল ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষ যেখানে সমভাবে মিলতে পারেন এমন ধর্মনিরপেক্ষ মেলা/উৎসব গুলিকে উৎসাহ দিতে হবে। ধর্মীয় সহ সমস্ত প্রকাশ্য উৎসব অনুষ্ঠানে শব্দদূষণ ও আলোক দূষণ সম্পর্কে প্রশাসনিক সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

 ৬)জাতপাতের বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রচার সংগঠিত করতে হবে। জাতপাত বিরোধী আন্দোলনগুলির ইতিহাস মানুষের কাছে নানাভাবে পৌঁছে দিতে হবে। জাতপাতের নামে বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭)বর্তমানে নানা ছদ্ম স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে আর এস এস জেলায় জেলায় গরিব মানুষের মধ্যে তার বিষাক্ত প্রচার চালাচ্ছে। সেবিষয়ে অবহিত থেকে তার পাল্টা নানা জনমুখী কার্যক্রম নিয়ে হবে।৮)ডাইনি- খোঁজা, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা মজবুত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এসবের ব্যাপক প্রভাব আছে। জেলায় বিজ্ঞান চর্চা ও পরিবেশচেতনার প্রসারে উদ্যোগ নিতে হবে বিশেষত নতুন প্রজন্মের মধ্যে। জনসাধারণের মধ্যে সংবিধান চর্চাকে নানাভাবে জনপ্রিয় করতে হবে।

৯)জেলা ও গ্রামীণ লাইব্রেরিগুলিকে কর্মী নিয়োগ ও বই কেনার প্রকল্পের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। ইন্টারনেট সংযোগে সহায়তা করে পাঠাভ্যাস বাড়ানোতে উৎসাহ দিতে হবে। তরুণদের স্থানীয় ভাবে পাঠচক্র গড়ে তোলায় উৎসাহিত করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ পাঠক্রম নানা জায়গায় চালু করতে হবে।

১০)নারীদ্বেষী বিজ্ঞাপন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কুৎসিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবং নারীর সমানাধিকার ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে হবে। বিনোদনশিল্পের নামে কমবয়সী দরিদ্র মেয়েদের ভিন জেলা বা রাজ্যে টাকার লোভ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের অপব্যবহারের চক্রগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে  হবে ও মানুষকে এবিষয়ে অবহিত করতে হবে।

১১)কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশেষত ক্ষুদ্র কৃষক বা  দিনমজুর আদিবাসী ও লোকশিল্পীদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করার জন্য স্থানীয় স্তরে মুক্তমঞ্চ ও আখড়া তৈরিতে সহায়তা করতে হবে। তাদের শুধু সরকারি প্রচারের যন্ত্র না বানিয়ে প্রশিক্ষণ ও অনুষ্ঠানের সুযোগের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনী প্রতিভা বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে।বাজারের হাতে তুলে না দিয়ে গ্রামের মেহনতি জনসাধারণের মধ্যে তাদের লোকশিক্ষকের ভূমিকা পালনে সাহায্য করতে হবে। প্রকৃত লোকশিল্পীদের প্রত্যেককে পরিচয়পত্র দিতে হবে। বয়স বা অসুস্থতায় অক্ষম লোকশিল্পীকে প্রয়োজনীয় ভাতা দিতে হবে। আদিবাসীদের বাসস্থান ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে রক্ষা করতে হবে।

১২) শিশুদের জন্য একত্রে নাচ গান ছবি আঁকা নাটক ও খেলাধুলার উপযোগী পরিসর তৈরি করতে হবে এবং সেগুলি কে রক্ষা করতে হবে।
প্রকাশ: ১৫-এপ্রিল-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 15-Apr-26 00:42 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-cultural-environment-of-west-bengal-what-do-we-want
Categories: Fact & Figures
Tags:
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড