যে প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই

Author
শমীক লাহিড়ী

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নাক গলানোর চেষ্টা করছে কেন? উত্তর নেই, তবে উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট। যে কাজ অমিত শাহ্‌-র দপ্তরের করার কথা, সেই কাজ করতে তারা চুড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ। বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্ম, জাতি, ভাষার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দানের চেষ্টার বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ গর্জে উঠেছিল। এনআরসি বিরোধী গণ আন্দোলনের ঢেউ-এ ভেসে গিয়েছিল আরএসএস-বিজেপি-এর দেশের মানুষকে বিভাজনের পরিকল্পনা।

The questions that have no answers

বিহারের পর গত ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও ১১টা রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) অভিযান শুরু করা হবে, এই ঘোষণা দেশের নির্বাচন কমিশন করেছেন।

এসআইআর কী?

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) দ্বারা পরিচালিত ভোটার তালিকার বিশেষ অভিযান হলো এসআইআর, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো -

ভোটার তালিকা বিশুদ্ধ করা অর্থাৎ ভোটার তালিকায় থাকা ভুল, অসঙ্গতি, বা ত্রুটিগুলি দূর করা। মৃত ও স্থানান্তরিতদের নাম বাদ দেওয়া, নতুন যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা, এক ব্যক্তির একাধিক বুথে নাম থাওলে তা বাদ দেওয়া ইত্যাদি।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLOs) বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরোনো এবং বর্তমান ভোটারদের তথ্য যাচাই করেন এবং একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করেন। বিগত দু’দশকে ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে এই নিবিড় সংশোধন করা হয়নি।

কাদের নাম থাকবে?

ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হলে, বর্তমানে ভোটার তালিকায় নাম থাকা অথবা নাম নেই এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই প্রক্রিয়ায় একটি তথ্যাদি সংগ্রহের ফর্ম (Enumeration Form) পূরণ করে জমা দিতে হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে বিএলও-এর কাছে জমা দেবেন, তাদের নাম প্রথমে খসড়া তালিকায় (Draft Roll) অন্তর্ভুক্ত হবে।

যারা প্রমাণ করতে পারবেন যে তাদের নাম বা তাদের বাবা-মা অথবা কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নাম সর্বশেষ নিবিড় সংশোধন-এর তালিকায় (পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকায়) ছিল, তাদের নাম সহজেই তালিকায় থাকার জন্য উপযুক্ত বলে গণ্য হবে।

যারা ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন বা করবেন, তারা ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যদি কেউ ২০০২ সালের তালিকায় নিজের অথবা বাবা-মা’র নাম না থাকে, তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের বয়স, বাসস্থান এবং নাগরিকত্ব প্রমাণকারী উপযুক্ত নথি দাখিল করতে হবে এবং শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে।

কী কী নথি লাগবে?

যাচাইকরণের সময় আপনার নাগরিকত্ব, বয়স এবং বাসস্থানের প্রমাণ হিসাবে নিম্নলিখিত নথিগুলির মধ্যে যে কোনো একটি বা একাধিক চাওয়া হতে পারে।

উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ১) জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) ২) বৈধ পাসপোর্ট, ৩) মাধ্যমিক বা স্বীকৃত বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা প্রদত্ত শিক্ষাগত শংসাপত্র, ৪) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকার বা রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থার নিয়মিত কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য প্রদত্ত পরিচয়পত্র অথবা পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO), ৫) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদত্ত স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র (Permanent Residence Certificate), ৬) ১ জুলাই, ১৯৮৭ সালের আগে ভারত সরকারের বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ/ব্যাঙ্ক/পোস্ট অফিস/জীবন বীমা/রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থা প্রদত্ত যেকোনো পরিচয়পত্র/শংসাপত্র/নথি, ৭) যেখানে প্রযোজ্য (যেমন আসাম), সেখানকার এনআরসি-এর কপি, ৮) ওবিসি/এসসি/এসটি অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যেকোনো জাতিগত শংসাপত্র, ৯) বন অধিকার শংসাপত্র (Forest Right Certificate), ১০) রাজ্য/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পারিবারিক পঞ্জি (Family Register), ১১) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো জমি/বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্র এবং ১২) আধার কার্ড (Aadhaar Card)। তবে এটি শুধুমাত্র পরিচয়পত্র (Identity Proof) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়।

অনেক প্রশ্ন

প্রথমত নির্বাচন কমিশন নিজেই যে ভোটার কার্ড দিয়েছে প্রত্যেক বৈধ ভোটারকে, সেটাকে বৈধ প্রমাণপত্র হিসাবে নিজেরাই গ্রহণ করতে রাজি নয়। নিজেই নিজেদের দেওয়া নথিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না! কেন? কোনও উত্তর নেই!

দ্বিতীয়ত সরকার প্রদত্ত রেশন কার্ড, প্যান কার্ড ইত্যাদি কেন গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে বিবেচিত হবে না? এরও কোনও উত্তর নেই!

তৃতীয়ত, শুধুমাত্র ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারোর নিজের বা বাবা অথবা মা-এর নাম থাকলেই কেন বৈধ ভোটার হিসাবে গণ্য করা হবে? যিনি ২০০২ সালের পর ৫টি লোকসভা নির্বাচন এবং ৪টি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিলেন অথবা কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিও হলেন, তাদের কারোর নাম ২০০২ সালে না থাকলে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কেন? তাঁরা কি তাহলে এই ৯টি নির্বাচনে অবৈধ ভোটার ছিলেন? তাহলে এই নির্বাচনগুলির মাধ্যমে নির্বাচিত বিধানসভা এবং লোকসভা কী অবৈধ ছিল? না, কোনও উত্তর নেই!

চতুর্থত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ১২টি নথির মধ্যে প্রথম ১১টি নথির পাশে লেখা হলো না যে এগুলো নাগরিকত্বের প্রামান্য নথি নয়, অথচ ১২ নম্বরে থাকা আধার কার্ডের পাশে লেখা আছে, এটি শুধুমাত্র পরিচয়পত্র (Identity Proof) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়। কেন? তাহলে কী আগের ১১টি নথির যে কোনও একটা দেখালেই যে কেউ বৈধ নাগরিক হয়ে যাবেন? এই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর নেই!

হঠাৎ বেছে বেছে আধার কার্ডের পাশে এই কথা লেখা হলো কেন? সুপ্রীম কোর্টের গুঁতোয় আধার কার্ডকে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন, সেই রাগেই কী এই আধার কার্ডের প্রতি এই বিমাতৃসুলভ আচরণ! কোনও ব্যাখ্যা নেই এই বিচিত্র সিদ্ধান্তের!

তফাৎ - ২০০২ এবং ২০২৫

বৈশিষ্ট্য

২০০২-২০০৪ সালের এসআইআর)

২০২৫ সালের এসআইআর

মূল তালিকা (Base Roll)

সেই সময়ের সর্বশেষ ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

শেষ নিবিড় সংশোধনের তালিকা, অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে (Last SIR) মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা (Enumeration Phase)

সাধারণত, সমস্ত ভোটারের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।

প্রথমে কোনো নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এনুমারেশন ফর্ম (EF) পূরণ করতে হবে। যাদের নাম শেষ এসআইআর-এর তালিকার সাথে মিলবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং নথি জমা দিতে বলা হবে।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের উপর জোর

২০০৩ সালের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ‘নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা গণনাকারীর কাজ নয়’।

এইবারের প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার শুদ্ধতার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে এবং যাদের নাম পুরানো তালিকার সাথে লিঙ্ক করা যাবে না, তাদের যোগ্যতা (Eligibility) প্রমাণ করতে হবে। এবং এর সাথে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে যুক্ত করা হয়েছে।

লিঙ্কেজ বা সংযোগ স্থাপন

মূলত নিজের রাজ্যের পুরোনো তালিকার সাথেই নাম মেলানো হয়েছিল।

একজন ভোটার ভারতের যেকোনো রাজ্যের শেষ এসআইআর-এর তালিকার সাথে নিজের বা তার বাবা-মা’র (আত্মীয়) নাম লিঙ্ক করতে পারবেন। এই তথ্য যাচাই করার জন্য অল-ইন্ডিয়া ডাটাবেস ব্যবহার করা হবে।

সময়কাল

২০০৩ সালের এসআইআর ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে হয়েছিল।

২০২৫ সালের প্রক্রিয়াটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে (প্রায় ৩ মাসের মধ্যে) সম্পন্ন করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আধার কার্ডের ভূমিকা

তখন আধার কার্ডের ব্যবহার ছিল না ফলে এটিকে নথিপত্র হিসেবে ধরার প্রশ্নও ছিল না।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর, পরিচয়পত্র (Identity Proof) হিসেবে আধার কার্ড জমা দেওয়া যাবে তবে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়।

 

উপরের তালিকা থেকে স্পষ্ট যে এসআইআর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য করা হয় না। অথচ নির্বাচন কমিশন এটার ওপরেই এবার এত গুরুত্ব দিচ্ছে কেন? উত্তর নেই!

সংবিধানের ১১ নম্বর ধারা সংসদকে (Parliament) নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেকোনো আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা দিয়েছে। এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংসদ 'নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫' (The Citizenship Act, 1955) প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব যাচাই ও নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের (Ministry of Home Affairs–MHA) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। নাগরিকত্ব প্রদান বা বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তারাই। রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI), কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে এই সংস্থাটি ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (NPR) এবং প্রয়োজনে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিটিজেন্স (NRC) তৈরির মতো বৃহৎ প্রক্রিয়ার তদারকি করে।

তাহলে নির্বাচন কমিশন, কে নাগরিক আর কে নয়, তা যাচাই করতে আসছে কেন? উত্তর নেই এরও!

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা নির্বাচন কমিশনকে নিম্নলিখিত নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধান (Superintendence), দিকনির্দেশ (Direction) এবং নিয়ন্ত্রণ (Control) করার ক্ষমতা প্রদান করেছে।

১. লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচন (Parliament)। ২. রাজ্য বিধানসভার (State Legislatures) নির্বাচন। ৩. রাষ্ট্রপতি (President) পদের নির্বাচন। ৪. উপ-রাষ্ট্রপতি (Vice-President) পদের নির্বাচন।

এই ধারাটি নিশ্চিত করে যে ভারতে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন (Independent) এবং স্বশাসিত (Autonomous) সংস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এই ধারাটিই কমিশনকে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে আইনগত ক্ষমতা দেয়, যেমন -নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা, আচরণবিধি তৈরি করা, ভোটার তালিকা সংশোধন করা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, লোকসভা এবং প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের (Adult Suffrage) ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারী হবেন, যদি না তিনি আইন দ্বারা অযোগ্য হন।

উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন করা, সঠিক ভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করা থেকে শুরু করে নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কে নাগরিক তা ঠিক করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এবং নাগরিক তালিকা তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (RGI)।

তা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নাক গলানোর চেষ্টা করছে কেন? উত্তর নেই, তবে উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট। যে কাজ অমিত শাহ্‌-র দপ্তরের করার কথা, সেই কাজ করতে তারা চুড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ। বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্ম, জাতি, ভাষার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দানের চেষ্টার বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ গর্জে উঠেছিল। এনআরসি বিরোধী গণ আন্দোলনের ঢেউ-এ ভেসে গিয়েছিল আরএসএস-বিজেপি-এর দেশের মানুষকে বিভাজনের পরিকল্পনা।

তাই এখন নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে সেই কাজ করাতে চাইছেন মোদী-শাহ্‌ জুটি। রুখে দিতেই হবে সংবিধান বিরোধী বিভেদকামী এই প্রচেষ্টা, যে কোনও মূল্যে। সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে, যাতে একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ না পড়ে। আর বাংলায় শাসক তৃণমূলের ষড়যন্ত্রে অসংখ্য মৃত, স্থায়ী ভাবে স্থানান্তরিত, ভুয়ো ভোটার দিয়ে ভর্তি করা আছে প্রতিটি বুথের ভোটার তালিকা। এদের নাম চিহ্নিত করে, বাদ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্দোলন করতে হবে।

আতঙ্ক না ছড়িয়ে, প্রকৃত ভোটারদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির কাজে মনোনিবেশ করুক কমিশন। ২০২৬ সালের ভোট যাতে নির্বিঘ্নে, রক্তপাতহীন হয় সেই উদ্যোগ নিক। সব ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করুক কমিশন। আরএসএস-বিজেপি-র হাতের পুতুল নয়, সংবিধান নির্দেশিত দায়িত্ব পালন করুক কমিশন। না হলে গণআন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়বে রাস্তায়। 


প্রকাশ: ৩০-অক্টোবর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image


অন্যান্য মতামত:

লেখাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী ।আমাদের পার্টির নেতৃত্ব কর্মীদের এই লেখাটি সবসময় ব্যাগে রাখা দরকার ।বিশেষকরে যারা BLA হয়েছেন এই বিষয়ে পার্টির পক্ষ থেকে জরুরী সার্কুলার করা উচিত । আমরা লোকালি এই লেখাটির প্রিন্টার আউট বার করে জেরক্স কপি এরিয়া কমিটির সদস্য দের হাতে দেবার চেষ্টা করছি ।প্রশ্ন উত্তর আকারে এই লেখার জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । অভিনন্দন সহ ভাস্কর রায়, গোঘাট,হুগলী ।৩০/১০/২৫
- ভাস্কর রায়, ৩০-অক্টোবর-২০২৫


I strongly believe Election Commission is basically responsible for preparing a voter list where genuine voters are enlisted. Voter card, Adhar card should be enough to prove that he/she is a genuine voters and residing in the booth area. Election commission should not judge/question the citizenship which is not in their scope as per the Constitution of India. I strongly feel Election Commission should concentrate on the job of preparing a list of genuine voters. All dead persons/not residing in the booth area should be deleted from the list of genuine voters.
- Samar Dasgupta, ৩০-অক্টোবর-২০২৫


বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য শিখিয়েছিল প্রথম মমতা ব্যানার্জি যেদিন মমতা ব্যানার্জি সংসদে এনআরসি চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে চাপ দিচ্ছিল এবং বিকালের মুখের উপরে কাগজ ছুড়ে মেরেছিল। সেদিন থেকেই এন আর সি সিএ বা এস আই আর এর চক্রান্ত টা সামনে এসেছিল তাই বামেরা দুই জনেরই তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধী ছিল। ঝামেলা অনেক আগে বুঝতে পেরেছিল আরএসএসের চক্রান্ত যেটা এখনো বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায় বুঝতে চাইছে না। যদি মতুয়া রা এবং বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙালি হিন্দু ও মুসলিমরা মরতে চান তাহলে আপনারা বিজেপি তৃণমূল যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারে কিন্তু যদি ভারতবর্ষের মত একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ দেশে থাকতে হয় তাহলে আপনাকে বাঁচতে হবে এদের দুজনের সঙ্গ ছেড়ে দিয়ে। তাই সকল ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ কে অনুরোধ করছি ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপি এই দুটি দলকেই হারান এবং ধর্মনিরপেক্ষ দল গুলোকে জেতান।
- Rajdeep Das, ৩০-অক্টোবর-২০২৫


এই লেখাটি সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত মঞ্চে দেওয়া উচিত।কমরেডদের কাজ করতে সুবিধা হবে।বিভ্রান্তি কাটাতে সাহায্য করবে।খুব ভালো ও প্রয়োজনীয় লেখা।
- Gautam Ganguly, ৩১-অক্টোবর-২০২৫


অসাধারণ একটি প্রতিবেদন। মানুষের স্বার্থে এটিকে যত বেশি প্রচার করা যায়, সেই ব্যাপারে সচেষ্ট হোন।
- SATRAJIT CHATTERJEE, ০২-নভেম্বর-২০২৫



শেষ এডিট:: 30-Oct-25 17:10 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/questions-that-have-no-answers
Categories: Current Affairs
Tags: #assemblyelections, caa, citizenship, communal bjp, eci, npr nrc caa, samik lahiri, wb state election commission, sir, bengal election 2026
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড