বাম গনতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি বিকল্প ইশতেহার ২০২৬

Author
ওয়েবডেস্ক

অন্ধকারে নিমজ্জিত আমাদের প্রিয় বাংলা এবার আলো ফেরানোর লড়াই শুরু হোক।

Election Manifesto 2026
বাংলা বাঁচাতে
বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিকল্প ইশতেহার
বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬

বাংলা আজ এক অরাজকতার অন্ধকারে বন্দি। একদিকে চলছে লুটের রাজত্ব, অন্যদিকে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণ্য আর অবিশ্বাসের বিষ। সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে, অথচ, শাসক দল ক্ষমতার দম্ভে আর লুটের অর্থে ফুলে-ফেঁপে উঠছে। কাজ, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষকের ফসলের দাম, শ্রমিকের মজুরি, ক্ষেতমজুরের কাজ, মহিলাদের সম্মান নেই কিছুই নেই। মানুষের প্রকৃত জীবনযন্ত্রণা অর্থাৎ আসল সমস্যাগুলো জাত-ধর্ম-ভাষার নামে বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।

চোর আর দাঙ্গাবাজ-দুজনেই আজ একজোট। তাই আমাদের লড়াইও হোক একজোট। আমরা লড়ছি ফসলের দামের জন্য, আমরা লড়ছি কাজের দাবিতে।

মধ্যবিত্ত থেকে গরিব মানুষ-সবার অধিকার ফেরাতে হবে। বিভাজন নয়, আমরা চাই কাজ আর অন্ন। বাংলার সম্প্রীতি আর মানুষের অধিকার রক্ষায় আজ ময়দানে নামুন!

একে অপরের পরিপূরক এই নয়া-ফ্যাসিবাদী এবং স্বৈরাচারী আগ্রাসন। এর বিরুদ্ধে লড়াই আসলে গণতন্ত্র, কাজ, শিক্ষা, বাসস্থান, মজুরি, ফসলের ন্যায্য দাম, মহিলাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। এই লড়াই কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-যুব-মহিলাসহ সব নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার লড়াই। তাই আজ প্রয়োজন সব গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম, যাতে বাংলার মানুষ আবার নিজের অধিকার ফিরে পায় এবং বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করা যায়।

বাংলা বাঁচানোর এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষ থেকে এই বিকল্প ইশতেহার রাজ্যের মানুষের সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে। অন্ধকারে নিমজ্জিত আমাদের প্রিয় বাংলা এবার আলো ফেরানোর লড়াই শুরু হোক।

সবার বাংলা, সবার অধিকার

  • কাজের সুযোগ, সামাজিক সুরক্ষা এবং আধুনিক জীবনের সকল সুবিধা সুনিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলার মেধা বিশ্বজয়ী কিন্তু বাংলার মানুষ আজ কর্মসংস্থানের অভাবে ঘরছাড়া,
  • আমাদের লক্ষ্য এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের পরিচয় হবে তাঁর কর্মে।

আমরা গড়ে তুলব এমন এক বাংলা

  • যেখানে প্রতিটি পরিবারে থাকবে অন্তত একটি স্থায়ী কাজ,
  • যেখানে শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এগোবে একসাথে,
  • যেখানে থাকবে শান্তি, সম্প্রীতি, গণতন্ত্র ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।

১. কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি

৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা

  • ৪০ লক্ষ স্থায়ী কর্মসংস্থান,
  • ২৫ লক্ষ শিল্প ও লজিস্টিক পরিষেবায় কাজ,
  • ২০ লক্ষ গ্রামীণ কর্মসংস্থান,
  • ১৫ লক্ষ প্রযুক্তিভিত্তিক চাকরি।

প্রতি পরিবার, একটি কাজ

  • প্রতিটি উপার্জনহীন পরিবারে অন্তত ১ জনকে কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে,
  • স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি গড়ে তোলা হবে,
  • ৫ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ করা হবে,
  • প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে কমপক্ষে ২টি চাকরির সুযোগ (Call) দেওয়া হবে।

যুবশক্তি - নেতাজী সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প

  • সমাজসেবা, উৎপাদনমুখী এবং উন্নয়নমূলক কাজে যুব অংশকে নিয়োগ করা হবে। তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ২০০০ টাকা। এদের 'কর্মভূমি পোর্টাল'-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষে কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে।
  • গ্রামীণ ও শহুরে কর্মসংস্থান
  • গ্রামে ২০০ দিনের কাজ এবং শহরে ১২০ দিন কাজ ও ৬০০ টাকা মজুরির গ্যারান্টি দেওয়া হবে,
  • শহরের গরিবদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান প্রকল্প তৈরি করা হবে,
  • স্বনিযুক্তির জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

২. শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

শিল্প পুনরুজ্জীবন

  • পাট, চা, চর্ম, ইঞ্জিনিয়ারিং, তাঁত ও রেশম শিল্পের আধুনিকীকরণ করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে,
  • বন্ধ কারখানা ও চা-বাগান পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে,
  • ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমএসএমই (MSME) ও কুটির শিল্প

  • সহজ ঋণের ব্যবস্থা এবং বিপণনে সহায়তা করা হবে,
  • ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশে প্রথম স্থান পুনরুদ্ধার করা হবে।

আইটি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প

আমাদের লক্ষ্য

  • নতুন সফটওয়‍্যার ও হার্ডওয়্যার পার্ক তৈরি করা,
  • বাইরে চলে যাওয়া শিল্প ফিরিয়ে আনা।

জেলা ভিত্তিক শিল্পায়ন

  • প্রতিটি জেলায় শিল্প তালুক তৈরি করা হবে,
  • কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্পোরেট নীতি

  • বাংলায় সদর দপ্তর থাকলে সরকারি টেন্ডারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে,
  • উন্নয়ন বন্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে,
  • নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য 'এক জানালা নীতি' ফিরিয়ে আনা হবে।

৩. লজিস্টিকস ও বিশ্ববাণিজ্য (Gateway Strategy)

  • বাংলা হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘বাণিজ্য প্রবেশদ্বার’,
  • দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক বিমান কার্গো ও লজিস্টিকস হাব (Aero-Logistice Hub) গড়ে তোলা হবে,
  • কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম (Logistics Hub) নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে,
  • প্রতি ব্লকে স্মার্ট বাজার ও আধুনিক হাট নির্মাণ করা হবে।

৪. প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি

  • নতুন উদ্যোগ (Start-up) ও গবেষণা কেন্দ্রের সুবিধার জন্য গড়ে তোলা হলে বি-হাব (Bengal Hub),
  • পেটেন্ট (IPR) নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে,
  • আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ফার্মাসিউটিক্যাল ও অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (API) কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে ওষুধ শিল্পের বিকাশের জন্য,
  • নতুন উদ্যোগ (Start-up) ব্যর্থ হলে ৫০ শতাংশ ঋণ মকুব করা হবে।

৫. কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন

কৃষক সুরক্ষা

  • স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড় গুণ করা হবে,
  • পঞ্চায়েত ভিত্তিক একাধিক কষি সমবায় গড়ে তোলা হবে, ফড়ে-দালাল মুরু ক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে,
  • আধুনিক কৃষিবৈচিত্র্য-ভিত্তিক চাষের জন্য বিশেষ প্রকল্প তৈরি করা হবে,
  • ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প তৈরি করা হবে,
  • খরাপ্রবণ জেলায় জল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে,
  • সস্তায় যন্ত্রপাতি ভাড়া দেওয়া হবে কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে,
  • উন্নত বীজ সস্তায় দেওয়া হবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য।

কৃষি পরিকাঠামো

  • ব্লক ভিত্তিক হিমঘর ও গুদাম গড়ে তোলা হবে সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে এবং কৃষি সমবায়গুলির মাধ্যমে।
  • কৃষক উৎপাদক সংগঠনগুলিকে (FPO) শক্তিশালী করা হবে।

কৃষিক্ষেত্রের নবজাগরণ (Agro-Renaissance)

  • সমবায় মালিকানায় আধুনিক রাইস মিল তৈরি করা হবে।
  • স্বনির্ভর গোষ্ঠী ভিত্তিক কৃষক রমণীদের আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
  • গ্রামীণ ও সমবায় ব্যাঙ্কগুলির সংস্কার করে সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হবে। সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। নাবার্ড-এর (National Bank for Agriculture and Rural Development), সহযোগিতায় এই কাজ করা হবে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আইন অনুযায়ী।
  • বে-আইনি মাইক্রো ফিনান্স সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬. শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা

  • দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৭০০ টাকা করা হবে,
  • সকল অ্যাপ ভিত্তিক ও অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে,
  • লিঙ্গভেদ নির্বিশেষে শ্রমিকদের সমান কাজের জন্য সমান মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে,
  • ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে,
  • কেন্দ্রীয় সরকারের ৪টি শ্রমকোডের অনুসারী শ্রমিক বিরোধী কোনও আইন রাজ্যে প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না,
  • বন্ধ শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বন্ধকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

৭. আয় সুরক্ষা ও জনকল্যাণ

  • সহজ ঋণদানের ভিত্তিতে স্বনির্ভর আয় প্রকল্প গড়ে তোলা হবে,
  • প্রবীণদের জন্য 'স্বাস্থ্য সেবা' প্রকল্প তৈরি করা হবে,
  • কর্মরত নারী শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য ক্রেশ তৈরি করা হবে,
  • সব শ্রমিককে ইএসআই ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রকল্প কর্মী

  • সমস্ত প্রকল্প কর্মীদের স্থায়ীকরণ করে কর্মীর স্বীকৃতি দিতে হবে,
  • পেনশন, পি এফ, গ্র্যাচুইটি দেওয়া হবে,
  • রাজ্য সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হবে,
  • আশাকর্মীদের সরকার ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত ছুটি ও মেডিকাল লিভ দেওয়া হবে,
  • মিড ডে মিল কর্মীদের বারো মাস বেতন দেওয়া হবে।

৮. শিক্ষা

  • রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা হবে,
  • স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব করা হবে,
  • বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM)-এর মাধ্যমে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং কলেজ স্তরে শিক্ষাদানে গুরুত্ব আরোপ করা হবে,
  • বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং কলেজ স্তরে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করা হবে,
  • বৃত্তিমূলক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে এবং বৃত্তি অনুযায়ী তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে,
  • শরীর চর্চা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তোলা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবশ্যিক করা হবে,
  • এসএসসি, পিএসসি, সিএসসি, ও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সব শূন্যপদে ক্রমান্বয়ে নিয়োগ করা হবে,
  • একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সব শূন্যপদে ক্রমান্বয়ে নিয়োগ করা হবে,
  • সব স্তরের পার্শ্বশিক্ষক ও অস্থায়ী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দেওয়া হবে, শিক্ষাঙ্গনগুলিকে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে,
  • কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশক্ষায় সর্বক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে,
  • শিক্ষার সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক অধিকারকে সপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। দেশের সংবিধান-বিরোধী কোনও পাঠ্যক্রম কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত কর যাবে না। সরকার এ প্রশ্নে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করবে।

গ্রন্থাগার

  • সরকারি গ্রন্থাগারগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং শূন্যপদে গ্রন্থাগারিক নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে,
  • গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাইজেশন করা হবে,
  • গ্রন্থাগারগুলিকে তথ্যভান্ডার, কেরিয়ার ট্রেনিং এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৯. স্বাস্থ্য পরিষেবা

  • রাজ্য বাজেটের ১০ শতাংশ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচী রূপায়ণের জন্য বরাদ্দ করা হবে,
  • হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে স্বচ্ছতার সঙ্গে সব শূন্যপদ ক্রমান্বয়ে পূরণ করা হবে,
  • পাহাড়ে নতুন মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে,
  • প্রতিটি জেলাতেই ক্রমান্বয়ে একটি করে মেডিক্যাল কলেজ এবং প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রপিছু একটি নার্সিং কলেজ গড়ে তোলা হবে,
  • প্রতিটি সাব-ডিভিশনে প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে,
  • জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে যাতে সব মানুষ উন্নত চিকিৎসা পায়,
  • সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও স্বল্পমূল্যের বহুমুখী (Multi-speciality) হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে,
  • প্রতি ব্লকে যৌথ উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হবে,
  • সরকারি হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা করা, ওষুধ কেনা এবং সব ধরণের পরীক্ষা করাবার অধিকার সকলের থাকবে,
  • সৃজনশীল ও ক্ষমতায়নমূলক সেবা (Generative Care) চালু করা হবে,
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্ত শূন্য পদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে,
  • মানসিক স্বাস্থ্যকে পেশাগত স্বাস্থ্যের (Occupational Health) একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে,
  • মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা আইন (Mental Health Care Act) সম্পূর্ণভাবে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রবীণদের জন্য

  • জেরিয়াটিক কেয়ার হোম (Geriatric Care) প্রবীণ নাগরিকদের জন্য প্রতিটি মহকুমায় সরকারি এবং যৌথ উদ্যোগে আধুনিক এবং সযত্ন প্রবীণ আবাস গড়ে তোলা হবে। এখানে প্রশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। প্রবীণদের জন্য ২৪০৭ হেল্পলাইন তৈরি করা হবে,
  • প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, পুরসভা পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন কাজে তাদের জন্য হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হবে,
  • পুরসভা বা পঞ্চায়েত স্তরে কেয়ার সেন্টার তৈরি করে এলাকার বয়স্ক মানুষদের, বিশেষ করে যারা একা থাকেন, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা তাদের বিভিন্ন কাজকর্মে সাহায্য করা, সমস্যার সমাধান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে সম্ভব হলে একাকিত্বের একঘেয়েমি দূর করার জন্য বিভিন্ন আনন্দদায়ক মুহূর্ত তৈরি করার কাজে সামাজিক সংগঠনগুলিকে যুক্ত করা হবে,
  • সব দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে।

১০. বিদ্যুৎ, নগরায়ন, বাসস্থান, রাস্তা ও পরিবহণ সংস্কার

  • সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বিদ্যুতের মাশুল কমানো হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা হবে,
  • প্রিপেইড ডায়নামিক স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা হবে। যারা আয়করদাতা নন তাদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে দেওয়া হবে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্ধেক দাম দিতে হবে,
  • নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সুলভ মূল্যের আবাসন প্রকল্প বৃদ্ধি করা,
  • বেসরকারি বাসস্থানের ক্ষেত্রে প্রমোটার, ডেভালপার, সিন্ডিকেটরাজের দৌরাত্ম্য থেকে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে ক্ষমতা দেওয়া হবে,
  • রাজ্যে নদীভাঙন রোধে কার্যকর কর্মসূচি নেওয়া হবে,
  • নদী ভাঙনের সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ পরিকল্পনা এবং প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে,
  • নদী পারাপারের জন্য চাহিদা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে,
  • ইঞ্জিনীয়ার বা প্লানারদের জন্য একটাই কেন্দ্রীয় নিবন্ধীকরণের ব্যবস্থা করা হবে পেশাদারী স্বীকৃত সংস্থার মতামত নিয়ে,
  • রাজ্য পরিবহন নিগমগুলোকে (WBTC, NBSTC, SBSTC, WBSTC ইত্যাদি) আধুনিক দূষণমুক্ত বাস ও উন্নত পরিষেবার মাধ্যমে লাভজনক ও জনমুখী করা হবে,
  • দল পরিবহন ব্যবস্থাকে সাধারণ যাত্রী সাধারণের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঢেলে সাজানো হবে
  • রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন। বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে পরিষেবা নালী (Utility Duct) ব্যবস্থা করা এবং ঠিকাদারি প্রথার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,
  • আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালিং ও গুরুত্বপূর্ণ মোডে সিসিটিভি নজরদারি এর দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য 'হাইওয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টার' স্থাপন,
  • আধুনিক উড়ালপুল, রিং-রোড, সংযোগকারী সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে শহরাঞ্চলে যান পরিবহনে গতি সঞ্চার করা হবে,
  • রাজ্যের সব গ্রামে পাকা রাস্তা করা হবে এবং সেগুলিকে বড় রাস্তার সঙ্গে যুক্ত করা হবে,
  • পথচারীদের হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও যানজট মুক্ত শহর গড়তে এবং হকারদের জন্য বিজ্ঞানসম্মত 'ভেন্ডিং জোন' ও পুনর্বাসন নীতি কার্যকর করা,
  • কোথাও বস্তি উচ্ছেদ করা হবে না। জনস্বার্থে বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচীর জন্য বস্তি অন্যত্র সরানো একান্ত জরুরি হলে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যেই পুনর্বাসন প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে,
  • ২০ বছরের বেশি যারা বস্তিতে রয়েছেন তাদের 'অকুপেশন কর' দিয়ে ওই জায়গায় বাস করতে দেওয়া হবে,
  • বস্তির জন্য পৌর বাজেটের ২৫% ব্যয় করা হবে,
  • বস্তিবাসী সহ শহরের গরিব মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প চালু করা হবে,
  • বস্তিবাসী ও গরিব মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
  • গরিব মানুষের আবাসনের জন্য সরকার বিশেষ প্রকল্প তৈরি করবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র মানুষের নিজস্ব বাসস্থান প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

১১. জল, স্যানিটেশন ও নগর উন্নয়ন

  • ১০০ শতাংশ বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড মুক্ত বিশুদ্ধ জল পৌঁছে দেওয়া হবে আগামী ৩ বছরের মধ্যে,
  • ১০০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে প্রতিটি বাড়ী থেকে, গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে। ১২০ দিন কাজের প্রকল্পে নিযুক্তদের এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই কাজে যুক্ত করা হবে,
  • প্রতিটি শহর ও মফস্বল এলাকায় স্মার্ট সিটি গড়ে তুলে পরিকল্পিত নতুন সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প (Affordable Housing) নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য গড়ে তোলা হবে,
  • উন্নত রাস্তা, স্টেট এক্সপ্রেসওয়ে ও নতুন সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১২. নারীর ক্ষমতায়ন

  • ভাতাপ্রাপ্ত সব মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যনে উন্নত করে তাঁদের আয় কয়েকগুণ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে,
  • ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা হবে,
  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং নাবার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা হবে,
  • গ্রামীণ অর্থনীতিকে অবৈধ-বেআইনি মাইক্রোফিনান্সের জাল থেকে মুক্ত করা হবে এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,
  • বকেয়া আদায়ের নামে গ্রামীণ মহিলাদের উপর মাইক্রোফিনান্স কারবারিদের অত্যাচার কঠোর ভাবে দমন করা হবে,
  • শিল্পাঞ্চলে শিশুসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে,
  • প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় জোর দিয়ে ধর্মান্ধতা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করার প্রচেষ্টা করা হবে,
  • প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু 'স্বশাসিত অভয়া বাহিনী' তৈরি হবে, যারা বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে নারী নির্যাতন দমন করবে।

এলজিবিটিকিউ+

  • তৃতীয় লিঙ্গ কুইয়ার (Queer) শ্রমিকদের সমান কাজে সমান মজুরী ও সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মীর মর্যাদা সুনিশ্চিত করা হবে,
  • তৃতীয় লিঙ্গ ও কুইয়ার শ্রমিকদের জন্য পথেঘাটে ও কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও উপযুক্ত ব্যবস্থাসহ টয়লেট ও বাচ্চা রাখার ক্রেশের ব্যবস্থা করা হবে,
  • নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও কুইয়ার মানুষের জন্য প্রথা-বহির্ভূত কাজে দক্ষতা বৃদ্ধির ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং এই খাতে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে।

১৩. সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও জনজাতি, আদিবাসী, ওবিসি

  • সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় স্কুল-কলেজ-হোস্টেল তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে,
  • উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি ও সংরক্ষণ বাড়ানো হবে,
  • আদিবাসীদের জমি ও বনাধিকার আইনি সুরক্ষায় নিশ্চিত করা হবে,
  • জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া বন্ধ করে কর্পোরেট দখলদারি বন্ধ করা হবে,
  • ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি ও হস্তশিল্পে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ দেওয়া হবে,
  • প্রতিটি ব্লকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Skill Development Training Center) গড়ে তোলা হবে,
  • গ্রাম থেকে জঙ্গল সর্বত্র স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা, নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ডাক্তার নিয়োগ করা হবে,
  • অপুষ্টি ও মাতৃমৃত্যু রোধে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে,
  • সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সংস্কৃতির পূর্ণ মর্যাদা ও সুরক্ষা দান করা হবে,
  • ধর্মীয় স্বাধীনতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে,
  • সাম্প্রদায়িক হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতিকে ধ্বংস করা হবে,
  • প্রশাসন, চাকরি ও নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে,
  • সংখ্যালঘু ও আদিবাসী প্রধান অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল সহ প্রতিটি মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
  • অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের অধিকার এবং মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হবে।

১৪. বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য

  • বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সাধারণ স্কুল ও কলেজে ইন্টারপ্রেটার ছাড়াও নানা ধরণের বিশেষ সহায়ক ও অভিযোজিত প্রযুক্তি যেমন মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট ভিত্তিক বিশেষ অ্যাপ সহজলভ্য করা হবে,
  • সাধারণের ব্যবহারের জন্য জায়গাগুলি যথা পার্ক, সংস্কৃতি কেন্দ্র, সরকারি অফিস ইত্যাদি জায়গাগুলিকে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারোপযোগী টয়লেট নির্মাণ করা হবে,
  • প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা করা হবে,
  • স্বনির্ভর হওয়ার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এবং সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে নামমাত্র সুদে বা বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে,
  • আইটিআই বা অন্যান্য বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রে তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী বিশেষ কোর্সের ব্যবস্থা করা হবে।

১৫. উদ্বাস্তু

  • দেশভাগের শিকার উদ্বাস্তু মানুষজনের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে,
  • অতীতে বামফ্রন্ট সরকার উদ্বাস্তুদের নিঃশর্ত দলিল দান ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের যে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছিল তা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে থমকে গেছে, কেন্দ্রের সরকারেরও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি; এবিষয়ে পুনরায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১৬. বিশেষ অঞ্চল উন্নয়ন

পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন

  • খরা মোকাবিলায় ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্প তৈরি করা হবে,
  • সৌর বিদ্যুৎ পার্ক গড়ে তোলা হবে এবং কমিউনিটি বেস্ড সমবায় ভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলায় বিশেষ সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে,
  • জঙ্গলমহলের বনজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে,
  • বনভূমি রক্ষার আইন কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে,
  • পতিত জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষের ব্যবস্থা করা হবে।

সুন্দরবন প্যাকেজ

  • নদী ভাঙন রোধে পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে,
  • সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে,
  • মধু-মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে,
  • বাঘের আক্রমণে আহত ও নিহত সরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত মধু সংগ্রহকারী ও মৎসজীবীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে,
  • নোনা জল প্রতিরোধী কৃষিতে জোর দেওয়া হবে।

উত্তরবঙ্গের T3 পরিকল্পনা

  • চা (Tea), পর্যটন (Tourism) এবং প্রযুক্তি (Technology)-এর মেলবন্ধনে উত্তরবঙ্গের আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে,
  • ফল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকেন্দ্র প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলা হবে। নতুন উদ্যোগীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
  • পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল এবং সুন্দরবনের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষনা করা হবে।

আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্ষদ

  • অঞ্চলগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল এবং সুন্দরবনের জন্য আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হবে।

১৭. পরিবেশ রক্ষা

  • রাজ্যের পরিবেশ রক্ষা হবে সরকারের অগ্রাধিকার। খাল, বিল, পুকুর, জলাভূমি এমনকি নদীও নির্বিচারে ভরাট হয়ে চলেছে বিগত ১৫ বছর ধরে। এই প্রশ্নে আমাদের সরকারের অবস্থান হবে কঠোর,
  • নির্বিচারে চলছে গাছ কাটা এবং জঙ্গল সাফ অভিযান। পরিবেশ রক্ষায় সরকার রাজ্যজুড়েই বিশেষ 'সবুজ বাহিনী' গড়ে তুলবে,
  • বন দপ্তর ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিবেশ ও বিজ্ঞান আন্দোলনে যুক্ত সামাজিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে বিশেষ ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার কাজ করা হবে,
  • সুন্দরবন, উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স, পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহল সহ রাজ্যের বনভূমি এবং জলাশয় যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে,
  • নদীর থেকে বে-আইনি বালি পাচার এবং বে-আইনি খাদান থেকে পাথর পাচারকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,
  • রাজ্যে নদীভাঙন রোধে কার্যকর কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে এই প্রশ্নে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।

১৮. সংস্কৃতি

  • চলচ্চিত্র শিল্প ও সরকারি প্রেক্ষাগৃহগুলিকে দলতন্ত্র মুক্ত করা এবং প্রতি জেলায় সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে,
  • নন্দন সহ রাজ্যের প্রতিটি সরকারি প্রেক্ষাগৃহের পুরোনো গরিমা ফিরিয়ে এনে সাংস্কৃতিক কাজে ব্যবহার করা হবে,
  • লোকসংস্কৃতি সহ আধুনিক সুস্থ গঠনমূলক সংস্কৃতির চর্চাকে নানাবিধ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করা হবে,
  • প্রতিটি রাজ্য আকাদেমিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ফিরিয়ে আনা হবে,
  • বাংলার মনীষীদের জন্মদিবস পালন করা হবে প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায়। যেসব ক্লাব এবং সামাজিক সংগঠন এই কাজে এগিয়ে আসবে তাদের সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে,
  • আদিবাসীসহ প্রতিটি জনজাতির ভাষা, সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে,
  • সিঙ্গল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে স্বাধীন ভাবে নির্মিত বাংলা ছবি প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হবে।
  • সমবায় গড়ে তুলে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের পরিচালকদের উৎসাহিত করা হবে।
  • ফিল্ম টেকনিশিয়ানদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবীমা, অবসরকালীন সুবিধা চালু করা হবে।
  • সমস্ত নিবন্ধিকৃত নাট্যদলকে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে।
  • নাট্যচর্চা ও প্রশিক্ষণের জন্য নাট্য একাডেমির নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে।।
  • নাট্যকর্মীদের সামাজিক গৃরক্ষা, স্বামীরও অবনীন সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই নীতি বহাল গারুণে গাত্রা ও রামীণ লোকশিল্পীদের ক্ষেত্রেও।

১৯. ক্রীড়া

  • জেলায় খেলার মাঠ ও আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হাবে,
  • স্থানীয় ক্লাবগুলিকে ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহ দান করা হবে,
  • ভূমিস্তর থেকে প্রতিভার অন্বেষণ ও বিকাশের জন্য ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে। রাজ্য থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গড়া হবে,
  • যে ক্লাবগুলি যুবক-যুবতীদের জন্য সরকারের কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে আশগ্রহণ করবে, তাদের বছরে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে,
  • বড় ক্লাব এবং রাজ্য ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করা হবে।

২০. সম্প্রীতি শান্তি

  • সম্প্রীতি শাস্তি মানুষের ঐক্য এই রাজ্যের ঐতিহ্য। সব মানুষকে নিজের মাতৃভাষায় কথা বলা এবং নিজ ধর্ম পালন করার অধিকার সংবিধান দিয়েছে। রাজ্যের এবং দিল্লির শাসক দল মানুষকে জাত, ধর্ম, ভাষার ভিত্তিতে ভাগ করতে চাইছে। আমরা রাজ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি বজায় রাখতে আপোষহীন প্রহরীর কাজ করছি এবং করেও যাব। বিভেদকামী, বিদ্বেষ-ঘৃণা ছড়ানো যে কোনও শক্তিকে কঠোরভাবে দমন করা হবে, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই।

২১. সরকার ও গণতন্ত্র

  • এই সরকার পরিচালিত হবে সাধারণ মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের দ্বারা, সর্বস্তরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে,
  • প্রশাসনের সর্বস্তরকে দুর্নীতিমুক্ত, জনমুখী এবং আমলাতান্ত্রিকতা মুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে,
  • পুলিশের দপ্তরগুলি চলবে আইনের শাসন মেনে, পুলিশ-সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
  • দুর্বৃত্ত ও দাঙ্গাবাজদের কঠোর ভাবে দমন করবে সরকার,
  • সরকারি পরিষেবা যাতে সাধারণ মানুষ পায় কোনরকম হয়রানি ছাড়া ও সেই বিষয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে,
  • দুর্নীতির আখড়া পঞ্চায়েত পৌরসভাগুলিতে অবাধ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে দেওয়া এবে, সরকার গঠনের ১ বছরের মধ্যেই,
  • স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা হবে,
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন তদন্ত ও বিচার করার জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং গত ১৫ বছরের নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা-বালি পাচার ও আর্থিক তছরুপের নিরপেক্ষ তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করা হবে,
  • অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন করা হবে,
  • মানুষের মতামত নিয়েই চলবে সরকার এবং শ্রমিক কর্মচারী সহ সমাজের সব আশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে নিশ্চিত করা হবে।
  • সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

২২. সিস্টেম ক্লিন-আপ ও অর্থসংস্থান

  • সিন্ডিকেট ও কাটমানি বন্ধ করা হবে। ফলে বছরে ৫০,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, যা রাজ্যের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে,
  • বড় পরিকাঠামো তৈরির জন্য সরাসরি জনগণের বিনিয়োগ থাকবে উন্নয়ন বন্ড (Development Bonds) এর মাধ্যমে,
  • তামান্না, অভয়াসহ প্রত্যেক নির্যাতিতার জন্য ন্যায় বিচার।

বাংলার পুনর্জাগরণে আপনিও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মানবকল্যাণের অমলিন স্বপ্ন পূরণের একমাত্র পথ হল বামপন্থার পুনরুত্থান। আমরা চাই বিভাজন, বিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতি হার মানুক, শক্তিশালী হোক মানুষের ঐক্য এবং মানবিকতার রাজনীতি। হিংসা-বিদ্বেষ-বিভাজন-লুটতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই হবে অবিচল, কারণ আমরা বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র ঐক্য ও ন্যায়ের পথেই মানুষের প্রকৃত কল্যাণ অর্জিত হতে পারে।

রাজ্যের এই অরাজক বন্দীদশার অবসান ঘটাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি'কে রুখে দিতে হবে। বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিকল্পকে জয়ী করতে হবে। বামফ্রন্ট ও সহযোগী ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সোসালিস্ট পার্টির সমস্ত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন। বামপন্থার পুনর্জাগরণের পথে তৈরি হোক বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মানুষের-সরকার।

আমরা শান্তি, সম্প্রীতি, কাজের অধিকার, মর্যাদার জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবো এই রাজ্যে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

এক নজরেঃ

১। প্রতিটি পরিবারের জন্য অন্তত একটি স্থায়ী কাজ।

ক) প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে অন্তত ২টি চাকরির কল, ঘ) গরিব মানুষের জন্য শহরে বছরে ১২০ দিন, গ্রামে ২০০ দিন কাজ, ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি।

২। ৫ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ, আবারও বছর-বছর স্বচ্ছতার সঙ্গে এসএসসি, সিএসসি, পিএসসি।।

৩। ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশে প্রথম স্থান পুনরুদ্ধার, নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়‍্যার পার্ক তৈরি, প্রতিটি জেলায় শিল্প তালুক।

৪।  শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৭০০ টাকা, ৪টি শ্রমকোড রাজ্যে প্রয়োগ নয়, সমকাজে সমমজুরি, কর্মরত নারী শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য ক্রেশ, তৃতীয় লিঙ্গ ও Queer শ্রমিকদের সমকাজে সমমজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মীর মর্যাদা।

৫। ১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য করা হবে দেড় গুণ।

৬। শিক্ষায় রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ, স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব, স্বাস্থ্যে বাজেটের ১০ শতাংশ, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে সব শূন্যপদ পূরণ, প্রতি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ, আধুনিক হাসপাতাল।

৭। বন্ধ করা হবে প্রিপেইড ডায়নামিক স্মার্ট মিটার বসানো, যারা আয়করদাতা নন তাদের জন্য- ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে।

৮। মাইক্রো ফিনান্স সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

৯। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কর্মসূচি, খাল, বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং নদী রক্ষায় কঠোর আইন।

১০। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন তদন্ত, বিচারের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন।

১১। নারী নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন: ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি, তামান্না, অভয়া-সহ সকল নির্যাতিতার ন্যায়বিচার, প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু 'স্বশাসিত অভয়া বাহিনী'।

১২। প্রবীণদের জন্য 'স্বাস্থ্য সেবা' প্রকল্প, সব দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য আ।

১৩। সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় স্কুল-কলেজ-হোস্টেল তৈরিতে অগ্রাধিকার, বাড়ানো হবে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি ও সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী প্রধান অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সংস্কৃতির পূর্ণ মর্যাদা ও সুরক্ষা দান, আদিবাসীদের জমি ও বনাধিকার আইনি সুরক্ষায় নিশ্চিত করা। তফসিলি জাতি উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের অধিকার এবং মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হবে।

  • বাংলার পুনর্জাগরণ
  • দুর্নীতি-মুক্ত স্বচ্ছ সংবেদনশীল প্রশাসন
  • প্রাণবন্ত গণতন্ত্র
  • মন্দির-মসজিদ নয়, কাজ
  • নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
  • শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর
  • মৌলবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স
  • লুটেরার ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, তোলাবাজ-মুক্ত নতুন বাংলা

বিমান বসু সভাপতি, বামফ্রন্ট কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ

মহঃ সেলিম, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)

স্বপন ব্যানার্জি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি

তপন হোড়, আর এস পি

নরেন চ্যাটার্জি, সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক

সুভাষ রায়, আর সি পি আই

আশীষ চক্রবর্তী, মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক

শিপ্রা চক্রবর্তী, ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রবীর ঘোষ, ভারতীয় বলশেভিক পার্টি


প্রকাশ: ০৫-এপ্রিল-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 07-Apr-26 14:43 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/election-manifesto-2026
Categories: Campaigns & Struggle
Tags: assembly elections, cpim, democracy, left alternative, left front wb, west bengal
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড