অর্থনীতি যখন সাম্রাজ্যবাদের আরও এক কৌশল (পর্ব ১)

এরা বেতন পাবেন কর্পোরেটদের থেকে, সরকারের থেকে নয়। তাদের অন্যায় কাজ ফাঁস হলেও, সেটি কর্পোরেট লোভের ফল বলে চালানো হবে; সরকারের গায়ে আঁচ লাগবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পশ্চিমী দেশগুলির অধীনে থাকা উপনিবেশগুলির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে উঠেছিল, এর উপর ছিল সোভিয়েত রাশিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক শিবিরের প্রভাব। ১৯৫০ সালের বসন্তে, কৌশলগত পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে: পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না’র প্রতিষ্ঠা হয়, কোরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী সরে আসতে বাধ্য হয় এবং সোভিয়েত রাশিয়া তাদের প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরনো ধরণে দেশ দখল ও উপনিবেশ বানানোর খেলা আর সম্ভব হচ্ছিল না। ১৯৫১ সালে ইরানে একটি ব্রিটিশ তেল কোম্পানি ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনগণের শোষণ করছিল। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। জনপ্রিয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, ইরানের সমস্ত পেট্রোলিয়াম সম্পদ জাতীয়করণ করেন। ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল। তবে, উভয় দেশেরই ভয় ছিল, সামরিক আক্রমণ করলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।
তখন ওয়াশিংটন নিয়োগ করেছিল সিআইএ এজেন্ট কারমিট রুজভেল্টকে (থিওডরের নাতি)। তার কাজ ছিল, মানুষকে অর্থের লোভ এবং ভয় দেখিয়ে, তাদের দিয়ে দাঙ্গা এবং হিংস্র প্রতিবাদ সংগঠিত করা। প্রচার চলে মোসাদ্দেক অসৎ এবং অক্ষম। শেষ পর্যন্ত, মোসাদ্দেক সরকারের পতন হয়, এবং আমেরিকা সমর্থিত মোহাম্মদ রেজা শাহ গদীতে বসেন। এইভাবে কারমিট রুজভেল্ট কাজ, তৃতীয় বিশ্বের নানা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন বা বিশেষ সামরিক সুবিধা অর্জনের জন্য সাম্রাজ্যবাদীদের নতুন কৌশল হয়ে উঠেছিল।
ভিয়েতনাম আগ্রাসন চলাকালীন ১৯৬৮ সালেই বোঝা যায় পুরনো ধরণের আগ্রাসন আর কাজ করবে না। পরমাণু যুদ্ধের হুমকি ছাড়া, প্রেসিডেন্ট জনসন এবং নিক্সনদের কল্পনা করা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের স্বপ্নপূরণ করতে হলে, রুজভেল্টের ইরানি উদাহরণের মতো কৌশল গ্রহণই কমিউনিস্টদের প্রতিহত করার একমাত্র উপায়। তবে এই কৌশলের সমস্যা ছিল। কারমিট রুজভেল্টের মতো একজন সিআইএ কর্মচারী যদি এইরকম কাজে ধরা পড়েন, তবে তার প্রতিক্রিয়া হবে মারাত্মক। গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন একটি পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া যা কার্যকরীভাবে ওয়াশিংটনকে জড়িয়ে ফেলবে না।
১৯৬০-এর দশকে অর্থনৈতিক জগতেও একটি বিপ্লব দেখা দেয়: আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন এবং বহুজাতিক সংস্থার ক্ষমতায়ন, যেমন, বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ। এগুলি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঘনিষ্ঠ ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের দ্বারা অর্থায়িত। সরকার, কর্পোরেশন এবং বহুজাতিক সংস্থার মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক বিকশিত হয়।
নতুন কৌশল জন্ম নেয় অর্থনৈতিক আক্রমণের– এনএসএ সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক হিটম্যান বা ঘাতকদের চিহ্নিত করবে, আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনগুলিতে নিয়োগ করার জন্য। এরা বেতন পাবেন কর্পোরেটদের থেকে, সরকারের থেকে নয়। তাদের অন্যায় কাজ ফাঁস হলেও, সেটি কর্পোরেট লোভের ফল বলে চালানো হবে; সরকারের গায়ে আঁচ লাগবে না। এইসব নিয়োগকারী কর্পোরেশনগুলি সরকারি সংস্থা এবং বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ পাবে (করদাতার অর্থ), তবে তারা মার্কিন কংগ্রেসের এবং জনসাধারণের নজরদারির বাইরে থাকবে– ট্রেডমার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তথ্যের স্বাধীনতা আইন ইত্যাদির অজুহাতে।
অর্থনৈতিক ঘাতকরা হলেন উচ্চ বেতনভোগী পেশাদার যাঁরা বিশ্বজুড়ে দেশগুলিকে কোটি কোটি ডলার ঠকানোর কাজে নিযুক্ত। বিশ্বব্যাংক, মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) এবং অন্যান্য বিদেশী ‘সহায়তাকারি’ সংস্থার টাকা, বড় বড় কর্পোরেশন এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকটি ধনী পরিবারের পকেটে চালান করার ভিত তৈরি করবেন এরা। তাঁদের হাতিয়ার জাল আর্থিক প্রতিবেদন, নির্বাচনে কারচুপি, ঘুষ, অবৈধ জুলুমবাজি, যৌন সম্পর্কের ব্যবহার এবং হত্যা।
জন পার্কিনস ছিলেন এইরকম একজন অর্থনৈতিক হিটম্যান বা ঘাতক। তাকে একজন হিটম্যান হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছিল অত্যন্ত গোপন পরিকল্পিত উপায়ে। পার্কিন্স নিজের বইতে এর বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা বাহিনী, এন এস এ, এইসবের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন স্তরে যাচাই করে তাঁকে প্রাথমিকভাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল শান্তি বাহিনীর অধীনে, ইকুয়েডরে। সেখানকার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পরেই তাকে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে নিযুক্ত করা হয় চ্যাস টি মেইন নামে একটি কর্পোরেট সংস্থায়। এর এক ভাইস প্রেসিডেন্ট এইনার গ্রেভ পার্কিনসের মেইন-এ নিয়োগের ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন।
মেইন’র প্রধান ব্যবসা হিসাবে দেখানো হত ইঞ্জিনিয়ারিং। বিভিন্ন দেশের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত করা; কার্যকারিতা এবং আকার নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পূর্বাভাস তৈরি করা। ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মিশরের মতো দেশগুলির দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণ, স্থানীয় নেতৃত্বদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং সেই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনার ব্যাপারে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন করা। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে নিযুক্ত হলেও, পার্কিনস শীঘ্রই বুঝতে পারেন, তার কাজের পরিধি অর্থনীতির গণ্ডী ছাড়িয়েও অনেক দূর প্রসারিত হবে।
আইনী পরিভাষায়, মেইনকে এমন একটি কর্পোরেশন বলা হয়, যার শেয়ার সীমাবদ্ধ থাকত এর ৫ শতাংশ কর্মচারীর মধ্যে। তাদের পার্টনার বা সহযোগী বলা হত এবং তাদের ক্ষমতা এবং রোজগারও ছিল প্রচুর। গোপনীয়তা ছিল তাদের বিশেষত্ব; তারা রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্য প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে ব্যবসা করতেন, কঠোর গোপনীয়তার নীতি মেনে চলার শর্তে। প্রেসের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। ফলে, মেইন-এর বাইরে খুব কম মানুষই এর সম্পর্কে জানতেন, যদিও অনেকেই এদের প্রতিযোগীদের, যেমন আর্থার ডি. লিটল, স্টোন অ্যান্ড ওয়েবস্টার, ব্রাউন অ্যান্ড রুট, হলিবার্টন এবং বেকটেলকে ভালোভাবেই চিনতেন।
মেইন-এর বেশিরভাগ পেশাদার কর্মী ইঞ্জিনিয়ার ছিল, তবুও তাদের কাছে কোন নির্মাণ সরঞ্জাম ছিল না এবং তারা কখনো একটি গুদামও নির্মাণ করেনি। মেইন-এ অনেক কর্মচারীই ছিল প্রাক্তন সামরিক সদস্য; কিন্তু প্রতিরক্ষা দপ্তর বা কোন সামরিক পরিষেবার সাথে চুক্তি ছিল না। পার্কিনস শুধু জানতেন যে তার প্রথম প্রকৃত কাজ হবে ইন্দোনেশিয়াতে এবং এগারো সদস্যের একটি দলে তিনি থাকবেন, যাদের কাজ জাভা দ্বীপের জন্য একটি কেন্দ্রীয় শক্তি পরিকল্পনা তৈরি করা। এই দলের অন্যান্যরা হবেন প্রকৌশলী, যাঁদের কাজ পাওয়ার প্ল্যান্ট, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন, এবং জ্বালানি আনার জন্য সমুদ্রবন্দর এবং সড়কের ডিজাইন। পারকিন্সের কাজ হবে এই কাজের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রয়োজনীয় ঋণের বন্দোবস্ত করা।
ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে পড়াশুনা করার সুবিধার জন্য পার্কিনসকে বোস্টন পাবলিক লাইব্রেরি, এমআইটি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে পড়াশুনা করার পাস দেওয়া হয়। ক্লডিন মার্টিন নামের এক মহিলা ছিলেন মেইন’র এক বিশেষ পরামর্শদাতা। ক্লডিন ছিলেন পার্কিনসের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে। পার্কিনস ‘অর্থনৈতিক হিটম্যানে’র ভূমিকার কথা প্রথম জানতে পারেন ক্লডিয়ার কাছ থেকেই। তার বিস্ময় দেখে ক্লডিয়া আশ্বস্ত করেন, “তোমার যুক্ত থাকার বিষয়টি কেউ জানবে না – এমনকি তোমার স্ত্রীও না। আমি তোমার সাথে খুব খোলামেলা কথা বলব, তোমায় দরকারি সব কিছু শেখাব। তারপর তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তোমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তবে, তুমি এর মধ্যে ঢুকলে, সারাজীবন এর মধ্যে থাকতে হবে।”
এনএসএ’র তৈরি করা পার্কিনসের প্রোফাইল থেকে ক্লডিন জানতেন, তার ব্যক্তিত্বের সক্ষমতা এবং দুর্বলতাগুলি– বাবা-মায়ের কড়া শাসন, মেয়ে বন্ধুর অভাব এবং যৌন জীবন সম্পর্কিত হতাশা; দরকারে মিথ্যা বলার দক্ষতা; বিদেশীদের সঙ্গে মেশার দক্ষতা; গরিব মানুষদের জন্য সহানুভূতি– এবং তিনি এসবের পুরো সুযোগ নিয়েছিলেন। তার পদ্ধতি, বিভিন্ন প্রলোভন ও কথাবার্তার কৌশলের এক সংমিশ্রণ বিশেষভাবে পার্কিনসের জন্য তৈরি করা হয়। ক্লডিন প্রথম থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে পার্কিনস এইসব গোপন কার্যকলাপ প্রকাশ করে নিজের বিবাহের সম্ভাবনাকে বিপন্ন করবে না। কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা হওয়ার পরেই, ক্লডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সব মাধ্যমই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাদের শেষ দেখার সময়ে ক্লডিয়া বলেন, “আমাদের যোগাযোগ নিয়ে যেন কেউ না জানে, তুমি তা করলে আমি তোমাকে মাফ করব না এবং আমাদের যোগাযোগের ব্যাপারে অস্বীকার করব। আমাদের ব্যাপারে কথা বললে তুমি বিপদে পড়বে।” পারকিন্স এ কথায় অবাক হয়েছিলেন, বিপর্যস্ত বোধ করেছিলেন। অবশ্য পরে তিনি এই ব্যবস্থার ধূর্ততা বুঝতে পেরেছিলেন। তাদের সব যোগাযোগ হয়েছিল ক্লডিয়ার বাড়িতে; তাদের সম্পর্কের কোনও সাক্ষ্য ছিল না এবং মেইন-র কেউ এতে জড়িত ছিল না। এর পরে ইন্দোনেশিয়ায় তার প্রথম কাজ সেরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর অনেক খোঁজ করেও পার্কিনস আর ক্লডিয়ার দেখা পাননি।
ঐ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ কাজের অন্ধকার দিকগুলি সম্পর্কে অবহিত হন পার্কিনস। পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশে কাজের মাধ্যমে তার বোঝাপড়া আরো পরিষ্কার হয়েছিল। তার কাজের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, মেইন এবং অন্যান্য মার্কিন কোম্পানি যেমন বেকটেল, হলিবার্টন, স্টোন অ্যান্ড ওবস্টার, এবং ব্রাউন অ্যান্ড রুট’দের জন্য তৃতীয় বিশ্বের নানা দেশে বড়সড় ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণ প্রকল্পের কাজে বিশাল আন্তর্জাতিক ঋণগুলির ন্যায্যতা প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, সেই দেশগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করার জন্য কাজ করা, যাতে ঋণগ্রহীতারা, মেইন এবং অন্যান্য মার্কিন কনট্রাক্টরদের অর্থ পরিশোধ করার পরে, তাদের ঋণদাতাদের কাছে চিরকালের জন্য ঋণের জালে বাঁধা পড়ে যায় এবং যখন কোনো সহায়তা– সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ, জাতিসংঘের ভোট, বা তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন হয়, তখন তারা বাধ্য হয় অনুমতি দিতে।
প্রথম দরকার ছিল একটি বড়সড় বিনিয়োগের প্রভাবের পূর্বাভাস দেওয়া – কুড়ি থেকে ত্রিশ বছর সময়কালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রভাবগুলির মূল্যায়ন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একটি দেশে ঋণ দেওয়ার, যাতে তার নেতাদের সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হওয়া থেকে আটকানো যায়, তাহলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিনিয়োগ করার ফলে লাভের তুলনা করা হতো নতুন জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ সিস্টেমে বিনিয়োগের লাভের সাথে। পাশাপাশি দেখাতে হতো যে দেশের একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক সেবা ব্যবস্থা দেশের পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব করবে, যা ঋণটির যৌক্তিকতা বোঝাবে। যা উহ্য থাকত, এগুলি ডিজাইনের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল ঠিকাদারদের জন্য বড় মুনাফা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অল্প কিছু ধনাঢ্য এবং প্রভাবশালী পরিবারকে খুশি রাখা। এইভাবে, দেশের সরকারের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করা হতো। ঋণের পরিমাণ যত বড় হবে, তত ভালো। ঋণের বোঝা যে দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য সামাজিক পরিষেবার অধিকার থেকে দশক দশক ধরে বঞ্চিত করবে, তা বিবেচনায় দেখান হত না।
প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধান ফ্যাক্টর ছিল মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি)। জিএনপি আসলে তখনও বাড়তে পারে যখন এটি শুধুমাত্র অল্প কয়েকজন ব্যক্তির কাছে লাভ পৌঁছে দেয় এবং যখন জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ দারিদ্রে ডুবে থাকে। ধনী আরও ধনী হয় এবং দরিদ্র আরও দরিদ্র হয়। তবুও, পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি রূপে রেকর্ড করা হয়।
সাধারণ মার্কিন নাগরিক এবং বেশিরভাগ মেইন-কর্মচারী বিশ্বাস করতেন যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক এবং বন্দর নির্মাণ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির ভালো করা হচ্ছে। স্কুল এবং সংবাদমাধ্যম এইসব কাজকে উদারতা হিসেবে ভাবতে শেখাত। প্রায়ই এমন মন্তব্য শোনা যেত, কোনও দেশের লোক যদি আমেরিকার পতাকা পোড়ায় এবং দূতাবাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়, তাহলে আমরা সেই দেশ ছেড়ে দিয়ে, তাদেরকে এইরকম দারিদ্র্যের মধ্যেই পড়ে থাকতে দিই না কেন? এমন মন্তব্যকারী ব্যক্তিরা অনেকেই ভালোভাবে শিক্ষিত। তবে, তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না যে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মূল কারণ হল নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা, যার মূল অভিপ্রায় বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে আমেরিকাকে একটি দুনিয়াজোড়া সাম্রাজ্যে পরিণত করা।
এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন পার্কিনস দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন যে কাজটি হয়ত ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু তার অতীতের হতাশাগুলি তাকে তাড়া করছিল। মেইন-এর কাজের মধ্যে তার জীবনের সব অভাব পূরণের প্রতিশ্রুতি ছিল। শেষ পর্যন্ত, তিনি লিখছেন, “আমি নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হলাম যে আরও শেখার মাধ্যমে, অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে, আমি পরে এটি আরও ভালভাবে ফাঁস করতে পারব।” তিনি সেটি করেওছিলেন– ফলশ্রুতি তার লেখা ঐ বই। এ লেখায় আমরা সে আলোচনাই করেছি।
তথ্যসূত্র: কনফেসন্স অফ অ্যান ইকোনমিক হিট ম্যান, জন পার্কিন্স
ছবিঃ সোশ্যাল মিডিয়া
লেখাটি তিন পর্বে শেষ হবে
প্রকাশ: ৩১-অক্টোবর-২০২৫
শেষ এডিট:: 31-Oct-25 09:22 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/economy-the-other-way-part-i-
Categories: International
Tags: economic crisis, economy, neo-liberalism
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (80)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





