পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের বিকল্প নগরোন্নয়ন নীতি: একটি বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ
অশোক ভট্টাচার্য
নেতাজীর দর্শন অনুযায়ী, একটি আধুনিক পুরসভার দায়িত্ব কেবল রাস্তা পরিষ্কার বা আলো জ্বালানোর মতো প্রথাগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করাও তার কর্তব্য।

একবিংশ শতাব্দীর নগরায়ন: চরিত্র ও নব্য-উদারবাদী সংকট
বর্তমান শতাব্দীতে নগরায়নের চরিত্রটি পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় আমূল ভিন্ন। বিশেষত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে নগরায়ন আজ আর কেবল উন্নয়নের সূচক নয়, বরং তা এক ‘দারিদ্র্যের নগরায়ন’ বা 'Urbanization of Poverty'-তে পরিণত হয়েছে । এই প্রবণতার মূলে রয়েছে পুঁজিবাদের নব্য-উদারবাদী রূপ, যা কৃষিকে ক্রমেই অলাভজনক করে তুলছে। ফলস্বরূপ, গ্রামীণ তরুণ প্রজন্ম বাধ্য হয়ে শহরমুখী হচ্ছে, কিন্তু শহর তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না ।
অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র এবং শহুরে জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা
শহরগুলিতে আগত এই বিশাল শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে এক বিশাল অনানুষ্ঠানিক বা ইনফর্মাল সেক্টরের সঙ্গে। এখানে কাজের নিরাপত্তা নেই, নূন্যতম মজুরির নিশ্চয়তা নেই এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম বুনিয়াদী পরিষেবার অভাব প্রকট। এই শ্রেণির মানুষের কাছে শহর মানে কেবল কোনোমতে টিকে থাকা, যেখানে অসহায়তা ও অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী । আজকের শহরগুলি ক্রমেই বাজার-ভিত্তিক হয়ে উঠছে, যেখানে সামাজিক ন্যায়ের পরিবর্তে বৈষম্য প্রাধান্য পাচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষেরা ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবার সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে, যা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়নের পরিপন্থী ।
পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের নগরোন্নয়ন নীতি: একটি আদর্শগত প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের নীতি ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শহর ও গ্রামের উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এই নীতির মূলে ছিল উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ এবং কলকাতার বাইরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শহরগুলির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ । বামফ্রন্ট সরকারের দর্শন অনুযায়ী, উন্নয়ন কেবল ইট-কাঠ-পাথরের কাঠামো নয়, বরং এটি একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া যেখানে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে ।
গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের মাইলফলকসমূহ
পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারই দেশে প্রথম ১৮ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার প্রদান করে, যা ছিল যুবসমাজকে শাসন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ । এর পাশাপাশি প্রতি ৫ বছর অন্তর পৌর নির্বাচন আয়োজন করাকে একটি নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৯২) অনেক আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে জেলা পরিকল্পনা কমিটি (DPC) গঠিত হয়েছিল । ১৯৯২ সালের ৭৪তম সংশোধনী ছিল ভারতীয় সংবিধানের এক যুগান্তকারী ঘটনা, যার মাধ্যমে দ্বাদশ তফশিল যুক্ত হয় এবং ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পৌরসভার হাতে হস্তান্তরের পথ প্রশস্ত হয় ।
অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণ
বামফ্রন্ট সরকারের সময় নগর পরিকল্পনার প্রাণকেন্দ্র ছিল জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। পরিকল্পনা কেবল আমলাদের ঘরে বসে তৈরি না করে ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । ওয়ার্ড কমিটি গঠন ছিল বাধ্যতামূলক এবং এই কমিটিতে বস্তিবাসী ও মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা হয়েছিল যাতে পরিকল্পনায় কোনো নির্দিষ্ট উচ্চবিত্ত শ্রেণির আধিপত্য না থাকে ।
ড্রাফট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (DDP) ও তৃণমূল স্তরের পরিকল্পনা
পৌরসভাগুলির উন্নয়ন পরিকল্পনা বা Draft Development Plan (DDP) প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের মতামত গ্রহণ করা হতো। এই পরিকল্পনায় কেবল পরিকাঠামো নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সংক্রান্ত বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হতো । পরিষেবা ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ, বৈজ্ঞানিক নিকাশি ব্যবস্থা এবং বস্তি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল ।
কলকাতা মহানগর উন্নয়ন ও কেএমপিসি (KMPC)
কলকাতা মহানগর এলাকায় (KMA) প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন প্ল্যানিং কমিটি (MPC) গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গে । এই কমিটি ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন, পানীয় জল, নিকাশি এবং পরিবেশ বিষয়ক একাধিক সেক্টরাল মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করেছিল। ২০০৪ সালে কলকাতা মেট্রোপলিটন প্ল্যানিং কমিটি একটি সুদূরপ্রসারী ‘ভিশন’ প্রস্তুত করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জীবনযাপনের গুণগত মান বৃদ্ধি করা ।
কেইউএসপি (KUSP) ও পৌর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ
‘কলকাতা আর্বান সার্ভিসেস ফর দ্য পুওর’ (KUSP) ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যা ডিএফআইডি (DFID)-র সহায়তায় রাজ্যের ৪০টি পৌর এলাকায় বাস্তবায়িত হয়েছিল । এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কেবল ভৌত পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং পৌরসভাগুলির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ।
কেইউএসপি প্রকল্পের মূল ফলাফল ও অর্জন
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভাগুলিতে ডবল এন্ট্রি অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার (পৌরহিসাব) চালু করা হয়, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল । জিআইএস (GIS) প্রযুক্তির মাধ্যমে হোল্ডিং সার্ভে এবং ম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল যাতে কর আদায়ের প্রক্রিয়া আরও বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ হয় । এছাড়া বস্তিবাসীদের সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য নেবারহুড গ্রুপ (NHG) এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (CDS) গঠন করা হয়েছিল ।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা
বামফ্রন্ট সরকারের নগরোন্নয়ন নীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল পরিবেশ রক্ষা। শহরগুলিতে জলাভূমি ভরাট রোধ এবং জমির সদব্যবহার মানচিত্র (Land Use Control Map) মেনে চলা ছিল বাধ্যতামূলক । বর্তমান শতাব্দীতে জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ রূপ আমরা দেখছি, তা মোকাবিলা করার জন্য শহর ভিত্তিক ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন লেখক তথা প্রাক্তন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য ।
জলাভূমি ও সবুজায়নের গুরুত্ব
কলকাতার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বিশাল জলাভূমি সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরের পার্ক ও ফাঁকা জায়গা রক্ষা করা ছিল বামফ্রন্ট সরকারের অঙ্গীকার। অথচ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, নদী ও জলাভূমি নির্বিচারে লুণ্ঠন করা হচ্ছে এবং বৃক্ষছেদন করে বড় বড় মাল্টিপ্লেক্স বা মল তৈরি করা হচ্ছে । পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ফলে শহরগুলিতে গ্রীন হাউস গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে এবং বায়ুর গুণগত মান ভয়াবহভাবে অবনতি হচ্ছে ।
কেরালা মডেল এবং অমর্ত্য সেনের উন্নয়ন দর্শন
পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কেরালার বাম-গণতান্ত্রিক সরকারের ‘পিপলস প্ল্যান’ বা জনগণের পরিকল্পনা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কেরালার এই পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল: গুণগত কর্মসংস্থান সহ প্রবৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায় ।
কেরালার উন্নয়ন বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছিলেন যে, উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো সামাজিক সংহতি । তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক সম্পদের চেয়েও মূল্যবান সম্পদ হলো ধর্মনিরপেক্ষতা । এই ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষা করেই কেবল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব। কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গের এই উন্নয়ন দর্শন মূলত নব্য-উদারবাদী মডেলে বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে ।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও মিউনিসিপাল সোশ্যালিজম
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৪ সালে কলকাতার মেয়র হিসেবে পৌর প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার যে আদর্শ শুরু করেছিলেন, ১৯৩৮ সালে সুভাষচন্দ্র বসু তাকেই ‘মিউনিসিপাল সোশ্যালিজম’ বা পৌর সমাজতন্ত্রের রূপ দেন। নেতাজীর দর্শন অনুযায়ী, একটি আধুনিক পুরসভার দায়িত্ব কেবল রাস্তা পরিষ্কার বা আলো জ্বালানোর মতো প্রথাগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করাও তার কর্তব্য।
তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজের বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার তাদের দীর্ঘ শাসনে নেতাজীর এই জনমুখী দর্শনকেই স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় নগরোন্নয়নের অবক্ষয় ও দুর্নীতি
বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নগরোন্নয়নের চিত্রটি ভয়াবহভাবে পাল্টে গেছে। গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের যে কাঠামোগুলি বামফ্রন্ট সরকার তৈরি করেছিল, সেগুলিকে আজ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে । সংবিধানের ৭৪তম সংশোধনীর মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিয়মিত পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, যা গণতান্ত্রিক শাসনের পরিপন্থী। প্রায় ১৩ বছর ধরে রাজ্যের বহু পৌরসভায় কোনো নির্বাচিত বোর্ড নেই ।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিস্তার
বর্তমানে পৌরসভাগুলি আর সাধারণ মানুষের সেবার কেন্দ্র নেই, বরং তা পরিণত হয়েছে শাসক দলের এক বিশেষ অংশের অর্থ উপার্জনের সোপানে। জেলা বা মেট্রোপলিটন প্ল্যানিং কমিটিগুলি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা আজ বিলুপ্ত । এর বদলে বাড়ছে অবৈধ গৃহ নির্মাণ, জলাভূমি ভরাট এবং সরকারি জমি দখলের এক অশুভ প্রতিযোগিতা। শাসক দলের মদতে জমির কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নদী ও পার্কগুলিও লুণ্ঠিত হচ্ছে ।
ভবিষ্যৎ নগরায়ন: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
একবিংশ শতাব্দীর এই সংকটকালে নগরায়নকে যদি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে হয়, তবে পুনরায় গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের পথেই হাঁটতে হবে । শহরগুলিকে কেবল এলিটদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত না করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে । নগরায়নকে সফল করতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন:
১. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্জীবন: নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন এবং ওয়ার্ড কমিটিগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করা যাতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায় ।
২. পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা: জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জন্য সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলাভূমি সংরক্ষণে আপোষহীন অবস্থান গ্রহণ করা ।
৩. অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের সুরক্ষা: শহরের দরিদ্র শ্রমিক ও ছোট দোকানদারদের উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ।
৪. আর্থিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধ: পৌরসভাগুলির আর্থিক লেনদেনে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং জনগণের নিরীক্ষা (Social Audit) ব্যবস্থা চালু করা ।
উপসংহার: শহর যখন প্রতিরোধের কেন্দ্র
নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি শহরগুলিকে আজ বৈষম্যের এক গভীর খাতে ঠেলে দিয়েছে। শহরগুলি আজ আর কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়, বরং তা হয়ে উঠছে মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্র । পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতা শিক্ষা দেয় যে, উন্নয়ন কেবল গুটিকয়েক মানুষের জন্য নয়, তা হতে হবে সবার জন্য—অর্থাৎ ‘Inclusive Development’ ।
শহরের ন্যূনতম বুনিয়াদী পরিষেবা যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন সামাজিক সংহতি নষ্ট হয়। বর্তমান শাসন ব্যবস্থার অগণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পুনরায় এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত নগরায়নের লড়াই শুরু করা আজ সময়ের দাবি। শহর হবে গরীবের—যেখানে থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সম্মান। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বা অমর্ত্য সেনের সেই মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের স্বপ্ন সফল করাই হোক একবিংশ শতাব্দীর নতুন নগর দর্শনের লক্ষ্য ।
শহরবাসীকে আজ সচেতন হতে হবে যাতে তাদের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকারগুলি লুণ্ঠিত না হয়। বিকেন্দ্রীকরণ মানে কেবল ক্ষমতার হস্তান্তর নয়, এটি হলো সাধারণ মানুষের হাতে নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। বামফ্রন্ট সরকারের সেই নীতিগুলি আজও প্রাসঙ্গিক এবং আগামী দিনের সুন্দর শহর গড়ার জন্য সেগুলিই আমাদের একমাত্র আলোকবর্তিকা ।
প্রকাশ: ১৭-এপ্রিল-২০২৬
শেষ এডিট:: 17-Apr-26 02:36 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/alternative-urban-development-policy-of-the-left-front-government-in-west-bengal-an-objective-analysis
Categories: Fact & Figures
Tags: , mun, urban development, municipal socialism, environment conservation, kusp, kmpc
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (146)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (130)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
পশ্চিমবাংলার ক্রীড়ানীতি ও বিপল্প প্রস্তাব
- সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
তথ্য প্রযুক্তি এ আই আমাদের রাজ্যে সম্ভাবনা
- নন্দিনী মুখার্জি
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
- ওয়েবডেস্ক
ফরম্যাট সি২ (উত্তর ২৪ পরগণা)
- ওয়েবডেস্ক




