রুশ বলশেভিক বিপ্লবে পার্টি সংবাদপত্র 'ইস্ক্রা' - লেনিনের বিপ্লবী সংগঠনের তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং একবিংশ শতকে আমাদের কাজ

গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী
ইস্ক্রা নিজেই মতাদর্শগত বিতর্কের মঞ্চে পরিণত হয়। ১৯০৩ সালের রুশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টির (RSDLP) দ্বিতীয় কংগ্রেসে লেনিন ও মার্তভের মধ্যে পার্টির কাঠামো নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। লেনিন চেয়েছিলেন “কঠোরভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ পেশাদার বিপ্লবীদের পার্টি”, অন্যদিকে মার্তভের মতে পার্টি হওয়া উচিত অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত, গণভিত্তিক সংগঠন।ইস্ক্রা পত্রিকা লেনিনের কাছে কেবল একটি সংবাদমাধ্যম ছিল না; এটি ছিল রাশিয়ান বিপ্লবের সাংগঠনিক নকশা। পার্টির নিজস্ব সংবাদপত্রকে তিনি যে সমষ্টিগত সংগঠক হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীকালে বলশেভিক পার্টির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।এর মাধ্যমে লেনিন একটি মৌলিক শিক্ষা দেন—যে কোনো বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য মতাদর্শগত ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য, এবং সংবাদপত্র (অথবা আজকের ভাষায়, যোগাযোগের মাধ্যম) সেই ঐক্যের বাহন হতে পারে। রুশ বিপ্লবের আগুন একদিন যে “স্ফুলিঙ্গ” থেকে জ্বলে উঠেছিল, সেটির নামই ছিল ইস্ক্রা। সেই স্ফুলিঙ্গ শুধু রাশিয়ার রাজনীতিকে নয়, বিশ্ব বিপ্লবের তাত্ত্বিক মানচিত্রকেও চিরতরে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

একটি কমিউনিস্ট পার্টিকে তার নিজস্ব তাত্ত্বিক মুখপত্র ছাড়া ভাবাই যায় না। এ প্রসঙ্গে লেনিন ‘কি করিতে হইবে’ বইতে "একটি সারা রুশ সংবাদপত্রের পরিকল্পনা" অধ্যায়ের 'খ' অংশে "কোন সংবাদপত্র কি যৌথ সংগঠক হতে পারে?"- প্রসঙ্গে লিখেছেন "সংবাদপত্র শুধু যৌথ প্রচারক এবং যৌথ প্রচার আন্দোলনকারীই নয়,যৌথ সংগঠকও বটে। যে দালান গড়ে তোলা হচ্ছে তার চারিদিকে বাঁধা ভারার সঙ্গে এদিক থেকে সংবাদপত্রকে তুলনা করা যায়। এই ভারা, কাঠামোর বিভিন্ন অংশের রূপরেখা চিহ্নিত করে দেয়, মিস্ত্রিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের সুরাহা করে দেয় ফলে তারা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিতে পারে এবং সংগঠিত শ্রমের সাধারণ ফল প্রত্যক্ষ করতে পারে।...ভারা বাঁধা হয় সবচেয়ে সস্তা মশলা দিয়ে; আর তা বাঁধা হয় কেবল অস্থায়ীভাবেই; দালানটির বাইরের দিকটা তৈরি শেষ হয়ে গেলেই তা ভেঙে ফেলা হয় জ্বালানি করবার জন্য। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে বৈপ্লবিক কোন সংগঠন করতে গেলে অনেক সময় কোন ভারা না বাঁধলেও চলে যেমন সত্তর দশকের কথাই ধরুন।কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের যে ধরনের দালান দরকার, ভারা না বেঁধে তা গড়ে তোলবার কথা আমরা ভাবতেও পারিনা।" পৃ:১৫৬: এন বি এ সংস্করণ:১৯৯৯ "কি করিতে হইবে" পুস্তিকা ১৯০২ সালে সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইটির বহু ধারণা, তাত্ত্বিক যুক্তি, পেশাদার বিপ্লবী কর্মীর ধারণা, স্বতঃস্ফূর্ততা বনাম সচেতনতা,পার্টির সংগঠন, অর্থনীতিবাদের গাড্ডার মধ্যে পার্টি ও শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্ব জমে গেলে কি ফল ফলতে পারে তা নিয়ে ইস্ক্রাতে আগে থেকেই বিভিন্ন ভাবে লিখেছিলেন। এসব কিছুই পরে "কি করিতে হইবে" পুস্তিকায় সন্নিবিষ্ট হয়। ১৯০০ থেকে ১৯০৩ ইস্ক্রার মাধ্যমে লেনিনকে মূলত পার্টির ঐক্য,বিপ্লবী সংগঠন, রাজনৈতিক সংগ্রামের রণকৌশল, ইস্ক্রার রাজনৈতিক লাইন প্রতিষ্ঠার কঠোর লড়াই চালাতে হয়েছিল।
এ কথা আমরা জানি ১৮৮৭ দাদার ফাঁসির পর 'লেনিন'-"কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে" পড়তে আসেন ।এখানে 'ফেদোসিয়েভ' নামে এক জনের সাথে পরিচয় হয়।'ফেদোসিয়েভ' মার্কসবাদী প্রচারের জন্য 'মার্কসবাদী পাঠচক্রে'-র পরিচালনা করতেন এর সাথে'প্লেখানভের' পরিচয় ছিল।'লেনিন' এই পাঠচক্রের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন রাশিয়ার সামারা;ভোলগা; কাজান;অঞ্চলে এই পাঠচক্রের বিস্তার লাভ করে। ১৮৯৫ সালে লেনিন "লিগ অফ স্ট্রাগল ফর দি এমানসিপেশন অফ ওয়ার্কার্স"গঠন করেন। লিগ অব স্ট্রাগল ফর দি এমানসিপেশন অব দি ওয়ার্কার্স এই সময় বিশাল হরতাল করে ৩০০০০শ্রমিক অংশ নেন।
লেনিন এই সংঘ গুলোকে নিয়ে একটা সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি করার কথা বলেন। জারের নজর পরে এই পাঠচক্র গুলোর উপর। এবং জারের অনুপ্রেরনা তে লিগাল মার্কসিস্ট নামে আরেকটি সংগঠন গঠিত হয় সালটা ছিল ১৮৯৫ তখন এরা প্রচার করতে থাকে শ্রমিকদের কাজ রাজনীতি নয় এদের কাজ আন্দোলনের মাধ্যমে সুয়োগ সুবিধা আদায় করা যা ছিল লেনিনের
লিগ অব স্ট্রাগল ফর দি এমানসিপেশন অব দি ওয়ার্কিং ক্লাস এর মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত, তা ছাড়াও লেনিন ১৮৯৫ থেকেই সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি তৈরী করার ধারণা প্রচার করছেন। লক্ষ্য করুন সেই সময় পাঠচক্রগুলো ছাড়া মার্কসীয় বিপ্লবী ভাবনার প্রচারের আর কোন হাতিয়ার লেনিনের কাছে ছিল না। এই সুযোগে লিগ্যাল মার্কসিস্টরা জারের বদান্যতায় আরও প্রচার করতে থাকে লেনিন বুড়ো হয়ে গিয়েছে ওর দ্বারা বিপ্লব সম্ভব নয়।
এরকম মুহূর্তে ১৮৯৫ সালে লেনিন গ্রেপ্তার হন। এক বছর জেলে থাকার পর তাকে আবার ১৮৯৭ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত তাকে সাইবেরিয়াতে নির্বাসনে পাঠান হয়। এদিকে পাঠচক্রের মাথা ফেদোসিয়েভ ১৮৮৯ সালে গ্রেপ্তার হন। এরকম একটা সময়ে ১৩–১৫ মার্চ ১৮৯৮ মিনস্কে সব পাঠচক্র গুলো মিলে আর এস ডি এল পি গঠন করে।স্বাভাবিক ভাবেই সে সময় অংশগ্রহণ করেনি, কারণ সে তখন নির্বাসনে ছিলেন। লেনিন নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই নাদেজদা ক্রুপসকায়া -র কাছে থেকে এই খবর পান । লেনিনের সাথে নাদেজদা ক্রুপসকায়ার বিবাহ হয় পুরনো ক্যালেন্ডার মতে ১৮৯৮ সালের ১০ জুলাই। এর পর ৩০ জুলাই – ২৩ আগস্ট ১৯০৩ আর এস ডি এল পির দ্বিতীয় সম্মেলনে বলশেভিক মেনশেভিকদের মধ্যে লন্ডন কনফারেন্সে মতাদর্শগত বিভাজন ঘটে। কিন্ত তারা সবাই আর এস ডি এল পির মধ্যেই ছিলেন। এই বিভাজন ১২–২৭ এপ্রিল ১৯০৫ সালে জেনিভা কনফারেন্সেও বজায় থাকে ফলে মতাদর্শগত বিভাজনের কোন নিরসন হয় না এবং 1912 সালে জানুয়ারী মাসে প্রাগ শহরে আর এস ডি এল পির ষষ্ঠ কংগ্রেসে (সম্মেলনে) পার্টি পাকিপাকিই ভাবে দু ভাগ হয় "বলশেভিক" ও "মেনশেভিকে"।
লক্ষণীয় ১৮৯৮ সালে আর এস ডি এল পি গঠিত হওয়ার পরেই এবং শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলন তৎকালীন নেতৃত্বের অমার্কসীয় মতাদর্শিক অবস্থান থেকেই লেনিন বুঝতে পেরেছিলেন যে রাশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলন প্রতিক্রিয়াশীলদের হাতে পড়তে চলছে। তখন থেকে সেখানে প্রকৃত শ্রমিক শ্রেনীর বিপ্লবী পার্টি গড়ার বিষয়ে মনস্থ করেন। চলতে থাকে মতাদর্শগত লড়াই ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় মার্কসবাদী তাত্বিক পত্রিকা ইস্ক্রা',
ইস্ক্রা - রুশ বিপ্লবী আন্দোলনে এই মার্কসবাদী পত্রিকাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯০০ সালের ডিসেম্বর মাসে ইস্ক্রা প্রথম প্রকাশিত রাশিয়ার বাইরে লাইপজিগ তারপর মিউনিখ থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করে। ইস্ক্রার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন এবং ছয় সদস্যের সম্পাদকমণ্ডলীর (Editorial Board) সদস্যরা ছিলেন জর্জি প্লেখানভ, জুলিয়াস মার্তভ (ইউলিয়ি মার্তভ),পাভেল আক্সেলরড, ভেরা জাসুলিচ ও আলেকজান্ডার পোতরেসভ।
লেনিনের কাছে ইস্ক্রা শুধু একটি সংবাদপত্র ছিল না, এটি ছিল বিপ্লবী পার্টির তাত্ত্বিক ও সংগঠনী ভিত্তি নির্মাণের মাধ্যম। তাঁর বিখ্যাত উক্তি—“Give us an organization of revolutionaries, and we will overturn Russia!”—এই ভাবনার কেন্দ্রে ছিল। সংবাদপত্র এখানে রণকৌশলের অঙ্গ হয়ে উঠেছিল, পার্টির হিম্মত ও নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে। ইস্ক্রা লেনিনের রাজনৈতিক সংগঠনের মডেল গঠনের পরীক্ষাগার হয়ে ওঠে। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা ছিল যেন এক “মিনি-পার্টি কংগ্রেস”—যেখানে প্রবন্ধ, সংবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপ্লবী কর্মীরা অভিন্ন দিকনির্দেশনা পেত।এইভাবে ইস্ক্রা কার্যত তিনটি কাজ করেছিল—
১) তত্ত্বের ঐক্য: মার্কসবাদী দর্শনের মূল সূত্রগুলো পুনরায় সংহত করে রাশিয়ার প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা।
২) যোগাযোগের কেন্দ্র: দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিপ্লবী গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলা।
৩) ক্যাডার গঠনের প্রশিক্ষণক্ষেত্র: লেখালেখি, বিতর্ক, বিশ্লেষণ ও গোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্টি ক্যাডারদের তাত্ত্বিকভাবে পরিপক্ব করে তোলা। লেনিন পরে বলেন,“Through Iskra, we built the skeleton of the revolutionary party.” (Collected Works, Vol. 6, p. 10) এই “skeleton” অর্থাৎ কাঠামোই পরবর্তীকালে বলশেভিক পার্টির পূর্ণাঙ্গ দেহে রূপান্তরিত হয়।
ইস্ক্রা নিজেই মতাদর্শগত বিতর্কের মঞ্চে পরিণত হয়। ১৯০৩ সালের রুশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টির (RSDLP) দ্বিতীয় কংগ্রেসে লেনিন ও মার্তভের মধ্যে পার্টির কাঠামো নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। লেনিন চেয়েছিলেন “কঠোরভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ পেশাদার বিপ্লবীদের পার্টি”, অন্যদিকে মার্তভের মতে পার্টি হওয়া উচিত অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত, গণভিত্তিক সংগঠন।ইস্ক্রা পত্রিকা লেনিনের কাছে কেবল একটি সংবাদমাধ্যম ছিল না; এটি ছিল রাশিয়ান বিপ্লবের সাংগঠনিক নকশা। পার্টির নিজস্ব সংবাদপত্রকে তিনি যে সমষ্টিগত সংগঠক হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীকালে বলশেভিক পার্টির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।এর মাধ্যমে লেনিন একটি মৌলিক শিক্ষা দেন—যে কোনো বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য মতাদর্শগত ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য, এবং সংবাদপত্র (অথবা আজকের ভাষায়, যোগাযোগের মাধ্যম) সেই ঐক্যের বাহন হতে পারে। রুশ বিপ্লবের আগুন একদিন যে “স্ফুলিঙ্গ” থেকে জ্বলে উঠেছিল, সেটির নামই ছিল ইস্ক্রা। সেই স্ফুলিঙ্গ শুধু রাশিয়ার রাজনীতিকে নয়, বিশ্ব বিপ্লবের তাত্ত্বিক মানচিত্রকেও চিরতরে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ১৯০০ থেকে ১৯০৩ ইস্ক্রার মাধ্যমে লেনিনকে মূলত রাজনৈতিক সংগ্রামের রণকৌশলের লাইন প্রতিষ্ঠার কঠোর লড়াই চালাতে হয়েছিল। তাঁর এক পা আগে দুই পা পিছে লেখার অনেক বিষয়ই নানা ভাবে ইস্ক্রার মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছিল যা তথা কথিত গণতন্ত্রবাদীদের ছিল না পসন্দ; বিশেষ করে মার্তভ, বাগদনভ, লোনাচারস্কি, বাজারভ এবং প্লেখানভ পন্থিদের। কিন্ত প্রয়োজন ছিল আর এস ডি এল পি -কে সঠিক রাজনৈতিক লাইনের উপর দাঁড় করানোর - এই উদ্দেশ্যেই লেনিন লেখেন এক পা আগে দুই পা পিছে । লেখাটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয় এক পা আগে দুই পা পিছে, এখনে অর্থনীতিবাদের গাড্ডা থেকে বিপ্লবের ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকা প্রসঙ্গে লিখলেন "সাধারণভাবে অর্থনৈতিক সংগ্রাম জনগণকে রাজনৈতিক সংগ্রামে টানবার পক্ষে "ব্যাপকতম প্রযোজ্য উপায়" এটা কি সত্য ? চূড়ান্ত মিথ্যা এটা। অর্থনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুফলগুলি ছাড়াও পুলিশি সন্ত্রাস আর স্বৈরাচারী নির্যাতনের নির্বিচার প্রকাশ জনগনকে "টানবার" জন্যে সমান ভাবেই প্রযোজ্য"- লেনিন ।'- কি করিতে হইবে' আবার লিখলেন "প্রতিটি সংগ্রামের মধ্যে নিহিত রয়েছে পরাজয়ের অমূর্ত সম্ভাবনা এবং সংগ্রামের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতি ছাড়া এই সম্ভাবনা হ্রাস করবার অন্য কোন পন্থা নেই। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়ায় যে মূর্ত অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে ,আমাদের যুক্তি যদি সেখান থেকে শুরু করি, তাহলে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তেই আমরা পৌঁছাব যে আন্দোলনকে দৃঢ়তা দান এবং অপরিণত আক্রমণ পরিচালনা থেকে একে নিবৃত্ত রাখবার জন্য একটা শক্তিশালী বৈপ্লবিক সংগঠন চূড়ান্তভাবে দরকার।"- কি করিতে হইবে
পার্টির মধ্যে গণতন্ত্রের ধারণা প্রসঙ্গে লিখলেন
"সংগঠনের "প্রশস্ত গণতন্ত্র" একটি অকেজো আর ক্ষতিকর খেলনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা এই জন্যই ক্ষতিকর খেলনা যে,কোন বিপ্লবী সংগঠনে এ পর্যন্ত যত ইচ্ছেই থাক না কেন (প্রশস্ত) গণতন্ত্র আচরিত হয়নি আর হতেও পারত না। এই জন্য এটা একটা ক্ষতিকর খেলনা যে প্রশস্ত গণতান্ত্রিক নীতিনিচয় কাজে লাগাবার যেকোনো প্রচেষ্টা বড় রকমের হানা দেওয়ার সুযোগই করে দেবে পুলিশকে, জিইয়ে রাখবে প্রচলিত সৌখিনীপনাকে এবং পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার জন্য শিক্ষালাভের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য কর্তব্য থেকে বাস্তব কর্মীদের চিন্তা ধারাকে বিচ্যুত করে নির্বাচনী ব্যবস্থাসমুহের পুঙ্খানুপুঙ্খ 'কাগজী' আইন প্রণয়নের পথে নিয়ে যাবে।"- লেনিন:
১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় কি করিতে হইবে। বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ বিচারবাদ; এক প্রতিক্রিয়াশীল দার্শনিক মত প্রসঙ্গে বিচারমূলক মন্তব্য" প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ইস্ক্রার মাধ্যমে কঠোরতম মতাদর্শগত লড়াই চালাতে থাকেন লেনিন। যা ঐ সময়ে আর এস ডি এল পির অনেকেই পছন্দ করতেন না।
১৯০৩ সালের অক্টোবরে লেনিনকে ইস্ক্রা থেকে অপসারণ করা হয় এবং অক্টোবরে শেষে মেনশেভিক নিয়ন্ত্রিত পার্টি কাউন্সিল লেনিনকে ইস্ক্রার সম্পাদকমণ্ডলী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেয়। এর পর ইস্ক্রা সম্পূর্ণভাবে মেনশেভিক নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং “পুরনো ইস্ক্রা” (লেনিনীয়) ও “নতুন ইস্ক্রা” (মেনশেভিক)— এই দুই পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।ইস্ক্রা হাতছাড়া হওয়া লেনিনকে দমিয়ে দেয়নি; বরং তিনি বলশেভিকদের আলাদা ও শক্তিশালী সংগঠন বানালেন। নতুন পত্রিকা Vperyod চালু করলেন। মেনশেভিক লাইনকে পরিত্যাগ করে নিজের বিপ্লবী লাইন দৃঢ় করলেন পেশাদার বিপ্লবী পার্টির ধারণাকে বাস্তব রূপ দিলেন এই পথেই তিনি শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের নেতৃত্বে পৌঁছান।
কিন্তু বলশেভিকদের বিপ্লবের পূর্বে হতাশা কোনও সময় লেনিন কে গ্রাস করেনি। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল সংগঠন, দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল সংগঠন, তৃতীয় লক্ষ্য ছিল সংগঠন। তিনি বলছেন
"•••সর্বহারা যতক্ষণ এক জন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসাবে থাকছে ,ততক্ষণ সে সত্ত্বাহীন। তার শক্তি তার আশা আকাঙ্ক্ষার এক মাত্র উৎস হল তার সংগঠন। নাম পরিচয় হীন সর্বহারা সংগ্রাম করে অপূর্ব নিষ্ঠার সাথে ।ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা বা গৌরবের প্রত্যাশা সে করে না । যে পদেই তাকে অভিষিক্ত করা হোক না কেন সে কর্তব্য সম্পাদন করে যায় নিষ্ঠার সাথে , স্বতঃপ্রবৃত্ত শৃঙ্খলার মধ্যে তার সমস্ত ভাবনা সঞ্চারিত হয়।••• শ্রেণী বোধ তাকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করায়।
সংগঠনই তার আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
যে পদেই তাকে অভিষিক্ত করা হোক না কেন।" - এক পা আগে দু পা পিছে । ভাবতে পারেন কি অদ্ভুত আত্ম প্রত্যয়। তৃতীয় আন্তর্জাতিকে ফরাসি সোস্যালিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সাথে কথা প্রসঙ্গে লেনিন বলছেন " বিপ্লব এখন আসবে, না ,পরে সে কথা তোলা নিরর্থক । ঘটনাবলী যাতে অজান্তে না এসে পরে, ঠিক মুহূর্ত এলে তারা যাতে এসব ঘটনা আয়ত্ত্বে নিতে পারে সেই ভাবে সমস্ত দেশের প্রলেতারিয়ানদের শিক্ষিত করাই আমাদের এক মাত্র কাজ।" এমন কি ১৯১৭ সালে জানুয়ারী মাসে জুরিখে অনুষ্ঠিত এক সভাতে 'লেনিন' রাশিয়ায় আসন্ন বিপ্লবের চুড়ান্ত যুদ্ধ দেখতে পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। অথচ এর মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ায় ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মাধ্যমে জারতন্ত্রের অবসান হয়। অর্থাত কথায় কাজে এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি থাকলে তবেই ঘটনাবলী যাতে অজান্তে না এসে পরে, ঠিক মুহূর্ত এলে তারা যাতে এসব ঘটনা আয়ত্ত্বে নিতে পারা যায় সেই ভাবে সংগঠন এবং প্রলেতারিয়ানদের শিক্ষিত করাই সংগঠক ও পার্টি কাজ। এ ভাবেই কমরেড লেনিন বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে রুশ দেশে বিপ্লব সমাপন করেছিলেন।
উপরের এত কথা লেখার উদ্দেশ্য এটাই পার্টি পত্রিকার প্রসার, প্রচার এবং এই প্রচারের মাধ্যমে দেশের প্রলেতারিয়ানদের বিপ্লবের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার কাজ কমিউনিস্টদের করতে হবে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি ইস্ক্রার ১৯০৩ সালে প্রচার সংখ্যা ছিল ১০,০০০ এবং ১৯১২ সালে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টির দৈনিক পত্রিকা প্রাভদা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯১২ সালে প্রাভদার দৈনিক প্রচার সংখ্যা ছিল ৭০ থেকে ৮০ হাজার কপি এবং ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের কিছু দিন আগে প্রাভদার প্রচার সংখ্যা ১লক্ষ ২০ হাজার কপিতে পৌঁছে যায়। ভাবতে পারেন তৎকালীন বলশেভিক পার্টির সাথে বিপ্লবের পূর্বে রুশ জনগণের কী বিপুল জনসংযোগ গড়ে উঠেছিল পার্টি পত্রিকার সাথে?
এখানেই প্রশ্ন রুশ বিপ্লবের আলোকে আমাদের করণীয় কি? এখন অনেক কমরেডকে আপশোষ করতে দেখা যায় আমাদের কথা বুর্জোয়াদের কাগজে লেখে না বলে। কমিউনিস্টদের কথা ওরা কখনোই প্রচার করে না - যদি না পার্টির মুখপত্রে প্রসার না ঘটানো যায়। অবাক করার বিষয় ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর যেদিন রুশ বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল তার পর দিন তৎকালীন রুশ বুর্জোয়াদের কোনও কাগজে এই মহান বিপ্লব নিয়ে একটা কথাও লেখা হয় নি - ভাবুন বিষয় টা। সে দিন যদি প্রাভদা না থাকত তাহলে কি সারা রশ দেশের জনগন প্রলেতারিয়ান বিপ্লব ও লেনিনের ডিক্রি গুলো জানতে পারতেন?
কাজেই আমাদের পার্টির কথা, নির্দেশাবলি জানতে গেলে এবং তাকে প্রয়োগ করতে গেলে অবশ্যই পার্টির মুখপত্রের উপর নির্ভরশীল হতেই হবে। কমরেডের কাছে এই মুখপত্রের মাধ্যমে পার্টির বার্তা পৌঁছে দিতেই হবে। আমাদের পার্টি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী) আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্ষেত্রে এক বিশেষ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের মধ্যে চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ আদর্শগত ৫–১২ এপ্রিল ১৯৬৮ র বর্ধমান প্লেনাম সমন্ধে জানা অত্যন্ত জরুরী ২৭–৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৮সালকিয়া সাংগঠনিক প্লেনাম এবং সর্বশেষ ২১তম কংগ্রেসের নির্দেশ মোতাবেক ২০১৫ সালের শেষভাগে অনুষ্ঠিত প্লেনাম; পার্টি সংগঠন কর্মসূচি নির্ধারণ মূলক সিদ্ধান্ত সমূহ ভালভাবে অধ্যয়ন, বোঝা ও তার বাস্তব প্রয়োগ করা দরকার। এর মধ্যেই বিশ্ব জুড়ে নয়া ফ্যাসিস্ত ধর্মী শক্তির উত্থানে বিরুদ্ধে আমাদের কমিউনিস্টদের লড়াই সংগ্রামের রণকৌশল কেমন হবে এবং পার্টি সংগঠনগুলোকে কীভাবে তার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে তার বিস্তারিত রণনীতি উল্লেখ করা হয়েছে- এখানে প্রশ্ন পার্টির সিদ্ধান্ত যখন সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতীক তখন আমরা কি ভূমি স্তরে সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে পরিণত করতে বাস্তবিকই সচেষ্ট? আমরা কি ইস্ক্রা বা প্রাভদার মতন আমাদের পার্টি পত্রিকা গুলিকে ভূমিস্তরে নিয়ে গিয়ে পার্টির ইচ্ছাকে কমরেডদের ও জনগণের মধ্যে প্রোথিত করতে পারছি ? অথচ অবজেক্টিভ কন্ডিশন বিশ্ব এবং দেশ একই আছে। চারটি প্রধান সামাজিক দ্বন্দ্বের তীব্রতা বাড়ছে যথা সাম্রাজ্যবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদ দ্বন্দ্ব, পুঁজিবাদের সাথে সমাজতন্ত্রের দ্বন্দ্ব( কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব), শ্রম ও পুঁজির দ্বন্দ্ব, সাম্রাজ্যবাদী দেশ গুলোর সাথে তৃতীয় বিশ্বের দ্বন্দ্ব - সমানভাবে বিরাজমান।
এই দ্বন্দ্বের ফলে বিশ্ব জনমত সেই ভাবেই নানা দেশেই পুঁজিবাদ, নয়া ফ্যাসিস্তধর্মী মতবাদের বিরুদ্ধে প্রতিফলিত হচ্ছে - আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকার দেশে দেশে তার প্রতিফলন ঘটছে। এমন কি ইউরোপের কিছু কিছু দেশ সহ খোদ আমেরিকার মধ্যেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অনেকের ধারনা ১৯৮৯-৯০ সালে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের পর সেখান থেকেই আবার তার উত্থান ঘটবে এটা ভুল। ভূমিকম্পের এপিসেন্টার কখনোই একই স্থানে ঘটেনি ঘটবেও না - আর ঘটলেও তা দুর্ঘটনা মাত্র।
আমাদের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিস্তধর্মী শক্তি আর এস এস ও বিজেপির সাথে ( যারা কেন্দ্রেও শাসনক্ষমতায় রয়েছে ) এ রাজ্যের ফ্যাসিস্তধর্মী শাসক দল হাত ধরাধরি করে চলছে। মানুষের সমস্ত ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রায় বিপর্যস্ত। চলছে শাসকদলের মদতে পুলিশ ,মাফিয়া ও গুণ্ডাতন্ত্রের একচ্ছত্র দাপাদাপি। সীমাহীন নৈরাজ্য সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। পার্টি তার পত্র পত্রিকা এবং নেতৃত্বের বক্তব্যের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্ট ও পার্লামেন্টারি বহির্ভূত সংগ্রামের বার্তা জনগণ ও কমিউনিস্টদের কাছে পাঠাচ্ছে। ইনসাফ যাত্রা, ব্রিগেড সমাবেশ, সারাভারত শিল্প ধর্মঘটের মাধ্যমে বিপুল জনসমর্থন লক্ষ্য করা গিয়েছে। আবার শুরু হতে চলেছে ২৯ নভেম্বর থেকে ১৭ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলা বাঁচাও যাত্রা তার সাথে হবে জেলায় জেলায় ছোট বড় ব্যাপক জাঠা ও জন সমাবেশ। এই বাংলা বাঁচাও যাত্রাকে সামনে রেখে বাংলা বাঁচাও এর দাবী গুলোকে তার সাথে শাসকদলের মদতে পুলিশ , মাফিয়া ও গুন্ডা তন্ত্রের একচ্ছত্র দাপাদাপি ও সীমাহীন বিরাজমান নৈরাজ্যের বিষয় গুলোকে বাংলার সমস্ত মানুষের কাছে
আমাদের নিয়ে যেতে হবে। এটা ঠিক জনসাধারণের মাঝে আমাদের পার্টির ব্যাপক ভাবাদর্শগত প্রভাব রয়েছে; জনসাধারণ পার্টিকে জানে,তাকে শ্রদ্ধা করে, তাঁরা পার্টি কে ভালবাসেন - পার্টির কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। কিন্ত এটাই যথেষ্ট নয়। রাজ্যে জনবিচ্ছিন্নতা কোথাও থেকে থাকলে সেটাও যুদ্ধকালীন তৎপরতার সাথে কাটাতে হবে। এ কাজের জন্য প্রয়োজন মতাদর্শগত ভাবে সক্রিয় পার্টি শাখা ও নেতৃত্ব। সাথে সাথে পার্টির মতাদর্শগত হাতিয়ার পার্টির পত্রিকার ব্যাপক প্রসার ও প্রচার।
আসুন রুশ বলশেভিক বিপ্লবের স্মরণে আমরা মতাদর্শগতভাবে নিষ্কর্মা অতিথি মুক্ত সক্রিয় শক্তিশালী পার্টি গড়ে তুলে বামপন্থার পুর্নজাগরণ করে তুলি যা পার্টিতে প্রাণের জোয়ার সঞ্চার করার প্রশ্নে বহুল পরিমাণে সাহায্য করবে।
প্রকাশ: ১৭-নভেম্বর-২০২৫
শেষ এডিট:: 17-Nov-25 15:24 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-party-newspaper-iskra-in-the-russian-bolshevik-revolution-–-the-theoretical-foundation-of-lenins-revolutionary-organization-and-our-tasks-in-the-21st-century
Categories: Fact & Figures
Tags: iskra, lenin
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
এসআইআর রায়: গণতন্ত্রের ওপর এক চরম আঘাত
- ওয়েবডেস্ক
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (তৃতীয় পর্ব)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (দ্বিতীয় পর্ব)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি
- ওয়েবডেস্ক
মার্কসবাদের আলোয় সংস্কৃতি (পর্ব ১)
- চন্দন মুখোপাধ্যায়
ধুমকেতু’র গল্প
- শমীক লাহিড়ী





