মানুষের পাশে দাঁড়ান আহ্বান মিশ্রের


প্রকাশ: ২১-মার্চ-২০২০
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং তার অর্থনৈতিক প্রভাবে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, তখন মানুষের পাশে থাকার জন্য বামপন্থী কর্মীদের কাছে আবেদন জানিয়ে সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র বলেছেন, এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম। মানুষ যখন সমস্যায় এবং আতঙ্কে সহায়হীন ও দিশাহীন হয়ে পড়ছেন, তখন তাঁদের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করতে হবে, তাঁদের সমস্যায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। আন্তরিকভাবে পাশে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকার যাতে করোনা মোকাবিলায় জনগণের সমস্যাগুলির দিকে দৃষ্টি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেই দাবি নিয়ে আগামী ২২ মার্চ সারা দেশে জনগণের সংহতি দিবস পালনের আহবান জানিয়েছে সিপিআই(এম)। শুক্রবার সিপিআই(এম)’র কলকাতা জেলার নেতৃস্থানীয় কর্মীদের একটি সভায় এর উদ্দেশ্য ও পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করে সূর্য মিশ্র বলেছেন, চীনের মতো দেশ যেভাবে পূর্ণ শাটডাউন করতে পারে, ভারতের মতো দেশে প্রাকপ্রস্তুতি ছাড়া তা করা সম্ভব নয়। চীনে বাড়িতে থাকা সব মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করেছে। চীনের কাজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। ভারতের মতো দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনুসারে কীভাবে শাটডাউন অথবা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংক্রমণ মোকাবিলা করতে হয়, তা কেরালা অনেকটাই দেখিয়েছে। কেরালার সরকার যদি সংক্রমণ মোকাবিলায় পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলায় জনগণকে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে কেন্দ্রের সরকার দেশের জন্য তা করতে কেন পারবে না? করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা না করে, যে চিকিৎসক ও নার্সরা ঝুঁকির মধ্যে পরিষেবা দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য সঠিক মাস্কের ব্যবস্থা না করে শুধু হাততালি দিলে কিংবা ঘণ্টা বাজালে কী লাভ হবে? মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, বাজারে জিনিসপত্র অমিল হয়ে যাচ্ছে। এই কারণেই সিপিআই(এম) ২২ মার্চ রবিবার জনগণের প্রতি সংহতি দিবস পালন করবে এবং এখন থেকেই জনগণের স্বার্থে দাবিগুলি প্রচার করতে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারফিউ অমান্য করার মতো বা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক কোনও কাজ করব না। কোথাও কোনও জমায়েত করা হবে না। রাস্তায় মাইক নিয়ে প্রচার, লিফলেট বিলি ইত্যাদি করা হবে। প্রচার করা হবে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।’’
করোনা মোকাবিলায় একদিকে জনসচেতনতা প্রচার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাবগুলির মোকাবিলায় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিতে এইভাবে প্রচার চলবে বলে সূর্য মিশ্র জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা মানুষের পাশে থাকলে তাঁদেরকে সচেতন করে তুলতে পারব, আবার তাঁদের বাস্তব সমস্যাগুলিকে সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে পারব। একসঙ্গে বেশি লোক নয়, একজন বা দু’জন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারও জ্বর, সর্দি, কাশি হয়েছে কি না খোঁজ নিতে হবে, কেউ বাইরে থেকে এসেছেন কি না খোঁজ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ দিতে হবে। ফোন নম্বর নিয়ে এসে তাঁদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগও রাখতে হবে।
অর্থনৈতিক মন্দায় এমনিতেই জনগণ ক্রয়ক্ষমতাহীন। তার উপরে করোনার প্রভাবে মানুষের বিপদ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস ধনী-গরিব দেখে না। কিন্তু এই আক্রমণেরও একটা শ্রেণি অভিমুখ আছে। যে গরিব মানুষ দিন আনে দিন খান, তিনি কীভাবে ঘরবন্দি থেকে দিন কাটাবেন? ৯৬ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাঁদের কী হবে? এই জন্যই সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে। সাড়ে ৭ কোটি টন খাদ্যশস্য মজুত করে ইঁদুরকে খাওয়ানোর থেকে তা গরিব মানুষকে দিলে মানুষ করোনা মোকাবিলায় কিছুটা সক্ষম হয়ে উঠতে পারবেন।
একটি মহামারী কীভাবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অমানবিক হিংস্র চরিত্রকে উন্মোচিত করে দিচ্ছে, তাও ব্যাখ্যা করেছেন মিশ্র। তিনি বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সমস্যাগুলি মেটানোর সম্ভাবনা পর্যন্ত তৈরি করেছে। কিন্তু তা হচ্ছে কই! বরং আজকের পুঁজিবাদ সঙ্কট থেকে বাঁচতে মানুষকে উদ্বৃত্ত বলে মনে করছে। নিৎসে-হিটলার যেভাবে ‘মানবসমাজে কেবল যোগ্যতাই টিকে থাকবে’ বলে ফ্যাসিস্ত তত্ত্ব আউড়েছিলেন, এখন সেই তত্ত্ব আবার শোনা যাচ্ছে। ওরা মনে করছে, এত লোকের দরকার কী! কিছু মানুষ যুদ্ধে মরুক, মহামারীতে মরুক, ডিটেনশন ক্যাম্পে মরুক, কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে জীবিত মরুক, ওদের কিছু আসে যায় না। এই ফ্যাসিস্তদের কেউ কেউ বিলাসবহুল প্রাইভেট প্লেন কিনে রেখেছে, দ্বীপাঞ্চল কিনে রেখেছে। করোনা সংক্রমণের হাত থেকে নিজেদের নিরাপদ করার মতো নানা ব্যয়বহুল পদক্ষেপ তারা নিয়ে রেখেছে। কিন্তু তাদের সমর্থক সাধারণ মানুষের জন্য সেই নিরাপত্তার তিলমাত্র নেই। তাই রাজনৈতিক দলমত না দেখে সব মানুষের কাছে বামপন্থীদের পৌঁছাতে হবে, করোনা সংক্রমণরোধে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে, আন্তরিকভাবে পাশে থাকতে হবে।
শেষ এডিট:: 21-Mar-20 12:03 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/stand-beside-the-people-is-the-call-of-the-moment-surjya-kanta-mishra
Categories: Current Affairs
Tags: coronawb, covid-19, cpim, cpimwb, kerala ldf govt, modi govt 2.0
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (147)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (130)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





