শাহের কথার সঙ্গে বিধির মিল নেই!!


প্রকাশ: ১৪-মার্চ-২০২০
নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ— জাতীয় জনপঞ্জি (এনপিআর) সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শাহের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বিধির মিল নেই। সুতরাং এনপিআর নিয়ে যে সংশয় ও ভীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা কাটছেও না।
বৃহস্পতিবার দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনার জবাবি ভাষণের সময়ে অমিত শাহ বলেন, এনপিআর নিয়ে ভয়ের কোনও কারণ নেই। এই প্রক্রিয়ায় কাউকেই সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হবে না। বস্তুত অমিত শাহ বলেন, এনপিআর’র জন্য কোনও নথি লাগবে না, কোনও নথি চাওয়া হবে না। কোনও ব্যক্তি যদি কিছু তথ্য না দিতে চান তা নিয়ে তাঁকে কোনও প্রশ্ন করাও হবে না। যে তথ্য দিতে চান সেই তথ্যই দেওয়া যাবে। প্রশ্নের উত্তরে আরও একবার শাহ বলেন, যদি কারো কাছে কোনও তথ্য না থাকে তিনি দেবেন না। কাউকে ‘সন্দেহজনক’ বলে চিহ্নিত করা হবে না।
শুক্রবার সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো বলেছে, যদি বিজেপি সরকার এই মন্তব্য সম্পর্কে সৎ হয় তাহলে নাগরিকত্ব আইনের ২০০৩-র সংশোধনীর বিধি পরিবর্তন করতে হবে। ওই বিধির ৩, ৪, ৫, ৫(ক), (খ), ৬(ক), (খ), (গ) ধারায় এনপিআর তৈরির কথা বলা রয়েছে। সেখানে সন্দেহজনক নাগরিকদের চিহ্নিত করা, নথিভুক্ত করা ও আরও তদন্ত করার কথা বলা রয়েছে। যদি সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য করতে হয় তাহলে অবিলম্বে ওই বিধি বাতিল করা দরকার। ওই বিধি বাতিল করলে নাগরিকত্ব আইনের ২০০৩-র সংশোধনীর যে অংশ থেকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) আইনি বৈধতা পাচ্ছে তা বাতিল হয়ে যাবে। এনআরসি বাতিলের জন্যও ওই আইন বাতিল করা দরকার।
পলিট ব্যুরো বলেছে, অধিকাংশ রাজ্য সরকার এনআরসি সম্পর্কে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। বিপুল অংশের জনসমষ্টির তারা প্রতিনিধিত্ব করে। এই কথা বিবেচনায় রেখেও এনআরসি বাতিলের জন্য ২০০৩ সংশোধনীর যথাযথ সংশোধন করা উচিত।জনগণের মনের মধ্যে এই সংশয় রয়েছে যে এনপিআর-কে পরবর্তী সময়ে এনআরসি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হবে। শুধু সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আস্থা তৈরি করা যাবে না। এ সংক্রান্ত বিধি বাতিল করতে হবে, ২০০৩-র আইন সংশোধন করতে হবে।
এদিন দিল্লি বিধানসভায় এনপিআর বন্ধ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাব উত্থাপন করার সময়ে আপ সরকারের মন্ত্রী গোপাল রাই বলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের সময়ে নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করে এনপিআর-কে জুড়ে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয় এনপিআর করার পরে সন্দেহজনক তালিকা তৈরি হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, এনপিআর-এ ‘ডি’ বা সন্দেজনক কোনও তালিকা থাকবে না। অথচ তিনিই বলেছেন সরকার ২০০৩-র বিধি অনুসরণ করছে। বিধিতে বলাই হয়েছে এনআরসি হবে এনপিআর-র ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে। ২০০৩-র বিধি সংশোধিত হয়নি। তাহলে কীসের ওপরে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ওই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? এনপিআর-র পরে এনআরসি হবে। জনগণ এ নিয়ে শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরস্পরবিরোধী বিবৃতি দিচ্ছেন। গতকাল সংসদে অমিত শাহ বললেন এনপিআর-এ প্রশ্নের উত্তর না দিলেও চলবে। তিনিই কিন্তু ক্রোনোলজির কথা বলেছিলেন। বিধানসভায় প্রস্তাবে দিল্লিতে এনপিআর স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এনপিআর এবং এনআরসি-তে নাগরিকত্ব প্রমাণের কথা বলা হবে। ৯০শতাংশ লোকের কাছে জন্মের সরকারি শংসাপত্রও নেই। আমার পরিবারেরও নেই, আমাদের মন্ত্রীসভার কারোর বার্থ সার্টিফিকেট নেই। আমাদের কি ডিটেনশন শিবিরে পাঠানো হবে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যে ব্যাখ্যাই দিন এনপিআর সংক্রান্ত বিধিতেই বলা রয়েছে দেশের প্রত্যেক স্বাভাবিক বাসিন্দার বিশদ পরিচিতি-তথ্য তৈরি করার জন্যই এই প্রক্রিয়া। এই তথ্য জনসংখ্যাগত এবং বায়োমেট্রিক উভয় ধরনেরই হবে। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহের পরে একটি তালিকা তৈরি হবে। এনপিআর বা জাতীয় জনপঞ্জি রাজ্যপঞ্জি, জেলাপঞ্জি, মহকুমাপঞ্জি, স্থানীয়পঞ্জিতে ভাগ হবে। এনআরসি করার সময়ে স্থানীয়পঞ্জি তৈরি হবে জাতীয় জনপঞ্জি থেকে ‘যথাযথ পরীক্ষার পরে’। এনপিআর তৈরির পরেই সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ‘পরীক্ষার’ সময়ে ‘সন্দেহজনক নাগরিকত্বের’ একটি তালিকা তৈরি করা হবে। এই ‘সন্দেহজনক’ নাগরিকদের প্রমাণ করতে হবে তাঁরা প্রকৃত ভারতীয়। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের সমস্ত বাসিন্দাকে নিয়ে এনপিআর তৈরি হবে। সেই তালিকা থেকে ‘সন্দেহজনক’ খতিয়ে দেখে, বাদ দিয়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হবে। কাজেই এনপিআর যে এনআরসি’র প্রাক ভিত্তি তা স্পষ্টই। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ভাষণের সময়ে এনআরসি হবে না, এমন কোনও কথা অমিত শাহও বলেননি।
পাঞ্জাব, কেরালা, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য এনপিআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেরালা সরকার জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যে জনগণনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে কিন্তু তার সঙ্গে এনপিআর করতে দেওয়া হবে না। একাধিক রাজ্যের আপত্তিতে এনপিআর’র কাজই আটকে যেতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরাসরি বলেনি জনগণনার সঙ্গে এনপিআর করা যাবে না। এই প্রশ্নে অস্পষ্ট অবস্থান নিয়েই চলছে মমতা ব্যানার্জির সরকার।
শেষ এডিট:: 14-Mar-20 11:39 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/shahss-statement-vs-rules-of-act-heaven-and-hell
Categories: Current Affairs
Tags: amit shah, modi govt 2.0, npr nrc caa
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (150)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (133)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
.jpg)




