ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ:সভ্যতা রক্ষায় সোভিয়েত ইউনিয়ন

Author
সায়নদীপ মিত্র

সোভিয়েত ইউনিয়নের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন রাজনৈতিক-সামরিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। সভ্যতার ঐ সংকটের মুহূর্তে ফ্যাসিবাদ পরাস্ত না হলে পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তিত হয়ে যেত। সোভিয়েতের জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই পৃথিবীর সামনে উদাহরণ তৈরি করেছিল যে, সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও দেশপ্রেমের শক্তিতে ফ্যাসিবাদের মত ভয়াবহ ও আগ্রাসী শক্তিকেও মোকাবিলা করা যায়।

Resistance to Fascism : The Soviet Union in Defense of Civilization


বাঙ্কারে গুলিবিদ্ধ হিটলারের আধপোড়া মৃতদেহ। মিলানের রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে ঝুলছে মুসোলিনির দেহ। সময় তারপরেও ১০০ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সভ্যতার মনে আজও সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের  নাম ফ্যাসিবাদ। 'ফ্যাসিবাদ হল ফিনান্স পুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল অংশ ,সবচেয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী অংশের সর্বাধিক প্রকাশ্য সন্ত্রাসমূলক একনায়কত্ব'। ১৯৩৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় আন্তর্জাতিকে ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে এই সুনির্দিষ্ট মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গৃহীত হয়। এটাই ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা। আর এর ভিত্তিতেই সেই তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে 'জনগণের ফ্রন্ট' গঠনের আহ্বান জানানো হয়। সকল গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক শক্তি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দায়বদ্ধতা থেকেই এই আহ্বান ধ্বনিত হয়েছিল।

  বিংশ শতাব্দীতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অবশ্যই এই ইতিহাসের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল লেনিনের নেতৃত্বে বিপ্লব বিজয়ী সোভিয়েত ইউনিয়ন। সূর্যের আলো মাখা এই গ্রহে প্রথম শ্রমিক শ্রেণী নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা।প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর অশান্ত পৃথিবীতে প্রধানত ৫ টি দেশে ফ্যাসিস্ট অথবা রাজনৈতিকভাবে তার সমতুল্য সরকার এসেছিল।তবে ১৯২২ সালে ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির ক্ষমতা দখল এবং ১৯৩৩ সালে জার্মানিতে হিটলারের উত্থান,অনেক বিতর্কের মধ্যেও সারা পৃথিবীতে বিশেষত ইউরোপে ফ্যাসিবাদের উৎস ও বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কে দুনিয়াকে ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করেছে। অবশ্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে নানা আঙ্গিকে ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নানা ভাবে। আজও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ফ্যাসিবাদের আতঙ্ক দুঃস্বপ্নের মতো জেগে উঠছে সভ্যতার চোখে । ফিন্যান্স পুঁজি সৃষ্ট এই দানবীয় এবং বিকৃত রাজনৈতিক মতবাদ বাস্তবিক অর্থে আতঙ্কের কারণও বটে।  

    প্রথম পর্বে ফ্যাসিবাদের উত্থান যেমন জার্মানি এবং ইতালিতে হয়েছিল, তেমনি এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নে। পৃথিবীর ইতিহাসে হিংস্রতম এবং কুৎসিততম রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বপ্রথম এই বিপজ্জনক রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রধানত ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়। ৩০ এর দশকের অর্থনৈতিক মহামন্দা কার্যত মুসোলিনি ও হিটলারের জন্ম দিয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক কারণ ব্যতিরেকেও ইতিহাস, রাজনীতি,সংস্কৃতি,ঐতিহ্য, রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতা, দুর্বলতা,বুর্জোয়া ধনিক শ্রেণীর মদত এবং অবশ্যই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের প্রভাবে এই বিকৃত রাজনৈতিক মতাদর্শ ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। ১৯১৯ সালে মুসোলিনি সর্বপ্রথম 'ফ্যাসিসমো' বা ফ্যাসিবাদ শব্দটি ব্যবহার করে। বাস্তবিক অর্থে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর পুঁজিবাদের নিজস্ব সংকট-ই ফ্যাসিবাদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপের জমি তৈরি করেছিল। কমিউনিস্ট এবং সোসালিস্টদের সময়োপযোগী ঐক্যের অভাব এবং অবশ্যই বুর্জোয়া শ্রেণীর পার্লামেন্টারি এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ব্যর্থতা থেকেই জার্মানিতে ফ্যাসিজমের উত্থান শুরু হয়েছিল। ইতালিতেও মুসোলিনির ক্ষমতা দখল এবং ফ্যাসিবাদের উত্থানকে প্রাথমিকভাবে লঘু চিন্তায় পর্যালোচনা করা হয়েছিল। অবশ্য কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেসে জর্জি ডিমিট্রভ, তার বিখ্যাত ভাষণে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে গোটা পৃথিবীকে সতর্ক করেছিল।

  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েতের লাল ফৌজ এবং দেশপ্রেমিক জনগণের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের পরিণতিতে ফ্যাসিবাদের পরাজয় যদি না ঘটতো, সমগ্র মানব সভ্যতাই রক্তের অতল সমুদ্রে তলিয়ে যেত।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের পরাজয় দুনিয়াজোড়া গণতন্ত্রের জয় সুনিশ্চিত করেছিল। মানব সভ্যতা এবং সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ গুলি আজও অমলিন আছে ফ্যাসিবাদের পরাজয়ের পরিণতিতে। পৃথিবীর ইতিহাসে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।১৯২০'র দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৪০'র এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিপ্লব উত্তর সোভিয়েতের সমাজ,রাজনীতি ও সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটা ছিল আদর্শিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংগ্রাম। ফ্যাসিবাদ যেখানে মানবতার উপর প্রত্যাঘাত করেছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পক্ষে দাঁড়িয়ে এক বৃহৎ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই প্রতিরোধের মাশুল হিসেবে সোভিয়েতের জনগণকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছিল। হিটলার তার আত্মজীবনী 'Mein Kampf'-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল জার্মান জাতির 'Lebensraum' বা জীবনী শক্তি অর্জনের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ধ্বংস করা প্রয়োজন। বিপরীতে সোভিয়েতের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব বিশেষত জোসেফ স্তালিন।
 স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ফ্যাসিবাদ মানবতার শত্রু। সোভিয়েতের নৈতিক অবস্থান ছিল ফ্যাসিবাদ পুঁজিবাদী শাসকের শেষ প্রতিক্রিয়াশীল রূপ, যা শ্রমজীবী শ্রেণীর শোষণ মুক্তির পথে প্রতিবন্ধকতা। অতএব ফ্যাসিবাদের কাছে নো পাসারণ।
   ১৯৪১ সালের ২২ শে জুন হিটলারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী রুশ- জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে সোভিয়েতের ওপর অতর্কিতে হিংস্র আক্রমণ চালায়। আক্রমণের আনুষ্ঠানিক নাম দেয় 'অপারেশন বারবারোসা'। 'ব্লিৎজক্রিগ' নামের নাৎসি যুদ্ধ কৌশলের আকস্মিক অভিঘাতে হতচকিত লাল ফৌজ প্রাথমিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়ে।কিন্তু সোভিয়েতের জনগণ এবং লাল ফৌজের অসামান্য 'মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ'(Great Patriotic War) হিটলারের অশ্বমেধের ঘোড়াকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। ১৯৪১'র মে মাসের মধ্যে কার্যত মূল ইউরোপ দখল করে ফেলেছিল হিটলারের বাহিনী। কিন্তু তারপরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল রণাঙ্গন পরিণত হয় সোভিয়েত-জার্মান সীমান্তে। ফ্যাসিবাদের এই আগ্রাসন সম্পর্কে অবশ্য অনেক আগেই পশ্চিমী দেশগুলোকে, বিশেষত আমেরিকা,ব্রিটেন,ফ্রান্সকে সতর্ক করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট নেতৃত্ব। দ্বিতীয় ফ্রন্ট খুলে হিটলারের যুদ্ধোন্মাদ অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসনকে কৌশলগতভাবে অবিন্যস্ত করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। পশ্চিমী দুনিয়ার দেশগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে বিনা যুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার আকাঙ্ক্ষায় কার্যত নিরব দর্শক ছিল। অবশ্য ১৯৩৯ সালে হিটলারের পোলান্ড আক্রমণের মধ্যে দিয়ে তারা অচিরেই শিয়রে বিপদের উপস্থিতি ভালোভাবেই বুঝতে পারে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ফ্যাসিস্টদের সামনে পুঁজিবাদী ইউরোপ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। কিন্তু মানব সভ্যতার এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবনের বিনিময়ে জোসেফ স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন হিটলারের নাৎসি বাহিনীকে পরাস্ত করে। ১৯৪৫ সালের ৯ই মে সোভিয়েতের লাল ফৌজ এবং যুদ্ধের প্রায় শেষ পর্বে যোগ দেওয়া মিত্র শক্তির কাছে ফ্যাসিস্ত জার্মান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সভ্যতার নতুন সূর্যোদয় ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। ফ্যাসিবাদের নৃশংস তাণ্ডব থেকে বিশ্বসভ্যতা মুক্তি পায়। গণতন্ত্র ও প্রগতিশীলতা জয়ী হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের তীব্রতা বাড়ে এবং পূর্ব ইউরোপে বেশ কয়েকটি সমাজতান্ত্রিক দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শ্রেণী শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সোভিয়েতের ইউনিয়নের ভূমিকা অপরিহার্য ছিল।

   রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদকে প্রতিরোধের সাথে সাথে সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির জগতেও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সোভিয়েত ইউনিয়ন অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে। ম্যাক্সিম গোর্কি, শলোকভ, আইজেনস্টাইন প্রমুখ শিল্পী এবং স্রষ্টারা সাহিত্য অথবা চলচ্চিত্রের  মাধ্যম কে ব্যবহার করে মানবতা ও সমাজতন্ত্রের মূল্যবোধকে বিকশিত করেছিল।'অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট পিপলস কালচার' গড়ে তোলার মাধ্যমে সাহিত্যিক 'পাস্তেরনাক', 'ইলিয়া এরেনবুর্গের' মত বিভিন্ন লেখকেরা তাদের লেখনীতে যুদ্ধের নৃশংসতা ও তার বিরুদ্ধে মানবতার জয়কে আলোকিত করে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও বীরত্বের প্রতীক হিসাবে রুশ 'symphony' গুলো লড়াইয়ের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল। এছাড়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের সংবাদ মাধ্যম, রেডিও ধারাবাহিকভাবে ফ্যাসিবাদের বিকৃত রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্ন প্রচার সংগঠিত করেছিল।  

   সোভিয়েত ইউনিয়নের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন রাজনৈতিক-সামরিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। সভ্যতার ঐ সংকটের মুহূর্তে ফ্যাসিবাদ পরাস্ত না হলে পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তিত হয়ে যেত। সোভিয়েতের জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই পৃথিবীর সামনে উদাহরণ তৈরি করেছিল যে, সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও দেশপ্রেমের শক্তিতে ফ্যাসিবাদের মত ভয়াবহ ও আগ্রাসী শক্তিকেও মোকাবিলা করা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে 'রাইখস্ট্যাগে' লাল পতাকা ওড়ানোর মধ্যে দিয়ে আসলে সভ্যতার বিজয় নিশান উড়িয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই যুদ্ধে সোভিয়েতের জনগণ নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে,সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মাসুল দিয়েও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলার মূল্যবান শিক্ষা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরেছিল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলেছিল সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন।

     মানুষের একরাশ ঘৃণা গায়ে মেখে মাটির নিচে শুয়ে আছে মুসোলিনি, হিটলার, গোয়েবলসরা। কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিপদকে আদৌ চিরঘুমে পাঠানো সম্ভবপর হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই ইন্দোনেশিয়া,চিলিতে ফ্যাসিবাদের বীভৎসতা পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে। রাজনৈতিক প্রবণতা হিসেবে ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত নানা দেশে বিদ্যমান। ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সাথে ফ্যাসিবাদের বাস্তবিক পার্থক্য থাকলেও বিপদের ইঙ্গিত পেলেই সতর্ক থাকা আশু কর্তব্য। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে হিটলার অথবা মুসোলিনির আদর্শ উত্তরসূরী হিসেবে 'নিও ফ্যাসিস্ট' অথবা 'পোস্ট ফ্যাসিস্ট' নামে নিজেদের বিকৃত মতাদর্শের প্রতি প্রকাশ্যে সওয়াল চলছে।
   আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে পুষ্ট এবং ফ্যাসিবাদী সাংগঠনিক ধাঁচে গঠিত সঙ্ঘ পরিবারের দ্রুত উত্থানের মধ্যে দিয়ে নয়া ফ্যাসিবাদের প্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার সুযোগ নিয়ে সমস্ত সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত লোকেদের অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো,বহুত্ববাদ, সংবিধান বিপন্নতার মুখোমুখি। দরকার এখনই প্রতিরোধ। দেশের বামপন্থী,প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের পথেই এই বিপদ থেকে উত্তরণ সম্ভব। সোভিয়েত ইউনিয়নের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এখানেও আমাদের আলোকবর্তিকা।
প্রকাশ: ০৮-নভেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image


অন্যান্য মতামত:

খুব সুন্দর তথ্যমূলক প্রতিবেদন, পার্টি মেম্বারদের সবার আগে এটা পড়া উচিত।
- Anal চক্রবর্তী, ০৮-নভেম্বর-২০২৫



শেষ এডিট:: 08-Nov-25 09:39 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/resistance-to-fascism-the-soviet-union-in-defense-of-civilization
Categories: Fact & Figures
Tags: fascism, hitler, j v stalin, lenin, sovietunion
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড