রং-বেরঙের রাজনীতি

গণতন্ত্রের মৃত্যু কোনোদিন বিউগিল বাজিয়ে বা ট্যাংক চালিয়ে আসে না। গণতন্ত্র মরে খুব বিনয়ী ভঙ্গিতে - এক একটা ‘কেন’ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।

এক রবিবারের অলস সকালে কিছু গুণী শিল্পীর আবির্ভাব ঘটল। তাঁদের কোনো ছবি আঁকার ডিগ্রি ছিল না, হাতে কোনো আইনি পরোয়ানাও ছিল না। তবে শিল্পীমনে ছিল অপার ‘দেশভক্তি’ আর হাতে ছিল গেরুয়া রঙের বালতি।
স্থান - প্রফুল্ল সরকার সরণি, কলকাতার এক অতি-প্রাচীন সংবাদপত্র ভবন। তারিখ - ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
শিল্পীরা এসে কোনো কথা বললেন না। শিল্পীরা কথা বলেন না, তাঁরা কাজ করে দেখান। ২/৪টে স্লোগান হিন্দি ভাষায় দিয়েই, ঢকঢক করে গেরুয়া রং ঢেলে দিলেন ভবনের ধবধবে সাদা স্তম্ভে।
বার্তা ছিল অসাধারণ সংক্ষিপ্ত - খবরের হরফ আপনারা ঠিক করুন, খবরের রং আমরা ঠিক করে দেব।
এ এক নতুন ধরনের সম্পাদকীয় নীতি। আগে সম্পাদক ঠিক করতেন - কী ছাপা হবে। এখন ‘দেশ ভক্তরা’ ঠিক করে দেন – খবরের রঙ কী হবে!
কয়েকদিন আগেই ওই সংবাদপত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটা ‘আধ্যাত্মিক আক্রমণ’-এর ঘটনাকে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ বলে ফেলেছিল। ব্যস! এই শব্দ যেন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠল।
ক্ষমতাসীন মহল থেকে হুঙ্কার এল - ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার আগেই শিল্পীরা এসে বিনামূল্যে ভবনের বহিরঙ্গন সাজিয়ে দিয়ে গেলেন – ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’।
অদূরে সাদা উর্দিধারী কয়েকজন দর্শক দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা শিল্পীদের কাজে কোনো বাধা দিলেন না। সম্ভবত তাঁরা ভেবেছিলেন - এটা প্রতিবাদ নয়, পারফরম্যান্স আর্ট।
সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ পরে জল-সাবান দিয়ে রং তুলে ফেললেন। দেওয়াল আবার সাদা হলো।
কিন্তু সমস্যা হল - দেওয়ালের রং মছা যায় জল-সাবানে, কিন্তু মগজের রং মুছতে লাগে অন্য শব্দ - সাহস।
এনডিটিভি ও আলাদিনের প্রদীপ
২০১৭ সাল। সিবিআই-এর একদল অত্যন্ত ‘সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রভুভক্ত’ অফিসার সকালে গিয়ে এনডিটিভি’র প্রণয় রায়ের ড্রয়িংরুমে চা চাইলেন। চা সহযোগে অভিযোগ তুললেন - ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নাকি সময়মতো সুদের হিসাব মেলানো হয়নি। রায় দম্পতি বললেন, এ তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা!
‘ভক্ত’ সিবিআই অফিসার পরম স্নেহের হাসি হেসে বললেন, কী যে বলেন! আইন তো সবার জন্য সমান। আপনিও মানুষ, আমরাও মানুষ, মাঝখানে শুধু একখানা সিবিআই নোটিস!
আইনের চোখ বাঁধা থাকে, আমরা জানি। তবে ভারতের আইনের চশমায় মাঝে মাঝে কিছু অটো-ফোকাস সেন্সর কাজ করে। সে বেছে বেছে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ড্রয়িং রুমেই লাল বাতি জ্বালায়।
পরের কয়েক বছর ধরে ইডি, ফেমা, সিবিআই একের পর এক চিঠি পাঠাল। চিঠিগুলো এতই প্রেমময় ছিল যে ২০২২ সালে পত্রাঘাতে ক্লান্ত প্রণয়বাবু ও রাধিকাদেবী চ্যানেলটির চাবি তুলে দিলেন দেশের সবচেয়ে বড় মহাজনের হাতে - যিনি একাধারে বন্দর বানান, বিদ্যুৎ বেচেন, আবার রাতে টিভিতে কী খবর চলবে সেটাও ঠিক করেন। আবার দেশের সর্বময় কর্তাদের ভেট-ভজনাও গ্রহণ করেন।
সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটল ২০২৪ সালে। সিবিআই হঠাৎ হাত ধুয়ে একখানা ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়ে বলল, ভেরি ভেরি সরি! মিঃ এবং মিসেস রায়, আপনারা মুক্ত।
অর্থাৎ সাত বছর ধরে যে সিনেমা চলল, শেষে জানা গেল, আসলে সিনেমাটাই ছিল ভুল। এ যেন রাষ্ট্রের নতুন ম্যাজিক শো। প্রথম অঙ্কে তদন্ত। দ্বিতীয় অঙ্কে নোটিস। তৃতীয় অঙ্কে চাপ। চতুর্থ অঙ্কে মালিকানা বদল। পঞ্চম অঙ্কে – ‘রাগ ক’রো না লক্ষ্মী, কানে হাত দিয়ে বলছি বাবা - ভেরি ভেরি সরি'!
আপনি কী ভাবছেন? ভাবছেন - তাহলে ৭ বছর ধরে আমরা কী দেখলাম!
সাত বছর ভাবলেন! তারপর রাষ্ট্র জানাল, পাপ ছিল না - এটা আপনি জানতে পারলেন! ততদিনে অবশ্য পাখি খাঁচা ছেড়ে উড়ে গেছে। চ্যানেলের প্রাইম-টাইমে নতুন মালিকের জয়গান গাওয়া শুরু হয়ে গেছে! রাষ্ট্র সাত বছর ধরে একজনের হাঁড়ি চড়িয়ে রাখল, হাঁড়ি ফুটল, ভাত অন্য কেউ খেয়ে গেল, আর তারপর মাইবাপ সরকার বাহাদুর বলল - হিসাবে ভুল ছিল!
একেই বলে নিখুঁত স্টেট-ক্রাফট।
ট্রেনের টিকিট ও ৭২৪ দিনের গল্প
২০২০ সালের অক্টোবর। সিদ্দিক কাপ্পান হাতরাসের দিকে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল সাংবাদিকের স্বাভাবিক অস্ত্র - কলম, নোটবুক এবং ট্রেনের টিকিট। তিনি যাচ্ছিলেন, হাতরাসে এক দলিত তরুণীকে রাত্রে পুলিশ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেই সংক্রান্ত খবর কুড়োতে।
কিন্তু রাষ্ট্রের চোখে কলম, নোটবুক, ট্রেনের টিকিট এবং গন্তব্যস্থল যথেষ্ট সন্দেহজনক! কারণ একজন সাংবাদিক যদি সত্যিই খবর সংগ্রহ করতে শুরু করেন, তাহলে তাঁর হাতে কলমের চেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র আর কী হতে পারে?
অতএব, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো এবং কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হলো। অভিযোগের গুরুত্ব এমন, যেন তিনি ট্রেনের টিকিট নয়, রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার গোপন নকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেওয়া হলো দেশের সবচেয়ে নামী সম্মান UAPA ধারা অর্থাৎ সোজা কথায় রাষ্ট্রদ্রোহী বিল্লা।
দু’বছর ধরে কাপ্পান সরকারের জামাই হয়ে জেলখানার ডাল-রুটি বিনা পয়সায় খেলেন। অবশেষে ২০২২ সালে মহামহিম সুপ্রিম কোর্ট চশমাটা পরিষ্কার করে বলল, আরে, এ তো সাধারণ সাংবাদিক! একে জামিন দাও।
কিন্তু যে ৭২৪ দিন কাপ্পান জেলের ঘরে বসে মাছি তাড়ালেন, সেই দিনগুলোর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? জেলের ভেতরে তাঁর কলমে যে খবরগুলো জন্মায়নি, সেগুলোর পুনর্জন্ম কে দেবে? ফ্যাসিস্টদের প্রিয় খেলা এটাই। তারা জানে সাংবাদিককে ফাঁসি দেওয়া কঠিন, কিন্তু দু’বছর জেলে পুরে রাখলেই তার রিপোর্টিংয়ের ভূত ঘাড় থেকে নেমে যায়।
এক ল্যাপটপ ও জাতীয় নিরাপত্তা
২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর। কাকভোরে দিল্লি শহরের শতাধিক দরজায় বুটের ঠকঠক শব্দ। ‘নিউজক্লিক’-এর সম্পাদক, কলামিস্ট, এমনকি পার্ট-টাইম অনুবাদকদের বাড়িতেও হাজির পুলিশ।
দুনিয়ার সব দেশে পুলিশ খোঁজে বন্দুক, বোমা, বে-আইনি নেশার দ্রব্য বা কালো টাকা। কিন্তু দিল্লি পুলিশ খুঁজছিল অতি-বিপজ্জনক কিছু মারাত্মক অস্ত্র - পুরনো ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ আর নড়বড়ে মোবাইল ফোন!
সত্তরোর্ধ্ব সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। অভিযোগ, তিনি নাকি চীন থেকে অদৃশ্য টাকা এনে ভারত সরকারকে ল্যাপটপ দিয়ে উল্টে দেওয়ার চক্রান্ত করছিলেন!
সাত মাস জেলে কাটানোর পর ২০২৪-এর মে মাসে সেই মাইবাপ সুপ্রিম কোর্ট বলল, গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াটাই বেআইনি ছিল। ওনাকে ছেড়ে দিন।
রাষ্ট্রের ভুল! কিন্তু সেই সাত মাসে কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেছে, সব সাংবাদিকের চাকরি গেছে। রাষ্ট্রের ভুলেরও একটা অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে। ভুল করলে সাধারণ মানুষ ক্ষমা চায়। রাষ্ট্র ভুল করলে রায় বেরোয়।
আর রায় বেরোতে বেরোতে মানুষের জীবনটা অন্য আরেক অধ্যায়ে চলে যায়।
বিবিসি এবং আয়করের স্কেল
২০২৩ সালের জানুয়ারি। ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি একখানা ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানাল - India: The Modi Question। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পুরনো খতিয়ান।
সরকার সঙ্গে সঙ্গে সুপ্রিম পাওয়ার ব্যবহার করে ইউটিউব-টুইটারে সেই লিঙ্কে তালা ঝুলিয়ে বলল, এ গভীর সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র!
তার ঠিক তিন সপ্তাহ পরেই আয়কর দপ্তরের কয়েকজন ‘সৎ প্রভুভক্ত’ অফিসার ক্যালকুলেটর আর স্কেল নিয়ে দিল্লির বিবিসি অফিসে ঢুকে পড়লেন। টানা তিন দিন ধরে চলল ‘জরিপ’।
কী চমৎকার কাকতালীয় টাইমিং! মোদীজিকে নিয়ে ডকু-ফিল্ম রিলিজ হওয়ার ঠিক পরেই বিবিসি-র অ্যাকাউন্ট্যান্টের খাতার হিসাব মিলছিল না! যেন তার আগে আয়কর বিভাগ জানতই না যে দিল্লিতে বিবিসি বলে কোনো অফিস আছে।
আয়কর বিভাগের কাজ অবশ্যই আইন অনুযায়ী তদন্ত করা। কিন্তু ‘দেশদ্রোহী’ নাগরিকের চোখে প্রশ্ন থেকেই যায় - সময়টা কি নিছক কাকতালীয়?
গণতন্ত্রে শুধু উত্তর গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখনও কখনও টাইমিংটাও খবর।
সান্ধ্যকালীন সার্কাস ও ‘গোদী’ প্রাইম-টাইম
সংবাদমাধ্যমকে চুপ করানোর জন্য সংবাদপত্র বন্ধ করার দিন শেষ। ওটা বড্ড সেকেলে। তার চেয়ে অনেক বুদ্ধিমানের কাজ হলো - সংবাদমাধ্যমকে একখানা কমেডি সার্কাসে রূপান্তর করা।
এভাবেই মহিমান্বিত হয়ে জন্ম হলো ‘দ্য গ্রেট গোদী মিডিয়া’র।
স্টুডিওতে আলো জ্বলে। গ্রাফিক্স ঝলসে ওঠে। সঞ্চালকের গলার স্বর এমন উচ্চতায় ওঠে যে পাশের বাড়ির কুকুরও ভাবে - আজ নিশ্চয়ই কোনো বড় ভূমিকম্প হয়েছে! সংবাদপত্রে ৫৬ ইঞ্চি থুড়ি ৫৬ পয়েন্টের হেডলাইন হয়।
কিন্তু না। খবর নয়। আজকের প্রশ্ন - দেশদ্রোহী কে? কার বিরুদ্ধে রাগতে হবে? আজ রাতের জাতীয় শত্রু কে?”
আগে সাংবাদিকতা জিজ্ঞেস করত - কী ঘটেছে? তারপর জিজ্ঞেস করত - কেন ঘটেছে?
এখন প্রশ্নটা হয়ে গেছে - কার ওপর রাগ করা যায়? কাদের ঘৃণা করা যায়?
এ এক অসাধারণ ব্যবসায়িক মডেল। খবর তৈরি করতে পরিশ্রম লাগে। কিন্তু, ঘৃণা তৈরি করতে লাগে - ফিটফাট টাই-পরা সঞ্চালক, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং জেনারেটরের শব্দের চেয়েও উচ্চ ডেসিবেলে চিৎকার।
তথ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন। কিন্তু আতঙ্কের বাজারে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই প্রাইম-টাইমে সত্যের বদলে চলে শব্দদূষণ, ঘৃণার চাষ, বিদ্বেষের নামে দেশপ্রেমের চালিশা।
ঘৃণা বিক্রি করাটা এই যুগের সবচেয়ে সুপারহিট ‘বিজনেস মডেল’। চ্যানেলগুলো এখন আর খবর-তথ্য বেচে না, তারা বেচে খাঁটি বিশুদ্ধ ‘আতঙ্ক’। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে সঞ্চালক চেঁচান – ‘সরকারই মাইবাপ! আমাদের রাজাকে বিশ্বাস করুন!’
মগজে সেন্সর
স্বৈরশাসকের সবচেয়ে পুরনো কৌশল - এই খবর ছাপবে না। কিন্তু সেটা আজকাল একটু সেকেলে। বন্দুক নিয়ে নিউজরুমে ঢুকলে ছবি হয়ে যাবে।
তার চেয়ে ভালো, সাংবাদিকের মাথায় এমন একটা অদৃশ্য সেন্সর বসিয়ে দাও, যেটা সে নিজেই চালু করবে।
সকালে সম্পাদক চা হাতে বসেছেন। ফাইল সামনে। খবরও তৈরি। হঠাৎ মনে হলো - এই খবরটা ছাপলে আবার তিনভক্তের (ED, CBI, IT) নোটিস আসবে না তো? অমুক শিল্পগোষ্ঠীর নামটা দিলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে না তো? ওই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখলে ফোন আসবে না তো? ওই প্রশ্নটা করলে মালিক রেগে যাবেন না তো?
ব্যস। খবর মারা গেল। কেউ তাকে হত্যা করেনি। সে আত্মহত্যা করেছে, সম্পাদকের ডেস্কে বসেই।
এটাই আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিখুঁত প্রযুক্তি। সেন্সরশিপকে এখন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঘরে বসে থাকতে হয় না। সে বসে থাকে সম্পাদক-সাংবাদিকের মাথার ভেতর।
ছাপাখানা চলে। কাগজ বেরোয়। হেডলাইন ছাপা হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো কোথাও নেই। সবকিছু নিরাপদ। সবকিছু ভদ্র। সবকিছু নিরপেক্ষ।
এমনকি সত্যটাও এতটাই নিরাপদ যে তাকে আর চিনতেই পারা যায় না।
শেষ প্রশ্ন - ‘কেন?’
ঐ পত্রিকার দেওয়ালে লাগানো গেরুয়া রং ধুয়ে আবার সাদা করা হয়েছে। বিল্ডিং আবার ঝকঝকে। কিন্তু দেওয়ালে রং মোছা গেলেও, প্রশ্ন মোছা যায় কি?
গণতন্ত্রের মৃত্যু কোনোদিন বিউগিল বাজিয়ে বা ট্যাংক চালিয়ে আসে না। গণতন্ত্র মরে খুব বিনয়ী ভঙ্গিতে - এক একটা ‘কেন’ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।
যেদিন আপনি দেখবেন, দেশের বড় বড় কেলেঙ্কারীর খবরগুলো পেছনের পাতার রাশিফলের পাশে গিয়ে স্থান পাচ্ছে, আর প্রথম পাতায় শোভা পাচ্ছে কোনো মন্ত্রী অথবা আমলার পোষা কুকুরের জন্মদিন - সেদিন বুঝবেন গণতন্ত্রের আত্মা ইহলোকে ত্যাগ করেছে।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে দামি শব্দ ‘স্বাধীনতা’ নয়, সবচেয়ে দামি শব্দ হলো - ‘কেন?’
কেন এত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি? কেন এত বেকার? কেন মজুরি এত কম? কেন এত দুর্নীতি, লুট? কেন এত গ্রেপ্তার? কেন শুধু কর্পোরেটদের ঋণ মাফ? কেন মানুষের খবরের পাত্তা নেই?
একটা প্রশ্ন হারিয়ে যায়। তারপর আরেকটা। তারপর আরেকটা। শেষ পর্যন্ত সবাই খবর দেখে। কেউ প্রশ্ন করে না। তখন গণতন্ত্র বেঁচে থাকে শুধু অভিধানে। তার শরীর থাকে। প্রাণ থাকে না।
যেদিন সাংবাদিকেরা এই ‘কেন’ শব্দটা ভুলে গিয়ে ‘জি স্যার’ বলতে শুরু করেন, সেদিন আর ছাপাখানা বন্ধ করার দরকার পড়ে না। কারণ, ততদিনে একটা আস্ত জাতি টিভি চালিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে, আর বাইরে তখন নিরপেক্ষতার দেওয়ালে আরও রঙের বালতি ঢালা হচ্ছে!
প্রকাশ: ০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৬
শেষ এডিট:: 05-Sep-26 18:03 | by 6
Permalink: https://cpimwestbengal.org/politics-of-decolourization
Categories: Campaigns & Struggle
Tags: jadavpur, jadavpur university, wall quotes
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (5)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (175)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (155)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (84)
- Highlight - হাইলাইট (100)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (19)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)




