রেগা দিবসের আহ্বান

Author
সারা ভারত খেত মজুর ইউনিয়ন, পশ্চিমবঙ্গ

বকেয়া মজুরি প্রদান করো। এখনি রেগার কাজ চালু করো। চোরেদের জেলে ভরো।

MNREGA Day: The Call

আগামী ১১ই অক্টোবর সারা রাজ্যে রেগা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য খেতমজুর ইউনিয়ন। সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব যে বিবৃতি দিয়েছেন তাই পার্টির রাজ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হল।

রেগা দিবস পালন করুন। ১১ই অক্টোবর মহত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্ম নিশ্চয়তা আইন MGNREGA দিবস। MGNREGS ছিল দেশের গরীব মানুষের স্বপ্ন পূরণের প্রকল্প। যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হলো MGNREGA ২৫শে আগস্ট ২০০৫। সারা দেশে সব রাজ্যগুলোকে কার্যকরী করতে বলা হয়। ২০০৬ সাল থেকে রাজ্য গুলো কাজ শুরু করে। আইনে বলা হলো ১০০ দিনের কাজ শুরু করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে থাকবে। অর্থাত মানুষ কাজ চাইলে সরকার কাজ দিতে বাধ্য থাকবে। খরা ও বন্যা কবলিত এলাকায় ১৫০ দিন কাজ করা হবে।

এখন প্রশ্ন হলো গরীব মানুষ কাজ পাবে কিভাবে? আইনে বলা হলো পাবে। এই প্রকল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা গরীব শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দিতে হবে। এই কাজ ধারাবাহিকভাবে করবে রাজ্য সরকারগুলি। সচেতনতা শিবির, সেমিনার, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা সভার মধ্য দিয়েই সে কাজ চলবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হলো না। ফল হলো উলটো। কাজ চেয়ে মানুষ কাজ পায় না। কাজ করে মজুরি পায় না। মজুরি বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই। মাসের পর মাস মজুরি বকেয়া পড়ে থাকে। কাজ করছে একজন, টাকা পাচ্ছে আর একজন। কাজ না করে ফলস মাস্টার রোলে টাকা চুরি। নেতা মন্ত্রীদের পকেট ভারী। গরীবের কোটি কোটি টাকা লুট। শাস্তির কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। আর সরকার ও বছর বছর বরাদ্দ কমাতে থাকে। সরকারের বক্তব্য মানুষের কাজের প্রয়োজন নেই। সুতরাং বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে, সচেতনতা বৃদ্ধি না করে, মানুষকে অন্ধকারে রেখে,অন্যায়ভাবে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে।

১৯৯১ সালে নয়া উদার অর্থনীতির প্রভাবে সারা দেশে কর্ম সংকোচন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্ম সংস্থান কমছে। সরকারী সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে। মালিক হচ্ছে বেসরকরী কোম্পানি। এমনকি মাটির তলায় যে খনিজ সম্পদ, সেটাও বেসরকরী মালিকানার হাতে। ফলে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অভাব অনটন বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ ভীষণ বিপদের মধ্যে আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সুযোগ আছে, ১০০ দিনের কাজটাকে ২০০ দিন করা এবং বাজার দর বরাবর মজুরি ৬০০ টাকা করতে পারে। তাহলে পরিবার পিছু ২০০×৬০০ = ১,২০,০০০ টাকা আয় করতে পারে। মাঝ পথে পড়াশোনা ছেড়ে বাচ্চা বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের পরিযায়ী হয়ে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হয় না। শুধু সরকারের সদিচ্ছা, আর পঞ্চায়েতে পরিকল্পনা। আর কিচ্ছু না। সম্পদ সৃষ্টি হবে, কাজ পাবে, বাড়িতে বসে পড়াশোনা হবে, ড্রপ আউট কমবে। সরকারের সদিচ্ছা নেই বলে রেগা দিবস পালন করতে হচ্ছে গ্রামীণ শ্রমজীবী ও খেতমজুরদের। গরীবের জন্য আইন সরকার যখন কোটিপতির স্বার্থে ব্যবহার করে, তখন গরীবের আইন গরীবকেই রক্ষা করতে হয়, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। MGNREGA গরীবের জন্য। গরীবকেই রক্ষা করতে হবে। আসুন ১১ই অক্টোবর রেগা দিবস পালন করুন। গরীবের দাবি প্রতিষ্ঠা করুন।

বকেয়া মজুরি প্রদান করো।

এখনি রেগার কাজ চালু করো।

চোরেদের জেলে ভরো।


প্রকাশ: ১০-অক্টোবর-২০২৩

আগামী ১১ই অক্টোবর সারা রাজ্যে রেগা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য খেতমজুর ইউনিয়ন। সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব যে বিবৃতি দিয়েছেন তাই পার্টির রাজ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হল।

রেগা দিবস পালন করুন। ১১ই অক্টোবর মহত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্ম নিশ্চয়তা আইন MGNREGA দিবস। MGNREGS ছিল দেশের গরীব মানুষের স্বপ্ন পূরণের প্রকল্প। যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হলো MGNREGA ২৫শে আগস্ট ২০০৫। সারা দেশে সব রাজ্যগুলোকে কার্যকরী করতে বলা হয়। ২০০৬ সাল থেকে রাজ্য গুলো কাজ শুরু করে। আইনে বলা হলো ১০০ দিনের কাজ শুরু করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে থাকবে। অর্থাত মানুষ কাজ চাইলে সরকার কাজ দিতে বাধ্য থাকবে। খরা ও বন্যা কবলিত এলাকায় ১৫০ দিন কাজ করা হবে।

এখন প্রশ্ন হলো গরীব মানুষ কাজ পাবে কিভাবে? আইনে বলা হলো পাবে। এই প্রকল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা গরীব শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দিতে হবে। এই কাজ ধারাবাহিকভাবে করবে রাজ্য সরকারগুলি। সচেতনতা শিবির, সেমিনার, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা সভার মধ্য দিয়েই সে কাজ চলবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হলো না। ফল হলো উলটো। কাজ চেয়ে মানুষ কাজ পায় না। কাজ করে মজুরি পায় না। মজুরি বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই। মাসের পর মাস মজুরি বকেয়া পড়ে থাকে। কাজ করছে একজন, টাকা পাচ্ছে আর একজন। কাজ না করে ফলস মাস্টার রোলে টাকা চুরি। নেতা মন্ত্রীদের পকেট ভারী। গরীবের কোটি কোটি টাকা লুট। শাস্তির কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। আর সরকার ও বছর বছর বরাদ্দ কমাতে থাকে। সরকারের বক্তব্য মানুষের কাজের প্রয়োজন নেই। সুতরাং বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে, সচেতনতা বৃদ্ধি না করে, মানুষকে অন্ধকারে রেখে,অন্যায়ভাবে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে।

১৯৯১ সালে নয়া উদার অর্থনীতির প্রভাবে সারা দেশে কর্ম সংকোচন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্ম সংস্থান কমছে। সরকারী সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে। মালিক হচ্ছে বেসরকরী কোম্পানি। এমনকি মাটির তলায় যে খনিজ সম্পদ, সেটাও বেসরকরী মালিকানার হাতে। ফলে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অভাব অনটন বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ ভীষণ বিপদের মধ্যে আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সুযোগ আছে, ১০০ দিনের কাজটাকে ২০০ দিন করা এবং বাজার দর বরাবর মজুরি ৬০০ টাকা করতে পারে। তাহলে পরিবার পিছু ২০০×৬০০ = ১,২০,০০০ টাকা আয় করতে পারে। মাঝ পথে পড়াশোনা ছেড়ে বাচ্চা বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের পরিযায়ী হয়ে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হয় না। শুধু সরকারের সদিচ্ছা, আর পঞ্চায়েতে পরিকল্পনা। আর কিচ্ছু না। সম্পদ সৃষ্টি হবে, কাজ পাবে, বাড়িতে বসে পড়াশোনা হবে, ড্রপ আউট কমবে। সরকারের সদিচ্ছা নেই বলে রেগা দিবস পালন করতে হচ্ছে গ্রামীণ শ্রমজীবী ও খেতমজুরদের। গরীবের জন্য আইন সরকার যখন কোটিপতির স্বার্থে ব্যবহার করে, তখন গরীবের আইন গরীবকেই রক্ষা করতে হয়, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। MGNREGA গরীবের জন্য। গরীবকেই রক্ষা করতে হবে। আসুন ১১ই অক্টোবর রেগা দিবস পালন করুন। গরীবের দাবি প্রতিষ্ঠা করুন।

বকেয়া মজুরি প্রদান করো।

এখনি রেগার কাজ চালু করো।

চোরেদের জেলে ভরো।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 10-Oct-23 01:09 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/mnrega-day-the-call
Categories: Current Affairs
Tags:
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড