বিদেশে না গিয়েও করোনা ২৪ ঘণ্টায় খোঁজ তিনজনের

Author
ওয়েবডেস্ক

Corona Infection Found In Resident Indians Too

প্রকাশ: ২২-মার্চ-২০২০

হাবড়া ও কলকাতা, ২১ মার্চ— চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যে তিনজনের শরীরে মিলল কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছালো চার।

এর মধ্যে আক্রান্ত তিনজন সদ্য বিদেশ ফেরত। তবে উদ্বেগের মাত্রা বেড়েছে চতুর্থ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতিতে। দমদমের বাসিন্দা ৫৭ বছরের ওই ব্যক্তির সাম্প্রতিককালে কোনও বিদেশ সফরের তথ্য নেই। সাধারণ জ্বর সর্দি নিয়েই ভর্তি হয়েছিলেন সল্টলেকের এক বেসরকারি নার্সিংহোম। এদিন সন্ধ্যায় নাইসেডের রিপোর্ট দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। ফলে চতুর্থ ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তরও। এই মুহূর্তে ঐ বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ আইসোলেশনে রয়েছেন দমদমের ওই ব্যক্তি। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। 

শুক্রবার সকালে লন্ডন ফেরত দক্ষিণ কলকাতার এক যুবকের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। এরপর ওই দিন রাতেই নাইসেডের পরীক্ষায় উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা সদস্য বিদেশ ফেরত এক তরুণীর দেহে মেলে করোনার উপস্থিতি। সদ্য স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে আসে তরুণী। উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা। তবে প্রথম দুজন আক্রান্তের মত বেপরোয়া ছিলেন না এই তরুণী, কোয়ারান্টাইনে থেকেই স্বেচ্ছায় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। শুক্রবারই হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতেই নাইসেডের রিপোর্ট আসে ‘পজিটিভ’। তবে বৃহস্পতিবার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ওই তরুণী, প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের জন্য। যার ফলে বেলেঘাটা আইডি’তে সেই সময় তাঁর সঙ্গে লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। 

এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনজন করোনা আক্রান্ত। এই প্রবণতাই উদ্বেগে রাখছে স্বাস্থ্য দপ্তরকেও। এই মুহূর্তে করোনা সতর্কতায় গৃহ-পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ২১হাজারের বেশি মানুষকে। বেলাঘাটা আইডি সহ একাধিক সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন ৪১জন। বেলেঘাটা আইডি’র দুই কর্মীকেও ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে করোনা সন্দেহে। এর মধ্যেই যেভাবে বিদেশ যাত্রার কোনও রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও দমদমের ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের হদিশ মিলল তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হলো।

রাতে স্বাস্থ্যভবন ও সল্টলেকের ঐ বেসরকারি নার্সিংহোম সূত্রে জানা গেছে, এসএসকেএম ও নাইসেড দুটি জায়গা থেকে আসা রিপোর্টেই ওই ব্যক্তির শরীর কোভিড-১৯ ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। ওই ব্যক্তি ১৬ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির সময় শুকনো কাশির লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৩ মার্চ থেকে শুকনো কাশি শুরু হয় তাঁর। ১৯ মার্চ থেকে সমস্যা আরও প্রবল হয়। তাঁকে ভেন্টিলেশনেও নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই লালারসের নমুনা প্রথমে এসএসকেএম’এ পাঠানো হয়। তাতেই প্রথম ইঙ্গিত মেলে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকরা এরপর নমুনা এদিনই নাইসেডে পাঠান। রাতে রিপোর্ট আসে ‘পজিটিভ’। 

স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এরপরেই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়। এই সময়কালে বিদেশে তিনি গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাওয়া হয়। পরিবার সূত্রের দাবি, এই সময়কালে বিদেশে যাননি তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে করোনা আক্রান্ত অন্য কোনও রাজ্যে তিনি গিয়েছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের হদিশ মেলার পরেই হাসপাতালের তরফে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা ও দেখভালের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নাইসেডের রিপোর্ট আসার পরে জানা যায় হাবড়ার বাসিন্দা ওই ছাত্রীও করোনা আক্রান্ত। গত ১৯ মার্চ দেশে ফিরেছেন ওই তরুণী। তরুণীর শরীরে কোনও ধরনের করোনার উপসর্গ দেখা না গেলেও বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পরে তাঁকে গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে বলা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন সতর্কতার সঙ্গেই তা পালন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই তরুণী এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার অব বিজনেসের ছাত্রী। এডিনবরা থেকে সরাসরি দেশে ফেরার বিমান তিনি পাচ্ছিলেন না। তাই প্রথমে এডিনবরা থেকে লন্ডনে আসেন। তারপর সেখান থেকে গত ১৮ মার্চ বিমানে লাহোর হয়ে ১৯ মার্চ মুম্বাই পৌঁছায়। সেখান থেকে ওই দিনই দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে ওই তরুণীকে আনতে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা। আক্রান্ত তরুণীর পরিবার জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পরে তাঁকে হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ততক্ষণে তিনি জানতে পেরে গিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড ফেরত এ রাজ্যেরই এক যুবক ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই হোম আইসোলেশনে যাওয়ার আগে ওই দিন দুপুরেই তিনি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যান নিজেকে পরীক্ষা করানোর জন্য। জানা যায় প্রায় ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর তাঁর প্রাথমিক স্ক্রিনিং হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকার নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নাইসেডের রিপোর্টে জানা যায় ‘পজিটিভ’। তবে ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত নিয়ম মানার পরেও, শুধুমাত্র গুজবের জেরেই তাঁদের হেনস্তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তরুণীর বাবাও বেলেঘাটা আইডি-তে মেয়েকে ভর্তি করে ফিরে নিজের বাড়িতে ফেরেননি। অন্য একটি বাড়িতে একা হোম আইসোলেশানে থেকেছেন। পরবর্তীতে তাঁর বাবাকে রাজারহাটে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়। সে দিন ওই বিমানে তরুণীর আশপাশে থাকা যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয় শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 22-Mar-20 13:02 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/corona-infection-found-in-resident-indians-too
Categories: Current Affairs
Tags: coronainindia, coronainwb, covid-19
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড