ভেস্তে গেল ফন্দি, বাতিলই হয়ে গেল দীনেশ বাজাজের মনোনয়ন

Author
ওয়েবডেস্ক

Holy Scheme Balked: Bajaj's Nomination Rescined

প্রকাশ: ১৮-মার্চ-২০২০

কলকাতা, ১৭ মার্চ— গোপন আঁতাত ফাঁস হয়ে গেলেও রাজ্যসভার আসনটি জুটলো না! বাতিলই হয়ে গেল রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি’র দাঁড় করানো ‘নির্দল’ প্রার্থী দীনেশ বাজাজের মনোনয়নপত্র। মঙ্গলবার শুনানির পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয় যথাযথ হলফনামা দাখিল না করার কারণে। এরফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার শূন্য পাঁচ আসনে পাঁচজন প্রার্থীই রয়ে গেলেন। অর্থাৎ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আর কোনো প্রয়োজন হবে না। বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঁচ আসনে পাঁচ প্রার্থীকেই বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হবে। 

মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিনে শেষ সময়ে দৌড়ে দৌড়ে এসে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তৃণমূল-বিজেপি’র ঘোড়া দীনেশ বাজাজের দৌড় এভাবেই শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের যৌথ প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সাংসদ হওয়ার পথে আর কোনো বাধা রইলো না। লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে সংসদে তিনিই হবেন বাংলা থেকে একমাত্র বামপন্থী প্রতিনিধি। বিকাশ ভট্টাচার্য এদিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আমাকে হারানোর জন্য তৃণমূল এবং বিজেপি যেভাবে একসঙ্গে মাঠে নেমেছিল তাতে ওদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। ওদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হলেও বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং তাদের বিধায়কদের ভোটেই আমি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। এখন ভোট ছাড়াই জয়ী হলেও তৃণমূল-বিজেপি’র অপচেষ্টাকে বানচাল করে দিয়ে ওদের মুখোশ খুলে দেওয়া গিয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসাবে আমি সংসদে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য লড়াইকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করবো।’’ 

জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ ভট্টাচার্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান, কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তীসহ কংগ্রেসের বিধায়করা এবং বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী সহ বামফ্রন্ট বিধায়করা। সুজন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি’র আঁতাত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে দীনেশ বাজাজকে নির্দল সাজিয়ে প্রার্থী করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে। ভালোই হয়েছে ওঁর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তা না হলে তৃণমূলের কপালে আরও দুঃখ ছিল। ভোট হলে ওদের নিজেদের প্রার্থীরা জিততো কিনা সন্দেহ দেখা দিত। 

রাজ্যসভার বাকি চারটি আসনে যাঁদের মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে এবং যাঁরা সাংসদ হতে চলেছেন তাঁরা হলেন তৃণমূলের সুব্রত বক্সী, দীনেশ দ্বিবেদী, অর্পিতা ঘোষ এবং মৌসম বেনজির নূর। এরমধ্যে মৌসম বেনজির নূরের মনোনয়ন নিয়েও অভিযোগ ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা খতিয়ে দেখে তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে রায় দিয়েছে। সোমবার স্ক্রুটিনির সময়েই তাঁর এবং দীনেশ বাজাজের মনোনয়ন নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শুনানির পরে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিসের সঙ্গে কথা বলে বিকেল পাঁচটায় রিটার্নিং অফিসার তথা বিধানসভার সচিব দীনেশ বাজাজের মনোনয়ন বাতিল বলে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলিকে। 

মৌসম নূরের মনোনয়নের হলফনামায় কিছু অসম্পূর্ণতা ছিল, সব তথ্য তিনি জানাননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিগুলোকে মনোনয়ন বাতিলের উপযুক্ত বলে মনে করেনি। কিন্তু আমরা অভিযোগের মাধ্যমে তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে দিতে পেরেছি।

দীনেশ বাজাজ তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তাতে নোটারির কোনো স্বাক্ষর ছিল না। কেবল স্ট্যাম্প পেপারের ওপরে লিখে এনেছিলেন। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সঙ্গে অতীতে বিকাশ ভট্টাচার্যের মনোনয়ন বাতিলের তুলনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেছেন, দুটি বিষয় এক নয়। আমার ক্ষেত্রে সেবার একটি অতিরিক্ত হলফনামা জমা দিতে সময়সীমা পেরোনোর পরে দুমিনিট দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর দীনেশ বাজাজের ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য হলফনামাই জমা পড়েনি। অর্থাৎ তিনি কোনো শপথ না নিয়েই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, তাই সেটা বাতিল হওয়া অনিবার্য ছিল। 

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস যৌথভাবে বিকাশ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা পরেই তৃণমূল-বিজেপি শিবির বিপদ গুণেছিল। রাজ্যসভার চার আসনে নিজেদের চার প্রার্থীকে জেতানোর পরে তৃণমূলের হাতে এমন অতিরিক্ত ভোট থাকে না যাতে পঞ্চম আসনে বিকাশ ভট্টাচার্যের জয় তারা ঠেকাতে পারে। তাই বিকাশ ভট্টচার্যকে ঠেকাতে তারা প্রথমে কংগ্রেসের একাংশের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল যাতে কংগ্রেস অন্য কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করায়। সেক্ষেত্রে তৃণমূল তাঁকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু কংগ্রেস তাতে রাজি হয়নি। তখন ঘাসফুল আর পদ্মফুলের মিলিত চেহারা প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসে। নির্দল নাম দিয়ে তৃণমূলেরই প্রাক্তণ বিধায়ক দীনেশ বাজাজকে প্রার্থী করে তারা। বিজেপি ও তৃণমূলের বিধায়করা যাতে মিলিতভাবে দীনেশ বাজাজকে ভোট দিতে পারেন তারজন্যই নির্দল তকমা। তৃণমূলের দশজন বিধায়কের প্রস্তাবসহ মনোনয়ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের প্রাক্তণ বিধায়ক দীনেশ বাজাজকে সমর্থনের ইঙ্গিতও দিয়ে দেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু এত কিছু করেও শেষরক্ষা হলো না। তৃণমূল-বিজেপি’র আঁতাতটাও প্রকাশ্যে চলে এলো, অথচ রাজ্যসভার আসনটাও জুটলো না। 

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, বিকাশ ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও শক্তিশালী হলো। সংসদের অভ্যন্তরেও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র হবে। 

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 18-Mar-20 12:30 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/holy-scheme-bulked-bajajs-nomination-rescined
Categories: Current Affairs
Tags: cpimwb, rajya sabha, tmc bjp
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড