ভারতের ইতিহাসের কালো দিন - সমন্বয় থেকে সংঘাত

মহঃ হাসিব হোসেন
ভারতের উপাসনালয় আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে ভারতে যত ধর্মস্থান ছিল, তা অপরিবর্তিত রাখার নিয়ম রয়েছে। সেই আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই একটার পর একটা ধর্মস্থানে আক্রমণ হয়েই চলেছে।

হিন্দুত্ববাদী শক্তির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উপাদান ব্রিটিশ আনুকূল্যে সভারকরের হাত ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে এক শতাব্দী আগে প্রবেশ করলেও, তার সর্বগ্রাসী উত্থানের সূত্রপাত কিন্তু ১৯৯২-এর ৬ই ডিসেম্বরের ঘটনায়। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা নিছকই আর পাঁচটা স্মৃতিসৌধ ধ্বংসের মতো নয়। তার তাৎপর্য এবং অভিঘাত অনেক গভীর, ব্যপ্ত এবং সুদুরপ্রসারী।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটিশ বাহিনীর টিপার-এর ভূমিকা পালন করা সঙ্ঘ পরিবার, শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে। তারা কোনোদিনই স্বাধীন ভারতের সংবিধান এবং ত্রিবর্ণ পতাকা স্বীকার করতে চায়নি। স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভারতের জায়গায় তাদের আকাঙ্খা ছিল একটা হিন্দুরাষ্ট্র নির্মাণের; যেখানে সমাজের ব্যাপকতম হিন্দু সম্প্রদায়, প্রাচীন গৌরবের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে, এক অভিন্ন হিন্দু পরিচিতি গ্রহণ করে হিন্দুত্ব সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতি গঠন করবে। ভৌগলিক জাতীয়তাবাদ নয়, হিন্দুত্ব সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদই হবে ভারত রাষ্ট্রের দার্শনিক আধার, মনুস্মৃতি হবে সংবিধান। সঙ্ঘের মতে, তার জন্য প্রয়োজন হিন্দু সমাজের সামরিকীকরণ এবং সামরিক বাহিনীর হিন্দুকরণ। আগ্রাসী সমাজ ব্যতীত সাভারকর প্রণীত হিন্দু রাষ্ট্রের গঠন অসম্ভব।
সেই হিন্দুরাষ্ট্র গঠনে গান্ধীজি ছিলেন অন্যতম প্রধান অন্তরায়। তাই স্বাধীন ভারতে সঙ্ঘের পদার্পণ গান্ধী হত্যার মাধ্যমে। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে একনিষ্ঠ জওহরলাল নেহরু এবং বল্লভভাই প্যাটেল (যাকে সঙ্ঘ পরিবার নেহরুর বিরুদ্ধে হিন্দুদের লৌহপুরুষ হিসেবে প্রোজেক্ট করতে চাইছে) তৎক্ষণাৎ আরএসএস'কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ভারতের সংবিধান এবং পতাকা মেনে চলার শর্তে আরএসএস'এর উপর থেকে নিষেধ অপসারিত হয় ১৯৪৯ সালে। এবং সে'বছরেই ২২শে ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদের ভিতর রামলালার মূর্তি উদ্ধার হয়। বলা বাহুল্য, আরএসএস'ই সেই মূর্তি রেখে এসেছিল বাবরি মসজিদে।
এখানেই বাবরি ধ্বংসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনুভব করতে হবে। আরএসএস এবং সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুরাষ্ট্র প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি বাবরি মসজিদ। আশির দশকে রাম জন্মভূমি আন্দোলন শুরু করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ১৯৮৩ সালে বিভিন্ন জাতি-বর্ণে বিভক্ত বিভিন্ন ধারার তথাকথিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে এক সমসত্ত্ব সাংস্কৃতিক হিন্দু পরিচয়ে বাঁধার উদ্দেশ্য শুরু হয় 'একাত্মতা যাত্রা'। আরো বলা হয়, ইসলাম এবং খ্রীষ্ট ধর্মে হিন্দুদের ধর্মান্তকরণ রুখতেও এই যাত্রা আয়োজিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এই যাত্রা রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি মজবুত করে। অতঃপর উদ্বেল হয়ে ওঠে আন্দোলন।
সঙ্ঘের দাবি, রামের জন্মস্থান বাবর জোর করে দখল করে, পুরোনো মন্দির ভেঙে, ধ্বংসস্তূপের উপর মসজিদ নির্মাণ করেছে। এবং এভাবেই দেশজুড়ে যত মসজিদ আছে, অধিকাংশই মন্দিরের ধ্বংসস্তূপের উপর নির্মিত। বহু ধারায় বিভক্ত হিন্দু জনমানসে সুপরিকল্পিতভাবে রামভক্তি, বলা ভালো রাম-উন্মাদনা অনুপ্রবিষ্ট করানো হয়েছে আন্দোলনকালীন সময়ে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রচার সামগ্রী ছাপানোর পাশাপাশি, জাতীয় দুরদর্শনে রামায়নের সাড়ম্বর সম্প্রচার– সর্বাধিক সম্ভাব্য উপায়ে মগজধোলাইয়ের কাজ চলেছে। পরিশেষে বিজেপি নেতা আদবানির নেতৃত্বে রথযাত্রার মাধ্যমে করসেবকরা জড়ো হয়ে ভেঙে ফেলে চার শতাব্দী প্রাচীন স্মৃতিসৌধটি।
ফ্যাসিবাদ একটি প্রতিক্রিয়াশীল গণআন্দোলন। প্রবল অর্থনৈতিক সংকটের আবহে শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে সে ক্ষমতা দখল করে। তার উত্থান পর্বে সাথে থাকে হতাশা-মণ্ডিত মধ্যবিত্ত জনগণ। ভারতে হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদের উত্থানের গণভিত্তি ছিল রাম জন্মভূমি আন্দোলন। সেই গণভিত্তিকে প্রবল জনসমর্থনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বাবরি ধ্বংসের সাফল্য। এখানেই বাবরি ধ্বংসের তাৎপর্য। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছেও বাবরি শুধুমাত্র একটি মসজিদের ধ্বংস হওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল মুসলমানদের পরিচিতি, অস্তিত্বের এবং মর্যাদার উপর সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকতার সবথেকে নৃশংস এবং কদর্য কর্তৃত্বের সবথেকে অভিঘাত মূলক প্রতীক। এই ঘটনার অভ্যন্তরেই জন্ম নিয়েছিল 'নাম মিটা দো বাবর কা' বা 'মোল্লা যাও পাকিস্তান'-এর মতো ভয়ংকর সব স্লোগান। যে স্লোগানের পরতে পরতে মুসলিমদের ইতিহাস ভারত-ভূম থেকে মুছে দেওয়ার হুঙ্কার এবং ভারতীয় মুসলিমদের বেনাগরিক প্রতিপন্ন করার উল্লাস। সংগঠিত ধ্বংসপ্রক্রিয়া যেন ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর সংখ্যাগুরু উন্মাদনা পরিপূর্ণ বুলডোজার চালানোর শিলান্যাস।
বাবরি থেকে যে ভয়াবহতার সূত্রপাত তাই ক্রমশঃ ভারতের সমাজ রাজনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। অযোধ্যার পর স্লোগান উঠেছিল– 'অযোধ্যা তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়/ কাশি মথুরা আভি বাকি হ্যায়!" অর্থাৎ ঐতিহাসিক মসজিদ বা ধর্মস্থানের ধ্বংস-কল্প অযোধ্যাতেই থেমে যায়নি। কাশির জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরার ঈদগাহ আছে হিন্দুত্ববাদীদের নিশানায়। সম্প্রতি, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছে মুসলিমদের উচিত একটু সৌভ্রাতৃত্ব প্রদর্শন করে কাশি মথুরা হিন্দু ভাইদের হাতে তুলে দেওয়া। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ওই দুটি স্থান তারা দখল করবে। শুধু কাশি মথুরাও না, তাজমহলের মতো সৌধের তলাতেও নাকি হিন্দু মন্দির ছিল, এই গুজব ছড়িয়ে তাজমহল ভাঙার জন্যেও উস্কানি দিচ্ছে তারা। 'দ্য তাজ স্টোরি' নামক একটি সিনেমা বানিয়ে তাজমহল সম্পর্কিত মিথ্যা গণপরিসরের মূলস্রোতে নিয়ে আসা হয়েছে। আসলে এক-একটা ধর্মস্থান আক্রমণ হিন্দু রাষ্ট্রের অভিমুখে এক-একটি মাইলফলক। উত্তরপ্রদেশের সম্বল প্রদেশে জামে মসজিদের তলায় মন্দির ছিল– এই দাবি তুলে স্থানীয় কোর্টে মামলা করে হিন্দুত্ববাদীরা। ফলস্বরূপ মসজিদের নিচে খনন চালায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। লাগাতার প্রত্নতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডে মসজিদের স্বাভাবিক উপাসনা প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ায়, স্থানীয় অধিবাসীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালায় পুলিশ। চারজন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রেফতার হন।
ভারতের উপাসনালয় আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে ভারতে যত ধর্মস্থান ছিল, তা অপরিবর্তিত রাখার নিয়ম রয়েছে। সেই আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই একটার পর একটা ধর্মস্থানে আক্রমণ হয়েই চলেছে। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময়, সঙ্ঘের দাবি ছিল, রাম জন্মভূমি যেহেতু আস্থার প্রশ্ন, তাই আদালত মন্দির-মসজিদ বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সংবিধানকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল তারা। প্রহসনের বিষয় হলো, ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত রায় দানের সময় ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উপেক্ষা করে সংখ্যাগুরুর আস্থা অনুযায়ী রায় দান করেছিল। ভারতের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক সংস্থার পক্ষ থেকেই সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। এই পর্যায়ে যখন কোনো দেশের বিচারব্যবস্থা চলে যায়, তখনই সেই দেশের রাজনৈতিক পরিসরকে উগ্র সংখ্যাগুরুবাদী অবিহিত করতে হয়। এমনিই মামলা চলাকালীন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কেমন দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে গেছিল, তা সকলেই লক্ষ্য করেছিলেন।
এখন আরএসএস'এর শতবর্ষ উদযাপন হচ্ছে। বস্তুত, শতবর্ষ উৎযাপনের শুভ মহরতটি হয়েছে কিন্তু ২০২৩-এর জানুয়ারি মাসে। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে আদালতের রায়ে মন্দির স্থাপন করার পর 'প্রাণ প্রতিষ্ঠা' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সংবিধানকে ধুলোয় মিশিয়ে, ভারতের বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কফিনে সবথেকে ভারি পেরেক মেরে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সাংবিধানিক আধিকারিকরা ওই অনুষ্ঠানে শুধু প্রকাশ্য পৃষ্ঠপোষকতায় করেন নি, কার্যত উদযাপন করেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকটা মুখ থেকে সেদিন জল্লাদের হাস্যকণ্ঠে ঘোষিত হয়েছে, ভারত হিন্দু রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত। মুসলিমরা এই দেশের আন-অফিসিয়াল দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। সেই জান্তব-উল্লাস মহাসমারোহে উৎযাপিত হয়েছে দেশের নানান প্রান্তে। কেন্দ্রীয় সরকার সহ একাধিক রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছিল সেদিন। হিন্দুদের সামরিকীকরণের জন্য যে উগ্র ধ্বংস-উন্মুখ হিন্দু জন-মানস গঠন করা আরএসএস'এর লক্ষ্য ছিল, তার সংগঠিত সূত্রপাত ঘটেছিল রাম জন্মভূমি আন্দোলনে। এবং হিন্দু রাষ্ট্রের অভিলক্ষ্যে যে রাষ্ট্রীয় পূর্ণ নিয়োগের তাগিদ ছিল, তা পরিস্ফুট হয়েছে রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিনে।
আজ দেশের নানান প্রান্তে যত রকমের মুসলিম নির্যাতন চলছে, তা আচমকা উদয় হওয়া বাস্তবতা নয়। ভারতীয় গণতন্ত্রের উদরে তার সম্মতি নির্মাণ হয়েছে তিলে তিলে। সেই কর্মযজ্ঞের সবথেকে ভিত-নাড়ানো অধ্যায়টি ছিল বাবরি ধ্বংস। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের আনা বুর্জোয়া জমিদার রাষ্ট্র কাঠামোর ক্ষমতা কেন্দ্রে যে বুর্জোয়া-ভুস্বামী জোট বহাল ছিল, তাদের একটা আপাত ধর্মনিরপেক্ষ এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান ছিল। তারা সাম্রাজ্যবাদের সাথে প্রয়োজনে আপোষ করতো ঠিকই, কিন্তু সংগ্রামী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐতিহ্যও কিছুটা ধারণ করতো। মাথার উপর সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক শিবির ছিল। তাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতি সংবেদনশীল মনোভাবে ভারতের মতো দেশসমূহ ব্যাপক উপকৃতও হতো। তাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী কিছুতেই তাদের বিশ্বস্ত দোসর পাচ্ছিল না ভারতীয় রাজনীতির মূলস্রোতে। কংগ্রেসকে ভেঙে, ভূস্বামীদের নেতৃত্বে মার্কিন পন্থীদের এককাট্টা করে সিন্ডিকেট কংগ্রেস তৈরি করেছিল বটে, কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। স্বতন্ত্র পার্টির মতো কিছু উগ্র দক্ষিণপন্থী পার্টিও ভালো জনসমর্থন আদায় করতে পারছিল না। তাই, প্রাক্তন নাৎসিদের সমন্বয়ে ন্যাটো সম্প্রসারণ করা মার্কিন শিবিরে হিটলার অনুরাগী সঙ্ঘের মধ্যেই দেখেছিল সম্ভাবনার বীজ। যোগাযোগ রেখে চলত তাদের সাথে। অর্থনৈতিক, সামরিক এবং বৌদ্ধিক ভাবে পুষ্ট করত সময়ে সময়ে। ৯২-এর আগে যে ব্যাপক খরচ-খরচা লেগেছিল প্রচারাভিযান এবং কর্মসূচি গ্রহণে, তার উৎস সম্পর্কে আলোচনা তাই অমূলক। রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট গঠন করে সেই আন্দোলনের পিছনে তাবড় লগ্নি-পুঁজি গোষ্ঠীকে সমবেত করার পিছনেও কাদের মস্তিষ্ক কার্যকর ছিল, তাও উল্লেখ না করলেও চলবে। নব্বইয়ের শুরুতে যখন সমাজতান্ত্রিক শিবিরের বিপর্যয় ঘটছে, তখন ভারতের তদানীন্তন শাসকরা ভূ-রাজনৈতিকভাবে সহায়-সম্বলহীন। নিরুপায় হয়ে আমেরিকার পদানত হয়ে চালু করছে নয়া উদারনীতি। সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে সবথেকে মোক্ষম পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেয় সাম্রাজ্যবাদ। তাদের ঐতিহাসিক এজেন্টকে রাজনীতির মূলস্রোতের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা চালু করে দেয়।
ভারতীয় সমাজ গণতন্ত্রের লাগাতার ব্যর্থতা এবং পরিশেষে নয়া উদারনীতি গ্রহণ করে ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার আরো ধ্বংসাত্মক পরিণতির সুবাদে ভারতীয় সমাজে এবং অর্থনীতিতে সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠছিল। যে সংকট এখনও তীব্রতা বাড়িয়েই চলেছে। জনসমাজে ব্যাপক হতাশা জন্ম নিচ্ছে। বুর্জোয়া গণতন্ত্রের নজিরবিহীন সংকটকালে যদি বামপন্থী বা সমাজতন্ত্রীরা নির্ণায়ক ভূমিকা না নিতে পারে, এবং রাজনীতিতে কোনো শক্তিশালী উগ্র দক্ষিণপন্থী বা ফ্যাসিবাদী শক্তির উপস্থিতি থাকে, তাহলে সহজেই তারা সেই ক্ষোভ এবং হতাশাকে প্রতিক্রিয়ার পথে নিয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদী গণআন্দোলন সৃষ্টি করে। সাম্রাজ্যবাদ বিলক্ষণ জানতো, তার নতুন অর্থনৈতিক নীতি এবং নতুন আন্তর্জাতিক অর্ডারের অন্তিম পরিণতি কী! সে জানত হতাশা এবং ক্ষোভ অবশ্যম্ভাবী। তাই ভবিষ্যতের বিপদ সামাল দিতে লগ্নি পুঁজির সবথেকে লুটেরা এবং প্রতিক্রিয়াশীল সন্ত্রাসবাদকে তখনই জাতীয় রাজনীতিতে টেনে তুলতে হবে। নতুবা বামপন্থীরা আগামীর পরিসর দখল করবে। তাই, সর্বশক্তি দিয়ে তারা ঘটিয়েছিল বাবরি ট্র্যাজেডি।
৬ই ডিসেম্বর মনে রাখতেই হবে। মগজে গেঁথে নিতে হবে। ভারতীয় গণতন্ত্র অপসারণের নীল-নকশা আঁকা হয়েছিল সেদিন। সংবিধান প্রতিস্থাপন করে মনুস্মৃতি চালু করার ঘোষণা হয়েছিল সেদিন। ভারতীয় মুসলমানদের অনন্ত গহীনে পাঠিয়ে দেওয়ার সূচনা হয়েছিল সেদিন। ৬ই ডিসেম্বর দেখেছিল ভারতের মাটিতে নব্য ফ্যাসিবাদের ক্রূর হুঙ্কার। আবির্ভাবের হুঙ্কার। ভারতীয় সাধারণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা।
হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করতে হবে। ৬ই ডিসেম্বর সেই লক্ষ্যে শপথ নেওয়ার দিন। দেশের স্বাধীনতার সমস্ত অর্জন; সংবিধান, জাতীয় পতাকা, স্মৃতিসৌধ এবং বৈচিত্রপূর্ণ সমাজ বুনন, সব রক্ষা করতে হবে। আরএসএস-বিজেপি এবং তাদের দোসর শক্তিগুলির বিরুদ্ধে সমস্ত স্তরে গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে সমবেত করতে হবে। এবং পাশাপাশি বাম ও সমাজতান্ত্রিক বিকল্প যাতে সংকট মোচনের রূপরেখা হয় তা নিশ্চিত করে গণ-আন্দোলন এবং শ্রেণী-আন্দোলন মজবুত করতে হবে। এবং সংখ্যাগুরু বাদের সাথে ন্যূনতম আপোষ না করে সংখ্যালঘুর অধিকারের দাবিতে ব্যাপক লড়াই চালাতে হবে।
প্রকাশ: ০৬-ডিসেম্বর-২০২৫
শেষ এডিট:: 06-Dec-25 01:29 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/a-dark-day-in-indians-history---from-harmony-to-conflict
Categories: Fact & Figures
Tags: 6december, babrimasjiddemolition
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (147)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (130)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
বাংলার বিকল্প পরিবেশ ভাবনা ও উন্নয়নের অভিমুখ
- সৌরভ চক্রবর্ত্তী
পশ্চিমবাংলার ক্রীড়ানীতি ও বিপল্প প্রস্তাব
- সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
তথ্য প্রযুক্তি এ আই আমাদের রাজ্যে সম্ভাবনা
- নন্দিনী মুখার্জি
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
- ওয়েবডেস্ক





