গাজায় ব্যবহৃত এক শক্তিশালী অস্ত্রঃ একটি প্রতিবেদন

ইজরায়েলি সেনারা গাজায় ব্যাপক শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। কমিশন ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের এ গণহত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছে।

ইজরায়েল হুঙ্কার দিয়ে চলেছে প্যালেস্তিনীয়দের গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। ২৩ মাস ধরে চলা যুদ্ধে ৬৫ হাজারের ওপর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতরভাবে, আহতের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। হতাহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা অন্তত ৫০ হাজার। অনাহার ও আকাল পরিস্থিতির শিকার প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ। গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ উচ্ছেদের মুখোমখি। এই সপ্তাহেই নতুন করে জবরদখল, গণহত্যা আর গণউচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ইজরায়েল। শহরের উত্তর দিক থেকে ইজরায়েলি সেনা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ সীমান্তের একটি অংশ খুলে দিয়ে বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে পালানোর ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়া হয়েছে। একুশ শতকের সবচেয়ে মর্মান্তিক হত্যা অভিযান চলছে গাজায়। পার্শ্ববর্তী কোনও দেশই প্যালেস্তিনীয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে চাইছে না; বিশ্বব্যাপী অভিবাসন সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ১৯৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে, স্বাধীন প্যালেস্তাইনের স্থায়ী স্বীকৃতির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৪৭টি দেশ। তবে, কূটনৈতিক দিক থেকে কোণঠাসা হলেও, আমেরিকার মদতে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে এই হত্যা আর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল।
জাতিসংঘের তদন্ত গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যা বলে চিহ্নিত করেছে। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারওম্যান নাভি পিল্লাই আল জাজিরাকে বলেছেন, তাঁদের রিপোর্টে ইজরায়েলি নেতাদের – প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট এবং রাষ্ট্রপতি আইজাক হার্জোগ সহ – দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেহেতু এই তিন ব্যক্তি রাষ্ট্রের কার্যকর্তা ছিলেন, তাই আইন অনুযায়ী ইজরায়েল রাষ্ট্রকেই এই গণহত্যার জন্য দায়ী করেছে কমিশন। কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গাজা উপত্যকায় থাকা প্যালেস্তিনীয়দের পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার গণহত্যামূলক অভিপ্রায় রয়েছে ইজরায়েল কর্তৃপক্ষ এবং ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর।
এর আগে, ২০২৩ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করে, গাজায় তাদের আচরণকে গণহত্যার সমপর্যায়ের বলে অভিযোগ করেছিল। সেই মামলা এখনও চলছে। গত এপ্রিলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, প্যালেস্তিনীয়দের নিশ্চিহ্ন করার ‘সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য’ নিয়েই ইজরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ইজরায়েলি সেনারা গাজায় ব্যাপক শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। কমিশন ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের এ গণহত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছে।
গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ৭ অক্টোবর, ২০২৩, যখন হামাস দক্ষিণ ইজরায়েলে আক্রমণ চালিয়ে, ১,১৩৯ জন মানুষের মৃত্যু ঘটায়। প্যালেস্তাইন দুই শতাধিক মানুষকে বন্দী করেছিল, যাঁদের মধ্যে ৪৮ জন গাজায় রয়ে গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এর পর থেকে ইজরায়েলি বিমান হামলা এবং স্থল অভিযানগুলির ফলে কমপক্ষে ৬৪,৮৭১ জন মারা গেছে এবং ১,৬৪,৬১০ জন আহত হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে, ইজরায়েলকে একটি ‘সম্পূর্ণরূপে স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, জাতিসঙ্ঘের সব প্রতিষ্ঠানগুলিকে গাজায় অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে, অনাহারে মারার নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং বাতিল করতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থা, যা হাজার হাজার প্যালেস্তিনীয়দের নিহত এবং আহত হওয়ার কারণ ঘটিয়েছে। কমিশন আরো দাবি করেছে, ইজরায়েল এবং দখল করা প্যালেস্তিনীয় অঞ্চল, যেমন পূর্ব জেরুজালেমে, তদন্ত চালানোর জন্য প্রবেশাধিকার।
ইজরায়েল কীভাবে গাজাতে এইরকম গণহত্যা সংগঠিত করতে পারল?
জাতিসংঘের কমিশনের পর্যবেক্ষণ, গাজায় গণহত্যার মধ্যে একটি জাতিকে নির্মূল করার উদ্দেশ্য এবং প্রচেষ্টা দেখা গেছে। এই স্তরের হিংস্রতা ঘটানোর জন্য দরকার, যাদের মারতে হবে তাঁদের খাটো করে দেখানো; তাঁরা আমার আপনার মতো নয়, নীচু স্তরের মানুষ, এইভাবে দেখা দরকার। দরকার জনগণকে অমানবিক করে তোলা।
জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান নাভি পিল্লাই বলেছেন, রুয়ান্ডার গণহত্যার ঘটনার তথ্যগুলি অনেকটাই গাজার মতো। “আপনার শিকারদের অমানবিক হিসাবে দেখান। তাঁরা পশু, তাই বিবেকদংশন ছাড়াই আপনি তাঁদের হত্যা করতে পারেন,” বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রাক্তন বিচারক পিল্লাই।
এই অমানবিকীকরণ প্রক্রিয়ার – প্যালেস্তিনীয়দের জীবনকে তুচ্ছ, মূল্যহীন মনে করা – শুরু অনেক আগে; গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হয়নি। দেশটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের মধ্যেই একে পাওয়া যায় এবং এখনো জনগণ এবং রাজনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তা জানা যায়।
ইজরায়েল গাজা শহরকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, এটা জেনেই যে সেখানে হাজার হাজার প্যালেস্তিনীয় নাগরিক এখনও আছেন, এমন একটি অঞ্চল যেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। ইজরায়েলের উদ্দেশ্য, অসামরিক নাগরিকদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করা যাতে শহরটিকে – যা একসময় গাজায় প্যালেস্তিনীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল – ধ্বংস করা যায়, হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হয় এবং ইজরায়েলি জনগণের কাছে একটি বিজয় হিসাবে দেখানো যায়। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ খোলাখুলিভাবে বড়াই করেছেন যে ‘গাজা জ্বলছে’ – গাজা শহর, যেটিকে ইউনিসেফ উত্তর গাজা স্ট্রিপের পরিবারগুলির জন্য শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গাজা সিটির মানুষের দুর্গতি ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের বিবৃতিতে খুব কমই উল্লেখিত হয়। তাঁদের তাড়ানোর জন্য বোমাবর্ষণ করা যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়, এবং এমনকি একটি উদযাপনের বিষয়ও। গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা এবং ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে ইজরায়েলি জনসাধারণের বিশেষ হেলদোল নেই। সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলি চলেছে প্রায়শই গাজায় আটক থাকা বাকি ইজরায়েলি বন্দীদের ফেরতের দাবীতে; এই গণহত্যা বন্ধ করার দাবি খুব অল্পই শোনা গেছে।
আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইজরায়েলি গবেষণা গ্রুপ একর্ড সেন্টার প্রকাশিত একটি জনমতসমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, অংশগ্রহণকারীদের ৭৬ শতাংশ ইহুদি ইজরায়েলি পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে একমত পোষণ করেছেন যে গাজার যুদ্ধ-পূর্বকালীন ২২ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে, কোনো ব্যক্তিই নিরপরাধ ছিল না।
অর্লি নয়, সাংবাদিক এবং ইসরায়েলি হিব্রু-ভাষার ম্যাগাজিন লোকাল কলের সম্পাদক, আল জাজিরাকে বলেন, “গণহত্যা এমনি এমনি আকস্মিক ঘটে না। একটি সমাজ রাতারাতি গণহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠে না। এর আগে কিছু পরিস্থিতি তৈরি করতে হয়। এটি একটি প্রণালীবদ্ধ ব্যবস্থা।”
ইজরায়েল ৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে হামাসের হামলার ঘটনাকে যেভাবে দেখেছে, তা সম্ভব হয়েছে প্যালেস্তিনীয়দের জীবন এবং দখলের অধীনে বসবাসের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলস্বরূপ, বলেছেন ইজরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম-এর মুখপাত্র ইয়ায়ির ডিভির। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, অনেকেরই মনে হয়েছিল আক্রমণটি যেন এসেছিল হঠাতই এবং কোনো স্পষ্ট উসকানি ছাড়াই। ইজরায়েল যেন আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল এই ‘দানবদের’ দ্বারা। লোকজন পূর্বে ঘটে যাওয়া ইজরায়েলি দখলের কয়েক দশক সম্পর্কে যেন কিছুই জানত না। জুলাইয়ের শেষ দিকে, বি’তসেলেম এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েল, গাজার বিরুদ্ধে ইজরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যার সমতুল্য বলেছিল।
আরবি ভাষায় নাকবা কথাটির অর্থ ‘দুর্যোগ’, যা ১৯৪৮ সালে জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে জায়নবাদী মিলিশিয়াদের দ্বারা প্যালেস্তাইনে ইজরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার পথ পরিষ্কার করার জন্য প্যালেস্তিনীয়দের গণহারে স্থানচ্যুতি এবং উৎখাতের ঘটনা বোঝায়। নাকবার আগে, প্যালেস্টাইন ছিল একটি বহুজাতিক এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ। তবে, ১৯৩০-এর দশকে ইউরোপে অত্যাচারের শিকার হওয়ার কারণে ইহুদি অভিবাসন বৃদ্ধির সাথে সাথে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হতে থাকে। জায়নবাদী আন্দোলনের লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল প্যালেস্তাইনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
বি’তসেলেম তার প্রতিবেদনে নাকবা থেকে শুরু করে প্যালেস্তিনীয়দের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের হিংস্র আক্রমণের ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করেছে, যা এখনও চলছে। দশকের পর দশক ধরে চলা নীতিগুলি শুধুমাত্র ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীনে সমগ্র অঞ্চলে ইহুদি গোষ্ঠীর আধিপত্যকে দৃঢ় করার উদ্দেশ্য থেকেই এসেছে।
ডিভির বলেন, “আপনি বছরের পর বছর কোনও প্যালেস্তিনীয়র সঙ্গে সাক্ষাত না করেও কাটিয়ে দিতে পারেন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আলাদা। ‘তাদের’ ভাষা, সংস্কৃতি বা ইতিহাসের সম্পর্কে কিছুই শেখানো হয় না আমাদের। বেশিরভাগ মানুষ নাকবা সম্পর্কেও কিছু জানে না। জায়নবাদ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ... এরা সর্বদাই ‘অন্য’, একটি হুমকি।”
ডিভির আরো বলেন, “আমরা এমনকি তাঁদের ‘আরবি ইজরায়েলি’ বলেও উল্লেখ করি, এবং যখন তাঁরা প্রতিক্রিয়া জানায়: ‘না, আমরা প্যালেস্তিনীয়,’ তখন তা যেন চমকে দেওয়ার মতো মনে হয় ... যেন তারা হামাসকে সমর্থন করার কথা বলেছে। আমরা তাঁদের পরিচয়কেও মানি না। প্রায়শই তাঁদের পশুর সাথে তুলনা করা হয়।”
অর্লি নয় বলেন, “প্যালেস্তিনীয়দের দেখা হতো শুধু শত্রু হিসাবেই নয়; একচেটিয়া ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে – তাঁরা নেটিভ, জন্মগতভাবেই মূল্যহীন এবং নিকৃষ্ট, তাঁদের অবজ্ঞার চোখে দেখা উচিত। ইজরায়েলি সমাজের মৌলিক ধারণা এটিই; প্যালেস্তিনীয়দের জীবন কম মূল্যবান”।
১৯৬৭ সাল থেকেই, ডেভিড হাকোহেন – তৎকালীন বার্মার (মায়ানমার) রাষ্ট্রদূত – সহ ইজরায়েলি কর্মকর্তারা, প্যালেস্তিনীয়দের এমনকি মানুষ হিসাবে মানতেও অস্বীকার করেছিলেন। ১৯৮৫ সালের মধ্যে, কয়েকশত হিব্রু শিশুদের বইয়ের মধ্যে এমন কয়েক ডজন বই পাওয়া গিয়েছিল যেখানে প্যালেস্তিনীয়দের ‘যুদ্ধবাজ, প্রতারক দানব, রক্তপিপাসু কুকুর, শিকারী নেকড়ে বা বিষাক্ত সাপ’ হিসাবে দেখান হয়েছিল।
দুই দশক পরে, গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে, ইজরায়েলি স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে দশজনে এক জন, প্যালেস্তিনীয়দের ছবি আঁকতে বলা হলে, তাঁদের পশু হিসেবে চিত্রিত করছে – একই প্রজন্ম এখন গাজায় সেনাবাহিনীর অংশ।
ইজরায়েলের কঠোরভাবে ধর্মীয় দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে প্যালেস্তিনীয়দের অমানবিকীকরণের প্রবৃত্তি আগাগোড়াই ছিল, এবং এখন সেটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তাঁদের গণহত্যাও গ্রহণযোগ্য মনে হয়, বলেছেন ইজরায়েলি বিশ্লেষক নিমরদ ফ্ল্যাশেনবার্গ। তবে, ২০০৫ সালের গাজা থেকে বসতি প্রত্যাহারের ঘটনাকে তাঁরা, ইজরায়েলি সমাজকে উদারবাদ গ্রাস করছে, এই হিসাবে দেখেছিল এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংগঠিত হয়েছিল।
ফ্ল্যাশেনবার্গ বর্ণনা করেছেন, কীভাবে স্ব-ঘোষিত ‘প্রতিষ্ঠান দখল’ অভিযান, ইজরায়েলিদের সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলির – দেশের আমলাতন্ত্র, শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং এমনকি সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলি – নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল, যাতে তাঁদের মতামতগুলি সকলের গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। সেই বিশ্বাস-ব্যবস্থা আজও বহমান রয়েছে।
“কট্টর দক্ষিণপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির মতো ফ্যাসিবাদীদের, এবং যাঁরা নিজেদের উদারবাদী বলে মনে করেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য খুবই কম”, বলেছেন ইসরায়েলের সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি। তিনি ইসরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান আহারন হালিভা’র, যাঁকে বেশিরভাগ ইজরায়েলি উদারপন্থী হিসাবে ভাবে, সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, হালিভা বলেছিলেন যে ৭ অক্টোবরে নিহত প্রতিটি ইজরায়েলির জন্য ৫০ জন করে প্যালেস্তিনীয়কে হত্যা করতে হবে এবং তারা শিশু কিনা তা এখন কোনও বিচার্য বিষয় নয়।
প্যালেস্তিনীয়দের প্রতি ইজরায়েলিদের এই মনোভাবের শিকড় অনেক গভীরে প্রবেশ করেছে, শেনহাভ-শাহরাবানি বলেছেন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার শুরু ইজরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার আগের সময়ে, যখন ব্রিটিশরা প্যালেস্তাইনকে ‘একটি জনবসতিহীন ভূমি’, এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের এক ধরনের জীবিকাসংস্থানে অক্ষম মানুষের ভিড় হিসেবে উপস্থাপিত করেছিল। প্যালেস্তিনীয়দের প্রতি সেই মনোভাব – কোনও ভূমি বা বাড়ির সাথে সম্পর্কহীন একটি সত্তা – ইজরায়েল গ্রহণ করেছিল এবং যা প্রবাহিত হচ্ছে বর্তমান আলোচনাগুলিতে– কীভাবে গাজা এবং অবশেষে, দখলকৃত ওয়েস্ট ব্যাংক জাতিগত বিতাড়নের মাধ্যমে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
শেনহাভ-শাহরাবানির মতে, সর্বদাই ধারণা ছিল, প্যালেস্তিনীয়দের অস্তিত্ব অস্থায়ী। ইজরায়েলিরা কেন ১৯৪৮ বা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধেই বর্তমানের প্যালেস্তাইন ভূখণ্ডের দখলের কাজটি শেষ করেনি, এটি এখন মানুষের একটি সাধারণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মানুষ মনে করে, প্যালেস্তিনীয়দের বাস্তুচ্যুত হওয়া অনিবার্য ছিল। আমরা নাকবা সম্পর্কে বলি এটি একটি ঘটনা, কিন্তু এটি বাস্তবে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা বর্তমানে ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজায় ঘটছে।
তথ্যসূত্র:
১) প্যালেস্তিনীয়দের গাজা ছাড়ার শেষ সুযোগ: সরাসরি হুঙ্কার ইজরায়েলের – গনশক্তি, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
২) UN inquiry says Israel’s war on Gaza is genocide, holds gov’t responsible By Edna Mohamed – Al Jazeera, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৩) Dehumanisation: How Israel is able to commit its genocide in Gaza By Simon Speakman Cordall – Al Jazeera, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যবহৃত ছবিঃ ইউনাইটেড নেশনস
প্রকাশ: ২৫-সেপ্টেম্বর-২০২৫
শেষ এডিট:: 25-Sep-25 12:17 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/“we-have-so-much-to-say-and-we-shall-never-say-it”-a-report
Categories: International
Tags: humanity, currentaffairs
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (147)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (130)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





