অসংগঠিত শ্রমিক: অন্ধকারের রোজনামচা (প্রথম পর্ব)

চন্দন মুখোপাধ্যায়
'অসংগঠিত কর্মী' শব্দটি ভারতে অসংগঠিত শ্রমিক 'সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০০৮ এর ধারা ২ (এম) এর অধীনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অসংগঠিত শ্রমিকরা হলেন এমন ব্যক্তি যারা পেনশন সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

প্রথম পর্ব
ওরা কাজ করে
দেশে দেশান্তরে,
অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের সমুদ্র-নদীর ঘাটে ঘাটে,
পঞ্জাবে বোম্বাই-গুজরাটে।
গুরুগুরু গর্জন গুণ গুণ স্বর
দিনরাত্রে গাঁথা পড়ি দিনযাত্রা করিছে মুখর।
দুঃখ সুখ দিবসরজনী
মন্দ্রিত করিয়া তোলে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি।
শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-'পরে
ওরা কাজ করে।
যুগ যুগ ধরে শ্রমজীবী মানুষের এই যন্ত্রণার ধারা বয়েই চলেছে, সভ্যতার আলোর ছিটেফোঁটাও যাদের গায়ে পড়েনা। তথাকথিত সভ্যসমাজের প্রভুদের ওপর সব আলোটুকু পড়ে আর গরম তেলটুকু শুধু চুঁইয়ে পড়ে সারা শরীর ঝলসে যায় ওদের, তবু সেই সভ্যতার প্রদীপকে মাথায় বসিয়ে জ্বালিয়ে রেখেছে যুগ থেকে যুগান্তরে যাঁরা, শ্রমজীবী মানুষের বিশাল সেই বাহিনী যাকে রবীন্দ্রনাথ বলতেন সভ্যতার পিলসুজ। সেই সভ্যতার কারিগর শ্রমজীবি জনগণ প্রতিদিন গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের একটা অংশ সংগঠিত ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ সুবিধা পেলেও ক্রমবর্ধমান অসংগঠিত শ্রমজীবী অংশ সব রকম জীবনের যন্ত্রণা বয়ে নিয়ে জীবনধারণের মরণপণ লড়াই করে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে ভাবার এবং আলোচনার দরকার আজ সব থেকে বেশি।
একুশ শতকের পুঁজি আজকের সময়ে অসংগঠিত ও পরিযায়ী শ্রমিকের সংজ্ঞায় গুণগত বিরাট পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, দুটো বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পুঁজি তার চরিত্র পাল্টেছে এবং একচেটিয়াকরণের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের নতুন স্তরে উপনীত হয়েছে। নয়া সাম্রাজ্যবাদের স্তরে পুঁজির মূল বৈশিষ্ঠ হলো লগ্নি পুঁজির কর্তৃত্ব। নয়া উদারনীতিক পর্যায়ে পুঁজি নিজের মুনাফার জন্যে জাতি রাষ্ট্রের সীমানা টপকে পাড়ি জমিয়েছে গোটা বিশ্বে, তার চরিত্র হয়েছে আন্তর্জাতিক। আন্তর্জাতিক স্তরে পুঁজির আরো ঘনীভবন এবং কেন্দ্রীভবন সম্ভব হয়েছে। পুঁজির চলাচলের এই প্রক্রিয়ার গোটাটাই কিন্তু অত্যন্ত সংগঠিত এবং নিজের সাথে সে শ্রমের গতিশীলতাকে বাড়ালেও সেটা করেছে খণ্ডিত ও খর্বিত ভাবে। কী করে সেটা সম্ভব হয়েছে? পুরোনো উৎপাদনের মডেল (যেটা ফোর্ডিস্ট মডেল হিসেবে পরিচিত) ভেঙ্গে ফেলে পুঁজি গোটা পৃথিবীতে উৎপাদন নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। উৎপাদনের একটা বড় অংশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে মজুরি খরচা অনেক কম, কাঁচা মাল, পরিকাঠামো সস্তায় পাওয়া যায় এবং সেখানকার ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণী বিদেশী বিনিয়োগ এবং বৃহৎ পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্যে প্রচুর কর ছাড়, জল জঙ্গল জমির অবাধ লুঠ করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এশিয়ার অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক মূল্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকেন্দ্র। এবং এই সরবরাহ টিকে রয়েছে কোটি কোটি শ্রমিক-প্রান্তিক, পরিযায়ী, ঠিকা শ্রমিক, সব ধরণের অসংগঠিত শ্রমিক এবং নতুন শ্রমশোষণের উপর। আর এই শ্রমশক্তি শোষণ করেই বিশ্ব উৎপাদন ফুলে ফেঁপে পাহাড় হয়ে উঠেছে।
৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কলম্বিয়া, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপাইনে তাদের বিশ্ব কর্মসংস্থান মিশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের উপর ভিত্তি করে উন্নয়ন কৌশলের উপর জোর দেওয়ার পর থেকে অনানুষ্ঠানিক বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের ধারণা বিশ্বব্যাপী আলোচনা হয়। শুরু হওয়া আলোচনার লক্ষ্য হল 'অনানুষ্ঠানিক শব্দটি এবং একটি অসংগঠিত শিল্পে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকারি স্তরে যে পরিস্থিতি এবং পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে কথা বলা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ১৯১৯ সাল থেকে জাতিসংঘের ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদের একত্রিত করে শ্রম মান নির্ধারণ, নীতিমালা তৈরি এবং সকল পুরুষ ও মহিলাদের জন্য উপযুক্ত কাজের প্রচারের জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়নেই চেষ্টা করে আসছে। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে কনভেনশন এবং প্রোটোকল গ্রহণ করে এবং শ্রম কল্যাণের জন্য সুপারিশ করে। এখন পর্যন্ত এটি শ্রম খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯০টি কনভেনশন এবং ২০৬টি সুপারিশ করেছে। ১৯৮২ সালে ১৩তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদ সম্মলেন (ICLS) অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে এবং দেশগুলিকে অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের কার্যক্রম পরিমাপের জন্য পদ্ধতি এবং তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচি তৈরি করার আহ্বান জানায়। ১৫তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদ সম্মেলন থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্র এবং অসংগঠিত শ্রমিকের সংজ্ঞা ঠিক করে,
"অসংগঠিত ক্ষেত্র: অসংগঠিত ক্ষেত্র হল প্রতিটি অসংগঠিত বেসরকারি কোম্পানি যা ব্যক্তি ও পরিবারের মালিকানাধীন, যাদের কর্মচারী সংখ্যা ১০ জনেরও কম, মালিকানাধীন বা সহযোগিতামূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত পণ্য ও পরিষেবার বিক্রয় ও উৎপাদনে নিয়োজিত"।
অসংগঠিত শ্রমিক: "অসংগঠিত শ্রমশক্তি, নিয়োগকর্তাদের কর্মসংস্থান / সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ছাড়াই, অসংগঠিত কোম্পানি বা পরিবারের মধ্যে কাজ করা সাধারণ কর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত"। ভারতেও আলোচনা শুরু হয়। অসংগঠিত শ্রমিকরা কতটা চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ পর্যন্ত গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি, কারণ ভারতীয় অর্থনীতিতে অসংগঠিত ক্ষেত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিশেষ গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন আছে বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই এই পর্যায়ে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হন তা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের বাধাগুলি দূর করে কর্মীদের কমপক্ষে একটি ন্যূনতম মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা দেওযা যায়।
ভারত একটি বৈচিত্র্যময় বিশাল দেশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী $৪.১৯ ট্রিলিয়নের জিডিপি সহ জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে স্থান পেয়েছে বলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচারে নেমেছে। কিন্তু বর্তমানের এই সরকার একবারের জন্যেও বলেনা মাথা পিছু আয়ে আজ ভারতবর্ষ ১৪২ স্থানে, ক্ষুদা সূচকে ১০২, আর দারিদ্র্য সূচকে ১৩০ নম্বরে নেমে এসেছে। পরিষ্কার হয়ে যায় গরিব, সাধারণ মানুষ কোন যন্ত্রণায় দিন কাটায়। আজ আদানী-আম্বানিদের প্রবৃদ্ধি ঘটছে কাদের ঘামের দামে? বলেনা এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসংগঠিত শ্রমিকরা, যারা প্রতিটি শিল্পের মেরুদণ্ড, তাদের অবদানের কথা। এই উন্নত অর্থনীতির প্রায় ৪৫% অবদান রয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্র, যা ভারতের শ্রমশক্তির প্রায় ৯৩% এর, যাঁরা আজ সমাজের সবদিক থেকে, সবরকম সুবিধাবঞ্চিত অংশ। তার খবর কে রাখে? ভারতে আজ প্রায় ৫০ কোটির বেশি মানুষ অসংগঠিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আজ তাদের হয়ে কথা বলতেই হবে।
নয়া উদারবাদের হাত ধরে ১৯৯০-৯১ সাল থেকেই দেশে আর্থিক বৈষম্য বাড়তে শুরু করে। ২০০৩-০৪ সালের আর্থিক বৃদ্ধির সময় তা আরো প্রকট হয়ে উঠছিল। লগ্নিপুঁজির বিশ্বায়ন, দুনিয়াজোড়া শিখিল আর্থিক নীতির মধ্যেই এই সাময়িক আর্থিক বৃদ্ধির বীজ লুকিয়ে ছিল। উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলির উচ্চ চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলি ঝুঁকে পড়ে রপ্তানীনির্ভর আর্থিক বৃদ্ধির দিকে। আন্তর্জাতিক রপ্তানী বাজারে আধিপত্যের লক্ষ্যে ভারতবর্ষও পরিকল্পিত অর্থনীতিব রাস্তা ছেড়ে প্রতিযোগিতামূলক খোলাবাজার ব্যবস্থাতেই গুরুত্ব আরোপ করে। আর বর্তমানে সরকার সব দরজা খুলে দিয়ে এবং গুটিকয় বন্ধু পুঁজির জন্যে দেশের সব সম্পদ উজাড় করে দিয়েছে। তার ফলে বিশ্বজোড়া রপ্তানী বাজারের মূল্যমানের প্রতিযোগিতায় (Price Competition) টিকে থাকতে প্রয়োজন ছিল নিম্ন মজুরীহার, প্রকৃত ও আপেক্ষিক শ্রমসময় বৃদ্ধি, শ্রমিকদের শ্রমশক্তির মূল্যের থেকেও কম মজুরীতে উৎপাদন শর্তকে বেঁধে ফেলা এবং উৎপাদনক্ষমতার চরম বিকাশ ঘটানো। স্বাভাবতিকভাবেই একদিকে বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ করার দরুণ ভারতীয় অর্থনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক পুঁজির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের উপর দাঁড়িয়ে থাকা তথাকথিত আর্থিক বৃদ্ধির বুদ্বুদ, আর্থিক বৈষম্যকে পুনরায় উত্তরোত্তর বাড়িয়ে তুলতে থাকে। এসময় ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার বাড়ছে, যেখানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার তলানিতে এসে ঠেকেছে । সংগঠিত ক্ষেত্রে এই পর্বে নিয়োগ মারাত্মক ভাবে ক্রমশ কমছে; অর্থাৎ অর্থনীতির এই বৃদ্ধির পেছনে অসংগঠিত ক্ষেত্রের অবদান ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। তাই এই সময়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সংগঠিত ক্ষেত্রেও স্থায়ী কাজের জায়গা দখল করছে ঠিকা-ক্যাজুয়াল শ্রম। নতুন নিয়োগ ক্রমশ কমে আসায় জনপিছু শ্রমশোষণের পরিমানও বাড়তে থাকে। লক্ষ্যণীয়, পুঁজিবাদী বৃদ্ধির নিয়ম মেনেই বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের মজুরী বা সামাজিক সুরক্ষা- কোনোটাই কিন্তু বাড়েনি। এদের সংগঠিত দাবীদাওয়া আদায়ের পথ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিয়ে শোষণের পথ আরো মসৃণ করা হয়। বাষ্ট্র-পুঁজির যৌথ আঁতাতে শোষিত এই শ্রমিকশ্রেণি মুক্ত বাজারে উৎপাদক বা ক্রেতা-কোনোভাবেই অংশগ্রহণে অসমর্থ হয়ে পড়তে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ভারতের কৃষিব্যবস্থায় পুঁজির ক্রমাগত প্রবেশ কৃষিক্ষেত্রকে ব্যাপক সংকটের সামনে ফেলে দিয়েছে।
'অসংগঠিত কর্মী' শব্দটি ভারতে অসংগঠিত শ্রমিক 'সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০০৮ এর ধারা ২ (এম) এর অধীনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অসংগঠিত শ্রমিকরা হলেন এমন ব্যক্তি যারা পেনশন সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা প্রতিষ্ঠানে দৈনিক বা ঘন্টা ভিত্তিতে কাজ করে। ভারতে এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং জনাকীর্ণ পরিবেশে কাজ করে যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্যানিটেশন এবং জলের সুবিধা নেই। তারা অত্যন্ত ঘিঞ্জি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘরে বাস করে। তাদের কাজের প্রকৃতিও অস্থায়ী এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে, অর্থাৎ জায়গার কোনো স্থিরতা নেই। তাছাড়া এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই তাদের পেশাগত ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন এবং বেশিরভাগই নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত। তারা চরম খারাপ পরিবেশ এবং সবরকম তাপমাত্রায় কাজ করে যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই শ্রমিকরা শ্রম আইন দ্বারা পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত নয়। এই শ্রমিকরা অর্থনৈতিক ভাবে অত্যন্ত দরিদ্র ঘর থেকে আসে এবং প্রতিদিন দুর্ব্যবহার, শোষণ এবং বঞ্চনার শিকার হয়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী। এর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ সময় অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলা কর্মীরা যৌন শোষণ আর নির্যাতনের শিকার হন, কিন্তু তারা তাদের চরম আর্থিক কষ্ট আর যন্ত্রণার কারণে এবং সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভয়ে কোনোরকম অভিযোগ করতে পারেন না। আর শিশু শ্রমিকরা কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও নির্যাতিত
হয়।
দেশে দেশান্তরে,
অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের সমুদ্র-নদীর ঘাটে ঘাটে,
পঞ্জাবে বোম্বাই-গুজরাটে।
গুরুগুরু গর্জন গুণ গুণ স্বর
দিনরাত্রে গাঁথা পড়ি দিনযাত্রা করিছে মুখর।
দুঃখ সুখ দিবসরজনী
মন্দ্রিত করিয়া তোলে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি।
শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-'পরে
ওরা কাজ করে।
যুগ যুগ ধরে শ্রমজীবী মানুষের এই যন্ত্রণার ধারা বয়েই চলেছে, সভ্যতার আলোর ছিটেফোঁটাও যাদের গায়ে পড়েনা। তথাকথিত সভ্যসমাজের প্রভুদের ওপর সব আলোটুকু পড়ে আর গরম তেলটুকু শুধু চুঁইয়ে পড়ে সারা শরীর ঝলসে যায় ওদের, তবু সেই সভ্যতার প্রদীপকে মাথায় বসিয়ে জ্বালিয়ে রেখেছে যুগ থেকে যুগান্তরে যাঁরা, শ্রমজীবী মানুষের বিশাল সেই বাহিনী যাকে রবীন্দ্রনাথ বলতেন সভ্যতার পিলসুজ। সেই সভ্যতার কারিগর শ্রমজীবি জনগণ প্রতিদিন গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের একটা অংশ সংগঠিত ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ সুবিধা পেলেও ক্রমবর্ধমান অসংগঠিত শ্রমজীবী অংশ সব রকম জীবনের যন্ত্রণা বয়ে নিয়ে জীবনধারণের মরণপণ লড়াই করে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে ভাবার এবং আলোচনার দরকার আজ সব থেকে বেশি।
একুশ শতকের পুঁজি আজকের সময়ে অসংগঠিত ও পরিযায়ী শ্রমিকের সংজ্ঞায় গুণগত বিরাট পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, দুটো বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পুঁজি তার চরিত্র পাল্টেছে এবং একচেটিয়াকরণের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের নতুন স্তরে উপনীত হয়েছে। নয়া সাম্রাজ্যবাদের স্তরে পুঁজির মূল বৈশিষ্ঠ হলো লগ্নি পুঁজির কর্তৃত্ব। নয়া উদারনীতিক পর্যায়ে পুঁজি নিজের মুনাফার জন্যে জাতি রাষ্ট্রের সীমানা টপকে পাড়ি জমিয়েছে গোটা বিশ্বে, তার চরিত্র হয়েছে আন্তর্জাতিক। আন্তর্জাতিক স্তরে পুঁজির আরো ঘনীভবন এবং কেন্দ্রীভবন সম্ভব হয়েছে। পুঁজির চলাচলের এই প্রক্রিয়ার গোটাটাই কিন্তু অত্যন্ত সংগঠিত এবং নিজের সাথে সে শ্রমের গতিশীলতাকে বাড়ালেও সেটা করেছে খণ্ডিত ও খর্বিত ভাবে। কী করে সেটা সম্ভব হয়েছে? পুরোনো উৎপাদনের মডেল (যেটা ফোর্ডিস্ট মডেল হিসেবে পরিচিত) ভেঙ্গে ফেলে পুঁজি গোটা পৃথিবীতে উৎপাদন নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। উৎপাদনের একটা বড় অংশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে মজুরি খরচা অনেক কম, কাঁচা মাল, পরিকাঠামো সস্তায় পাওয়া যায় এবং সেখানকার ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণী বিদেশী বিনিয়োগ এবং বৃহৎ পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্যে প্রচুর কর ছাড়, জল জঙ্গল জমির অবাধ লুঠ করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এশিয়ার অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক মূল্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকেন্দ্র। এবং এই সরবরাহ টিকে রয়েছে কোটি কোটি শ্রমিক-প্রান্তিক, পরিযায়ী, ঠিকা শ্রমিক, সব ধরণের অসংগঠিত শ্রমিক এবং নতুন শ্রমশোষণের উপর। আর এই শ্রমশক্তি শোষণ করেই বিশ্ব উৎপাদন ফুলে ফেঁপে পাহাড় হয়ে উঠেছে।
৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কলম্বিয়া, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপাইনে তাদের বিশ্ব কর্মসংস্থান মিশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের উপর ভিত্তি করে উন্নয়ন কৌশলের উপর জোর দেওয়ার পর থেকে অনানুষ্ঠানিক বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের ধারণা বিশ্বব্যাপী আলোচনা হয়। শুরু হওয়া আলোচনার লক্ষ্য হল 'অনানুষ্ঠানিক শব্দটি এবং একটি অসংগঠিত শিল্পে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকারি স্তরে যে পরিস্থিতি এবং পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে কথা বলা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ১৯১৯ সাল থেকে জাতিসংঘের ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদের একত্রিত করে শ্রম মান নির্ধারণ, নীতিমালা তৈরি এবং সকল পুরুষ ও মহিলাদের জন্য উপযুক্ত কাজের প্রচারের জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়নেই চেষ্টা করে আসছে। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে কনভেনশন এবং প্রোটোকল গ্রহণ করে এবং শ্রম কল্যাণের জন্য সুপারিশ করে। এখন পর্যন্ত এটি শ্রম খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯০টি কনভেনশন এবং ২০৬টি সুপারিশ করেছে। ১৯৮২ সালে ১৩তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদ সম্মলেন (ICLS) অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে এবং দেশগুলিকে অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের কার্যক্রম পরিমাপের জন্য পদ্ধতি এবং তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচি তৈরি করার আহ্বান জানায়। ১৫তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদ সম্মেলন থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্র এবং অসংগঠিত শ্রমিকের সংজ্ঞা ঠিক করে,
"অসংগঠিত ক্ষেত্র: অসংগঠিত ক্ষেত্র হল প্রতিটি অসংগঠিত বেসরকারি কোম্পানি যা ব্যক্তি ও পরিবারের মালিকানাধীন, যাদের কর্মচারী সংখ্যা ১০ জনেরও কম, মালিকানাধীন বা সহযোগিতামূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত পণ্য ও পরিষেবার বিক্রয় ও উৎপাদনে নিয়োজিত"।
অসংগঠিত শ্রমিক: "অসংগঠিত শ্রমশক্তি, নিয়োগকর্তাদের কর্মসংস্থান / সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ছাড়াই, অসংগঠিত কোম্পানি বা পরিবারের মধ্যে কাজ করা সাধারণ কর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত"। ভারতেও আলোচনা শুরু হয়। অসংগঠিত শ্রমিকরা কতটা চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ পর্যন্ত গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি, কারণ ভারতীয় অর্থনীতিতে অসংগঠিত ক্ষেত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিশেষ গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন আছে বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই এই পর্যায়ে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হন তা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের বাধাগুলি দূর করে কর্মীদের কমপক্ষে একটি ন্যূনতম মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা দেওযা যায়।
ভারত একটি বৈচিত্র্যময় বিশাল দেশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী $৪.১৯ ট্রিলিয়নের জিডিপি সহ জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে স্থান পেয়েছে বলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচারে নেমেছে। কিন্তু বর্তমানের এই সরকার একবারের জন্যেও বলেনা মাথা পিছু আয়ে আজ ভারতবর্ষ ১৪২ স্থানে, ক্ষুদা সূচকে ১০২, আর দারিদ্র্য সূচকে ১৩০ নম্বরে নেমে এসেছে। পরিষ্কার হয়ে যায় গরিব, সাধারণ মানুষ কোন যন্ত্রণায় দিন কাটায়। আজ আদানী-আম্বানিদের প্রবৃদ্ধি ঘটছে কাদের ঘামের দামে? বলেনা এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসংগঠিত শ্রমিকরা, যারা প্রতিটি শিল্পের মেরুদণ্ড, তাদের অবদানের কথা। এই উন্নত অর্থনীতির প্রায় ৪৫% অবদান রয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্র, যা ভারতের শ্রমশক্তির প্রায় ৯৩% এর, যাঁরা আজ সমাজের সবদিক থেকে, সবরকম সুবিধাবঞ্চিত অংশ। তার খবর কে রাখে? ভারতে আজ প্রায় ৫০ কোটির বেশি মানুষ অসংগঠিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আজ তাদের হয়ে কথা বলতেই হবে।
নয়া উদারবাদের হাত ধরে ১৯৯০-৯১ সাল থেকেই দেশে আর্থিক বৈষম্য বাড়তে শুরু করে। ২০০৩-০৪ সালের আর্থিক বৃদ্ধির সময় তা আরো প্রকট হয়ে উঠছিল। লগ্নিপুঁজির বিশ্বায়ন, দুনিয়াজোড়া শিখিল আর্থিক নীতির মধ্যেই এই সাময়িক আর্থিক বৃদ্ধির বীজ লুকিয়ে ছিল। উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলির উচ্চ চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলি ঝুঁকে পড়ে রপ্তানীনির্ভর আর্থিক বৃদ্ধির দিকে। আন্তর্জাতিক রপ্তানী বাজারে আধিপত্যের লক্ষ্যে ভারতবর্ষও পরিকল্পিত অর্থনীতিব রাস্তা ছেড়ে প্রতিযোগিতামূলক খোলাবাজার ব্যবস্থাতেই গুরুত্ব আরোপ করে। আর বর্তমানে সরকার সব দরজা খুলে দিয়ে এবং গুটিকয় বন্ধু পুঁজির জন্যে দেশের সব সম্পদ উজাড় করে দিয়েছে। তার ফলে বিশ্বজোড়া রপ্তানী বাজারের মূল্যমানের প্রতিযোগিতায় (Price Competition) টিকে থাকতে প্রয়োজন ছিল নিম্ন মজুরীহার, প্রকৃত ও আপেক্ষিক শ্রমসময় বৃদ্ধি, শ্রমিকদের শ্রমশক্তির মূল্যের থেকেও কম মজুরীতে উৎপাদন শর্তকে বেঁধে ফেলা এবং উৎপাদনক্ষমতার চরম বিকাশ ঘটানো। স্বাভাবতিকভাবেই একদিকে বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ করার দরুণ ভারতীয় অর্থনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক পুঁজির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের উপর দাঁড়িয়ে থাকা তথাকথিত আর্থিক বৃদ্ধির বুদ্বুদ, আর্থিক বৈষম্যকে পুনরায় উত্তরোত্তর বাড়িয়ে তুলতে থাকে। এসময় ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার বাড়ছে, যেখানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার তলানিতে এসে ঠেকেছে । সংগঠিত ক্ষেত্রে এই পর্বে নিয়োগ মারাত্মক ভাবে ক্রমশ কমছে; অর্থাৎ অর্থনীতির এই বৃদ্ধির পেছনে অসংগঠিত ক্ষেত্রের অবদান ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। তাই এই সময়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সংগঠিত ক্ষেত্রেও স্থায়ী কাজের জায়গা দখল করছে ঠিকা-ক্যাজুয়াল শ্রম। নতুন নিয়োগ ক্রমশ কমে আসায় জনপিছু শ্রমশোষণের পরিমানও বাড়তে থাকে। লক্ষ্যণীয়, পুঁজিবাদী বৃদ্ধির নিয়ম মেনেই বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের মজুরী বা সামাজিক সুরক্ষা- কোনোটাই কিন্তু বাড়েনি। এদের সংগঠিত দাবীদাওয়া আদায়ের পথ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিয়ে শোষণের পথ আরো মসৃণ করা হয়। বাষ্ট্র-পুঁজির যৌথ আঁতাতে শোষিত এই শ্রমিকশ্রেণি মুক্ত বাজারে উৎপাদক বা ক্রেতা-কোনোভাবেই অংশগ্রহণে অসমর্থ হয়ে পড়তে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ভারতের কৃষিব্যবস্থায় পুঁজির ক্রমাগত প্রবেশ কৃষিক্ষেত্রকে ব্যাপক সংকটের সামনে ফেলে দিয়েছে।
'অসংগঠিত কর্মী' শব্দটি ভারতে অসংগঠিত শ্রমিক 'সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০০৮ এর ধারা ২ (এম) এর অধীনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অসংগঠিত শ্রমিকরা হলেন এমন ব্যক্তি যারা পেনশন সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা প্রতিষ্ঠানে দৈনিক বা ঘন্টা ভিত্তিতে কাজ করে। ভারতে এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং জনাকীর্ণ পরিবেশে কাজ করে যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্যানিটেশন এবং জলের সুবিধা নেই। তারা অত্যন্ত ঘিঞ্জি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘরে বাস করে। তাদের কাজের প্রকৃতিও অস্থায়ী এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে, অর্থাৎ জায়গার কোনো স্থিরতা নেই। তাছাড়া এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই তাদের পেশাগত ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন এবং বেশিরভাগই নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত। তারা চরম খারাপ পরিবেশ এবং সবরকম তাপমাত্রায় কাজ করে যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই শ্রমিকরা শ্রম আইন দ্বারা পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত নয়। এই শ্রমিকরা অর্থনৈতিক ভাবে অত্যন্ত দরিদ্র ঘর থেকে আসে এবং প্রতিদিন দুর্ব্যবহার, শোষণ এবং বঞ্চনার শিকার হয়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী। এর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ সময় অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলা কর্মীরা যৌন শোষণ আর নির্যাতনের শিকার হন, কিন্তু তারা তাদের চরম আর্থিক কষ্ট আর যন্ত্রণার কারণে এবং সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভয়ে কোনোরকম অভিযোগ করতে পারেন না। আর শিশু শ্রমিকরা কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও নির্যাতিত
হয়।

প্রকাশ: ১১-জানুয়ারি-২০২৬
শেষ এডিট:: 31-Jan-26 12:13 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/unorganized-workers-chronicle-of-darkness - exists in postID 32073
Categories: Fact & Figures
Tags: labour law, labourtribunal, maigrantlabour, migrant labour, social justice, unorganized sector, security
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (150)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (133)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
সমবায় প্রসঙ্গে
- ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন
“ এসো নির্মূল করি , স্বৈরাচারের ক্ষমতাকে ”
- সৌম্যদীপ রাহা
বাংলার বিকল্প পরিবেশ ভাবনা ও উন্নয়নের অভিমুখ
- সৌরভ চক্রবর্ত্তী
পশ্চিমবাংলার ক্রীড়ানীতি ও বিপল্প প্রস্তাব
- সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
তথ্য প্রযুক্তি এ আই আমাদের রাজ্যে সম্ভাবনা
- নন্দিনী মুখার্জি
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
- ওয়েবডেস্ক
.jpg)




