‘ওরা বীর, ওরা আকাশে জাগাত ঝড়’ – পর্ব ৪

ওয়েবডেস্ক
দুনিয়া জুড়ে পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্র হলে তার প্রভাব পরে এদেশের শ্রমিকদের মধ্যেও। শ্রমিক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পরে সারা দেশ জুড়ে। তাই স্বাভাবিকভাবে তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেঙ্গল রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এইসময় লাগাতার আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।

কমরেড সরোজ মুখার্জি জন্মগ্রহণ করেন ১১ জানুয়ারি ১৯১১ সালে বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন ত্রিলোচন মুখার্জি এবং মাতা ইন্দুমতি মুখার্জি। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, শ্রীরামপুর মিশনারি স্কুল, বিদ্যাসাগর কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও পরবর্তীকালে আইন ও অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। কমরেড বিনয় চৌধুরীর বন্ধু সরোজ মুখার্জী সম্পর্কে স্মৃতিচারণাতে আমরা উল্লেখ পাই তার লেখাপড়ার দক্ষতা সম্পর্কেও।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বর্ধমান শহর জুড়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য মিটিং মিছিল হলে ছাত্রাবস্থা থেকেই নিয়মিত শুনতে যেতেন সরোজ মুখার্জী। সঙ্গী ছিলেন কমরেড বিনয় চৌধুরী। পরবর্তীতে ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্কে জানেন। ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি এবং কারাবাসে থাকাকালীন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জেল থেকে মুক্তির পর ১৯৩১ সালে করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন।
কয়েক দিন আগে ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার একটি চ্যানেলের তর্ক বিতর্ক অনুষ্ঠানে বিজেপির এক মুখপাত্র কমিউনিস্ট নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বভাববশেই মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন। এ ঘটনা বিজেপির তরফে নতুন না। আর যখন তারা দেশের ইতিহাস কে বিকৃত করছেন তখন এই ধরণের অপপ্রচার পরিকল্পনামাফিকও বটে! যদিও এই ভারতের আর্থ সামাজিক কাঠামোতে একজন কতদূর লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন তা দিয়ে তার যোগ্যতার সামগ্রিক মূল্যায়ন করা সম্ভব না। আর একজন কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীর মুল সার্টিফিকেটই জনভিত্তি। আজ আমরা এমন এক কমরেডের সম্পর্কে আলোচনা করব যিনি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন যেমন তেমনই ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। কমরেড সরোজ মুখার্জী।
কমরেড সরোজ মুখার্জি জন্মগ্রহণ করেন ১১ জানুয়ারি ১৯১১ সালে বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন ত্রিলোচন মুখার্জি এবং মাতা ইন্দুমতি মুখার্জি। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, শ্রীরামপুর মিশনারি স্কুল, বিদ্যাসাগর কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও পরবর্তীকালে আইন ও অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। কমরেড বিনয় চৌধুরীর বন্ধু সরোজ মুখার্জী সম্পর্কে স্মৃতিচারণাতে আমরা উল্লেখ পাই তার লেখাপড়ার দক্ষতা সম্পর্কেও।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বর্ধমান শহর জুড়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য মিটিং মিছিল হলে ছাত্রাবস্থা থেকেই নিয়মিত শুনতে যেতেন সরোজ মুখার্জী। সঙ্গী ছিলেন কমরেড বিনয় চৌধুরী। পরবর্তীতে ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্কে জানেন। ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি এবং কারাবাসে থাকাকালীন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জেল থেকে মুক্তির পর ১৯৩১ সালে করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন।
দুনিয়া জুড়ে পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্র হলে তার প্রভাব পরে এদেশের শ্রমিকদের মধ্যেও। শ্রমিক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পরে সারা দেশ জুড়ে। তাই স্বাভাবিকভাবে তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেঙ্গল রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এইসময় লাগাতার আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
১৯৩৯–৪৩ সালে তিনি পার্টির কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সময় রাজ্য কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৮২ সালে তিনি পার্টির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।১৯৭৮ সাল থেকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবং ১৯৮৫ সাল থেকে পার্টি পলিটব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন।
সাংবাদিক হিসেবেও সরোজ মুখার্জির গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ‘গণশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক ও পরে প্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখনী ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে কমিউনিস্ট আন্দোলন ও রাজনৈতিক চিন্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
তিনি বিভিন্ন দেশে পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে সফর করেন। ১৯৭১ সালে বর্ধমানের কাটোয়া কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও আমরা এবং দুই পথিকৃৎ, দুটি স্মরণীয় দিন উল্লেখযোগ্য।
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সালে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট কর্মী, শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
কমরেড সরোজ মুখার্জী তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নানা রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মতাদর্শগত সংগ্রাম, সংশোধনবাদী বিচ্যুতি থেকে পার্টিকে দূরে রাখা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তার কাছ থেকে শিক্ষণীয় ছিল। বর্তমানে দেশের সরকার বা রাজ্যের সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামী সরোজ মুখার্জীদেরকে ভুলিয়ে দিতে চাইলেও শ্রমজীবী মানুষের মন থেকে তাদের লড়াইয়ের বন্ধুকে কখনো মুছে দেওয়া সম্ভব না।
১৯৩৯–৪৩ সালে তিনি পার্টির কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সময় রাজ্য কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৮২ সালে তিনি পার্টির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।১৯৭৮ সাল থেকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবং ১৯৮৫ সাল থেকে পার্টি পলিটব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন।
সাংবাদিক হিসেবেও সরোজ মুখার্জির গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ‘গণশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক ও পরে প্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখনী ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে কমিউনিস্ট আন্দোলন ও রাজনৈতিক চিন্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
তিনি বিভিন্ন দেশে পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে সফর করেন। ১৯৭১ সালে বর্ধমানের কাটোয়া কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও আমরা এবং দুই পথিকৃৎ, দুটি স্মরণীয় দিন উল্লেখযোগ্য।
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সালে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট কর্মী, শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
কমরেড সরোজ মুখার্জী তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নানা রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মতাদর্শগত সংগ্রাম, সংশোধনবাদী বিচ্যুতি থেকে পার্টিকে দূরে রাখা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তার কাছ থেকে শিক্ষণীয় ছিল। বর্তমানে দেশের সরকার বা রাজ্যের সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামী সরোজ মুখার্জীদেরকে ভুলিয়ে দিতে চাইলেও শ্রমজীবী মানুষের মন থেকে তাদের লড়াইয়ের বন্ধুকে কখনো মুছে দেওয়া সম্ভব না।
প্রকাশ: ০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৬
শেষ এডিট:: 08-Sep-26 19:00 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-torchbearers-of-azadi-–-part-iv
Categories: Campaigns & Struggle
Tags:
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (5)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (181)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (162)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (88)
- Highlight - হাইলাইট (101)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (156)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (19)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার জ্বালা
- প্রভাত পট্টনায়ক
গান্ধীর হত্যাকারীদের উত্তরসূরিরা আজ রাজ্য ও দেশের ক্ষমতায়
- সোমনাথ ভট্টাচার্য
জনমিতিক কমিটি বাতিল করো
- ওয়েবডেস্ক





