ভারতের ক্রীড়ানীতি: একটি ধারাবাহিক ইতিহাস (তৃতীয় পর্ব)

Author
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়

১৯৫১ সালে এশিয়ান গেমসের আয়োজন ছিল স্বাধীন ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারত কেবল এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করেনি, বরং নিজস্ব প্রশাসনিক সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছিল। হকি, কুস্তি, অ্যাথলেটিক্সের মতো....

India's Sports Policy: A Continuous History ( part-iii)

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে ক্রীড়া ইতিহাস ও ক্রীড়ানীতির সরকারি উদ্যোগ এক সরলরৈখিক সাফল্যের গল্প নয়, বরং অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার এক জটিল সমাহার। রাষ্ট্র ধীরে ধীরে ক্রীড়াকে নীতিগত গুরুত্ব দিয়েছে, প্রতিষ্ঠান গড়েছে এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করেছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আর্থিক অসমতা ও সামাজিক বৈষম্য এই প্রচেষ্টাকে বারবার ব্যাহত করেছে। তবু সাম্প্রতিক দশকে ক্রীড়াকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। এই যাত্রা দেখায় যে ক্রীড়া কেবল পদক বা ট্রফির প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্ক, সুযোগের বণ্টন এবং নাগরিকত্বের ধারণার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে ক্রীড়া ইতিহাস ও ক্রীড়ানীতির সরকারি উদ্যোগকে বুঝতে হলে একদিকে জাতি-গঠনের বৃহত্তর প্রকল্প, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—এই সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার মুহূর্তে ভারত যে ক্রীড়া-পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত সীমিত, শহরকেন্দ্রিক এবং অভিজাত-নিয়ন্ত্রিত। ক্রিকেট, ফুটবল বা হকির মতো খেলাগুলি ঔপনিবেশিক শাসনের সময়ে বিকশিত হলেও সেগুলির বিস্তার ছিল অসম; গ্রাম, শ্রমজীবী শ্রেণি, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ছিল ন্যূনতম। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রের সামনে প্রশ্ন ছিল—ক্রীড়াকে কি কেবল বিনোদন ও অবসর হিসেবে দেখা হবে, নাকি স্বাস্থ্য, জাতীয় ঐক্য, আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং সামাজিক গতিশীলতার একটি উপায় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী দশকে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে ক্রীড়া অগ্রাধিকারের শীর্ষে ছিল না। দেশ পুনর্গঠন, শরণার্থী সমস্যা, খাদ্যাভাব, শিল্পায়ন ও শিক্ষা বিস্তার—এই সব জরুরি ইস্যুর আড়ালে ক্রীড়া অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। তবু জাতি-গঠনের আদর্শে ক্রীড়ার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল না। বিশেষ করে জওহরলাল নেহরু ক্রীড়াকে যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উপস্থিতিকে ‘নরম শক্তি’র অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। তবে এই ভাবনাগুলি নীতিতে রূপ নিতে সময় নিয়েছিল। ১৯৫১ সালে এশিয়ান গেমসের আয়োজন ছিল স্বাধীন ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারত কেবল এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করেনি, বরং নিজস্ব প্রশাসনিক সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছিল। হকি, কুস্তি, অ্যাথলেটিক্সের মতো খেলায় ভারতের সাফল্য জাতীয় আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ক্রীড়াকে রাষ্ট্রের নজরে আনে।

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে সরকারি উদ্যোগ প্রধানত ছিল পরোক্ষ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে অনুদান দিত, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দল পাঠাত এবং মাঝে মাঝে পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করত। কিন্তু কোনও সমন্বিত জাতীয় ক্রীড়ানীতি তখনও গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ ক্রীড়া সংস্থা ছিল স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত, যেগুলির মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছিল। এই সময়ে হকি ছিল ভারতের প্রধান আন্তর্জাতিক পরিচয়; অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্য ক্রীড়া-জাতীয়তাবাদের এক বিশেষ রূপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে ছিল প্রশিক্ষণ পদ্ধতির স্থবিরতা, বৈজ্ঞানিক কোচিংয়ের অভাব এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা।


১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশক ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গঠনমূলক ও সন্ধিক্ষণমূলক পর্ব। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সামনে তখন জাতি-গঠন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ উপস্থিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ক্রীড়া কোনও স্বতন্ত্র নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে শুরুতে বিবেচিত না হলেও, ধীরে ধীরে তা জাতীয় গৌরব, যুবসমাজের শারীরিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে ভারতীয় ক্রীড়ার বিকাশ মূলত তিনটি শক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে—সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে অর্জিত সাফল্য। এই সময়পর্বে ক্রীড়া ছিল না বাণিজ্যিক; বরং তা ছিল রাষ্ট্র-সমর্থিত, আদর্শবাদী এবং অনেকাংশে শৌখিনতার দ্বারা পরিচালিত।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিল্পায়ন, কৃষি সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তার। এই বৃহত্তর জাতি-গঠনের কর্মসূচির মধ্যে ক্রীড়া একটি গৌণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল। তবু জাতীয় নেতৃত্ব, বিশেষত জওহরলাল নেহরু, ক্রীড়াকে যুবসমাজের চরিত্রগঠন, শারীরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছিলেন। নেহরুর দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রীড়া ছিল আধুনিকতার প্রতীক এবং উপনিবেশিক পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। যদিও এই ভাবনা সরাসরি কোনও সুসংহত ক্রীড়ানীতিতে রূপ নেয়নি, তবু রাষ্ট্রের মনোভাব নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।


১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়া সংক্রান্ত ভূমিকা ছিল প্রধানত সহায়ক ও পরোক্ষ। তখনও কোনও পৃথক ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত হয়নি; ক্রীড়া বিষয়ক দায়িত্ব সাধারণত শিক্ষা বা যুবকল্যাণ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হতো। সরকার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করত, কিছু জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করত এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে সীমিত অনুদান প্রদান করত। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা বা সর্বভারতীয় প্রতিভা অন্বেষণ প্রকল্প তখনও অনুপস্থিত ছিল।


১৯৫১ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম এশিয়ান গেমস আয়োজন স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই প্রতিযোগিতা কেবল একটি ক্রীড়া ইভেন্ট ছিল না; এটি ছিল ভারতের প্রশাসনিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব এবং এশীয় সংহতির প্রতীক। রাষ্ট্রের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই গেমস আয়োজিত হয় এবং এতে ভারতের সাফল্য জাতীয় আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। পরবর্তী এশিয়ান গেমসগুলিতেও (১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২) ভারতের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ও সাফল্য ক্রীড়াকে জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে।

এই সময়পর্বে ক্রীড়ার বাস্তব বিকাশ অনেকাংশে রাজ্য সরকার ও আঞ্চলিক উদ্যোগের উপর নির্ভরশীল ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, মাদ্রাজ (তৎকালীন) ও কেরালার মতো রাজ্যগুলিতে ক্রীড়া সংস্কৃতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। রাজ্য সরকারগুলি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্রীড়াবিদদের নিয়োগের মতো উদ্যোগ নেয়। তবে রাজ্যভেদে আর্থিক সামর্থ্য ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের পার্থক্যের কারণে ক্রীড়া উন্নয়ন ছিল অসম ও খণ্ডিত।

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে ভারতীয় ক্রীড়ার প্রকৃত চালিকাশক্তি ছিল বেসরকারি ক্রীড়া ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফুটবল, হকি, ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক্সে ক্লাব সংস্কৃতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্লাবগুলি প্রায়শই শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত যুবকদের জন্য ক্রীড়া চর্চার সুযোগ তৈরি করত এবং জাতীয় পর্যায়ের বহু ক্রীড়াবিদ এই ক্লাবগুলির মাধ্যমেই উঠে আসেন। সরকারি সহায়তা সীমিত হলেও, সমাজের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ ক্রীড়াকে জীবন্ত রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্রীড়া এই সময়ে প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল। ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা, কলেজ স্পোর্টস মিট এবং সর্বভারতীয় ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বহু ক্রীড়াবিদ জাতীয় দলে প্রবেশের সুযোগ পান। শারীরশিক্ষা তখনও মূল পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে না থাকলেও, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই সময়পর্বের ভারতীয় ক্রীড়া ছিল মূলত শৌখিন বা অ্যামেচার ভিত্তিক। ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা সামাজিক নিরাপত্তা ছিল না। অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ চাকরি, পড়াশোনা বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ক্রীড়াকে সমন্বয় করে খেলতেন। এই ব্যবস্থার ফলে একদিকে ক্রীড়ায় নৈতিকতা ও আদর্শবাদ বজায় ছিল, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারত ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে ভারতীয় হকি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে ভারতের প্রধান পরিচয়। অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্য—বিশেষত ১৯৫২ ও ১৯৫৬ সালের স্বর্ণপদক—জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে। এই সাফল্যের পেছনে ছিল উপনিবেশিক যুগে গড়ে ওঠা দক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। তবে এই সময়েই আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কৃত্রিম টার্ফের আগমনে ভারতের প্রাধান্য ধীরে ধীরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে শুরু করে।

ফুটবলেও এই সময়ে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। এশিয়ান গেমসে সোনা ও রুপো পদক এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স ফুটবলকে জনপ্রিয় করে তোলে। তবে পেশাদার লিগ ও কাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

অ্যাথলেটিক্স ও কুস্তিতে ভারতের সাফল্য ছিল সীমিত হলেও এশীয় পর্যায়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখা যায়। এই খেলাগুলিতে সাফল্যের প্রধান ভিত্তি ছিল সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও রেলওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান, যেখানে শারীরিক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ ছিল।

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের ভারতীয় ক্রীড়ার প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল সমন্বিত নীতির অভাব, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা। ক্রীড়া সংস্থাগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও স্বচ্ছতার অভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে। তাছাড়া নারী ক্রীড়া ও গ্রামীণ প্রতিভা এই সময়ে প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ছিল।

সার্বিকভাবে ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশক ভারতীয় ক্রীড়ার এক গঠনপর্ব। এই সময়ে ক্রীড়া কোনও বাণিজ্যিক শিল্প নয়, বরং জাতীয় মর্যাদা, আদর্শবাদ ও সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ক্ষেত্র ছিল। সরকারি উদ্যোগ সীমিত হলেও রাষ্ট্র ক্রীড়াকে আন্তর্জাতিক পরিচয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ক্রীড়ার সামাজিক ভিত্তি গড়ে তোলে এবং হকি ও ফুটবলের মতো খেলায় সাফল্য জাতীয় আত্মবিশ্বাস জোগায়। পরবর্তী দশকগুলিতে ক্রীড়ানীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও পেশাদারিত্বের যে পথ তৈরি হয়, তার ভিত্তি অনেকটাই স্থাপিত হয় এই ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকেই।


আগামীকাল চতুর্থ পর্ব বিষয় থাকবে - সবুজ বিপ্লবের কৃষিভিত্তিক রূপান্তর উত্তর ভারতের ক্রীড়া।
                                                             খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ সমৃদ্ধি একদিকে হকির ঐতিহ্যগত সামাজিক ভিত্তি দুর্বলতা।
                                                             ক্রিকেটকে মধ্যবিত্ত আকাঙ্ক্ষা, গণমাধ্যম ও পেশাদারিত্বের জোরে...।

প্রকাশ: ২৮-জানুয়ারি-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 28-Jan-26 11:40 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/indias-sports-policy-a-continuous-history-part-iii
Categories: Fact & Figures
Tags: , indias sports
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড