ভারতের ক্রীড়ানীতি: একটি ধারাবাহিক ইতিহাস (দ্বিতীয় পর্ব)

Author
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসকদের চোখ খুলে দিয়েছিল—অস্ত্র দিয়ে যেমন শাসন করা যায় না, তেমনি সংস্কৃতি দিয়েই তাদের মন জয় করতে হবে। তাই শিক্ষা, ধর্মপ্রচার ও ক্রীড়া—এই তিন ক্ষেত্র হয়ে উঠল উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম।

India's Sports Policy: A Continuous History ( part- ii)
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়াক্ষেত্রও এক গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। খেলাধুলা তখন নিছক বিনোদন ছিল না; এটি ছিল শাসক শ্রেণির এক সূক্ষ্ম হাতিয়ার, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্য কায়েম রাখত। আর একই সঙ্গে, এই ক্রীড়াক্ষেত্রই হয়ে ওঠে শোষিত ভারতীয় জনগণের আত্মপরিচয়ের পুনর্গঠন ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র। মার্কসীয় দৃষ্টিতে বললে, ক্রীড়া হয়ে ওঠে শ্রেণিসংগ্রামের এক সাংস্কৃতিক রূপ—যেখানে শাসক শ্রেণি শাসন বজায় রাখতে সংস্কৃতি ব্যবহার করে, আর শাসিত শ্রেণি সেই সংস্কৃতিকেই অস্ত্র বানিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ভারতে ব্রিটিশ প্রভাব প্রবল হওয়ার আগেই দেশজ ক্রীড়া ছিল এক প্রাকৃতিক, সামষ্টিক চর্চা। গ্রামীণ সমাজে কাবাডি, খো-খো, কুস্তি, লাঠিখেলা বা তরোয়ালের লড়াই ছিল সাধারণ মানুষের শারীরিক শ্রম ও ঐক্যের প্রতীক। এগুলিতে ছিল কোনও পুঁজির বাণিজ্য বা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নয়—ছিল কৃষক, শ্রমিক, কুস্তিগিরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু ব্রিটিশ পুঁজিবাদ ভারতে প্রবেশ করতেই, এই খেলাগুলির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নতুন অর্থ—শাসকের নৈতিকতা ও সভ্যতার নামে শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন।
ব্রিটিশদের চোখে ক্রীড়া ছিল উপনিবেশ শাসনের সাংস্কৃতিক সম্প্রসারণ। তাদের কথিত ‘ফেয়ার প্লে’, ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’ বা ‘ডিসিপ্লিন’ আসলে ছিল শাসক শ্রেণির মতাদর্শের প্রতিফলন—যা তারা শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে উপনিবেশের সমাজে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এই নীতি ছিল মার্কসের কথায় ‘আদর্শগত রাষ্ট্রযন্ত্র’-এর অংশ, যেখানে সংস্কৃতি, স্কুল, গির্জা, ও ক্লাব ব্যবহৃত হয় শাসকের কর্তৃত্বকে বৈধতা দিতে।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসকদের চোখ খুলে দিয়েছিল—অস্ত্র দিয়ে যেমন শাসন করা যায় না, তেমনি সংস্কৃতি দিয়েই তাদের মন জয় করতে হবে। তাই শিক্ষা, ধর্মপ্রচার ও ক্রীড়া—এই তিন ক্ষেত্র হয়ে উঠল উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম। ক্রীড়া ছিল একপ্রকার নৈতিক প্রশিক্ষণ, যাতে ভারতীয়রা হয়ে উঠবে অনুগত শ্রমিক, সৈনিক বা সরকারি কর্মচারী—যারা প্রশ্ন করবে না, শুধু কাজ করবে।
উপনিবেশের প্রথম দিকে ব্রিটিশ অফিসাররা ক্রিকেট, রাগবি, গলফ, ব্যাডমিন্টন বা রোয়িং খেলত নিজেদের স্বাস্থ্য ও বিনোদনের জন্য। এই ক্লাবগুলোয় প্রবেশ ছিল কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য—এগুলি ছিল একধরনের বর্গ একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান, যা উপনিবেশিক শ্রেণি-সংগঠনকে প্রতিফলিত করত। এখানে ব্রিটিশ “জেন্টলম্যান”রা নিজেদের সামাজিক মর্যাদা পুনরুজ্জীবিত করত। ভারতীয়দের প্রবেশাধিকার না দিয়ে তারা খেলাধুলাকে শ্রেণি ও বর্ণের দেওয়ালে ঘিরে রাখে।
একজন ব্রিটিশ লেখক বলেছিলেন—“ইংরেজ খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে ভারতের মাটির জাদু থেকে।” এই বক্তব্য আসলে শাসক শ্রেণির ভয়—উপনিবেশের বাস্তবতা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। খেলাধুলা তাই হয়ে ওঠে শ্রেণি ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষার মাধ্যম।

অন্যদিকে, ভারতীয় সমাজে এই বিদেশি খেলাগুলি প্রবেশ করার সময় দেখা দেয় প্রতিরোধ ও সংকোচ। ফুটবলের চামড়ার বল স্পর্শ করা “অপবিত্রতা” মনে করা হত—কারণ শ্রমিক বা মুসলমানদের তৈরি বল উচ্চবর্ণের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল। ক্রিকেটকে উচ্চবর্ণীয় ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, কারণ সেখানে নিম্নবর্ণের সংস্পর্শ কম। ফলে খেলাধুলার ভেতরেও জাতি ও শ্রেণি বিভাজন প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ ক্রীড়ানীতির মূল লক্ষ্য ছিল দুটি—প্রথমত, খেলাধুলার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন; দ্বিতীয়ত, উপনিবেশের জনগণকে শৃঙ্খলাবদ্ধ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করা। “মাসকুলার ক্রিশ্চিয়ানিটি”-র ধারণা থেকে YMCA ও মিশনারি স্কুলগুলি শারীরিক শিক্ষা প্রচার করতে থাকে—তাদের মতে, দেহকে নিয়ন্ত্রণে আনলে মনও নিয়ন্ত্রণে আসবে। মার্কসীয় ভাষায় বললে, এটি ছিল দেহ-শ্রমের উপনিবেশীকরণ—যেখানে ভারতীয় শরীরকে ব্রিটিশ শাসনের উৎপাদনযন্ত্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছিল।
তবে সমাজের বাস্তব অবস্থা ছিল ভিন্ন। অর্থনৈতিক শোষণে জর্জরিত কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি খেলাধুলা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। ক্রীড়া হয়ে দাঁড়ায় শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও রাজপরিবারের বিনোদন। কিন্তু এই ব্যবস্থার মধ্যেই জন্ম নেয় প্রতিরোধ—১৮৮৯ সালে গঠিত হয় মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব, যা ১৯১১ সালে ইংরেজ সেনাদল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি ছিল নিছক খেলাধুলা নয়—বরং শাসক ও শাসিতের বর্গসংগ্রামের প্রতীকী বিজয়।
ক্রিকেট, যা শুরুতে ছিল ইংরেজ “জেন্টলম্যান”-দের খেলা, ধীরে ধীরে ভারতীয় সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। অভিজাত বাঙালি ও পারসি সম্প্রদায় এটি গ্রহণ করে, কারণ এটি ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু এখানেই তৈরি হয় নতুন শ্রেণি-সচেতনতা। ১৯১১ সালে প্রথম ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফর করে—এটি ছিল সাংস্কৃতিক ঔপনিবেশিকতার বিপরীতে আত্মপ্রকাশের সূচনা। শাসকের খেলাতেই শাসিত শ্রেণি তার শক্তি প্রদর্শন করতে শেখে—এটাই বিপরীত মতাদর্শের উত্থান।

পোলো, স্নুকার, টেনিস, ব্যাডমিন্টন—সবই ব্রিটিশ সেনানিবাসের আনন্দের খেলা, কিন্তু এগুলির জন্ম হয় ভারতেই। মণিপুরের দেশজ ‘সগোল কাংজেই’ থেকে উদ্ভূত পোলো আজ আন্তর্জাতিক খেলা। কিন্তু ব্রিটিশ ক্রীড়ানীতির শ্রেণিগত চরিত্র এখানেও স্পষ্ট—তারা স্থানীয় শ্রমজীবী সংস্কৃতি থেকে যা উপযুক্ত মনে করেছে, সেটিকে নিয়েছে, বাকিটা বাদ দিয়েছে।
দেশজ ক্রীড়া যেমন কাবাডি, কুস্তি বা লাঠিখেলা—এগুলিকে ব্রিটিশরা “বর্বরতা” বলে উপহাস করেছিল। এর মধ্যেই নিহিত ছিল উপনিবেশিক মতাদর্শের শ্রেণি-দম্ভ—তারা শ্রমনির্ভর, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে উচ্চবিত্তের “সৌজন্যপূর্ণ” খেলার প্রশংসা করত। কিন্তু ভারতের মাটিতে এই অপমানই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের ইন্ধন। কুস্তিগিররা, আখড়ার ব্যায়ামকারীরা নিজেদের শরীরের শক্তিকে প্রতীকী অস্ত্র বানিয়ে শাসনের বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ প্রতিবাদ গড়ে তোলে।
১৯২০-এর দশকে শারীরিক সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটে। আউন্ধের রাজা ভবানরাও পান্ত প্রতিনিধি সূর্যনমস্কার চালু করে যোগব্যায়ামকে নতুন দেহচর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দেশীয় শ্রমশক্তির পুনর্দখল—যেখানে দেহ আর উপনিবেশিক শৃঙ্খলার যন্ত্র নয়, বরং স্বাধীনতার বাহন।
১৯২২ সালে বৈদ্য ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘হনুমান আখড়া’ পরিণত হয় জাতীয় আন্দোলনের অংশে। তারা কাবাডি ও ব্যায়ামকে সংগঠিত প্রতিযোগিতায় পরিণত করে, YMCA-র উপনিবেশিক নিয়ম ভেঙে নিজেদের খেলাধুলার কাঠামো নির্মাণ করে—যা ছিল আদর্শগত প্রতিরোধের রূপ।
ব্রিটিশ শাসনের শেষদিকে ক্রীড়াক্ষেত্র রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি—সবখানেই জাতীয়তাবাদী আবেগ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯২৭ সালে দোরাবজি টাটা ও ড. নোহরেনের উদ্যোগে গঠিত হয় ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৩৬ সালে বার্লিন অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য হয়ে ওঠে জাতীয় গর্বের প্রতীক—যেন খেলাধুলার মাঠেই স্বাধীনতার ঘোষণা ধ্বনিত হচ্ছে।

কিন্তু ব্রিটিশ মনোভাব অপরিবর্তিত—তারা এখনও ভারতীয়দের “অনার্য” ও “অসভ্য” মনে করত। খেলাধুলার শৃঙ্খলা তাদের কাছে ছিল জাতিগত নিয়ন্ত্রণের উপায়। মার্কসীয় বিশ্লেষণে এটি ছিল সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের রূপ, যেখানে ব্রিটিশরা উপনিবেশের দেহ-মন উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল।
তবুও, মোহনবাগানের জয়, পারসিদের ক্রিকেট দল, ভারতীয় হকিদলের সাফল্য—সবই প্রমাণ করল যে উপনিবেশিক ক্রীড়ানীতির ভিতরেই জন্ম নিচ্ছে তার বিরোধী শক্তি। শাসকের খেলাকে শাসিতের প্রতিবাদে পরিণত করা—এটাই ছিল ভারতের ঐতিহাসিক অর্জন।
ত্রিনিদাদীয় মার্কসবাদী চিন্তাবিদ সি. এল. আর. জেমস লিখেছিলেন, “যেখানে রাজনীতি দমন করা হয়, সেখানেই খেলা হয়ে ওঠে রাজনীতি।” ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রও সেই সত্যের সাক্ষী—যেখানে প্রতিটি জয় একেকটি সামাজিক প্রতিরোধের প্রতীক।
ভারতীয় ক্রীড়াবিদেরা যখন ব্রিটিশদের পরাজিত করেছিল, তখন তারা শুধু ম্যাচ জেতেনি—জিতেছিল নিজেদের মর্যাদা। খেলাধুলা হয়ে উঠেছিল জাতীয় শ্রমিকচেতনার প্রকাশভূমি। ক্লাব, মাঠ, আখড়া—সবই হয়ে ওঠে জনগণের ঐক্যের কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গে ফুটবল, কেরালায় হকি, পাঞ্জাবে কুস্তি—সবখানেই শোষিত শ্রেণি তাদের অস্তিত্বের জায়গা তৈরি করেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যালকাটায় আমেরিকান সৈন্যদের বেসবল খেলা যেন মনে করিয়ে দেয়—ক্রীড়া তখনও সাম্রাজ্যবাদের অংশ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম।
শেষ পর্যন্ত, ব্রিটিশ ক্রীড়ানীতি ছিল দ্বিমুখী—একদিকে এটি সাম্রাজ্যিক আধিপত্যের প্রতীক, অন্যদিকে এটি জন্ম দিয়েছিল প্রতিরোধের চেতনা। উপনিবেশিক শাসক চেয়েছিল অনুগত শ্রমশক্তি, কিন্তু তারা পেয়েছিল সচেতন নাগরিক। তারা চেয়েছিল প্রজা, কিন্তু জন্ম দিয়েছিল মুক্ত মানুষ।
১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হয়, তখন আসলে স্বাধীনতার অনুশীলন আগেই শুরু হয়েছিল ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির মাঠে। সেই মাঠে মানুষ শিখেছিল নিয়ম, শৃঙ্খলা, সংগ্রাম ও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মানে।

সুতরাং ব্রিটিশ শাসনে ভারতের ক্রীড়ানীতি ছিল এক শ্রেণি-সংগ্রামের গল্প—যেখানে শাসক চেয়েছিল সংস্কৃতির মাধ্যমে দমন, আর শাসিত সেখানে খুঁজে পেয়েছিল মুক্তির পথ। খেলাধুলা তাই শুধু শারীরিক নয়, এটি ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রক্রিয়া। ব্রিটিশরা ভেবেছিল তারা খেলাধুলার মাধ্যমে ভারতকে বদলাবে—কিন্তু ইতিহাস বলে, খেলাধুলাই শেষ পর্যন্ত বদলে দিয়েছিল ভারতের চেতনা।


আগামীকাল তৃতীয় পর্ব বিষয় থাকবেঃ স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী দশকে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে ক্রীড়া 

প্রকাশ: ২৭-জানুয়ারি-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 27-Jan-26 09:59 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/indias-sports-policy-a-continuous-history-part--ii - exists in postID 32090
Categories: Fact & Figures
Tags: british imperialism, britishindia, indias-sports, british sports
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড