জাল ভ্যকাসিন, অসাধু চক্র এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসন

Author
ওয়েবডেস্ক

এতো বড়ো একটা ঘটনা, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চুপ। কাশ্মীর নিয়ে সেখানকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই অভিমত জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন কি অপ্রচলিত ব্রান্ডের কোভ্যাক্সিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন মমতা।কিন্তু তার দলের তাবড় তাবড় নেতাদের ঘনিষ্ঠ দেবাঞ্জনের জাল আই এ এস পরিচয়, সেই দেবাঞ্জন আয়োজিত কোভিড টিকাকরণ শিবিরে জাল ভ্যাকসিন, সেই প্রেক্ষিতে বাগড়ির পাইকারি ওষুধ বাজারে ভেজাল ওষুধ-- এইসব সম্পর্কে কিন্তু মমতা একটিও কথা বলেন নি।

Duplicate Vaccine: The Situation In West Bengal

প্রকাশ: ২৬-জুন-২০২১

কলকাতায় জাল ভ্যাকসিনের জাল

Gautam-Roy

গৌতম রায়

খাস কলকাতা মহানগরীর বুকের উপরে জাল আই এ এস অফিসার পরিচয় দিয়ে কোনো ব্যক্তির ব্যবস্থাপনায় একের পর এক ভুয়ো টিকাদান শিবিরের বিষয়টি সামনে আসার পর কোভিড ঘিরে প্রশাসনের হাঁড়ির হাল একেবারে সামনে চলে এসেছে। কলকাতার ভিতরে কসবা অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের ডাকাবুকো মন্ত্রী জাভেদ খানের নিজস্ব এলাকা।সেই এলাকায় রাজ্যের শাসকদলের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী জাল আই এ এস দেবাঞ্জন দেবের ব্যবস্থাপনার কোভিড টাকাকরণ শিবির থেকে টিকা নেওয়ার পর জাল টিকার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।তার আগে অবশ্য উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রীট এলাকার সিটি কলেজেও এই দেবাঞ্জনের উদ্যোগে এমন টিকাকরণ শিবির হয়েছিল। সেই শিবিরেও ৭২ জন ছাত্র ছাত্রী টিকা নেয়। সব টিকাই জাল ছিল।

দেবাঞ্জন দেব- যিনি এই গোটা অপকর্মটির সঙ্গে যুক্ত, পুলিশ তার অফিসে তল্লাশি করে যে নথিপত্র উদ্ধার করে সেগুলিও জাল।রাজ্যের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান কর্মক্ষেত্র স্বাস্থ্যভবন থেকে অনুমোদন করা টিকার জাল রিকুইজেশন ফর্ম ও তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে। কসবার ক্যাম্প থেকে কোভিডের টিকা বলে যে শিশির ওসুধ ব্যবহার করা হচ্ছিল , সেগুলির সঙ্গে  কোভিড প্রতিষেধক টিকার ভায়ালের সঙ্গে কোনো সাদৃশ্য নেই।কোভিড প্রতিষেধক টিকার শিশিগুলির থেকে এইসব ভুয়ো ক্যাম্পে প্রতিষেধক বলে যেসব ভায়াল ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলি আকারেও যথেষ্ট ছোট।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে কলকাতার বড়বাজার সংলগ্ন বাগড়ী মার্কেট থেকে এই জাল প্রতিষেধক সংগ্রহ করা হয়েছে।ওষুধের পাইকারি বাজার হিসেবে কলকাতার এই বাগড়ি মার্কেটের পরিচিতি কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়।গোটা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পাইকারি ওসুধের প্রাপ্তিস্থান হিসেবে বাগড়ি মার্কেটের বিশেষ পরিচিতি আছে।প্রতিবেশি বাংলাদেশেও এই বাগড়ি মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণে ওসুধ যায়।

বাগড়ি মার্কেট থেকে জাল ভ্যাকসিন সংগ্রহের খবরটির সাথে সাথেই এই মার্কেটে জাল ওসুধের চোরাকারবারিদের রমরমার বিষয়টিও জাল আই এ এস অফিসারের মতোই প্রকাশ্যে চলে এল।পশ্চিমবঙ্গে ওসুধ শিল্পের সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ সম্পর্ক।কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ড্রাগ কনট্রোলারের অনুমোদন ব্যাতীত ওসুধ তৈরি করতে পারে না।বিক্রি তো দূরের কথা।

বাগড়ি মার্কেট থেকে কোভিডের জাল প্রতিষেধক কেনার ঘটনা থেকে এটা পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে যে, ওই মার্কেটে যদি কোভিডের জাল প্রতিষেধক টিকা সহজেই সরকারি নথি জাল করে কিনতে পারা যায়, তাহলে অন্যান্য জীবনদায়ী ওসুধের জাল সংস্করণ কিনতে পাওয়াও কোনো অবস্থাতেই দুস্কর নয়।খোদ কলকাতার বুকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত ওসুধের পাইকারি বাজারে জাল ওসুধ কি ভাবে আসছে? কি ভাবে মানুষ সেগুলো কিনতে পারছে? জাল আই এ এস অফিসারের এই একের পর এক কোভিড প্রতিষেধক টিকাকরণ শিবির সংগঠিত করবার ক্ষেত্রে পুলিশ - প্রশাসনের প্রশাসনের যে প্রচ্ছন্ন মদতের বিষয়টি উঠে আসছে, বাগড়িতে জাল ওসুধ বিক্রির ক্ষেত্রেও পুলিশ - প্রশাসনের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া মানুষের জীবন নিয়ে এইরকম ছিনিমিনি খেলা যে অসম্ভব, তা আর আলাদা করে বলবার প্রয়োজন হয় না।

জাল আই এ এস অফিসারের টিকাকরণ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ, পৌরসভা, স্বাস্থ্য দপ্তরের ভিতরে চাপাত উতোর শুরু হয়েছে।সকলেই দায় এড়িয়ে যেতে চায়।পুলিশ দোষ চাপাতে চাইছে পৌরসভার উপরে।পৌরসভা তৎপর যতোদোষ নন্দ ঘোষ, অর্থাৎ; স্বাস্থ্যভবন।এই দোষ চাপানোর চাপান উতোরের প্রধান কারণ হল, জাল আই এ এস অফিসার দেবাঞ্জন রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের একদম সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে অত্যন্ত বেশি রকমের ঘনিষ্ঠ।রাজ্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেবাঞ্জনের একাধিক ছবি এখন সামাজিক গণমাধ্যমে ঘুরছে।ঘুরছে রাজ্যের আর এক প্রবীণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেই অন্তরঙ্গ ছবি। রাজ্যের শাসক দলের বিধায়ক তথা খোদ কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক মন্ডলীর সভ্য দেবাশিস কুমারের সঙ্গেও দেবাঞ্জনের অন্তরঙ্গ ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকে।সাংসদ শান্তনু সেন, যিনি চিকিৎসকদের সংগঠন আই এম এ ও কর্তাব্যক্তি, তার সঙ্গে দেবাঞ্জনের অন্তরঙ্গতার ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে।

ফেসবুকে কারো সঙ্গে ছবি প্রকাশ পেলেই ঘনিষ্ঠতার বিষয় আসে না।কিন্তু এই দেবাঞ্জন আই এ এস অফিসার পরিচয় দিয়ে বিগত ২০১৯ সালে কলকাতার গগণেন্দ্র শিল্পকলাতে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনের একটি সরকারি মঞ্চে সরকারি আধিকারিক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছিলেন। সেই কারণেই দেবাঞ্জনের মতো লোকেদের সম্পর্কে সামাজিক জীবনে একটা সম্ভ্রম তৈরি হয়।আর সেই সম্ভ্রমকে কাজে লাগিয়েই এরা যখন সামাজিক অপরাধ সংগঠিত করে বহু ক্ষেত্রেই পুলিশ প্রশাসনের গভীরে ও তারা প্রভাব বিস্তার করে ফেলতে সক্ষম হয়।আর সেই সংযোগের খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।

খোদ কলকাতা শহরের বুকে শাসক ঘনিষ্ঠ একজন নিজেকে দেশের শীর্ষ আমলাদের একজন বলে মিথ্যে পরিচয় দিচ্ছে, আর পুলিশ- প্রশাসন প্রকৃত সত্যটা জানে না-- এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।শাসক ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই ধরণের লোকেদের কেশাগ্র স্পর্শ করবার সাহস পুলিশ কখনো দেখাতে পারে না।বাগড়ি র পাইকারি ওষুধ বাজারে যারা জাল কারবার ফেঁদে বসে আছে, পুলিশ, গোয়েন্দা, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা তাদের সুলুক সন্ধান জানে না- এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়।গোটা প্রশাসনিক মহলের একটা বড় অংশ এবং খোদ শাসকদলের একটা অংশ এই কর্মকান্ডের পিছনে কখনো প্রত্যক্ষ, কখনো পরোক্ষ মদত দেয় বলেই এইসব কারবার পুলিশের নাকের ডগায় দিনের পর দিন রমরমিয়ে চলতে থাকে।

সব দেশের মতো ভারতেও তথা পশ্চিমবঙ্গেও ওষুধ বিক্রেতাদের নিজস্ব সংগঠন আছে।সেই সংগঠন গোটা রাজ্যেই সক্রিয়।এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বাগড়ি মার্কেট থেকে কখনো সরাসরি , কখনো বা দুই তিন হাত বদল হওয়ার ভিতর দিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করে রিটেলে বিক্রি করেন।সেইসব ওষুধের মুদ্রিত দামের থেকে বাগড়িতে ওষুধের দাম অনেকক্ষেত্রেই অবিশ্বাস্য রকমের কম হয়।ওষুধ বিক্রেতারা কিন্তু বাগড়ি থেকেই এইসব।ওষুধ কম দামে সংগ্রহ করে বেশি মুনাফার উদ্দেশে মুদ্রিত দামেই বিক্রি করে।বাংলাদেশেও পাঠায়।বাংলাদেশের বাজারে সেগুলি অনেক সময়ে মুদ্রিত দামের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হয়।

বাগড়িতে মুদ্রিত দামের উপর যেসব ওষুধে অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যায়, সেইসব ওষুধের মান সম্পর্কে কখনো কেউ মাথা ঘামিয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ  ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ কখনো কোনো রকম অতর্কিত হানা দিয়েছে বাগড়িতে ? অস্বাভাবিক কম দামে যেসব ওষুধ সেখানে বিক্রি হয়, সেগুলির মান পরীক্ষা করে কখনো দেখা হয়েছে? এই ওষুধের মান ঘিরে স্বাস্থ্য দপ্তর কখনো কোনো কথা বলেছে? পৌরসভা বলেছে? পুলিশ বলেছে? চিকিৎসকদের সংগঠন বলেছে? ওষুধ বিক্রেতাদের সংগঠন বলেছে? একটি সমাজসেবী সংগঠন ও কি এইদিকটাতে কখনো নজর দিয়েছে? মানুষকে সচেতন করবার চেষ্টা করেছে? নাকি সমাজসেবী সংগঠনগুলির ভিতরেও মেডিকেল ক্যাম্প করবার সময়ে বাগড়ির পাইকারি বাজার থেকে অবিশ্বাস্য কম দামে ওষুধ কিনে গরিবগুর্বোদের ভিতরে বিলি করবার প্রবণতায় কখনো এতোটুকু খামতি দেখা গেছে?

শাসক দলের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী কসবাতে টিকাকরণ শিবির থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিবিরে জাল টিকা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়।মিমি টিকা নেওয়ার আগে ও অনেকেই সেই শিবির থেকে টিকা নিয়েছিলেন।সেইসব মানুষেরা টিকা নেওয়ার পর কোনো অসুবিধার সন্মুখীন হয়েছিলেন কি না, জানার কোনো উপায় নেই।কারণ, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে প্রশাসনের কাছে সেটা তেমন একটা নজর দেওয়ার বিষয় বলে মনে হয় না।অবশ্য ই মিমি চক্রবর্তীর মতো একাধারে পরিচিত অভিনেত্রী অপর দিকে কলকাতা সংলগ্ন যাদবপুর কেন্দ্রের শাসক দলের সাংসদ, তিনি জাল টিকা র খপ্পরে পড়লে তখন সেটা খবর হয়।আর কান টানলে মাথা আসার মতো করেই তখন সামনে আসে সেই জাল টিকা সংগ্রহের কাহিনি।সামনে আসে খোদ কলকাতার বুকে পাইকারি ওষুধের জন্যে বিখ্যাত বাগড়ি মার্কেটে এই রমরমিয়ে জাল ওষুধের ব্যবসার বিষয়টি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের ও দায়িত্বে আছেন।তিনিই ওষুধের দামে ছাড় দেওয়ার প্রথা চালু করেছিলেন এই রাজ্যে গত কয়েক বছর আগে।ফলে গ্রামে গঞ্জের ওষুধের দোকানেও এখন ন্যুনতম ১০ শতাংশ ছাড় মেলে।রাজ্যের হাসপাতাল গুলিতে জেনেরিক ওষুধের নাম ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকদের লেখার বাধ্যবাধকতার সরকারি হুকুমনামা ও তিনি জারি করেছিলেন।সেইসঙ্গে সরকারী হাসপাতালগুলিতে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান ও চালু হয় তাঁর ই ভাবনা থেকে।

এই ভাবনার বাস্তবায়ন যতো এগিয়েছে ততোই ওষুধ ঘিরে চোরা কারবার পশ্চিমবঙ্গে শাখা প্রশাখা বিস্তার করেছে।ওষুধ বিক্রেতাদের বক্তব্য ; উদার অর্থনীতির প্রথম ঝাপটায় নয়ের দশকে ডাঙ্কেল প্রস্তাব কার্যকরী হওয়ার পর থেকেই ওষুধের দাম ক্রমশঃ আকাশ ছোওয়া হতে শুরু করে।আন্তর্জাতিক দুনিয়াতে ওষুধের উপাদানের যে মূল্যবৃদ্ধি তার অনুপাতের সঙ্গে ভারতে উপাদান আমদানির ক্ষেত্রে দামের সমতা প্রায় থাকেই নি।ফলে  ভারতের খোলা বাজারে দাম ক্রমশ লাগামছাড়া হতে থাকে।তার উপরে ওষুধ কোম্পানীগুলো নিজেদের প্রোডাক্ট বাজারচলতি করবার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ কে প্রবলভাবে কমিশন দিতে থাকে ।অর্থ , নামী- দামি ইলেকট্রনিক গ্যেজেট, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ এইসবের বিনিময়ে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানীরা নিজেদের ওষুধকে বাজারে জনপ্রিয় করতে শুরু করে। 

দেশিয় এবং ছোট ওষুধ কোম্পানীগুলি এরফলে ক্রমশঃ ধুঁকতে শুরু করে।কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কেউ ই এইসব ছোট ওষুধ কোম্পানী গুলোকে বাঁচাতে এতোটুকু প্রয়াসী হয় না।আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত ' বেঙ্গল কেমিকাল' এই ভাবেই প্রায় ধ্বংসের মুখে চলে আসে।ফলে বেসরকারী ছোট ছোট ওষুধ কোম্পানীগুলো মানের ক্ষেত্রে প্রচন্ড রকম আপোষ করতে বাধ্য হয়।জাল ওষুধের কারবার এইভাবে দিনের পর দিন বাড়তে থাকে।সরকার বিষয়টির দিকে আদৌ কোনো লক্ষ্য নজর দেয় না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে চিকিৎসকদের জেনেরিক ওষুধ লেখার হুকুম দেন।কিন্তু সেই হুকুম কতোখানি তামিল হচ্ছে-- তা দেখার দিকে তিনি কখনো নজর দেন না।প্রশাসনকেও সক্রিয় করেন না।ফলে ধীরে ধীরে নিম্নমানের ওষুধের বাজার ক্রমশঃ জোরালো হতে শুরু করে।অনেকক্ষেত্রেই এই নিম্নমানের,ভেজাল ওষুধের সঙ্গেশাসক শিবিরের একটা বড় অংশের সংযোগ তৈরি হয়ে যায়।যেমনটা হয়েছে এই দেবাঞ্জন দেব কে ঘিরে।

সামাজিক ক্ষেত্রে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঢিলেমির সাথেই উল্লেখ করতে হয় বিরোধী দলগুলির ভূমিকা ঘিরেও। শাসক ঘনিষ্ঠ একজন নিজেকে জাল আই এ এস হিসেবে তুলে ধরে কোভিড প্রতিষেধক বলে হামের টিকা দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।সেই প্রতারণার সূত্রেই বাগড়ির পাইকারি ওষুধের বাজারে জাল ওষুধের বিষয়টি উঠে আসে।এতো বড়ো একটা ঘটনা, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চুপ। কাশ্মীর নিয়ে সেখানকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই অভিমত জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন কি অপ্রচলিত ব্রান্ডের কোভ্যাক্সিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন মমতা।কিন্তু তার দলের তাবড় তাবড় নেতাদের ঘনিষ্ঠ দেবাঞ্জনের জাল আই এ এস পরিচয়, সেই দেবাঞ্জন আয়োজিত কোভিড টিকাকরণ শিবিরে জাল ভ্যাকসিন, সেই প্রেক্ষিতে বাগড়ির পাইকারি ওষুধ বাজারে  ভেজাল ওষুধ-- এইসব সম্পর্কে কিন্তু মমতা একটিও কথা বলেন নি।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 26-Jun-21 11:20 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/duplicate-vaccine-the-situation-in-west-bengal
Categories: Current Affairs
Tags: covid19., vaccines
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড