অপদার্থতা ঢাকতে ক্ষমা প্রার্থনার ভান মোদীর


প্রকাশ: ৩০-মার্চ-২০২০
এক রাত আটটার ঘোষণার জন্য দেশবাসীর দেওয়া শাস্তি মাথা পেতে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আরেক রাত আটটার ঘোষণায় লোকজনকে কোনোরকম সময় না দিয়ে চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য এবার তিনি ক্ষমা প্রার্থনার ভান করলেন। পরিকল্পনা ছাড়াই আচমকা লকডাউন ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার বলেছেন, ‘‘আমি ক্ষমা চাইছি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন।’’
ক্ষমাপ্রার্থনার এই পর্ব অবশ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর সরকারের পরিকল্পনার অভাবকে আড়াল করতে পারেনি। তাই তাঁর মন-কি-বাত সামনে আসার সাথে সাথে দেশবাসীর মনের কথাও বারে বারে ফুটে উঠছে নানান মাধ্যম হয়ে। সকলেরই বক্তব্য ক্ষমা চাইলে চান পরিকল্পনার অভাবের জন্য। সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি টুইটে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যদি ক্ষমা চাইতেই চান তাহলে লকডাউনের আচমকা ঘোষণার আগে ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য চাওয়া উচিত। রোগ সংক্রমণের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সময় কাজে না লাগিয়ে উনি তখন সেন্ট্রাল ভিস্তার মতো বেকার খরচের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ তো আসলে নিজের দায়িত্ব অস্বীকার করার সমান।’ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এদিন মোদীর কড়া সমালোচনা করেছেন।
গত মঙ্গলবার রাত আটটায় নোটবন্দির ধাঁচেই আচমকাই লকডাউনের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর থেকেই গরিব-বড়লোক সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমস্যায় পড়ে যান দিন-আনি-দিন-খাওয়া মানুষকে, গরিব কিংবা ভবঘুরে সকলকেই। মহা মুশকিলে পড়েন বড় শহরে কাজ করতে আসা ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে তাঁদের খাবারের জোগানেও টান পড়ে। অনেকেই উপায়ান্তর না দেখে হাঁটতে শুরু করেন বাড়ির পথে। অনেকেই পরিবার নিয়ে সন্তানকে কাঁধে চাপিয়েই পেরোতে থাকেন দীর্ঘ পথ। দিল্লি থেকে মধ্য প্রদেশের মোরেনার বাড়িতে অভুক্ত শরীরে দীর্ঘ পথ হাঁটতে গিয়ে শনিবারই প্রাণ গেছে রাজধানীর এক রেস্তোরাঁর ডেলিভারি ম্যান রণবীর সিংয়ের। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে দেশের মানুষকে অথৈ জলে ফেলার এই অপরিকল্পিত পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই এই চার দিনে সন্তান, পরিবার সহ অন্তত ১৭জন পরিযায়ী শ্রমিকের প্রাণ গেছে। নানা কারণে, রণবীরের মতো এঁরা সকলেই পথ হাঁটছিলেন।
দেশজুড়ে যখন মোদীর এই খেয়াল-খুশির ঘোষণার অভিঘাত নিয়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে, তখন রবিবার সাফাই গাইতে মোদী বেছে নিলেন ‘মন-কি-বাত’ অনুষ্ঠানকে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন সপ্তাহের লকডাউনের মধ্যেই দেশে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন মেনে চলার বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘লোকে হয়তো ভাবছেন আমি কেমন ধরনের প্রধানমন্ত্রী...কিন্তু লকডাউন আমাদের সামনে থাকা একমাত্র সমাধান। অনেকেই লকডাউন লঙ্ঘন করছেন। এটা দুঃখজনক।’’ তিনি বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতেই হতো আপনাদের বাঁচানোর জন্য।
নোটবন্দির সময় প্রথমে ৫০ দিন চেয়েছিলেন দেশবাসীর কাছ থেকে। বলেছিলেন সমস্যা না মিটলে তিনি নিজে আসবেন চার মাথার মোড়ে, দেশবাসীর বিধান মতো শাস্তি মাথা পেতে নিতে। সমস্যা মেটেনি। শাস্তিভোগ করতে আসেননি তিনিও। আর এদিন সকালে মোদীর ক্ষমাভিক্ষার পর লকডাউন কড়াভাবে কার্যকর করতে দেশজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতায়াত বন্ধ করতে রাজ্যগুলিকে সীমান্ত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
===============
প্রশ্ন হল
---------
দু’মাসের বেশি সময় পেয়েও আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা হয়নি কেন?
ভারতে পরীক্ষার হার সবচেয়ে কম কেন?
হাসপাতাল তৈরি নেই কেন?
লকডাউনের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?
নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়নি কেন?
কেন্দ্রের তথাকথিত প্যাকেজে কেন বাদ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবীই?
শেষ এডিট:: 30-Mar-20 12:48 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/apology-for-urgent-measures-taken-pm-modis-justification
Categories: Current Affairs
Tags: coronainindia, covid-19, cpim, modi govt 2.0, we the people of india
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (147)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (130)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





