|
একালের শিক্ষা (দ্বিতীয় পর্ব)Pratim De |
একই পাঠ্যক্রম নয়। আরএসএসের পাঠ্যক্রম চলে সেখানে। ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান, ভুগোল, অঙ্কের মতো সব বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু তা আরএসএস’র তৈরি করা সিলেবাসে। যেই সিলেবাসে নেই কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা। |
দ্বিতীয় পর্ব
মমতার আশকারায় বাড়ছে ‘সরস্বতী বিদ্যামন্দির’, ছড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ‘ছোট থেকেই তিন ঠিক করতে হবে।’ প্রতিটা ঘরের বাবা মায়ের মুখে এই কথা শোনা যায়। সব বাড়ির লোকেরাই চায় ছেলে মেয়েরা ছোট থেকেই ভালো ভাবে লেখা পড়া করুক। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। সিলেবাসের বদল এখন বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি স্কুল পাঠ্যকে ব্যবহার করেই ছোট থেকেই ছেলে মেয়েদের মধ্যের ঘৃণার বিষ ছড়াতে চাইছে বিজেপি আরএসএস। আর এই রাজ্যে তাদের হয়ে সেই কাজ করছেন মমতা ব্যানার্জি। সিঙ্গুর আন্দোলনকে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করে ছাত্র সামজের কাছে যেমন মিথ্যা তুলে ধরেছে, তেমন ভাবে আরএসএসকে সুযোগ করে দিয়েছে এরাজ্যে তাদের স্কুল তৈরি করার জন্য। শুধু ইতিহাস নয়। রাজ্যের স্কুল শিক্ষার গোটা পাঠ্যক্রমেই বদল এনেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আলাদা করে বিজ্ঞান, ভুগোল, ইতিহাস বলে কোনও বিষয় নেই। সব একসঙ্গে করে একটিই পাঠ্য বই হয়েছে যার নাম ‘পরিবেশ’। সেখানে আবার এক একটি অধ্যায় গল্পের ছলে লেখা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই একজন পড়ুয়া ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞানের মতো বিষয় আলাদা আলাদা ভাবে পড়তে শুরু করে। অল্প অল্প করে তাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হতে থাকে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে উল্টো। ষষ্ঠ শ্রেণিতে গিয়ে একজন ছাত্র জানতে পারছে আকাশ গঙ্গা কি? মুঘল সাম্রাজ্য কে কবে প্রতিষ্ঠা করে? বৃষ্টি কি ভাবে হয়? বায়ুমন্ডল কি? বেসরকারি স্কুলেও কি ষষ্ঠ শ্রেণিতে গিয়ে এই সব জানছে ছাত্রছাত্রীরা? না। একদমই নয়। তারা অনেক আগে থেকেই এই সব বিষয় জানছে। তারা ‘সিভিক্স’ আলাদা ভাবে পড়ে নিজেদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি করছে দেশ, সমাজ, রাজনীতির মতো বিষয়ে। RSS -এর স্কুল আমাদের রাজ্যে নতুন করে আবার আট হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ হওয়ার মুখে। এই সময়ের রাজ্যে মাথা চাড়া দিচ্ছে আরএসএসের স্কুল সরস্বতী বিদ্যামন্দির। বাঁকুড়ার গঙ্গাজল ঘাঁটি ব্লকে বন্ধ হওয়ার মুখে ৩২টি স্কুল। ৩০-এর নিচে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা থাকার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে স্কুলগুলি। উল্টো দিকে ওই ব্লকেই রমরমিয়ে চলছে সরস্বতী বিদ্যামন্দির। আরএসএস পরিচালিত স্কুল সরস্বতী বিদ্যামন্দির। মাত্র দু’বছরের মধ্যে মাথা ছাড়া দিয়েছে এই তিনটি স্কুল। তিনটি স্কুলেই পড়ুয়ার সংখ্যা সরকারি স্কুলগুলির চেয়ে বেশি। কী পড়ানো হয় এই স্কুলে? মাধ্যমিক উচ্চ-মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম মেনে কী পড়ানো হয়? না। একই পাঠ্যক্রম নয়। আরএসএসের পাঠ্যক্রম চলে সেখানে। ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান, ভুগোল, অঙ্কের মতো সব বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু তা আরএসএস’র তৈরি করা সিলেবাসে। যেই সিলেবাসে নেই কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা। অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যক্রম যদি দেখা যায় তাহলে ওপর থেকে দেখলে মনে হবে বাকি পাঁচটা বোর্ডের মতোই সিলেবাস। কিন্তু না। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভিত্তিক বা পর্যায় ভিত্তিক কোন অধ্যায় নেই। আছে শুধু একটা অধ্যায়। যেখানে ১৮৭০-১৯৪৭ পর্যন্ত গোটা স্বাধীনতা আন্দোলনকে দেওয়া হয়েছে! মাত্র একটি অধ্যায়। স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীর ভূমিকা কি? সুভাষ বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ কী করল? চিত্তরঞ্জন দাস, সূর্য সেন, ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদের ভূমিকা সব কিছু একটি অধ্যায়ে। অন্যদিকে আমাদের রাজ্যের বা সিবিএসই, আইএসসি বোর্ডর অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের দিকে দেখি তাহলে দেখা যাবে অন্য চিত্র। ঘটনা ভিত্তিক বা পর্যায়ক্রমে অধ্যায়। যা পড়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সম্পর্কে একটা সম্যক ধারনা তৈরি হবে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মনে। ভুগোলে আরএসএস কি পড়াচ্ছ? অষ্টম শ্রেণিতে পড়ানে হচ্ছে কৃষি, শিল্প, মানব সম্পদ। যা অন্যান্য জায়গায় সাধারণত পঞ্চম শ্রেণিতে পড়িয়ে থাকা হয়। সাধারণত অষ্টম শ্রেণিতে জলবায়ুর পরিবর্তন, পৃথিবীর অন্দর, বিভিন্ন মহাদেশের সম্পর্কে পড়ানো হয়। জীবন বিজ্ঞানে আরএসএস পড়াচ্ছে কী ভাবে ফসল ফলাতে হয় এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ কি ভাবে করা যেতে পারে। রাজ্যের সরকারি স্কুল এবং আরএসএস পরিচালিত স্কুলের পাঠ্যক্রমে আকাশ পাতাল ফারাক। পাঠ্যক্রমে যখন এতো ফারাক তখন কেন ছাত্র ছাত্রীরা সেই স্কুলে যাচ্ছে ?প্রশ্ন আসছে। আগামীকাল তৃতীয় পর্ব প্রথম পর্ব লিঙ্ক প্রকাশের তারিখ: ২০-অক্টোবর-২০২৫ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|