কাজ, নিয়োগ ও নিরাপত্তা

Ayanangshu Sarkar               
জেলায় জেলায় গরিব মানুষদের জন্য ১২০ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং শহরের গরিব মানুষের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু হবে । বেকার ভাতা প্রাপ্ত সকলের জন্য ভাতা অক্ষুন্ন রেখেই লক্ষ্য থাকবে সকলকে স্বনির্ভর করার জন্য সমবায় গঠন করে অথবা নিজে উদ্যোগে ব্যবসা করার জন্য সহজ ঋণদান প্রকল্প তৈরি করা ।
এবারের বিধানসভা নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচনী লড়াই নয় -  পশ্চিমবঙ্গের সমাজ , সংস্কৃতি , অর্থনীতিসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর লড়াই 

     দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পথ বেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭৭ সালে তৈরি হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার । গ্রামের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ মাথা তুলে বাঁচবার অধিকার অর্জন করেছিলেন ।গ্রামীণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালে প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচন ।জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে থাকলো গ্রামে পঞ্চায়েত । পানীয় জল , রাস্তা , সেচের ব্যবস্থা গড়ে উঠলো বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে ।ভূমি সংস্কারের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক অংশের মানুষ পেলেন জমির অধিকার । কৃষিতে সারা দেশেতে নজির তৈরি করল পশ্চিমবঙ্গ। গড়ে উঠলো একটার পর একটা বিদ্যালয় । শুরু হলো অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা। কল - কারখানা আর একটার পর একটা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র । তৈরি হলো কাজের সুযোগ ।স্কিলড ভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলো ।এস এস সি - পি এস সি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যেক বছর চাকরির পরীক্ষা আর সুষ্ঠ নিয়োগ । গড়ে উঠলো আই টি সেক্টর । বামফ্রন্টের সময়ে প্রত্যেক বছর বাড়তে থাকলো মাধ্যমিক , উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী । উচ্চ শিক্ষার জন্য আরও কলেজ , টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট , বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলো রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে । সংখ্যালঘু অংশের ছাত্র - ছাত্রীদের জন্য গড়ে উঠলো আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় । তফসিলি জাতি, উপজাতি , সংখ্যালঘুদের জন্য  সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করল বামফ্রন্ট সরকার । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বামফ্রন্ট সরকার । সমাজের সব অংশের মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিল বামফ্রন্ট সরকার ।

    দীর্ঘ সময় ধরেই সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীলদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছিল পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাস্ত করার । কৃষির সাফল্যের সাথে সাথেই যখন শিল্পের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ঠিক সেই সময়ই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে আজকে যারা দেশের ও রাজ্যের শাসক দল তাদের বোঝাপড়ায় পশ্চিমবঙ্গে শুরু হল ঘৃণ্য রাজনীতি । ২০১১ সালে তৃণমূলের সরকার তৈরি হবার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের কৃষক - ক্ষেতমজুররা সংকটে  । ফসলের দাম নেই, সারের দাম বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে । বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে , যতটুকু কাজ আছে সেখানে কাজের স্থায়িত্ব নেই নিরাপত্তা নেই। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার নেই তাই ৮ ঘন্টার কাজ আজকে ১২ ঘন্টা বা তার বেশি । সঠিক মজুরি মিলছে না । বেকারত্বের যন্ত্রণা প্রতিদিন তীব্র হচ্ছে । কাজের আশায় রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে বাংলার ছেলে মেয়েরা । বেকারত্বের তীব্র যন্ত্রণা কে ব্যবহার করে শাসক বিপথগামী করার চেষ্টা করছে পশ্চিমবাংলার যৌবনকে । রাজ্যের সব ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি। বামফ্রন্টের তৈরি পঞ্চায়েত কে লুটের কারখানায় পরিণত করেছে তৃণমূল ।প্রতিদিন মহিলাদের উপর আক্রমণের ঘটনা সামনে আসছে । অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে তার জন্য তৃণমূল বিজেপি উভয়ই মানুষকে ধর্ম , জাত - পাত, ভাষার নামে ভাগ করার জন্য ঘৃণ্য রাজনীতির আমদানি করেছে বাংলায় । তৃণমূল বিজেপির বোঝাপড়াতেই পশ্চিমবাংলার জনগণ রয়েছে সংকটে । এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য আজকের লড়াই । পশ্চিমবঙ্গের সমাজ - সংস্কৃতিকে বাঁচানোর লড়াই । কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসক দল যারা সাধারণ মানুষকে সংকটের মধ্যে ফেলেছে তাদের থেকে পশ্চিমবঙ্গ কে বাঁচাতে হলে বাম পথেই অগ্রবর্তী হতে হবে । 

      বামপন্থীরাই পারবে শিক্ষা ও কাজের পরিবেশ কে ফিরিয়ে আনতে। বামপন্থা ফিরিয়ে আনবে কাজের স্থায়ীকরণ । সরকারি স্কুল-কলেজের পরিকাঠামোর উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রত্যেক বছর স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ হবে । বামফ্রন্টের সময়ে কৃষি ব্যবস্থায় সারা দেশে যে নজির স্থাপন করেছিল পশ্চিমবাংলা সেই পরিবেশ ফিরবে । ফসলের লাভজনক দাম পাবেন চাষিরা । কৃষির সাফল্যের সাথে সাথেই শিল্প গড়ে উঠবে - নতুন করে স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরি হবে । মেধা অনুযায়ী রাজ্যের মধ্যেই পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে যাতে ছাত্রছাত্রীদের অন্য রাজ্যে পাড়ি না দিতে হয়। জেলায় জেলায় গরিব মানুষদের জন্য ১২০ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং শহরের গরিব মানুষের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু হবে । বেকার ভাতা প্রাপ্ত সকলের জন্য ভাতা অক্ষুন্ন রেখেই লক্ষ্য থাকবে সকলকে স্বনির্ভর করার জন্য সমবায় গঠন করে অথবা নিজে উদ্যোগে ব্যবসা করার জন্য সহজ ঋণদান প্রকল্প তৈরি করা । সংখ্যালঘু, তপশিলি জাতি, উপজাতিদের জন্য বিশেষ আর্থিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে । উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবা বিপ্লব এর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে । সরকারি হাসপাতাল সহ গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলির পরিষেবার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক উন্নয়নের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে । সর্বোপরি পশ্চিমবঙ্গের সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে বাম পথই একমাত্র বিকল্প ।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে : স্বনির্ভর প্রকল্প মধুজা সেন রায়।
প্রকাশের তারিখ: ০৪-এপ্রিল-২০২৬

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org