|
বাংলায় ২০২৬ সালের নির্বাচনে আরএসএস কী ভূমিকা নেবে?Dr.Debesh Das |
১৯৭০ সালে কংগ্রেস আরএসএস-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব নিয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকাকে ভূয়সী প্রশংসা করে আরএসএস-এর তদানীন্তন প্রধান গোলওয়ালকার ইন্দিরা গান্ধীকে ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর চিঠি লিখে অভিনন্দন জানান। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে সাথে যুদ্ধে দেশের সকলেই ইন্দিরার কাজকে সমর্থন করেছিল |
প্রথম পর্ব হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস-এর মুখ্য উদ্দেশ্য হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, তার কিছু আদর্শ আছে, সেই আদর্শ তার কাছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক দল বিজেপির থেকেও বড়। আরএসএস যদি দেখে যে তার নিজের দলকে সমর্থন করলে তার হিন্দুত্বের আদর্শ যতটা রক্ষা পাবে, অন্য দলকে সমর্থন করলে তার চেয়ে বেশি রক্ষা পাবে বা তা আরও এগোবে, বা যদি দেখে যে তার নিজের দলের জেতার সম্ভাবনা নেই, তবে অন্য কোনও দল জিতলে হিন্দুত্বের পক্ষে কম বিপদ, এসব ক্ষেত্রে আরএসএস নিজের দল ছেড়ে অন্য দলকে সমর্থন করতেই পারে, এমনকি সেই দলের হাতে যদি আরএসএস -এর অতীতে নিগ্রহের ঘটনা থাকে বা আরএসএস-কে সেই দল বিশেষ পছন্দ না করে, তাহলেও। আরএসএস-এর কাছে বড় প্রশ্ন - কিসে হিন্দুত্বের স্বার্থ রক্ষা বেশি হবে। এই ব্যাপারে অতীতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা যাক। ১৯৭৭ সালের নির্বাচন ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন রাতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়। সেই জরুরি অবস্থার মধ্যেই ১৮ই জানুয়ারি ১৯৭৭ ইন্দিরা গান্ধী হঠাৎ ঘোষণা করেন যে লোকসভা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, ও আগামী মার্চে নির্বাচন। ঠিক তার দু’দিন বাদে ২০শে জানুয়ারি, ১৯৭৭ পাঁচটি দল নিয়ে জনতা দল তৈরি হয় ও তারা আগামী লোকসভা নির্বাচন লড়বে বলে ঠিক করে [২]। এই পাঁচটি দলের মধ্যে আরএসএস পরিচালিত জনসংঘ ছিল। এই নির্বাচনে আরএসএস জনতা দলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নির্বাচনের তখন আর কয়েকদিন বাকি। ইন্দিরা গান্ধী আরএসএস-কে বার্তা পাঠান, বলেন - ‘চুনাও সে সঙ্ঘ আলাগ হো যায়ে’ (নির্বাচনে সঙ্ঘ নিরপেক্ষ থাকুক) [৩]। জরুরি অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির নেতা-কর্মীরা গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আজকের বিজেপির পূর্বসুরী জনসঙ্ঘ নেতারা ছিলেন ও আরএসএস-এর লোকও ছিলেন। জেলে ছিলেন আরএসএস-এর প্রধান দেওরস ও আরও কয়েকজন আরএসএস নেতা। জামাত-ই-ইসলামী, ইত্যাদি সংগঠনের সাথে আরএসএস নিষিদ্ধও হয়েছিল। সেখানে আরএসএস-কে ইন্দিরা কী আশায় বার্তা পাঠিয়েছিলেন? আসলে যারা গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র আরএসএস ও জনসঙ্ঘ নেতারাই সেদিন ইন্দিরা গান্ধীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আরএসএস-এর যারা জেলের বাইরে ছিলেন তাদের কোনও কোনও নেতা ইন্দিরা গান্ধীর ২০ দফা কাজে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন। জেলের ভিতরে থাকা আরএসএস প্রধান দেওরস চিঠি লিখে ইন্দিরা ও সঞ্জয় গান্ধীর কাজকর্মে নিজেদের যুক্ত হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী অবশ্য এই সমস্ত চিঠির উত্তর দেননি, এমনকি প্রাপ্তি স্বীকারও করেননি। কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসছিল, ইন্দিরা বুঝতে পারছিলেন যে ব্যাপারটা তেমন সুবিধার ঠেকছে না, তিনি হেরেও যেতে পারেন, সেই সময়ে তার নিশ্চয়ই মনে পড়ছিল, আরএসএস প্রধানের চিঠিগুলির কথা। জরুরি অবস্থার সময়ে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) তে হেড অফিসে ভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে উচ্চপদে কাজ করতেন বিখ্যাত আইপিএস অফিসার টি ভি রাজেশ্বর, তিনি শেষ বয়সে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখেছেন, তাতে বিভিন্ন সময়ে আইবি দপ্তরের কিছু গোপন তথ্য আছে। তিনি লিখেছেন যে জরুরি অবস্থা চলাকালীন সময়ে ইন্দিরা গান্ধীকে আরএসএস “বিশেষ ভাবে জানিয়েছিল যে জরুরি অবস্থা উত্তরকালে নির্বাচনগুলিতে তারা কংগ্রেসকে সমর্থন করবে”[৪] । আরএসএস প্রধানের এই আত্মসমর্পণের চিঠি নিয়ে আরএসএস পরে বলেছে যে নিষিদ্ধ অবস্থায় আরএসএস কর্মীদের বাঁচাতে এটা ছিল কৌশলগত চাল [৫]। কিন্তু, বিষয়টা তা ছিল না। ইন্দিরা গান্ধীর একনায়কত্বের মাধ্যমে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গড়ার প্রচেষ্টা আরএসএস-এর আদর্শের অনুসারী। ইন্দিরা গান্ধী তাদের বিরোধিতা করলেও, তাদের আদর্শই তাদেরকে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে অবস্থান নিতে চালনা করে। ১৯৭০ সালে কংগ্রেস আরএসএস-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব নিয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকাকে ভূয়সী প্রশংসা করে আরএসএস-এর তদানীন্তন প্রধান গোলওয়ালকার ইন্দিরা গান্ধীকে ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর চিঠি লিখে অভিনন্দন জানান। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে সাথে যুদ্ধে দেশের সকলেই ইন্দিরার কাজকে সমর্থন করেছিল [৬]। কিন্তু আরএসএস-এর এতে বাড়তি আনন্দ ছিল, কারণ মুসলিম রাষ্ট্রকে হারানো হয়েছে, মুসলমানদের মারা হয়েছে। আরএসএস-কে গালাগাল করেও, কেউ যদি তাদের এই তিন শত্রুর (মুসলমান, ক্রিশ্চান, কমিউনিস্ট) কাউকে শায়েস্তা করে, তবে তার প্রতি আরএসএস-এর অকুন্ঠ সমর্থন। ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী যখন পোখরানে পরমানু বিস্ফোরণ ঘটান, তখনও আরএসএস তাকে প্রশংসা করে [৬], ভারতকে এক শক্তিশালী সামরিক হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে আরএসএস দেখতে চায়, ফলে সামরিক ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতিতে তাদের বাড়তি উৎসাহ। জরুরি অবস্থা নিয়ে বালাসাহেব দেওরস-এর বক্তব্য ছিল যে আরএসএস-কে নিষিদ্ধ ঘোষনা না করলে, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করার প্রশ্নই উঠতো না [৭]। আরএসএস-এর কাছে সঞ্জয় গান্ধী জনপ্রিয় ছিল, কারণ তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট বিরোধী ও আমেরিকা ঘেষা। আরএসএস-এর সাথে যুক্ত পুনের একটি মারাঠী দৈনিক 'তরুণ ভারত’ সঞ্জয় গান্ধীর নামে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে [৮]। আরএসএস-এর হিন্দি মুখপাত্র ‘পাঞ্চজন্য’ ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে যুব নেতা হিসাবে সঞ্জয়ের উত্থানকে অভিনন্দন জানায় [৯]। সঞ্জয় গান্ধীর একটা কাজ আরএসএস-কে খুবই আহ্লাদিত করেছিল, তা হচ্ছে, জোর করে গরিব মানুষদের পরিবার পরিকল্পনায় অপারেশন করানো, বিশেষত মুসলিমদের মধ্যে এই কাজের জন্য আরএসএস খুবই আনন্দ পেয়েছে [১০]। আরএসএস-এর কাছে গণতন্ত্র নয়, হিন্দুত্বের আদর্শটাই বড় কথা, এটা ইন্দিরা বুঝেছিলেন, তাদের এই চরিত্র সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হয়েই ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ইন্দিরা তাদের বার্তা দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর আরএসএস-কে বার্তা দেওয়ার আরেকটি কারণ, বোঝাই যাচ্ছিল, সদ্য গঠিত জনতা দলের সাথে আরএসএস একেবারে পুরোপুরি একাত্ম হতে পারছে না। সে খবর মাঝে মাঝে মিডিয়াতে বেরিয়ে আসছিল। আসলে জেলে একসাথে থাকা, খাওয়া দাওয়া, ওঠা বসা, ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে এক পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ঐক্য গড়ে ওঠে। সেই ঐক্যের চেহারাটা ছিল অসাম্প্রদায়িক, যার সাথে আরএসএস-এর আদর্শ মেলে না। ফলে আরএসএস-কে নিয়ে প্রথম থেকেই জনতা দলে এক অস্বস্তি শুরু হয়। আরএসএস কিন্তু তার পথে অবিচল, ফেব্রুয়ারি মাসে আরএসএস প্রধান বলেন -”আরএসএস-এর কাছে হিন্দুদের ব্যাপারটাই প্রথম...”[১১], নির্বাচনের তখন আর ১৮ দিন বাকি। কিন্তু ইন্দিরার অনুরোধ আরএসএস রাখতে পারলো না। সারা দেশ তখন ইন্দিরা গান্ধীর শাসনে ক্ষিপ্ত। সেই ক্ষোভ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আরএসএস-এর সম্ভব হচ্ছিল না। আরএসএস জনতা দলকেই সমর্থন করে, তাদের মতে পরিস্থিতি ছিল – এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা- আরএসএস-এর এক শীর্ষ নেতা রাজেন্দ্র সিং , যিনি পরে আরএসএস প্রধান হয়েছিলেন সেদিনের ঘটনা সম্বন্ধে বলেছিলেন - “জাতীয় স্বার্থে অস্বাভাবিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় স্বেচ্ছাসেবকরা লোকসভা নির্বাচনে কাজ করেছিল” [১২]। ফলে দেওরস ইন্দিরাকে বার্তা পাঠান যে তারা এই নির্বাচনে ইন্দিরার হয়ে কাজ করতে পারছেন না - “আমরা মাঝপথে তাদের (জনতা দল) ছেড়ে দিতে পারি না”, কিন্তু তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে একেবারে স্থায়ী বিচ্ছেদ করেন না, বলে রাখেন - “নির্বাচনের পরে আমরা কথা বলবো" (৩)। ১৯৭৭ সালের জুন মাসে বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০ শে মার্চ লোকসভার নির্বাচনের ফলাফলে ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর দলের ভরাডুবি ঘটে। ১৯৭৭ সালের জুন মাসে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়। এই সমস্ত নির্বাচনগুলিতে তিনটি রাজ্যে বামপন্থীরা জেতে, বিভিন্ন রাজ্যে জনতা দল জেতে, অন্তত আরএসএস এমন কাজ নিশ্চয়ই করতে পারে না যাতে বামপন্থীদের জেতা সুগম হয়। আরএসএস প্রধান দেওরস তখন বলেছেন যে বিধানসভার নির্বাচন থেকে আরএসএস নিরপেক্ষ হয়ে যায় [১৩], আর ইন্দিরা গান্ধীর বিরোধিতা করে না। ১৯৮০ সালের লোকসভা নির্বাচন কিন্তু সরকারে জনতা দল ধর্মনিরপেক্ষ, আর তাদের মধ্যে কিছু সদস্য আরএসএস-এর নেতা, তারা হিন্দু রাষ্ট্র চায়, এই দুটি বিষয় মেলে না। জনতা দলের একটা অংশ ও বামপন্থীরা জনতা দলের কিছু নেতাদের জনতা দল ও আরএসএস-এর দ্বৈত সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এবং সেই প্রশ্নে জনতা সরকারের পতন হয় ১৯৭৯ সালে [১৪]। জনতা দল ভেঙে আরেকটা অংশ হয় জনতা (সেকুলার), তার নেতা হন চরণ সিং। পুরোণো জনসঙ্ঘের নেতারা থাকেন জনতা দলে। জনতা দল ভেঙে যাওয়াতে আরএসএস-এরও সুবিধা। আরএসএস নেতারাও জনতা দলের মধ্যে এই অসাম্প্রদায়িক আবহাওয়ায় হাপিয়ে উঠছিলেন। আরএসএস প্রধান নিজেকে মুক্ত মনে করলেন[১৫]। কিন্তু এই প্রায় আড়াই বছরের জনতা দলের সরকার টেকার জন্য, আরএসএস-এর প্রচুর লাভ হয়। প্রথমতঃ, গান্ধীজিকে হত্যার জন্য আরএসএস নিষিদ্ধ হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, তারপর থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে আরএসএস বা তার পরিচালিত পার্টি জনসংঘ খুব পাত্তা পেত না, কিন্তু ১৯৭৭ সালের পর সরকারে তাদের অংশগ্রহণ তাদের রাজনীতির পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে। এই সময়ে তারা, আরএসএস সংগঠনকে ঢেলে সাজায়। আর-এস-এস তার সদস্যদের নিয়মিত সমাবেশ করে, যে সমাবেশগুলি প্রতিদিন হয় তাদের বলে শাখা, যারা প্রতিদিন আসতে পারেন না তারা সপ্তাহে একদিন আসতে পারেন, সেই সমাবেশকে বলে মিলন, আর মাসে একদিন আসলে তাকে বলে মণ্ডলী। ১৯৭৭ সালে সারা দেশে আরএসএস-এর শাখা ছিল ৬০০০, ১৯৮০ সালে তা দাড়ায় ১৭৮০০, সংঘের বক্তব্য যে প্রায় ১০ লাখ লোক প্রতিদিন প্যারেড করতো [১৫]। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনে জনতা দল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরে দলিত জগজীবন রামকে । একজন দলিতকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করাটা উচ্চবর্ণের মদতকারী আরএসএস-এর অপছন্দ, ফলে ইন্দিরাকেই সমর্থন করে আরএসএস, ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী অনিল বালি বলেছেন যে ১৯৮০ সালে ইন্দিরাকে ক্ষমতায় আসতে আরএসএস সাহায্য করে [১৬]। আরএসএস নেতারা জনতা দল থেকে দাড়ায়, কিন্তু আরএসএস এই নির্বাচনে আর জনতা দলকে সমর্থন করে না। কংগ্রেস জেতে, ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালের এপ্রিলে আরএসএস সদস্যরা নতুন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৈরি করে। বিজেপি ও আরএসএস-এর ওয়েবসাইটে লেখা আছে যে জনতা দলে কথা উঠেছিল যে দলে ও আরএসএস-এ একসাথে থাকা যাবে না, সেই কারণে জনসঙ্ঘের নেতারা বিজেপিকে তৈরি করে [১৭], [১৮]। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ লিখেছেন যে ১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠার পর উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা শুরু হয়, দেশে জাত ও ধর্মের সংঘর্ষ একসাথে চলতে থাকে[১৯]। নিঃসন্দেহে, এই সমস্ত ঘটনার পিছনে আরএসএস-এর হাত ছিল, আরএসএস-এর শক্তি তখন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮২ তে আরএসএস-এর শাখা সংখ্যা ১৯০০০ [১৫]। কিন্তু ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি ২২৪টি আসনে প্রার্থী দেয়, কিন্তু আরএসএস আসন্ন নির্বাচনে সমর্থন করে কংগ্রেসকে। আরএসএস-এর শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব নানাজী দেশমুখ, যিনি প্রথম আরএসএস-এর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, আরএসএস-এর তিনটি মুখপত্র প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘকাল, তিনি ১৯৮৪ সালের নির্বাচনের আগে শ্লোগান দেন - 'না জাত পর না পাত পর, মোহর লাগায়ে হাত পর’ [১৬]। বুঝুন, জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট দিতেও বারণ করতে পারে আরএসএস। নির্বাচনের আগে ইন্দিরা গান্ধী খুন হন, কংগ্রেস ৪০৪টি আসন পায়, বিজেপি মাত্র ২টি। প্রধানমন্ত্রী হন রাজীব গান্ধী। (১) https://www.rss.org//Encyc/ (২) Coomi Kapoor, ‘The Emergency: A personal story’, Penguin, page 19 (৩) Neerja Chowdhury, ‘How Prime ministers decide’, Aleph Book Company, 2023, page 66 (৪) T V Rajeswar, ‘India, The crucial years’, Harper Collins, 2015, page 79 (৫) Coomi Kapoor, ‘The Emergency: A personal story’, Penguin, page 117 (৬) Neerja Chowdhury, ‘How Prime ministers decide’, Aleph Book Company, 2023, page 64 (৭) D R Goyal, ‘Rashtriya Swayamsevak Sangh’, Radhakrishna Prakashan, 1979, page 124-125 (৮) Neerja Chowdhury, ‘How Prime ministers decide’, Aleph Book Company, 2023 page 79 (৯) Bipan Chandra, ‘In the name of democracy: JP movement and the emergency’ Penguin, 2003, page 217-218 (১০) T V Rajeswar, ‘India, The crucial years’, Harper Collins, 2015, page 79 (১১) The Indian Express, 26 February 1977 (১২) A G Noorani, ‘The RSS A Menac to India’, Left Word, 2019, page 197 (১৩) The Times of India 13 February 1980 (১৪) EMS Namboodripad, ‘From congress to coalition’ in the book The Frontline years, Leftword Books, 2010 (১৫) A G Noorani, ‘The RSS A Menac to India’, Left Word, 2019, page 214 প্রকাশের তারিখ: ০৯-সেপ্টেম্বর-২০২৫ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|