|
ভারতের খামতি - কোভিড পরিস্থিতিতে একটি মূল্যায়নUnknown |
|
একটি ওয়েবডেস্ক প্রতিবেদন সরকারি হিসাবে ১০ জুন সকাল ৮ টা অবধি এদেশে মোট করোনা আক্রান্ত ২,৭৬,৫৬৩, এর মধ্যে মৃত ৭৭৪৫ জন।আমাদের সামনে এখন শুধু ইংল্যান্ড,রাশিয়া,ব্রাজিল আর আমেরিকা। আইসিএমআর জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন কনটেইনমেন্ট জোনে করা সেরোলজিক্যাল সার্ভে অনুসারে ২৮-৩০% মানুষই উপসর্গবিহীন। দিল্লির কেজরিওয়াল সরকারের হিসাব জুনের শেষে কেবল দিল্লিতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হবে ১লাখ, ৩১ জুলাই সাড়ে ৫ লাখ( এখন ৩১,৩০৯)। দিল্লির জনসংখ্যা,ভারতের জনসংখ্যা সেখানে করোনা আক্রান্ত কত হবে তার প্রোজেকশান এই হিসাব করতে বসলে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ![]() দুমাসের ওপরে লকডাউন করার যুক্তি ছিল আক্রান্ত বৃদ্ধির যে এক্সপোনেনশিয়াল গ্রাফ তার গতি কমানো যাবে, চিকিৎসাবিজ্ঞানীদেরও প্রায় সকলে এই বিষয়ে সহমত ছিলেন- Flattening the Curve হবে। তবে বিজ্ঞানে যুক্তি কাজ করে, থালা,ঘন্টা বাজানো, হাসপাতালে হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়িয়ে সেটা হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল লকডাউনের মধ্যে দেশের সরকারের প্রধান কাজ দুটি স্তরে- ![]() মহামারি বিশেষজ্ঞ বা এপিডিমিওলজিস্টরা যেমন আশঙ্কা করছেন যে করোনা মহামারির শিখর জুলাইয়ের আগে নাও আসতে পারে, তাই ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা আরও চাপের মধ্যে পরবে। বিশেষত মুম্বই, দিল্লি এবং আহমেদাবাদের মতো শহরে।দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সর্বজনবিদিত। সেন্টার ফর ডিজিজ ডায়নামিক্স, ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিসি (ইন্ডিয়া) এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের সরকারি হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটগুলির ৩৫৬৯৯টি এবং ১৭৮৫০টি ভেন্টিলেটর সহ কেবলমাত্র ৭,১৩,৯৮৬ টি শয্যা রয়েছে।কেন এটা এত জরুরি বিষয় ? শুধুমাত্র দেশে ইতিমধ্যে ১,৩৩,৬৩২টি সক্রিয় করোনা সংক্রমণ নথিভুক্ত রয়েছে বলেই নয়,এটা জরুরি কারণ এই পরিসংখ্যানগুলি কয়েক দশক ধরে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ভারত সরকারের আগ্রহের অভাবের প্রতিচ্ছবি। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিষেবাগুলোর অপ্রতুলতা ও মানুষের কাছে না পৌঁছানোর পেছনে সাধারণ ধারণাটা হল দেশের উন্নয়নশীল চরিত্রের জন্য উন্নত দেশের সাথে এর তুলনা অপ্রয়োজনীয় । তবে স্বাস্থ্য ও মান সূচকে (Health and Quality Index,HAQ) ভারত তার ব্রিকস গোষ্ঠীর (Brazil,Russia,India,China,South Africa) সমকক্ষদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ভারতে আঞ্চলিক এইচএকিউ পার্থক্যগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কেরল ও গোয়ার মত সেরা ফল করা রাজ্যগুলো যেখানে ৬০এরও বেশি পয়েন্ট পেয়েছে, উত্তরপ্রদেশ এবং আসামের মত সবচেয়ে খারাপ ফল করা রাজ্যগুলি ৪০ এর চেয়েও কম পয়েন্ট পেয়েছে।আরও চিন্তার বিষয় হল, এই সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন পয়েন্টগুলোর মধ্যে ব্যবধান ১৯৯০ এর ২৩.৪ পয়েন্টের পার্থক্য থেকে ২০১৬ সালে ৩০.৮পয়েন্টের পার্থক্যে গিয়ে পৌঁছেছে। সেন্টার ফর ডিজিজ ডায়নামিক্স, ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিসি (ইন্ডিয়া) এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে রাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ও হাসপাতাল শয্যার তুলনা করার পরে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৩.৫ কোটি (২০১৮) জনসংখ্যার কেরালায় সরকারী হাসপাতাল / সরকারী মেডিকেল কলেজগুলোতে ৩৮০০৪ এর বেশি শয্যা রয়েছে। অন্যদিকে, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যগুলোতে যথাক্রমে ৬.৮২ কোটি এবং ১২.২২ কোটি (২০১৮) জনসংখ্যা রয়েছে, কিন্তু শয্যা রয়েছে যথাক্রমে মাত্র ২০১৭২ এবং ৫১৪৪৬।সমস্ত রাজ্যগুলোর এই পার্থক্য একটি আঞ্চলিক স্তরে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পৃথক ক্ষমতাগুলির পক্ষেও সূচক হিসাবে কাজ করে যেখানে কেরাল একটি সফল মডেল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ![]() জনগণের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভারতের সরকারগুলোর জন্য অগ্রাধিকার না হওয়ার স্পষ্ট কারণগুলোর মধ্যে একটা সত্য এটা যে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এর প্রয়োজন হয় এটা সরকারগুলোর মনে হয়নি আর শ্রেণীদৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই এই সরকারগুলো গরীবদের কথা ভাববে না এটা বলাই বাহুল্য।সিডিডিইপি / প্রিন্সটনের সমীক্ষায় দেখা যায় যে বেসরকারী হাসপাতালে ১১,৮৫,২৪২ শয্যা, ৫৯,২৬২ আইসিইউ শয্যা এবং ২৯,৬৩১ ভেন্টিলেটর রয়েছে।বর্তমানে ভারতে বেশিরভাগ কোভিড-১৯ চিকিৎসা সরকারি পরিকাঠামোয় করা হচ্ছে তবে মহামারির বিস্তারের সাথে সাথে বেসরকারি পরিকাঠামোকেও সমান অংশীদার হিসাবে যুক্ত করে স্বাস্থ্যপরিষেবার প্রসারকে আরও বাড়ানো খুবই জরুরি হয়ে পরবে। এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকার জাতীয় বিপর্যয় আইন ২০০৫ লাগু করলেও পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার এমনকি কেন্দ্রের সরকারও এই আইনবলে বেসরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর অধিগ্রহণ করা থেকে পিছিয়ে থাকছে যার ফল ভুগতে হচ্ছে আম আদমিকে। তবে মহারাষ্ট্র , দিল্লির মত রাজ্যগুলো বর্তমানে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেসরকারি পরিকাঠামোকে সাময়িক ভাবে অধিগ্রহণ করেছে মৃত্যুমিছিল ঠেকাতে কিন্তু এই কাজ আরো আগেই তারা করতে পারত। কোভিড পরিস্থিতিতে গোটা দুনিয়া জুড়েই রাষ্ট্রের ভূমিকা জরুরি হয়ে উঠেছে সেখানে এই দেশের সরকার শুধুমাত্র নির্দেশনামা জারি করে, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তার ভূমিকা পালন করতে পারে না । স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয়বারাদ্দ বাড়ানো ব্যতিরেকে কোন বিকল্প নেই। এর মানে গোটা বিষয়টা কেন্দ্রীভূত কোন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা নয়। কিছু রাজ্য সরকার আজ কেন্দ্রের চেয়ে অনেক ভাল কাজ করছে এবং সবচেয়ে কার্যকর হল বিকেন্দ্রীভূত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা - উদাহরণ কেরাল । প্রকাশের তারিখ: ১০-জুন-২০২০ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|