|
অসংগঠিত শ্রমিক: অন্ধকারের রোজনামচা (পর্ব - ৪)Chandan Mukhopadhyay |
করোনা মহামারিজনিত আর্থিক সংকটের অজুহাতে শ্রমসময় বাড়িয়ে ৮ ঘন্টা থেকে ১২ ঘন্টা করে দেওয়া, আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের গতিবিধির উপর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম লাগু করা, কর্পোরেট কোম্পানীগুলোর চাপে পরিযায়ীদের জন্য নির্ধারিত ট্রেন বাতিল করার মত পদক্ষেপ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থবিরোধী রাষ্ট্র-পুঁজিবাদের আরো জোরদার সংগঠিত অশুভ আঁতাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। |
চতুর্থ পর্ব
সামগ্রিক ভাবে অসংগঠিত ক্ষেত্রর সার্ভের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ভারত পরিকল্পনা কমিটি পরিচালিত কর্মসূচির মূল্যায়ন -অধ্যয়ন সহ বেশিরভাগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় সামগ্রিকভাবে সরবরাহের ঘাটতি এবং যথাযথ ফলো-আপ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, তাই ভবিষ্যতের পরিষেবাগুলির জন্য শ্রমিকদের আইনের উদ্যোগে সাড়া দেবার এবং যোগ দেবার হার হ্রাস পেয়েছে।। এই ঘাটতিগুলি হলো :রাজ্য-শাসিত বিতরণ পরিকাঠামোর অভাব; বিতরণ সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ক্ষমতার অভাব;প্রোগ্রামের সুবিধাভোগী সনাক্ত করতে ব্যর্থতা;দুর্নীতির ঘটনা, প্রশাসন ও বিতরণকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে ভাড়া আদায় এবং প্রকল্পগুলিতে অভিজাতদের দখল; কর্মসূচির তথ্য এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে জনগণের জ্ঞানের অভাব; সহজলভ্য এবং সহজ স্কিম তৈরি করা ।পরিকল্পনা বা স্কিমগুলির উদ্দেশ্য হল লক্ষ্যবস্তু গোষ্ঠীগুলি তাৎক্ষণিক এবং স্বয়ংক্রিয় সুবিধাগুলি নিশ্চিত করা। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, যেমন বার্ধক্য পেনশন কর্মসূচি, বিধবা স্কিম, অথবা পরিবারের উপার্জনকারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে সামাজিক সহায়তা, মেনে চলা নিয়ে অসংখ্য উদ্বেগ রয়েছে। একই উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক স্কিম থাকার কারণে সুবিধাভোগী পর্যায়ে তাদের অধিকার কী তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের বর্ষাকালে পেনশন, মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা, দুর্ঘটনাজনিত ত্রাণ, প্রাকৃতিক মৃত্যু ভাতা, উচ্চশিক্ষার জন্য শিশুদের শিক্ষা সহায়তা দেওয়া উচিত। অসংগঠিত শ্রমিকদের তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা এবং চাহিদা পূরণে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলিকে অনন্য প্রকল্প তৈরি করতে হবে। কিন্তু কোথায় কি! জিডিপিতে অসংগঠিত শ্রমিকদের অবদান প্রায় ৫০%, তবুও সংগঠিত কর্মীদের জন্য কল্যাণ (সামাজিক সুরক্ষা) কর্মসূচিগুলিকে কিছুটা সাহায্য করলেও অসংগঠিত ক্ষেত্র প্রায় অন্ধকারেই রয়ে গেছে । অতএব, দেশকে পূর্ণ উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি সমস্ত অসংগঠিত শ্রমিকদের আওতাভুক্ত করা উচিত, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি অসংগঠিত শ্রমিকদের মাত্র ৬% এর আওতাভুক্ত। [http://www.legalserviceindia.com/legal/article-3001-protection-of-rights-of-unorganised-workers।।]এই তথ্যতেই পরিষ্কার সরকার এই দরিদ্র মানুষগুলোর প্রতি কতটা উদাসীন।সরকারের উচিত দ্রুততার সাথে অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সাহায্য করে কল্যাণ কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।আজ তাই আমাদের দায়িত্ব এসে পড়েছে প্রকৃত অসংগঠিত ক্ষেত্রর কর্মীদের সনাক্ত করে সরকারকে অসংগঠিত শ্রমিকদের রিপোর্ট করতে বাধ্য করা । ভারতে, সিএসও-এর জাতীয় হিসাব বিভাগ (এনএডি) আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় EUS NSSO কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের ধারণা পাবার ব্যবস্থা আছে। এখানে উল্লেখ্য যে NSSO সাধারণ প্রধান মর্যাদা (PS) এবং সাধারণ সহায়ক মর্যাদা (SS) এর সাথে একসাথে করে প্রতি কর্মচারীর চাকরির সংখ্যা অনুমান করতে পারে, তবে এটি একাধিক SS চাকরিতে কর্মচারীদের চাকরির হিসাব করতে পারে না কারণ এই বিশেষ দিকটি ধরার জন্য EUS সময়সূচী এখনও তৈরি করা হয়নি; তবে, এটিই কর্মসংস্থানের তথ্যের একমাত্র উৎস। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়,বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের গরিব খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে কতটা কষ্টে কান্না এসে যায় তা তাদের কার্য্ক্রমগুলো দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। একটা সাধারণ তথ্যভান্ডার তৈরী করতেও এদের অনেক কষ্ট হয়। তারা জানেই না কত জন অসংগঠিত এবং পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন । আর বর্তমান সময়ে আমাদের এই রাজ্যের ক্ষেত্রে এটা আরো প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে, কারণ বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর শারীরিক,মানসিক নির্যাতন, এবং সামগ্রিক আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে বিজেপি,আরএসএস-এর গুন্ডাদের হাত ধরে। কিন্তু এই রাজ্যের সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই, আর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিক জোরও নেই। তাই এই যে অসংগঠিত শ্রমিকদের বিরাট অংশ পরিযায়ী হিসাবে কাজ করে,তাদের যন্ত্রণার কথা তাই আলাদা করে আলোচনাও আজ প্রয়োজনীয় । পরিযায়ী শ্রমিক :- অসংগঠিত শ্রমিকদের একটা বিরাট অংশ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে একটু বেশি রোজগারের আশায়,আর একটু ভালো করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে ঘর ছেড়ে পাড়ি দেয় নিজের রাজ্যের অন্য শহরে, কেউবা অন্য রাজ্যে,আর একদল দেশ ছেড়ে অন্য দেশেও।তাদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখার কেন দায় যেন সরকারের নেই। ‘৯০ এর দশক থেকেই কৃষিক্ষেত্র আর লাভজনক থাকতে পারছিল না; আর বর্তমানে প্রান্তিক কৃষক বা ছোট কৃষকের উপর অর্থনৈতিক চাপ ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে ; গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরীর ক্ষেত্রেও প্রথম ইউপিএ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে MGNREGA চালু হয়.তার বরাদ্দ কমিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বন্ধ করার চেষ্টায় কাজ করে চলেছে এই সরকার। কারণ তাহলেই আর্থিক বৃদ্ধির পর্যায়ে অস্থায়ী নিয়োগের উদ্দেশ্যে সস্তা শ্রমের বিপুল চাহিদায় কাজের সন্ধানে বৃহৎ শিল্পোন্নত জায়গাগুলোর দিকে রোজগারের আশায় মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারবে । আর তাই প্রতিদিন নিজস্ব বাসস্থান,সংস্কৃতি,সমাজ ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্যত্র পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে বিপুল অংশের খেটে খাওয়া মানুষ। খোলা বাজারের অর্থনীতি এমন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে যেখানে পরিযায়ী শ্রমিক সম্পুর্ণ ছিন্নমূল। কর্মক্ষেত্র বা নিজের গ্রামের ভিটে কোথাওই সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে সে নিজেকে খুঁজে পায় না। বছরের অধিকাংশ সময় কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকতে বাধ্য হলেও, দেশের বর্তমান ব্যবস্থায় কাজের শহর-জেলা-রাজ্যের কোনো আইনী কাঠামোতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো নাগরিক অস্তিত্বই নেই, নেই নাগরিক কোনো অধিকার; তাঁরা যেন অদৃশ্য হয়ে থাকেন গোটা ব্যবস্থাটায়। এই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো সরকারী হিসেব বা তালিকা কেন্দ্র/রাজ্য, কোনো সরকারের কাছেই নেই। এমনকী, লকডাউন ঘোষনার সময় বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্তিত্বের কথাটাও শাসকের মাথাতে থাকে না, জীবন জীবিকার কথা ছেড়ে দিচ্ছি। করোনা মহামারিজনিত আর্থিক সংকটের অজুহাতে শ্রমসময় বাড়িয়ে ৮ ঘন্টা থেকে ১২ ঘন্টা করে দেওয়া, আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের গতিবিধির উপর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম লাগু করা, কর্পোরেট কোম্পানীগুলোর চাপে পরিযায়ীদের জন্য নির্ধারিত ট্রেন বাতিল করার মত পদক্ষেপ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থবিরোধী রাষ্ট্র-পুঁজিবাদের আরো জোরদার সংগঠিত অশুভ আঁতাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্বজুড়েই ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বর্গ (Category) হয়ে উঠছে। বিশ্বপুঁজির নেটওয়ার্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত শ্রমিকশ্রেনীর এই বিপুল অংশ আগামীদিনে সমাজবদলের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে; তাই আজকের সময়ে আমাদের এই বিষয়টা মাথায় রেখে সামগ্রিক কর্মপদ্ধতি-দিশা নির্ধারণ করা গুরুত্তপুর্ন দায়িত্ব হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে । দেশের আইনী কাঠামোতে পরিযায়ী শ্রমিকেরা:- ইকনমিক সার্ভে অফ ইন্ডিয়া(২০১৬-১৭) রাজ্য ও জেলাস্তরে মাইগ্রেশনকে চিহ্নিত করতে একটি কোহর্টভিত্তিক মাইগ্রেশন পরিমাপক(Cohort-based Migration Metric বা CMM)-এর সূচনা করে। এই নতুন পরিমাপক অনুযায়ী প্রবাসী শ্রমিকদের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং প্রধানত কেরালার মতো রাজ্যে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক কাজের খোঁজে গেছেন বিগত দশকে। এখন প্রশ্ন আসে,আগত এই শ্রমিকদের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির ভূমিকা কেমন ? এ’প্রসঙ্গে ইকনমিক সার্ভে অফ ইন্ডিয়া(২০১৬-১৭)-কে উদ্ধৃত করা যায় – ”…এই প্রক্রিয়া(মাইগ্রেশন) চালু রাখার জন্য নীতিগত বাধাগুলি অতিক্রম করা প্রয়োজন। আন্তঃরাজ্য স্ব-নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্যসুরক্ষা,স্বাস্থ্য ও ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। বর্তমানে পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে একাধিক প্রকল্প থাকলেও তা শুধুমাত্র রাজ্যস্তরেই প্রযোজ্য। সঠিকভাবে এগুলোকে কাজে লাগাতে গেলে সরকারী ব্যয়ের প্রশ্নে আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা প্রয়োজন।অর্থ স্থানান্তরের দেশীয় বাজার (Domestic Remittance Market) এর মোট বহর বর্তমানে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটিরও বেশি (যদিও বর্তমানে MRFR বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৪ সালে ভারতের রেমিট্যান্স বাজারের আকার ৩৭৫০.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমান করা হয়েছিল। রেমিট্যান্স বাজার ২০২৫ সালে ৩৯৪২.৩৭ মার্কিন ডলার মিলিয়ন থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৬৫০০.০ মার্কিন ডলার মিলিয়নে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৫-২০৩৫ সালের পূর্বাভাস সময়কালে ৫.১৩% চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হারে দেখা যাবে (CAGR) ।) এই বিপুল অর্থকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারকে আর্থিক পরিসেবাগুলির আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ’জাতীয় উদ্যোগ যেমন শ্রমিকদের পক্ষে উপকারী একটি পদক্ষেপ , তেমনি ভারতীয় শ্রমবাজারের আরো বেশী সমন্বয়েও সহায়ক।” এই ক্ষেত্রে চালু প্রকল্পগুলির বোঝাপড়ার জন্য ‘আন্তঃরাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক আইন’টি(১৯৭৯) একটু খতিয়ে দেখা যাক। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল-যেসব শ্রমিকরা কাজের খোঁজে বাইরের রাজ্যে গিয়েছেন তাঁদের অধিকারের সুরক্ষা। সে’সময়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত শোষণমূলক এবং ভূতপূর্ব ‘ঠিকাশ্রম(নিয়ন্ত্রণ ও বিলোপ) আইন(১৯৭০)’ এই শ্রমিকদের পূর্ণ সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ছিল না। সাম্প্রতিক অতিমারীর সময়ে এই আইনের মূল দুটি ভিত্তি – ‘ডিসপ্লেসমেন্ট অ্যালাউয়েন্স’এবং ‘হোমজার্নি অ্যালাউয়েন্স' (নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ কাজকর্মের ক্ষেত্রে মাইনের নির্দিষ্ট অংশ ভাতা হিসেবে প্রদান) কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্য সরকারগুলি এই আইনের সুরক্ষামূলক দিকগুলির বাস্তব রূপায়নের লক্ষ্যে কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ফলস্বরূপ পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে স্থানীয় শ্রমিকদের চেয়ে নিম্ন বেতনে সর্বোচ্চ খাটিয়ে নেওয়াটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রকাঠামোর আমলাতন্ত্র ও পুলিশিব্যবস্থার সাথে ঠিকাদারদের যোগসাজশ এবং দুর্নীতি এই আইন সঠিকভাবে লাগু হতেই দেয়নি। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি থেকে অতিমুনাফার সন্ধানে আন্তর্জাতিক পুঁজিসঞ্চালনের প্রক্রিয়া ও ব্যপ্তির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে ; এই পরিবর্তনের হাত ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যাই শুধু ব্যাপকভাবে বাড়েনি,তাদের আর্থসামাজিক অবস্থানেরও গুণগত রূপান্তর ঘটেছে; পুঁজির সাপেক্ষে বদলেছে আমাদের মত দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের গুরুত্বও। স্বাভাবিক ভাবেই ১৯৭৯-র আইনটি বর্তমানের পরিযায়ী শ্রমিকদের আইনী সুরক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত অপ্রতুল। এই আইনেরও উপযুক্ত সংশোধন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আজকের প্রেক্ষিতে। আগামীকাল পঞ্চম পর্ব প্রকাশিত হবে । বিষয়ঃ ভারতে পরিযায়ী শ্রমিকদের আন্তঃরাজ্য অবস্থান কি অবস্থা কেরলে? কি অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে? ![]() Returning migrant workers in Uttar Pradesh's Bareilly sprayed with disinfectant meant for vehicles. Credit: PTI প্রকাশের তারিখ: ১৪-জানুয়ারি-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|