আরএসএস বলে কিছু নেই! (৩য় পর্ব)

Amrita Singha
রাজধানীতে সংঘের এই নতুন দৃশ্যমানতায় সদস্যদের গর্বে বুক ভরে উঠেছে। গুপ্তাজী আমাকে বললেন, “মাঝে মাঝে, যখন আমি অটোয় চড়ে ভবনটির পাশ দিয়ে যাই, তখন আমি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করি, ‘এটা কার অফিস’”? । তিনি যে উত্তরগুলি পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে – ‘এটা মোদীর’ এবং “ওই নিক্কার-ওয়ালারা আছে না, ওদেরই” (যারা হাফপ্যান্ট পরে, আর.এস.এস ইউনিফর্মের ইঙ্গিত)। তিনি হেসে বললেন, “লোকদের কোনও ধারণাই নেই”।

একটি জবাবদিহি-বিহীন সংগঠনের গোপন কাঠামোর মানচিত্র (৩য় পর্ব)

‘দ্য ক্যারাভান’ ওয়েবজিনে ১ জুলাই, ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত

বিগত দশকে, আর.এস.এস-এর ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি হয়েছে। সংঘের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার একটি ২০২৪-২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংগঠনটি এখন ৫০,০০০টিরও বেশি স্থানে ৮০,০০০টিরও বেশি শাখা (যারা দৈনিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে) পরিচালনা করে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়াও সাপ্তাহিক এবং মাসিক সমাবেশ রয়েছে, যেগুলো আরও হাজার হাজার মানুষকে কাছে পৌঁছায়। এর সম্প্রদায় সম্প্রসারণ ব্যাপক, এবং এটি গণবিবাহ, স্বাস্থ্যসেবা শিবির, আবাসন প্রকল্প এবং প্রায় নব্বই হাজার দৈনিক সেবা প্রকল্পের মতো পাবলিক ইভেন্ট আয়োজন করে।

এই জাতীয় বৃদ্ধি একটি জটিল এবং বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠিত হয়। ভারতকে ১১টি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয়েছে, যা আরও প্রান্ত, বিভাগ, জেলা, নগর এবং বস্তিতে বিভক্ত। প্রতিটি স্তর একটি পরিবর্তনশীল দল বা ‘টোলি’ দ্বারা তত্ত্বাবধায়িত হয়, এবং কাজটি বিষয়ভিত্তিক বিভাগগুলিতে বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে, বৌদ্ধিক (বিশ্বাস), সেবামূলক সংগঠন, ধর্ম জাগরণ (ধর্মীয় সংগঠন) এবং সম্পর্ক (প্রচারের অভিজাত সম্প্রসারণ) - এগুলি অন্যতম। অনিল গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি, যিনি সংঘের কারোল বাগ ইউনিটের (যার সীমানার মধ্যে ‘কেশব কুঞ্জ’ অবস্থিত) জিলা কার্যবাহী (সমন্বয়কারী),  আমাকে বলেছিলেন যে, ‘সম্পর্ক’ বিভাগগুলি ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা এবং আদর্শিক প্ররোচনা ব্যবহার করে তাদেরকেই টার্গেট করে, যারা নিয়মিত শাখায় অংশ নিতে পারেন না। এর মধ্যে রয়েছে কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ, পেশাদার এবং প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের সদস্যরা। “ধরুন কেউ একজন বড় এক্সিকিউটিভ পদে আছেন - কোম্পানির সি.ই.ও, এম.ডি, বা কেউ খুব ভালো ব্যবসা চালাচ্ছেন - তাদের সময় একটু কম থাকে, কেউ কেউ আবার একটু দ্বিধাগ্রস্তও থাকেন। তাই, সেইসব লোকদের সাথে দেখা এবং যোগাযোগের জন্য একটি ‘সম্পর্ক’ নামক বিভাগ আছে”।

নতুন সদর দপ্তরের নির্মাণ কাজ, সংগঠনের অনুগত পেশাদারদের সাথে গভীর সুসম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। ভবনের স্থপতি অনুপ দাভে, আহমেদাবাদের বাসিন্দা এবং অভিযোগ রয়েছে যে তার বিষ্ণু পরিষদের (ভি.এইচ.পি) সাথে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও তিনি প্রথমে আমার সাথে কথা বলতে সম্মত হয়েছিলেন, তবে এই সংযোগগুলি নিয়ে আমার টেলিফোন ও মেসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। আরেকজন ঠিকাদার, ‘অস্পিসীয়াস গ্রুপ’-এর অনিল জৈন আমাকে বলেছিলেন যে তার ভূমিকা নগন্য, যদিও ভবন এবং নথিতে তার কোম্পানির নামই খোদাই করা আছে। তিনি বললেন,“মাফ করবেন, আমি তো একজন সামান্য মানুষ”। আমি এক মাসেরও বেশি আগে কেশব কুঞ্জের নির্মাণ ও অনুমতি সংক্রান্ত একটি আর.টি.আই (R.T.I) দায়ের করেছিলাম এম.সি.ডি-তে, কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি। জৈনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তাকে বিজেপির স্কার্ফ পরা ছবি রয়েছে। তিনি এর আগেও সংঘের প্রকল্পে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করলেন, “আমরা নির্মাণে সামান্যই অংশ নিয়েছি, যদি কোনও বড় বিল্ডিং হয়, তাহলে আপনার যদি একটি কাঠবিড়ালির মত ভূমিকাও থাকে, কেউ না কেউ সে সম্পর্কে লিখবেই। আমাদের ভূমিকা এর চেয়ে বেশি কিছু নয়”। ‘ট্যাগবিন সার্ভিসেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ ভাইক, যার প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় সহ বেশ কয়েকটি বিজেপি প্রকল্পের পিছনে রয়েছে, আমাকে বলেছিলেন যে তার কোম্পানি এখন কেশব কুঞ্জের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র 'বিভাগ'-এর জন্য একটি গ্যালারি ডিজাইন করছে। সংঘের মিডিয়া সেন্টারের প্রধান এবং এর কারোল বাগ ইউনিটের সভাপতি অশোক সচদেবকে সেখানে বৈদ্যুতিক কাজের জন্য ডাকা হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি মন্দির অফিসের সাথেও কাজ করেন। 

রাজধানীতে সংঘের এই নতুন দৃশ্যমানতায় সদস্যদের গর্বে বুক ভরে উঠেছে। গুপ্তাজী আমাকে বললেন, “মাঝে মাঝে, যখন আমি অটোয় চড়ে ভবনটির পাশ দিয়ে যাই, তখন আমি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করি, ‘এটা কার অফিস’”? । তিনি যে উত্তরগুলি পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে – ‘এটা মোদীর’ এবং “ওই নিক্কার-ওয়ালারা আছে না, ওদেরই” (যারা হাফপ্যান্ট পরে, আর.এস.এস ইউনিফর্মের ইঙ্গিত)। তিনি হেসে বললেন, “লোকদের কোনও ধারণাই নেই”।

আমার সাথে কথা বলার সময় আর.এস.এস-এর জ্যেষ্ঠ স্বয়ংসেবকরা, সংঘ ও বিজেপির মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট বলেই মনে হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, মোদীর প্রথম দুই মেয়াদে তিনি একটি ব্যক্তিত্ব-কেন্দ্রিক কাল্ট তৈরি করেছিলেন, যা বৃহত্তর হিন্দুত্ব বাস্তুতন্ত্রে সংঘের কর্তৃত্বকে ম্লান করে দিয়েছিল বলে মনে হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে দুর্বল জনসমর্থন নিয়ে বিজেপি যখন তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরে আসে, তখন ঐ ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়। আর.এস.এস-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’ বিজেপি কর্মীদের অহংকারের সমালোচনা করে খোলাখুলিভাবে লেখে, এবং মোহন ভাগবত সতর্ক করে দেন যে ‘সত্যিকারের সেবকদের’, ‘অহংকারী’ হওয়া উচিত নয় – এটা একটি প্রকাশ্য তিরস্কার যেটা এক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। সচদেব আমাকে বলেছিলেন যে তার এলাকায় কর্মরত সকল সংঘ-অধিভুক্ত সংগঠনকে রিপোর্ট করতে হবে যে তারা কিভাবে আর.এস.এস নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বললেন, “বিজেপির লোকেরা আমাদের বলে তারা কী করেছে”, আমরা তাদের বলি কাজটি কীভাবে করা উচিত”।

সচদেব এবং রাঠোড় দুজনেই বলেছিলেন যে তারা ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছিলেন, প্রায় তিন দশক পর রাজধানীতে দলটিকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিলেন। রাঠোড় বলেছিলেন, “আপনি বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু আর.এস.এস-এর সমর্থন ছাড়া বিজেপি এই নির্বাচন জিততে পারত না”। তিনি যোগ করেন যে তিনি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারির সাথে সরাসরি কাজ করেছিলেন। উদ্বোধনের দিন, রাঠোড় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিজেপি অফিস থেকে নয়, বরং এই কমপ্লেক্সের ভিতর থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, “সিদ্ধান্ত এখান থেকে আসবে এবং সেখান থেকে শুধু ঘোষণা করা হবে”। সেই রাতেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে আর.এস.এস-এর একজন প্রবীণ সদস্য ‘রেখা গুপ্তা’ এই পদে আসীন হবেন।

আর.এস.এস-কে যখনই তার আয়ের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, এর সদস্যরা গুরুদক্ষিণা ‘গুরুকে দেওয়া সাম্মানিক/উপহার’এর প্রথার কথা উল্লেখ করে। ১৯২৮ সাল থেকে, দেশজুড়ে প্রতিটি শাখা, গুরু পূর্ণিমার সময় একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে স্বয়ংসেবকরা তাদের পছন্দমতো অর্থ একটি খামে ভরে সংঘের গেরুয়া পতাকার নামে উৎসর্গ করে। এই পরিমাণ কখনই প্রকাশ্যে বলা হয় না। বিভিন্ন আর.এস.এস কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, কে কত দিয়েছে তার একটি ডাটাবেস তৈরি করা হয়, কিন্তু কয়েকজন কর্মকর্তাই শুধু এটি এক্সেস করতে পারেন। গুপ্তা বলেছিলেন যে অর্থটি “সংঘের নিজস্ব কাজের জন্য, আমরা এজন্য জনগণের কাছ থেকে নিই না, কারণ সংঘ আমাদের, কারণ গুরুদক্ষিণা মানে গেরুয়া পতাকাকে উৎসর্গ করা, যেটা আমার কাছে গুরুর সমান”।

১৯৭৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বই ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’-এ দেশরাজ গোয়েল এই ‘অস্পষ্ট দান’ পদ্ধতি এবং সংঘের সদস্যপদ সংক্রন্ত প্রক্রিয়াকে ‘ধর্মীয় কাল্ট বা মাফিয়ার স্টাইলে’ কাজ করা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন যে এটা “সংগঠনের ভিতর অনেক অসাধুতা সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটা গভীর সন্দেহ তৈরি করে যে সনাক্ত করার কোনও সম্ভাবনা ছাড়াই সন্দেহজনক উৎস ও চরিত্রের বড় অঙ্কের অর্থ শোষণ করা হচ্ছে”। গান্ধী যখন হেডগেওয়ারকে সংঘের তহবিলের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি একই ব্যাখ্যা পেয়েছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী পরে, কোনও আর.এস.এস কর্মকর্তাই আরও বিস্তারিত বা প্রমাণসাধ্য উত্তর দেন না। কিন্তু দিল্লি ও অযোধ্যায় আমার সাক্ষাৎকার এবং গত কয়েক দশকের রেকর্ড থেকে স্পষ্ট যে ধনী ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘকে সমর্থন করে আসছেন।

গুরুদক্ষিণার ব্যাখ্যা সংগঠনের আর্থিক পদচিহ্নকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, অযোধ্যায় নবনির্মিত অফিস এবং বোর্ডিং হাউস, ‘সাকেত নিলয়ম’ (এটাও একটি নিবন্ধিত সমিতির অধীনে নির্মিত) এর নির্মাণের জন্য সাধারণ জনগণের কাছ থেকে দান সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর.এস.এস-এর অনেক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনও একই পদ্ধতির অনুসরণ করে। কিছু বিদেশি তহবিলও পায়। মার্কিন-ভিত্তিক ‘ক্যাম্পেইন টু স্টপ ফান্ডিং হেইট'’-এর ২০০২ সালের একটি রিপোর্টে পাওয়া গেছে যে মেরীল্যান্ডে সদর দপ্তরযুক্ত দাতব্য সংস্থা ‘ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিলিফ ফান্ড’ (আই.ডি.আর.এফ) ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ভারতে আর.এস.এস-সংযুক্ত সংগঠনগুলিকে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার দান করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সেবা ভারতী। (আই.ডি.আর.এফ দাবি করেছিল যে তারা শুধুমাত্র মানবিক ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য অর্থদান করে এবং কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে।) ‘রাষ্ট্রীয় সেবা ভারতী’ এবং কেশব কুঞ্জে নিবন্ধিত একটি সংগঠন ‘বহু রাও দেউরাস রাষ্ট্রীয় সেবা ন্যাস’ - উভয়েরই ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট (এফ.সি.আর.এ) এর অধীনে লাইসেন্স রয়েছে। এই একই সময়ে বেশ কিছু ভারতীয় অ-লাভজনক সংস্থা এফ.সি.আর.এ লাইসেন্স পাওয়া বা পুনর্নবীকরণ করতে জুতোর সুকতলা খইয়ে ফেলছে। যখনই তাদের কার্য্যকলাপ সংঘের থেকে আলাদা হয় তখনই হিন্দু দক্ষিণপন্থীদের দ্বারা প্রায়শই তাদের বিরুদ্ধে ‘দেশ-বিরোধী’ ও ‘বিদেশি-মদতপুষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এটা খুবই সম্ভব (যদি স্বতসিদ্ধ নাও হয়), যে অসংখ্য নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সংঘ-অধিভুক্ত সংগঠনগুলির মধ্যে তহবিলের আদান-প্রদান হয়। সচদেব আমাকে বলেছিলেন যে তার কারোল বাগ ইউনিট প্রায়শই মানবিক কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেয়, যেমন ১৫ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে ভিড়ের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কুম্ভ মেলায় যাওয়ার সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে আহতদের সাহায্য করা। তিনি বললেন, “কেউ নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে না, আমাদের স্বয়ংসেবকরা হাত পেতেই জীবনযাপন করে। আমি তাদের কাছ থেকে কোনও অর্থসাহায্য আশা করি না। আমরা ‘সেবা ভারতী’কে দিতে বলি, আর তারা দেয়। কিছু তাৎক্ষণিক খরচ আমি দিই”। ভূষণ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, যদি আর.এস.এস বিদেশি তহবিল পায়, তাহলে সেটা আইনবিরুদ্ধ হবে। তিনি বলেছিলেন, “যদি এটা একটি রাজনৈতিক প্রকৃতির সংগঠন হয়, তাহলে এফ.সি.আর.এ তাদের কোনও বিদেশি তহবিল নিতে নিষেধ করে”, আর.এস.এস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি রাজনৈতিক প্রকৃতির”।

গুপ্তা আমাকে বলেছিলেন যে শুধুমাত্র স্বয়ংসেবকরাই এই ভবনের জন্য দান করেননি, সংঘের অনেক ‘বন্ধু’ও অবদান রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা কিছু সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েছি যারা শৈশবে কোনও শাখায় গিয়েছিলেন বা আমাদের আদর্শকে সমর্থন করেন”। এস.কে.এস.এস-এর সভাপতি কুমারও একই কথা বললেন। তিনি বলেছিলেন যে, ২০১৬ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়, ভাগবত স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে অর্থ সংগ্রহ “সাধারণ জনগণের কাছ থেকে নয়”, শুধুমাত্র “যারা সংঘের সাথে যুক্ত, যারা হিন্দুত্বকে ভালোবাসেন এবং সেইজন্য সংঘকে সাহায্য করবেন”, তাদের কাছ থেকে হবে। আর.এস.এস-এর দাবী অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্স নির্মাণে ১৫০ কোটি টাকা (২০২৪ সালের মধ্যে) খরচ হয়েছে। কুমার স্পষ্ট করেছিলেন যে সমস্ত দান, চেকের মাধ্যমে এস.কে.এস.এস-এর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং লেনদেনের উৎসও যাচাই করা হয়েছে। যখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন আর.এস.এস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি তাদের আর্থিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করবে না, তিনি বললেন, “সমিতিদের তা করার প্রয়োজন নেই। এটি  যেখানে রিপোর্ট করার প্রয়োজন হয়, সেই সব আইনি কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করা হয়”। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে আর.এস.এস-ও সম্ভবত নিয়ম মেনেই কাজ করছে। তিনি দাবি করেছিলেন যে এর শাখাগুলির জন্য বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, এবং তারা কর কর্তৃপক্ষকে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে। আমি যে বিস্তারিত প্রশ্নাবলী পাঠিয়েছিলাম, আর.এস.এস তার কিন্তু কোনও জবাব দেয়নি।

 

বাংলা ভাষান্তরঃ অঞ্জন মুখোপাধ্যায়

প্রকাশের তারিখ: ২০-আগস্ট-২০২৫

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org