|
উত্তরবঙ্গ জল-জঙ্গল-জমি-অধিকার রক্ষার সংগ্রামJibesh Sarkar |
উত্তরবঙ্গের মানুষও তৃণমূল-কংগ্রেসের উপরে ক্ষুদ্ধ। জনগণ এটাও এখন বুঝতে পারছে যে বিজেপি-কে দিয়ে তৃণমূল-কংগ্রেসকে পরাজিত করা বা তৃণমূল-কংগ্রেসকে দিয়ে বিজেপিকে প্রতিহত করার কোন ধারণা শুধু ভ্রান্ত্রই নয়, এই ভাবনা কার্যত রাজনৈতিক ভাবে আত্মঘাতী। কেননা ঘটনাক্রমে প্রমাণিত যে বিজেপি যদি আর.এস.এস -এর প্ল্যান "এ" হয়, তা হলে তৃণমূল-কংগ্রেস হলো আর.এস.এস এর প্ল্যান "বি"। |
| পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬। প্রত্যেক নির্বাচনই নীতির সংগ্রাম। নির্বাচনে এই নীতির সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন যা বিজেপি আর.এস.এস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অপশাসন, স্বৈরাচার ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত। সারা রাজ্যের সাথে উত্তরবঙ্গের জনগণ এই বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সময়কালে জনজীবনে আঘাত আসছে বহুমাত্রায়, আর তা মোকাবিলায় জনগণের আন্দোলন সংগ্রাম ও সংঘটিত হচ্ছে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে। একদা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে নির্বাচনী সংগ্রামও তারই একটি রূপ। কর্পোরেট পুঁজির আধিপত্য ও আর.এস.এস নির্দেশিত হিন্দুত্বের রাজনীতির বিপজ্জনক মিশ্রণ জনজীবনে যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে তার উদ্বেগজনক শিকার হলো নানা ভাষা, নানা সম্প্রদায়, নানা ধর্মের মানুষের সমাহার উত্তরবঙ্গের জনগণ। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রকল্প প্রসারিত করা হচ্ছে সমাজের গভীরে। আজ আর এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হয় না যে এই বিভাজনের রাজনীতি ও 'ভোট দখল-এর অপকৌশলী খেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি পরস্পরের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। এরা মৌখিকভাবে পরস্পরের বিরোধিতা করলেও আদতে উভয়েই আর.এস.এস-এর প্রকল্প মতই রাজনীতি করে চলেছে। এভাবেই সৃষ্ট "বাইনারী" কে ব্যবহার করছে প্রচার মাধ্যমগুলির সাহায্যে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই "বাইনারী" ভেঙ্গে বামপন্থী শক্তি পুনঃজাগরিত করে বিজয় অর্জন করাই লক্ষ্য। ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্রের সাথে জনবিন্যাসের বিভিন্নতা উত্তরবঙ্গকে দিয়েছে এক উল্লেখযোগ্য বিশিষ্টতা। হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল, ডুয়ার্স ও তরাই এলাকা, প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসাম, বিহার, সিকিম ঘেরা উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যা ১,৮৭,০২,০৬০ জন। এর মধ্যে তপসিলি জাতি ২৭.৩৫ শতাংশ ও আদিবাসী ১৫.৭৮ শতাংশ। উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যার মধ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম উল্লেখযোগ্য। আদিবাসীদের মধ্যে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সাথে তরাই-ডুয়ার্সের চা বাগান শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দিনাজপুর ও শিলিগুড়িতে রাজবংশী সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও "মতুয়া" সহ অন্যান্য তপশিলী জাতির মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আর.এস.এস তথা বিজেপি "সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং" এর মধ্য দিয়ে সমগ্র উত্তরবঙ্গেই- এই জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রভাব বৃদ্ধি করে নির্বাচনে অধিকাংশ আসনেই জয়লাভ করেছে। আবার নির্বাচনে আসন কম পেলেও তৃণমূল-কংগ্রেস রাজনৈতিক সুবিধাবাদের প্রতিযোগিতায় সমান তৎপর। উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিক, কৃষক ও গরীব মানুষ দীর্ঘদিন বামপন্থী আন্দোলনের অংশীদার থেকেছে ও জনবিন্যাসে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে সহায়ক হিসাবেই কাজ করেছে। বর্তমানে তৃণমূল-কংগ্রেস ও বিজেপির প্রতিযোগীতামূলক সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপে সেই ঐক্য বিঘ্নিত। সেই ঐক্যকে বজায় রাখার আহ্বান এই নির্বাচনে জানিয়েছে সি.পি.আই (এম) তথা বামফ্রন্ট। জল (নদী), জঙ্গল (বনাঞ্চল) ও জমির বৈচিত্রে ভরা উত্তরবঙ্গ যেমন পর্যটনের "ল্যান্ডস্কেপ", তেমনই আবার বর্তমানে কর্পোরেট পুঁজি ও মাফিয়াদের লোভী নজরে বিদ্ধ। প্রকৃতিতে লুঠ ও ধ্বংস করার লাগাতার যে প্রক্রিয়া কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই সরকার গ্রহণ করে চলেছে তার বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন এই নির্বাচনে ঘটাতে হবে। গঙ্গা নদীর ভাঙ্গন যেমন মালদা ও মুর্শিদাবাদের ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে গৃহহীন ও জীবিকাহীন করছে দিনের পর দিন, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের উদাসীনতা ও মিথ্যাচারের কারণে তেমনই উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তাতে জলবিদ্যুত প্রকল্পের জন্য বড় বড় বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত করে পাহাড় ও সমতলের ভূমি ধ্বংস ও ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে অসহায় গরীব পাহাড় ও সমতলবাসীকে। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। আবার তোর্ষা, মহানন্দা, বালাসন, জলঢাকা, মানসাই, রায়ডাক সহ ছোট-বড় সমস্ত নদীতে চলেছে জমি মাফিয়াদের দাপট। শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতে চলেছে অবাধে বালি, পাথর উত্তোলন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীগুলির স্বাভাবিক গতিপথ, নাব্যতা ও জলপ্রবাহ। ফলে অতিবৃষ্টিতে ধ্বস ও বন্যা হয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এইভাবে শাসকদের আশ্রিত অসাধু ব্যবসায়ী ও মাফিয়াদের সিন্ডিকেট প পাহাড় ও সমতলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টকারি বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মানুষ এই প্রশ্নে শাসকদল তৃণমূল-কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলের কাছেই কৈফিয়ত চাইছে। উত্তরবঙ্গের সমৃদ্ধ বনাঞ্চল ও চা বাগানের জমি এখনো লুঠেরা কর্পোরেট নজরে। অরণ্য ধ্বংস করে উন্নয়ন ও নগরায়নের নামে জমি গ্রাস করে নিচ্ছে বৃহৎ পুঁজির মালিক ও কর্পোরেট সংস্থা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত বনাঞ্চলে হোটেল, রিসর্ট ও বহুতল আবাস তৈরি করা হচ্ছে। একই সাথে উচ্ছেদ করা হচ্ছে অরণ্যবাসীদের। তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বিনা ক্ষতিপূরণে, সরকার-প্রশাসন-কর্পোরেটের যৌথ উদ্যোগে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্ত শাসকদলের নেতা ও মন্ত্রীরা। উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো চা শিল্প। চা বাগান শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরেই নূন্যতম মজুরী ও বাস্তুজমির অধিকারের দাবীতে আন্দোলন করে চলেছে। কিন্তু মালিক গোষ্ঠীর অনমনীয় মনোভাব প্রশ্রয় পাচ্ছে সরকারের কাছ থেকে। চা বাগান শ্রমিকদের আবাসনের নামে তথাকথিত "চা-সুন্দরী" প্রকল্প কার্যত ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ। অথচ অনেক চা বাগানের মূল্যবান জমি "টী-টুরিজম"-এর নামে পুঁজিপতিদের হাতে দেওয়া হচ্ছে নামীদামী বিলাসবহুল তারকা হোটেল নির্মানের জন্য। সরল আদিবাসী চা শ্রমিকরা সেখানে ব্রাত্য। অভিযোগ উঠছে যে এই ব্যবস্থার ফলে চা বাগানের প্ল্যান্টেশনের জমি হ্রাস পাচ্ছে- স্বভাবতই শ্রমিক সংখ্যা হ্রাস পাবে। আবার সামাজিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কর্মহীনতার আশঙ্কায় অনেক শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারের উপেক্ষা অবহেলার একটি মর্মান্তিক ফল হলো যে চা বাগান ও বস্তি এলাকা থেকে মহিলা ও নাবালক মানব পাচারের মত বিপজ্জনক ঘটনা বেড়ে চলেছে। সামাজিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সারা রাজ্যের সাথে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে যন্ত্রণার একটি বিষয় হলো উদ্দেশ্যমূলক এস.আই.আর (S.I.R)। নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষিত হয়েছে, কিন্তু এখনো ভোটাররা হয়রানি ও উদ্বেগের শিকার। আর.এস.এস ও তাদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট বিজেপির সাম্প্রদায়িক এজেন্ডার প্রয়োগ উদ্বেগজনকভাবে নির্বাচন কমিশনের নানা সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে তা কয়েকটি পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার বোঝা যায়। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলো মালদা, উত্তরদিনাজপুর ও পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে যে এই জেলাগুলিতে অনেক বেশি ভোটারের নাম বাদ পরেছে। বিচারাধীনের তালিকায় অস্বাভাবিক বেশী মালদায় ২৭.৭৩ শতাংশ ও উত্তরদিনাজপুরে ২২.৩৫ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে আরও অনেক বেশি। আবার রাজবংশী সহ তপসিলি সম্প্রদায় অধ্যুষিত কোচবিহার জেলায় বাতিল ভোটারের সংখ্যা অন্য জেলাগুলির থেকে অস্বাভাবিক বেশী, ১,১৩,৩৭০ জন যা অবশ্যই সরলভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তপসিলি ও প্রান্তিক মানুষরাই যে এই আক্রমণের লক্ষ্য তা পরিষ্কার। এ যেন ফ্যাস্টিস্ট হিটলার জার্মানিতে "নুরেমবার্গ আইন" করে যে ভাবে ইহুদি ও অন্যান্যদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিলো তারই একটি পরিবর্তিত রূপ। বিগত নির্বাচনে যারা বিজেপি-কে সমর্থন করে অধিকাংশ আসনে জিতিয়ে দিয়েছিলো তারা বিজেপি-র কাজে সংখ্যক এখন মোহমুক্ত হচ্ছে। বিজেপি-র নেতাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই এখন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসী। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ঘর অদল বদল করাতো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তৃণমূল-কংগ্রেসের দুর্নীতি, স্বৈরাচার এমনকি ভোটের লোভে ধর্মীয় তাস খেলার রাজনীতির জন্য সারা রাজ্যের সাথে উত্তরবঙ্গের মানুষও তৃণমূল-কংগ্রেসের উপরে ক্ষুদ্ধ। জনগণ এটাও এখন বুঝতে পারছে যে বিজেপি-কে দিয়ে তৃণমূল-কংগ্রেসকে পরাজিত করা বা তৃণমূল-কংগ্রেসকে দিয়ে বিজেপিকে প্রতিহত করার কোন ধারণা শুধু ভ্রান্ত্রই নয়, এই ভাবনা কার্যত রাজনৈতিক ভাবে আত্মঘাতী। কেননা ঘটনাক্রমে প্রমাণিত যে বিজেপি যদি আর.এস.এস -এর প্ল্যান "এ" হয়, তা হলে তৃণমূল-কংগ্রেস হলো আর.এস.এস এর প্ল্যান "বি"। মূল লক্ষই হলো যে কোন ভাবে বামপন্থীদের বিশেষ করে সি.পি.আই (এম)-এর অগ্রগতি আটকানো। তৃণমূল-কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজ্যসভার সাংসদের মনোনয়নে পরিষ্কার হলো যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় দুর্নীতির অন্যতম "রক্ষাকবচ" পুলিশের প্রাক্তন ডি.জি. কিংবা আর.এস.এস পরিবারের আইনজীবী সদস্যকে স্থান দেওয়াতে তৃণমূল-কংগ্রেসের সাথে বিজেপির রাজনীতি ও দুর্নীতির মেলবন্ধন কতটা গভীরে। এদের অভিমুখ স্পষ্টতই বামপন্থীকে প্রতিহত করা। আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির বাহক ভারতের কর্পোরেট হিন্দুত্বের শক্তিও তাই চায়। অভিজ্ঞতাই মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। উত্তরবঙ্গের জনগণ নিজেদের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছে যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলকেই পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় বামপন্থার পূর্নজাগরণের আহ্বান জানিয়ে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে যে "বাংলা বাঁচাও যাত্রা" সংগঠিত করা হয়েছিলো তাতে শ্রমিক-কৃষক সহ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও বিশেষ করে স্বতঃস্ফূর্ত তরুণ প্রজন্মের উৎসাহ উদ্দীপনা প্রমাণ করেছে যে মানুষ তৃণমূল-কংগ্রেস ও বিজেপি-র বিকল্প শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহায়ক হলেই হয় না, প্রয়োজন বুথস্তর পর্যন্ত নির্বাচনী সংগঠন, জনগণের মধ্যে নিবিড় প্রচার ও মতাদর্শ বলীয়ান আত্মবিশ্বাস দৃঢ় সক্রিয় কর্মী বাহিনী। অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে যে জনগণ বামপন্থীদেরই কাছে পেতে চাইছে। আমাদের দায়িত্ব বিনম্রতার সাথে জনগণের কাছে পৌঁছানো। বুথস্তর পর্যন্ত সি.পি.আই (এম)-র শক্তিকে সংহত করে, বামফ্রন্টের ঐক্যকে মজবুত রেখে বৃহত্তর বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত করে আমাদের নির্বাচনী সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে। আমাদের সহযোগীদের বৃত্ত প্রসারিত করাই লক্ষ্য। এই প্রয়োগের ফলে উত্তরবঙ্গে পাহাড়,সমতলে, নানা জনগোষ্ঠী এমনকি কিছুদিন আগে পর্যন্ত যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল ক্ষীণ তাদের সাথে বন্ধুত্বের পরিসর বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। নির্বাচন রাজনৈতিক সংগ্রাম। এই সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জনমুখী নীতি, গণসংগ্রাম ও জনগণের অংশগ্রহণ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনী সংগ্রামে উত্তরবঙ্গে কৃষক, চা বাগান শ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিকসহ সমস্ত স্তরের শ্রমজীবী মানুষ, আর্থিক অনটনে বিপর্যন্ত মধ্যবিত্ত, বস্তিবাসী কিংবা এস.আই.আর (SIR)-এ হয়রানির শিকার ভোটার, রান্নার গ্যাসের লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া ক্ষুদ্ধ নাগরিক ও সর্বস্তরের যুব-ছাত্র-মহিলা-সহ জনগণের কাছে ইতিবাচক পরিবর্তন ও রাজ্যে বামপন্থার পূর্ণজাগরণের বার্তা নিয়ে সাফল্য অর্জনে ব্রতী হয়েছে বামফ্রন্ট। পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক স্বার্থেই এই সাফল্যকে অর্জন করতে হবে। প্রকাশের তারিখ: ১৮-এপ্রিল-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|