পশ্চিমবাংলার ক্রীড়ানীতি ও বিপল্প প্রস্তাব

Sumit Gangopadhyay
ক্রীড়া কি পুঁজির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিনোদন শিল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি তা পুনরায় একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্র হিসেবে পুনর্গঠিত হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে ক্রীড়ার ভেতরে এবং বাইরে চলমান শ্রেণি সংগ্রামের উপর।
গত দেড় দশকে ভারতের ক্রীড়ানীতি প্রমান করেছে ক্রীড়াকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ বা কেবল বিনোদনমূলক ক্ষেত্র হিসেবে দেখা যাবে না। তুলনায় এটি পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার ভেতরে উৎপাদন সম্পর্ক, শ্রেণি-স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং মতাদর্শগত আধিপত্যের এক জটিল ক্ষেত্র। এই সময়পর্বে ভারতীয় ক্রীড়ার রূপান্তর মূলত উদারীকরণ-উত্তর পুঁজিবাদের পরিণত পর্যায়ের প্রতিফলন। যেখানে ক্রীড়া ক্রমশ পণ্য। ক্রীড়াবিদ হয়ে উঠেছে শ্রমশক্তি। দর্শকরা ভোক্তা এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলি পুঁজির সঞ্চয়ের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
গত দেড় দশকে ভারতীয় ক্রীড়া ক্ষেত্রেও কর্পোরেট বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নীতির ঘোষিত লক্ষ্য ক্রীড়ার প্রসার, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সাফল্য বৃদ্ধি। যদিও নীতির অন্তর্নিহিত চরিত্র ছিল রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ কল্যাণমূলক ভূমিকা থেকে সরে এসে বেসরকারি পুঁজি ও বাজারের জন্য ক্রীড়া ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়া। রাষ্ট্র এখানে আর প্রধান পৃষ্ঠপোষক নয়। বরং একটি ‘সুবিধাদাতা’ যে কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশ ও বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত কাঠামো তৈরি করে।
এই সময়ে ক্রীড়ার পণ্যায়ন একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বিস্তার হয়। যার সূচনা ২০০৮ সালে হলেও ২০১১-পরবর্তী সময়ে তা পূর্ণাঙ্গ আধিপত্য বিস্তার করে। ক্রীড়াকে সরাসরি বাজারের যুক্তির অধীনস্থ করে। খেলাকে সময়, স্থান ও বিন্যাস অনুযায়ী এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে তা সর্বোচ্চ মুনাফা উৎপন্ন করতে পারে। ম্যাচের সময়সূচি, খেলোয়াড়দের ব্যবহার, এমনকি খেলার নিয়ম পর্যন্ত কখনও কখনও দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ক্রীড়া তার স্বতঃস্ফূর্ততা ও সামাজিক চরিত্র হারিয়ে এক ধরনের ‘স্পেকট্যাকল’-এ পরিণত হয়। গি দ্য বোর্দের ভাষায়, বাস্তব সম্পর্কের জায়গায় প্রতিরূপ প্রাধান্য পায়।
ক্রীড়াবিদদের অবস্থানও এই সময়কালে মৌলিকভাবে বদলে যায়। তারা আর কেবল প্রতিযোগী নয়। তারা ‘ব্র্যান্ড’, ‘অ্যাসেট’ এবং ‘বিনিয়োগযোগ্য পণ্য’। তাদের শরীর, পারফরম্যান্স, ব্যক্তিত্ব সবকিছু বাজারে বিক্রিযোগ্য। প্রকৃতপক্ষে এটি শ্রমশক্তির পণ্যায়নের এক উন্নত রূপ। যেখানে শ্রমিক (ক্রীড়াবিদ) তার উৎপাদিত মূল্য থেকে বিচ্ছিন্ন । ক্রীড়াবিদ যতই বিপুল অর্থ উপার্জন করুন, তার শ্রমের উপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তা নিয়ন্ত্রিত হয় কর্পোরেট মালিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি, স্পনসর এবং সম্প্রচার সংস্থার দ্বারা। এই প্রক্রিয়ায় ক্রীড়াবিদ একদিকে বিশেষ সুবিধাভোগী এলিট শ্রমিক। অন্যদিকে পুঁজির অধীনস্থ এক নিয়ন্ত্রিত সত্তা।

ফুটবলের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবভিত্তিক, সমর্থকনির্ভর সংস্কৃতির উপর কর্পোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ভারতীয় ফুটবলে এক গভীর সংকট সৃষ্টি আইএসএল’ র উত্থান এবং আই লিগের ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়া কেবল প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব নয়। এটি মূলত দুটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক মডেলের সংঘর্ষ। একদিকে রয়েছে বাজারনির্ভর, বিনোদনমুখী, দ্রুত মুনাফাকেন্দ্রিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য, স্থানীয় পরিচয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ক্লাব সংস্কৃতি। এই সংঘর্ষে শেষ পর্যন্ত বাজারের যুক্তিই প্রাধান্য পায়। এটাই পুঁজিবাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। যেখানে সমস্ত সামাজিক সম্পর্ককে বাজারের নিয়মে পুনর্গঠিত করা হয়।
এই সময়পর্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপাতদৃষ্টিতে রাষ্ট্র ক্রীড়া ক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ালেও, বাস্তবে তা একটি নতুন ধরনের হস্তক্ষেপমূলক ভূমিকা গ্রহণ করে। রাষ্ট্র কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত সুবিধা প্রদান কর। একই সঙ্গে ক্রীড়াকে একটি মতাদর্শগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। 
২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়া ক্রমশ রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যম হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক সাফল্যকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্রীড়াবিদদের দেশপ্রেমের প্রতিমূর্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।

বস্তুত: এটি ‘আইডিওলজিক্যাল স্টেট অ্যাপারেটাস’-এর অংশ। যেখানে ক্রীড়া, জনগণের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জাতীয়তাবাদী চেতনা সঞ্চার করে। যা শ্রেণিগত বৈষম্য ও শোষণের বাস্তবতাকে আড়াল করে। ক্রীড়া এখানে ‘ফলস কনশাসনেস’ তৈরি করে। মানুষ নিজেদের বাস্তব সামাজিক অবস্থান ভুলে গিয়ে জাতীয় সাফল্যের সঙ্গে আত্মপরিচয় স্থাপন করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো বাস্তব অর্থনৈতিক পরিবর্তন না আনলেও, তা একটি সাময়িক ঐক্যের অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা শাসক শ্রেণির পক্ষে উপকারী। সেই পুরোনো স্লোগানের ভিত্তিতে বলা যায়,‘জনতা যখনই চায় চাকুরী ও খাদ্য/ ময়দানে বেজে ওঠে ক্রিকেটের বাদ্য।’

গণমাধ্যম, এই প্রক্রিয়ায় একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। ক্রীড়া সম্প্রচার, ২৪ ঘণ্টার কভারেজ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সব মিলিয়ে ক্রীড়া এক সর্বব্যাপী দৃশ্যমানতায় পরিণত হয়। এই দৃশ্যমানতা নিরপেক্ষ নয়। এটি বেছে নেওয়া গল্প, নায়ক এবং প্রতীক তৈরি করে। কোন খেলোয়াড় ‘জাতীয় নায়ক’, কোন ঘটনা ‘ঐতিহাসিক’, কোন ব্যর্থতা ‘ক্ষমার অযোগ্য’।  সবই নির্ধারিত হয় কর্পোরেট ও রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে। ফলে ক্রীড়া একটি মতাদর্শগত উৎপাদনক্ষেত্রে পরিণত হয়, যেখানে বাস্তবতা নয়, বরং নির্মিত বয়ান প্রাধান্য পায়।
এইসময়কালে ক্রীড়া প্রশাসনের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীভবন ও অস্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও বোর্ডে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত হয়, এবং ক্ষমতা ক্রমশ একটি ছোট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। এই গোষ্ঠী প্রায়শই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং কর্পোরেট পুঁজির সঙ্গে যুক্ত। প্রকৃত অর্থে, এটি রাষ্ট্র ও পুঁজির এক ‘জোট’। যেখানে উভয়েই পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে। ক্রীড়া প্রশাসন এখানে জনস্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না। সেটা একটি এলিট কাঠামোয় পরিণত হয়।

২০২৩-পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত ও আংশিকভাবে কার্যকর নতুন ক্রীড়া আইন এই প্রবণতাকে আরও সুসংহত করে। ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ক্রীড়া সংস্থাগুলির উপর একটি পরোক্ষ কিন্তু কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সরকারি অনুদান পেতে হলে এই বোর্ডের স্বীকৃতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কার্যত সমস্ত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসে। বলা যায়, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনঃকেন্দ্রীভবন। যেখানে ক্রীড়া একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে প্রস্তাবিত স্পোর্টস ট্রাইব্যুনাল ক্রীড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিচারিক কাঠামো তৈরি করে, যার ক্ষমতা দেওয়ানি আদালতের সমান। আপাতদৃষ্টিতে এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। বাস্তবে এটি ক্রীড়া প্রশাসনকে আরও আমলাতান্ত্রিক ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন করে তোলে। ক্রীড়া সংস্থাগুলির স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হয়, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও বেশি রাষ্ট্রনির্ভর হয়ে ওঠে।

বিসিসিআই-কে এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি ক্রীড়া সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা নয়। বরং দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধনী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, রাষ্ট্র ও পুঁজির মধ্যে সম্পর্ক একমুখী নয়। কখনও রাষ্ট্র পুঁজিকে সুবিধা দেয়, আবার কখনও পুঁজির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এই দ্বৈত সম্পর্কই আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।
তবে এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় একটি মৌলিক বৈপরীত্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলি জাতীয় ফেডারেশনের উপর সরকারি হস্তক্ষেপকে সীমিত করতে চায়। কারণ তা ‘স্বায়ত্তশাসন’-এর নীতির পরিপন্থী। ফলে ভারতীয় রাষ্ট্রকে সরাসরি নয়। বরং পরোক্ষ ও নীতিগত উপায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হয়। এই টানাপোড়েন ক্রীড়া প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই সময়পর্বে ক্রীড়ার সামাজিক ভিত্তিও পরিবর্তিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সংস্কৃতি, স্থানীয় প্রতিযোগিতা এবং শ্রমজীবী সমর্থকগোষ্ঠী ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। তাদের জায়গা নিয়েছে শহুরে মধ্যবিত্ত দর্শক, যারা ক্রীড়াকে একটি বিনোদন পণ্য হিসেবে ভোগ করে। সমর্থক এখানে আর অংশীদার নয়। তারা ভোক্তা। এই পরিবর্তন ক্রীড়ার গণতান্ত্রিক চরিত্রকে ক্ষয় করে। তাকে একটি বাজারনির্ভর কাঠামোয় আবদ্ধ করে।

পণ্যায়ন, রাষ্ট্র–পুঁজি জোট, মতাদর্শগত নিয়ন্ত্রণ—পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও অনেকটাই প্রযোজ্য, তবে সরাসরি ‘একই রকম’ নয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া সংস্কৃতির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য (ক্লাব-ভিত্তিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ফুটবল-নির্ভর জনআবেগ) এই রূপান্তরকে কিছুটা ভিন্ন রূপ দিয়েছে। তাই ২০১১–২০২৬ সময়পর্বকে দেখতে হলে একদিকে সর্বভারতীয় পুঁজিবাদী রূপান্তরের প্রভাব, অন্যদিকে রাজ্যের নিজস্ব সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের আন্তঃসম্পর্ক বুঝতে হবে।
২০১১ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া নীতিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। নতুন সরকার ক্রীড়াকে জনসংযোগ ও সামাজিক বৈধতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু এর মধ্যে একটি দ্বৈত চরিত্র ছিল। একদিকে এটি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সক্রিয় রাখে, অন্যদিকে ক্লাব ও সংগঠনগুলিকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার উপর নির্ভরশীল করে তোলে। ফলে ক্রীড়া একটি আংশিক স্বায়ত্তশাসিত ক্ষেত্র না থেকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে।

এই সময়েই কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশ বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেটে নতুন মাত্রা পায়। আইএসএল-এ এটিকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এটিকে নিছক একটি নতুন লীগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে—এটি ছিল ক্রীড়ার সংগঠন ও অর্থনীতির একটি মৌলিক পুনর্গঠন। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলি (মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল) প্রথমে এই মডেলের বাইরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাজারের চাপে তাদের এই কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করতে হয়। এটিকে “পছন্দ” বলা কঠিন; বরং এটি ছিল টিকে থাকার শর্ত। এই প্রক্রিয়ায় ক্লাবগুলি তাদের ঐতিহাসিক সামাজিক চরিত্র হারিয়ে ধীরে ধীরে কর্পোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশে পরিণত হয়। সমর্থকদের ভূমিকা বদলে যায়—তারা আর ক্লাবের অংশীদার নয়, বরং টিকিট, মার্চেন্ডাইজ ও সম্প্রচারের মাধ্যমে যুক্ত ভোক্তা।

আই লিগের প্রান্তিক হয়ে পড়া পশ্চিমবঙ্গের ফুটবল সংস্কৃতির উপর একটি গভীর প্রভাব ফেলে। ছোট ক্লাব, স্থানীয় লিগ এবং গ্রাসরুট স্তরের প্রতিযোগিতা আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিভা বিকাশের ঐতিহ্যগত পথ সংকুচিত হয়। এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, বাজারনির্ভর মডেল দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক অবকাঠামোর পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি দৃশ্যমান সাফল্য ও মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেয়।
ক্রিকেটের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হলেও মূল প্রবণতা একই। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB) ঐতিহাসিকভাবে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলেও, আইপিএল-নির্ভর অর্থনীতি এবং বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যে তার ভূমিকা অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায়। ইডেন গার্ডেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেলেও, রাজ্যস্তরের ক্রিকেট উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ও জাতীয় কাঠামোর উপর নির্ভরতা বাড়ে। খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ বাড়লেও, তা মূলত একটি উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অংশ, যেখানে অল্পসংখ্যক সফলতা দৃশ্যমান হয় এবং বৃহত্তর অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্র সরাসরি ক্রীড়ার পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রক। বিভিন্ন স্টেডিয়াম উন্নয়ন, একাডেমি স্থাপন, ক্লাব অনুদান—এসবের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেছে। এই উন্নয়ন সমানভাবে বণ্টিত নয় এবং প্রায়শই রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ক্রীড়া প্রশাসন একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো না হয়ে পৃষ্ঠপোষকতা-নির্ভর নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি “এলিট কাঠামো”-র আঞ্চলিক সংস্করণ।

জাতীয় স্তরের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের তুলনায় এখানে আঞ্চলিক পরিচয় ও আবেগের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কলকাতার “ময়দান সংস্কৃতি”—এসবকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ক্রীড়া এখানে শুধু জাতীয় গর্ব নয়, বরং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতীক। তবে এই পরিচয়ও ক্রমশ বাজারের যুক্তির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ডার্বি ম্যাচ এখন শুধু আবেগ নয়, একটি বড় মিডিয়া ইভেন্ট, যার অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে।
গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বাংলা ক্রীড়া সাংবাদিকতা, টিভি কভারেজ, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া—সব মিলিয়ে ক্রীড়া একটি সর্বব্যাপী দৃশ্যমানতায় পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্যমানতা নির্বাচিত। ক্রিকেট ও আইএসএল-কেন্দ্রিক ফুটবল সর্বাধিক গুরুত্ব পায়, অন্যদিকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার বা গ্রামীণ ক্রীড়া অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। ফলে ক্রীড়ার ভেতরে বৈষম্য আরও বেড়ে যায়।
২০২৩–২০২৬ পর্বে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া নীতির পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য আইন পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাব ফেলছে। জাতীয় স্তরে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেলে রাজ্যের ক্রীড়া সংস্থাগুলির স্বায়ত্তশাসন আরও সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে কর্পোরেট বিনিয়োগের উপর নির্ভরতা বাড়বে। ফলে রাজ্যস্তরের ক্রীড়া প্রশাসন আরও বেশি দ্বৈত চাপে পড়বে। একদিকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে বাজারের দাবি।
সব মিলিয়ে ২০১১–২০২৬ সময়পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া ব্যবস্থায় তিনটি প্রধান প্রবণতা স্পষ্ট। প্রথমত, ক্রীড়ার ক্রমবর্ধমান পণ্যায়ন ও কর্পোরেটীকরণ, বিশেষ করে ফুটবলে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সংযোগ। তৃতীয়ত, ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ও গণভিত্তিক সংস্কৃতির ক্রমশ ক্ষয় এবং তার জায়গায় ভোক্তাভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতির উত্থান।
পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া ক্ষেত্র এখন এক জটিল “হাইব্রিড” কাঠামো। যেখানে পুরোনো ক্লাব-ভিত্তিক সামাজিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যায়নি, কিন্তু তার উপর পুঁজিবাদী বাজার ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের নতুন স্তর আরোপিত হয়েছে। এই দ্বৈততা থেকেই সংঘর্ষ, সংকট এবং সম্ভাবনা—সবকিছুই তৈরি হচ্ছে।

২০১১–২০২৬ সময়পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া জগৎকে বরং একটি সংকটগ্রস্ত রূপান্তরের ক্ষেত্র বলা বেশি যথাযথ—যেখানে দুর্নীতি, রাজনৈতিক চাপ ও বাজারের প্রভাব মিলেমিশে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে কিছু বিচ্ছিন্ন সাফল্য ও প্রতিরোধও টিকে আছে।
দুর্নীতি এই সময়ের একটি মৌলিক সমস্যা হিসেবে থেকেই গেছে। ক্রীড়া সংস্থাগুলির আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অগণতান্ত্রিকতা এবং পদাধিকারীদের দীর্ঘস্থায়ী দখলদারি—এসব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো এক ধরনের বন্ধ বৃত্তে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রীড়াবিদদের অভিযোগ থাকে যে সুযোগ, নির্বাচনী ট্রায়াল বা দল গঠনের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে “যোগাযোগ” বা “সংযোগ” বেশি কার্যকর। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিভা বাছাই বিকৃত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়ার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক চাপ পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়ার প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ২০১১-র পর নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনগুলিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে আনা হয়। অনুদান, সুবিধা, অবকাঠামো—এসব প্রায়শই রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলির স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকে না। ক্লাব সংস্কৃতি, যা একসময় সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক ছিল, তা ক্রমশ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
মুনাফাকেন্দ্রিকতা বা বাজারের প্রভাব বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেটে স্পষ্ট। আইএসএল-এর আগমন পশ্চিমবঙ্গের ফুটবলকে নতুন দৃশ্যমানতা দিলেও, এটি ঐতিহ্যবাহী কাঠামোকে আঘাত করে। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাবগুলি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। এতে অর্থনৈতিক স্থিতি কিছুটা এলেও, ক্লাবের গণভিত্তিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছোট ক্লাব, স্থানীয় লিগ ও গ্রাসরুট ফুটবল ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ে। ক্রিকেটে আইপিএল-নির্ভর অর্থনীতি একইভাবে একটি কেন্দ্রীভূত ও উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে অল্পসংখ্যক খেলোয়াড় দৃশ্যমান সাফল্য পায়, বাকিরা অদৃশ্য থেকে যায়।
অবকাঠামোর দুর্বলতা পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতাগুলির একটি। কলকাতা-কেন্দ্রিক কিছু আধুনিক সুবিধা থাকলেও, জেলা ও গ্রামীণ স্তরে পরিকাঠামো অত্যন্ত সীমিত। অনেক ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কোচিং সুবিধা, চিকিৎসা ও ফিটনেস সাপোর্ট অপর্যাপ্ত। ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। এই বৈষম্য শহর ও জেলার মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করে।
জাতীয় স্তরে পশ্চিমবঙ্গের আপেক্ষিক ব্যর্থতা এই কাঠামোগত সমস্যারই প্রতিফলন। একসময় ভারতীয় ফুটবল ও অন্যান্য খেলায় পশ্চিমবঙ্গের আধিপত্য ছিল, কিন্তু এই সময়পর্বে সেই অবস্থান অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত। অলিম্পিক বা জাতীয় প্রতিযোগিতায় রাজ্যের অবদান তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য থাকলেও, সামগ্রিকভাবে একটি শক্তিশালী, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি কেবল খেলোয়াড়দের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার ফল।
“ধ্বসে পড়া কাঠামো” কথাটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য গ্রাসরুট ও ক্লাব-ভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতির ক্ষেত্রে। ময়দান সংস্কৃতি, স্থানীয় টুর্নামেন্ট, শ্রমজীবী সমর্থকগোষ্ঠী—এসব ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে। তাদের জায়গা নিয়েছে মিডিয়া-চালিত, শহুরে, ভোক্তাভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতি। সমর্থক এখানে আর সক্রিয় অংশগ্রহণকারী নয়; তারা দর্শক ও ক্রেতা। এই পরিবর্তন ক্রীড়ার সামাজিক ভিত্তিকে ক্ষয় করে।
তবে পুরো সময়কালকে একমাত্র “অবক্ষয়” বলে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যাবে। এই সময়েই কিছু ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে—নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কিছু নতুন একাডেমির উদ্ভব, এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। কিন্তু এই সাফল্যগুলি কাঠামোগত উন্নয়নের ফল নয়; বরং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ব্যতিক্রমী অর্জন।
সব মিলিয়ে ২০১১–২০২৬ সময়পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া জগৎ একটি দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে দুর্নীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, বাজারের চাপ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা মিলিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই কাঠামোগত ভাঙনের দিকে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ঐতিহ্য, আবেগ ও কিছু বিচ্ছিন্ন সাফল্য এখনও এই ক্ষেত্রকে পুরোপুরি ভেঙে পড়া থেকে আটকে রেখেছে।
অতএব, পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়াকে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” না বলে “সংকটাপন্ন ও পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে” বলা বেশি যথাযথ। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে—ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো, গ্রাসরুট স্তরে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ক্রীড়াকে পুনরায় সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উপর। তা না হলে, আপনার আশঙ্কাই বাস্তব হবে—ক্রীড়া একটি সীমিত, নিয়ন্ত্রিত ও মুনাফাকেন্দ্রিক ক্ষেত্রেই আবদ্ধ হয়ে পড়বে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি এখানেও একই থাকে—পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া কি তার ঐতিহ্যগত গণভিত্তি ও সামাজিক চরিত্র বজায় রেখে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য খুঁজে পাবে? নাকি তা সম্পূর্ণভাবে বাজার ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অধীনস্থ হয়ে পড়বে? বর্তমান প্রবণতা প্রথমটির সম্ভাবনাকে দুর্বল এবং দ্বিতীয়টির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে, কিন্তু লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

সব মিলিয়ে চলতি সময়কাল ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে এক গভীর রূপান্তরের যুগ। যেখানে পুঁজির আধিপত্য, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব একত্রে ক্রীড়াকে পুনর্গঠন করেছে। ক্রীড়া এখানে আর কেবল খেলা নয়। এটি একটি অর্থনৈতিক শিল্প, একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার এবং একটি মতাদর্শগত ক্ষেত্র। এই প্রক্রিয়ায় ক্রীড়ার সামাজিক ও গণতান্ত্রিক চরিত্র সংকুচিত হয়েছে। ক্রমশ একটি নিয়ন্ত্রিত, পণ্যায়িত ও কেন্দ্রীভূত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে— ক্রীড়া কি পুঁজির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিনোদন শিল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি তা পুনরায় একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্র হিসেবে পুনর্গঠিত হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে ক্রীড়ার ভেতরে এবং বাইরে চলমান শ্রেণি সংগ্রামের উপর। যদি ক্রীড়াবিদ, সমর্থক এবং সমাজের বিভিন্ন অংশ একত্রে এই পণ্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তবে ক্রীড়া আবারও তার সামাজিক শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। অন্যথায়, এটি ক্রমশ পুঁজিবাদী আধিপত্যের আরেকটি যন্ত্রে পরিণত হবে, যেখানে খেলার আনন্দের চেয়ে মুনাফা ও ক্ষমতাই প্রধান হয়ে উঠবে।
প্রকাশের তারিখ: ২১-এপ্রিল-২০২৬

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org