স্বাধীনতা আন্দলনের ইতিহাসের অন্যতম লড়াই ইতিহাসের পাতায় অনেক কিছু লেখা থাকলেও অনেক ইতিহাসই আমাদের অজানা বা অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো অনেক কম গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয় আমাদের। শাসক শ্রেণির চোখ দিয়েই সাধারণত ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা হয়। এটাই সাধারণ প্রথা, যদিও অনেকক্ষেত্রে বন্ধু সরকার দায়িত্ব পালনের কাজে থাকলে জনগণের আন্দোলনের ইতিহাসকে অনেকটাই গ্লোরিফাই করা হয় এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সেই কথা তুলে ধরার চেষ্টা হয় যাতে তারা মুক্তিকামী সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়।
আজকের দিনে এক ভয়ানক সংকটের মধ্যে দিয়েই এগোতে হচ্ছে আমাদের। যদিও সেটা এগোনো নাকি হাজার বছর পিছিয়ে যাওয়া এই নিয়েই বিরাট এক সন্দিহানের মধ্যে ভারতের মানুষ। সাধারণত আমরা জানি বিশ্বজুড়েই এক প্রবণতা আছে যে অতীতের অন্ধকারকে ভুলে , এগিয়ে নতুন মুক্তচিন্তার সমাজ গড়াটাই শিক্ষার থেকে পাওয়া রসদ। এবার কোনভাবে যদি এমন এক সরকার থাকে যারা প্রতিক্রিয়াশীল এবং রক্ষণশীল সমাজের পক্ষে তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের এগোনো হবেনা বরং পিছাতে হবে। আজকের দিনটা মুক্তিকামী সংগ্রামে ইতিহাসের এক কালো অন্ধকার অধ্যায়ের দিন।
কি হয়েছিল সেই ১৯৩১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর? ১৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩১ সাল আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে, সঠিকভাবে দেখলে ৯৪ বছর আগে মেদিনীপুরের হিজলী জেলে নিরস্ত্র দুই বন্দি, স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তোষ কুমার মিত্র এবং তারকেশ্বর সেনগুপ্তকে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়ে খুন করে অত্যাচারী ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ হুকুমতের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই তখন চলছে। উথালপাতাল পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের স্বাধীনতার ঢেউ সামলাতে পারছেনা ব্রিটিশরা, সেই সময় ব্রিটিশরা ফন্দি আটলো অমানবিক অত্যাচার করে তারা আন্দোলন দমন করবে।
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর,গণ প্রতিবাদের ফলে ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের তরফে এই ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এই ক্যাম্প ১৯৪০ সালে পুনরায় খোলা হলেও ১৯৪২ সালে এটা বন্ধ হয়ে এবং যতদূর জানা যায় পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি আমেরিকান এয়ার বেস হিসেবে ব্যবহার করে ব্রিটিশরা। স্বাধীনতার পর এই জায়গায় একটি বিল্ডিং আইআইটি খড়গপুরে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এর নাম হয় শহীদ ভবন। এই ক্যাম্পের একটু অংশের নামকরণ হয় Nehru Museum of Science and Technology, বলা হয় এটি একমাত্র ডিটেনশন ক্যাম্প যেখানে গুলি করে রাজনৈতিক বন্দিদের খুন করে ব্রিটিশরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম ঘোষিত এবং অঘোষিত ক্যাম্প (ডিটেনশন ক্যাম্প) চালাতো অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর বেদনায় এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি এটি সভ্যতার কলঙ্ক এবং মানবতার বিরুদ্ধে হওয়া এক নৃশংস অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিরস্ত্র বন্দীদের ওপর গুলি চালানো ছিল ব্রিটিশ শাসনের বর্বরতার প্রমাণ।
তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে The Statesman পত্রিকায় প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন। কবি হিজলি জেলের উপর ব্রিটিশ পুলিশের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘প্রশ্ন’ কবিতাটি লিখেছেন। এই কবিতায় কবি ঈশ্বরের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন কেন তিনি বারবার পৃথিবীতে এমন অত্যাচার ও অন্যায় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন। কবি বলেছেন, যুগে যুগে যারা ক্ষমার বাণী নিয়ে এসেছিল, তাদেরও আজ ব্যর্থ নমস্কারে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। কবিতার মূলভাবনা হলো - মানবতা ও ন্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ঈশ্বরের কাছে এই প্রশ্ন রাখা যে, তিনি কেন পৃথিবীতে এমন দয়াহীন, হিংস্র ঘটনা ঘটতে দেন। নৈতিক প্রতিবাদ জানান। তাঁর মানবতাবাদী চিন্তা স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এটি ভারতীয়দের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি ব্রিটিশদের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে বলে উল্লেখ করেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে “অমানবিক শাসনের নগ্ন চেহারা” বলে আখ্যা দেন। আন্দোলনের পক্ষে আরও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য বক্তৃতা ও সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সহানুভূতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর নেতৃত্বে দেশজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি হয়। সুভাষ চন্দ্র বসু নিজে হিজলি জেলে গিয়ে মৃতদেহ নিয়ে আসেন। হিজলি জেল হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পৃথক ঘটনা ছিল না, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নৈতিক শক্তিকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে নৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সুভাষচন্দ্র বসু আন্দোলনের রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করতে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন।এই দুই নেতার প্রতিক্রিয়া দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
১৯৩১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ঘটনার আগের ও পরের পরিপ্রেক্ষিত মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন বা Non Cooperation Movement তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ঘোল খাওয়াচ্ছে, রাস্তায় বিরাট বিরাট মিছিল, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে এই আন্দোলন। চৌরি চৌরার ঘটনার পর এই আন্দোলন বন্ধ করে দেন গান্ধী। এই নিয়ে একাধিক তত্ত্ব রয়েছে, এর পক্ষে এবং বিপক্ষে। গান্ধীর বক্তব্য চৌরীচৌরাতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে হিংসা ছড়ায় তার পক্ষে সেই হিংসা সমর্থন করাটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেখলে বোঝা যাবে এটি ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলনের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরের প্রথম দাগ ফেলার মত আন্দোলন। এর অনেক সাফল্য ছিল বলেই এই আন্দোলনের পর ব্রিটিশ সরকারের দমনের নীতি বেড়ে গেল। ১৯২০ এর দশক থেকে ১৯৩০ এবং প্রাক স্বাধীনতার শেষের দশকে ব্রিটিশ শাসকেরা আন্দাজ করতে পারছিল যে তাদের ক্ষমতার পরিসর কমে যাবে। ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস থেকে পূর্ণ স্বরাজের পথ ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছিল। এরই মধ্যে আন্দোলনের তীব্রতার ফলে যেই কটা জেল ছিল তাতে রাজনৈতিক বন্দিদের রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল বলে ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগে তৈরি হয় ডিটেনশন ক্যাম্প। হ্যাঁ, NRC NPR CAA বিরোধী আন্দোলনের সময় যে ডিটেনশন ক্যাম্ নিয়ে চারিপাশে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেই ডিটেনশন ক্যাম্প, এই আদলেই তৈরি যেখানে মানুষকে মানুষ হিসেবে নয় পশুর আস্তানার থেকেও খারাপ ভাবে রাখা হয়। স্বভাবতই এই প্রমান উথে আসে , এই বর্তমান বিজেপির সরকার যার নিয়ন্ত্রক ব্রিটিশদের দালাল আরএসএস , তারা মালিকের দেখান পথেই চলে। অন্যদিকে এই ব্রিটিশরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলারের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প নিয়ে বিরোধিতা করে জনগণের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ হচ্ছে বলে হ্যাজল নামিয়েছিল। পশ্চিমী দুনিয়া এবং মার্কিনীদের এক অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে ওরা নিজেদের জনগণকে লোক দেখানো এক বুর্জুয়া গণতন্ত্রের ললিপপ দেখিয়ে শাসন কায়েম রাখে, বিশ্বের অন্যত্র গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই বলে তাদের নাকি বিবেকে খুব বেঁধে যায়, তাই তারা নাকি সেই নির্দিষ্ট দেশের মানুষের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে, বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে যায়। এদিকে দেখা যায় এই পশ্চিমী দুনিয়া এবং মার্কিনীরা অর্থাৎ আমেরিকা বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ - এরাই সেই দেশের মধ্যে আসলে গণতন্ত্র ফেরানোর নামে সেখানকার সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ এক আজব লীলা খেলার বিষয়।
ইতিহাস কে মুছে ফেলার চেষ্টা আগেও ছিল এখনও আছে রবীন্দ্রনাথের কথার মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদ এবং আন্তর্জাতিকবাদের এক সমন্বয় পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখার পাশাপাশি তার স্বাধীনতার জন্য যে ভাবনাচিন্তার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার ইতিহাস আছে সেটা কতটাই বা আমরা জানি। কিন্তু সেগুলো জানার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রবাদ এবং জাতীয়তাবাদ যে আলাদা সেগুলির নিদর্শন ওনার বিভিন্ন লেখায় পাওয়া যায়। যেমন আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার দেশে... - উনি আমি রাজা বা অন্য কেউ এক ব্যক্তি রাজা একথা না বলে সচেতনভাবে আমরা বলেছেন। এইটার ক্ষেত্রে অনেকে যেমন এটার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের কথা বা সংসদীয় গণতন্ত্র বা প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রের দিক পাচ্ছেন, অন্যরা আবার তাকে anarchist বলে অভিহিত করছেন এমনও আছে। মাঝেমধ্যেই কিছু বিজেপি, আরএসএসের লোকেরা কথায় কথায় বলে দেন রবীন্দ্রনাথকে কমিউনিস্ট পার্টি বুর্জুয়া কবি বলেছিলেন। তবে এটা কোন ব্যক্তির বক্তব্য হলেও কমিউনিস্ট পার্টির বক্তব্য নয় বরং রবীন্দ্রনাথের কথাবার্তা, ভাবনা, ওনার বিভিন্ন লেখার মধ্যে দিয়ে আধুনিক সমাজ বাম, প্রগতিশীল রাজনীতির কথাই প্রতিমুহূর্তে ত্বরান্বিত হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। পশ্চিমী দুনিয়ার যে জাতীয়তাবাদ যে কবির ভাষায় মিলিট্যান্ট বা অর্গানাইজড একটা জাতীয়তাবাদ যা রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল উনি এর সাথে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে মেলাননি। বরং এখানকার দেশপ্রেমকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন সর্বত্র। আসলে কথাগুলো আরএসএসের ভাসানো কথা। এর মূল লক্ষ্য স্বাধীনতাকে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে খাটো করে দেখা কারণ ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লড়াইয়ে কমিউনিস্ট ধারা, কংগ্রেসী ধারার গৌরবের ইতিহাস থাকলেও আরএসএস বা তার লেজুড়দের উজ্জ্বল ইতিহাস নেই। বরং এরা শক্তিশালী হওয়া মানে দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে একটা ধর্মনিরপেক্ষ আবহাওয়া নষ্ট হয়ে এখানে একটা মৌলবাদী দেশ তৈরি হওয়া। পাকিস্তান, বাংলাদেশ এরা ভাল নেই। এর কারণ, দেশভাগের ক্ষত আজও জর্জরিত করে এদের। আরও জর্জরিত করে কারণ এরা ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া দেশে। যদিও পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতা পেয়ে বাংলাদেশ তৈরি হয় ১৯৭১ সালে কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দালালরা অনেকেই থেকে গেছে বাংলাদেশে, সেই কারণেই আরো ঝামেলা।
ইতিহাস ভুলবো না এই ইতিহাসের কথা প্রচলিত নয় কারণ এই ইতিহাস বর্তমান শাসক চায়না সবাই জানুক। নকশালপন্থী দমনের রাজনীতির গ্রাফ যখন উপরের দিকে সেই সময়ও রাজনৈতিক বন্দিদের উপর অত্যাচার হয়েছে, শুট অ্যাট সাইট অর্ডারে খুন হয়েছে অনেকে। যারা মারা গেছেন তাদের অনেকেই মূল ধারার কমিউনিস্ট পার্টির অনেক নেতা কর্মীকে খুন করেছে, তারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান রেখেছেন। কিন্তু মূল ধারার কমিউনিস্ট পার্টি তথা সিপিআইএম বা বামফ্রন্ট এই রাজ্যে সরকারের দায়িত্ব পেয়ে প্রথম যে সিদ্ধান্ত নেয় তা হচ্ছে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্ত করা। এটাই পার্থক্য বামপন্থীদের সাথে অন্যদের। বিরোধীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে, রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে বিরোধী কন্ঠস্বর দমন করাটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়া শাসকের কাজ নয় অন্তত যেই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র বিশ্বজুড়ে আলোচিত এবং নিশ্চিতভাবে একটা মডেল। তবে হ্যাঁ দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপদ হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করাটাই স্বাভাবিক। আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক বন্দীকে ধ্বংস করবো বলে তাকে দেশবিরোধী বলে জেলে আটকে রাখবো উইথআউট ট্রায়াল সেটাও স্বৈরাচারী ভাবনা। যেমনটা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার অনেকের ক্ষেত্রেই করছে। নতুন শব্দ বাজারে আমদানি হয়েছে যাকে এরা urban naxal বলছে। প্রগতিশীল এবং প্রতিবাদী হলেই তাকে এই শব্দবন্ধে অভিহিত করছে বিজেপি এবং মৌলবাদী শক্তিরা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে নিরস্ত্র বন্দিদের উপর গুলি চালানোর ঘটনা। ব্রিটিশ হুকুমতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অন্যতম এক নয়া অধ্যায় ছিল ১৬ই সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সময়। ইতিহাস তারাই ভুলিয়ে দিতে চায়, যাদের ইতিহাসে মুছলেখা দিয়ে ব্রিটিশ শাসকের কাছে পদলেহন করার বিবর্ণ কালিমালিপ্ত ইতিহাস আছে। তাদের চিহ্নত করে, জনবিছিন্ন করতে হবে,দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করার স্বার্থে।
প্রকাশের তারিখ: ১৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫ |