|
সালার দে ঊযানি - মার্কিন আগ্রাসনের কাহিনী - মৃদুল দেUnknown |
|
অভিনব সালার দে উযানি (Salar de Uyuni)- এর নাম সামনে আসে না, কৌতূহল কারো হয় না । অথচ জানুন, এটা হলো বলিভিয়ার অনেকটা দুর্গম দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশে অবস্থিত পৃথিবীতে নুনের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক ভান্ডার (salt pan) নামে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬৬৩ মিটার ওপরে ৪০৫০ বর্গ মাইল বিস্তৃত লবণের এক প্রকান্ড সমতলভূমি। বলা হয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগে এটা একটা বড় হ্রদ ছিল, জল বাষ্প হয়ে উবে যায় ।বছরের বেশির ভাগ সময় এটা শুষ্ক থাকে। কিন্তু বর্ষাকালে আশপাশের হ্রদ প্লাবিত হলে এই নুনের সমতলভূমি জেগে ওঠে। আর তখনই ফুটে ওঠে আসল রূপ । এ সময় এটির বিস্তীর্ণ প্রান্তর কাচের মতো স্বচ্ছ, মসৃণ ও সমতল হয়ে যায়।
যুগ যুগ ধরে এই গ্ৰহের বিপন্নতা বাড়ছে, এখন দ্রুত বাড়ছে বা বাড়ানো হচ্ছে । বিশ্বব্যাপী এই ঘোর সংকটের মূলে একমাত্র পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীরাই ।অত কথায় না গিয়ে এই ছোট্ট কোটি খানেক বা একটু বেশি লোকের দেশ বলিভিয়ার কথাই ধরা যাক । ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, রোবট, বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ব্যাটারি তৈরির মূল্যবান উপাদান খনিজ লিথিয়াম বলিভিয়ায় আছে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি। যেমন লবন, মূল্যবান লিথিয়াম ঐ স্থান থেকে সংগ্ৰহ করা যায় । লাতিন আমেরিকার দুর্বল দেশ, দারিদ্র পীড়িত, সংখ্যায় আদিবাসীরা বেশি । আমেরিকার চাপ, লুট আর ঘন ঘন সামরিক ক্ষমতার লড়াইতে বিধ্বস্ত দেশ। ১৩ বছর ইভো'র সরকারের সময় কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।বিরাট ভোটে নির্বাচিত জনপ্রিয় ইভো মোড়ালেস সরকারকে গত নভেম্বরে অস্বচ্ছ নির্বাচনের ধুয়ো তুলে সামরিক বাহিনীতে ক্যু ঘটিয়ে প্রকাশ্য হুংকারে ট্রাম্প প্রশাসন উৎখাত করে। ইভোকে পালাতে হয় মেক্সিকোতে । মার্কিনী ছকে বিরোধী পক্ষের এক মহিলা ঘোষণা করলেন তিনিই প্রেসিডেন্ট, সঙ্গে সঙ্গে স্বীকৃতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন । শুরু হয় বিরোধীদের নিধন ও নির্যাতন । কোভিড সংক্রমন গ্রাস করেছে, মৃত মানুষ এখানে সেখানে পড়ে আছে, অসহায় মানুষ, কোন ব্যবস্থা নেই । তিনমাসের মধ্যে নির্বাচনের আশ্বাস এখন শিকেয় । এই সরকার, মার্কিন কর্পোরেটদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ব লিথিয়াম-সম্পদের ও অন্যান্য খনিজের দখল নিতে ব্যস্ত । আবার, আমেরিকা অবরোধ ছাড়াও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে ভেনেজুয়েলার তেল ও অন্যান্য সম্পদ দখল করতে মাদুরো সরকার ওল্টাতে ।এদিকে গুরুতর কোভিড সংক্রামিতদেরও বলিভিয়ায় হাসপাতাল নিচ্ছে না, উপচে পড়ছে জায়গা নেই। ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি সহ সর্বত্র কোন চিকিৎসা ও সহায়তা নেই, ভয়াবহ অবস্থা । ![]() ৬ এবং ৯ আগস্ট, ১৯৪৫: আমেরিকা পারমানবিক বোমায় ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দেয় পরপর জাপানের দুটি শহর হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে । এই অপরাধের কোন ক্ষমা নেই । কিন্তু আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা এ পর্যন্ত এর চেয়ে কয়েক হাজারগুণ বেশি পারমানবিক অস্ত্র মজুত করেছে । পাল্টা রাশিয়াও নিরাপত্তায় এই অস্ত্র বাড়িয়েছে, যদিও এই পারমানবিক বোমা বানিয়েই রাষ্ট্রসঙ্ঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘোষণা করেছিল তারা কখনোই পারমাবিক অস্ত্র প্রথম ব্যবহার করবে না । সাত দশকের মধ্যে এরকম ঘোষণা করতে আমেরিকান প্রশাসন অস্বীকার করে আসছে । প্রকাশের তারিখ: ০৭-আগস্ট-২০২০ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|