|
খোয়াবনামার রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে মনে রেখেWebdesk |
বাংলা আর বাঙালির আদি অকৃত্রিম বিষয়গুলিকে সময়োপযোগী ভঙ্গিমাতে , মূল সুরটিকে এতোটুকু নষ্ট হতে না দিয়ে, সেই ভিয়ানে নোতুন সৃষ্টি হল ইলিয়াসের কথা হাহিত্যের সবথেকে বড়ো বৈশিষ্ট্য।যে রচনাশৈলি তিনি ব্যবহার করেছিলেন, সেই রচনাশৈলি বাংলা গদ্যে একটি নোতুন ধারার শুভ মহরৎ ঘটিয়েছিল।অতিভক্তের দল স্বীকার না করলেও , এই ক্ষেত্রে বলতেই হয়, কথাসাহিত্যে ভাষাশৈলির ইলিয়াস প্রবর্তিত ধারাটির ই অনুসারী ছিলেন নবারুণ ভট্টাচার্য।তবে ইলিয়াসের সঙ্গে তাঁর মৌলিক ফারাক হল, ইলিয়াসের সৃষ্টিতে কোনো অসুন্দরের ঠাঁই ছিল না।নবারুণ শ্ল্যাং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যত একজন নেশাগ্রস্থ মানুষের মতো আচরণ করে সাহিত্যে বহু ক্ষেত্রেই অসুন্দরের আবাহন করে গিয়েছেন।সমরেশ বসু বলতেন, যে দেশে আঠারো খন্ড পুরাণ আছে, সেই দেশে আর নোতুন করে অশ্লীল কিছু হতে পারে না।তবে সাহিত্যে অশ্লীলতা থাকলেও , অসুন্দরের যে কোনো ঠাঁই নেই, তা নিয়ে স্পষ্ট অভিমত ছিল ' বিবর' ,' প্রজাপতি',' পাতক' এর লেখক সমরেশ বসুর।তাই তিনি ইলিয়াসের লেখার সৌন্দর্যের অভিযানকে দুইহাত তুলে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।যদিও সমরেশ ইলিয়াসের দুটি ছোট গল্পের বই ই পড়বার সুযোগ পেয়েছিলেন।' দুধেভাতে উৎপাত'('৮৩) তিনি পড়তে পারেন নি নিজের ' দেখি নাই ফিরে' র উপকরণ সংগ্রহ আর লেখার ব্যস্ততায়।' দোজখের ওম' ('৮৯) যখন প্রকাশিত হয় , তখন সমরেশ প্রয়াত। ভাবতে ইচ্ছে করে , ' চিলেকোঠার সেপাই ','খোয়াবনামা' পড়ে উত্তেজিত সমরেশ বসু আলোচনায় মেতে উঠেছেন তাঁর পাড়ার সরস্বতী বুক স্টলে। |
প্রকাশের তারিখ: ০৪-ফেব্রুয়ারি-২০২১ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|