দ্বেষ স্বাধীন- রিপাবলিক দিন

Doct.Propa Day
জাত-ধর্ম-কুসংস্কার আর রাজনীতি নিয়ে বেশ আছি আমরা, এটাই আমাদের বিনোদন। বিশ্বায়নের জালে খাবি খাওয়া ভারতীয়দের জাতীয়তাবোধ এখন সীমিত বিজ্ঞাপনে, রাজনৈতিক তরজায় আর সিরিয়ালে। করদাতা ভারতীয় এখন দুপ্রকার, ব্ল্যাক এবং হোয়াইট।


“যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু নিভাইছে তবআলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ?
তুমি কি বেসেছ ভালো?”

কাঁকড়ার ঝোল সহযোগে মধ্যাহ্নভোজন সেরে, ভেতো এবং দিবানিদ্রা প্রিয় বাঙালীর উদগার সহযোগে পরিচিত বাংলা চ্যানেলে অতুলপ্রসাদ -দ্বিজেন্দ্রলাল-রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের সুরের আবহে রক্ত গরম হয়ে উঠল, মনে পড়ল আজ ১৫ই আগষ্ট, আমাদের স্বাধীনতাদিবস অথবা ২৬ শে জানুয়ারী, প্রজাতন্ত্র দিবস।
         প্রজাতন্ত্র দিবস পা দিতে চলেছে ৭৭ এ, ভারতীয়দের তথা বাঙালিদের অন্য সব অভ্যেসের মত প্রজাতন্ত্র দিবস এক ঘোরতর অভ্যেসে পরিণত হয়েছে।মনস্তত্ত্বের আঙ্গিক থেকে দেখলে সেটাই বোধহয় স্বাভাবিক।ছলোছলো চোখে, গান-কবিতা-নাটক আর বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ নিয়ে বক্তৃতা , মুখস্থ বুলি আর মাল্যদানের অনুভূতিরএক্সপায়ারি টুয়েলভ মিডনাইট পর্যন্ত। ২০২৬ এ মানুষের মনে দ্বেষ মুখ্য ,দেশ ও দেশবাসীর প্রতি সহমর্মিতা , দায়িত্ববোধ, সর্বধর্মসমন্বয় ও পরধর্মসহিষ্ণুতার সূক্ষ্মতা মানসমনে দাগ কাটতে অপারগ। 

“সময় চলিয়া যায়”

তাই আজ ৭৭ বছর প্রায় পূর্ণ করা ভারতীয় ,১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট রাতের উৎকন্ঠা, উত্তেজনা অনুভব করতে বিফল হয়, পড়ে থাকে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে থাকা কিছু বিকৃত ,বিতর্কিত স্মৃতি।

১৬১২-১৯৪৭ সুদীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের পর স্বাধীন দেশের ভিত তৈরি হয়েছিল বহু মানুষের আত্মত্যাগ, এবং আরো বহু বহু মানুষের দেশদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা প্রলেপের উপর দিয়ে। 

    ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট অথবা ১৯৫০ এর ২৬শে জানুয়ারির ইতিহাস আজ ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন অথবা সেইসময়কার মানুষগুলোর স্মৃতির সাথে প্রস্তরীভূত। দেশের বহু মানুষের বলিদান, রাজনৈতিক কাটাছেঁড়া ও হিসেব নিকেশ করার পরেও দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে রিক্ত, নিঃস্ব করে করুনার দান এই স্বাধীনতা। আমাদের প্রাপ্য স্বাধীনতা, আমাদের তৈরী সংবিধান।

    ধর্মের ভিন্নতা এবং মানুষের দিকদর্শনহীনতাকে কাজে লাগিয়ে শুধুমাত্র শক্তি মুঠোয় রাখতে রাজনৈতিক নেতারা চাল দিলেন ,তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কথা না ভেবেই। মানুষ দিশেহারা হয়ে, বিভ্রান্ত হয়ে ফাঁদে পা দিল। তার সাথে ছিল আগ্রাসনী শক্তির উসকানি। 
   মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি এই ভয়ানক সিদ্ধান্তের আশু প্রভাব আঁচ করতে পেরে সরবে বাংলাভাগের বিরোধিতা করেছিলেন। অপরিণত, অপ্রস্তুত ভারতবর্ষের কাছে স্বাধীনতা ও দেশভাগ গোদের ওপর বিষফোঁড়াসম।
     ব্রিটিশদের  উপর রাগ, ঘেন্না, বশ্যতার পরত পুরু হতে হতে তার ওপর জমেছে শ্যাওলা। বহুদিন রাগ, অপমানবোধ অব্যবহারের ফলে তাদের পদাঘাত, লাঞ্ছনা কেমন গা সওয়া হয়ে তৈরী হয়েছে এক অদ্ভূত আনুগত্যবোধ যা বংশানুক্রমে বহন করে চলেছি আমরা। তাই এখনো ব্রিটিশ টাওয়ার মিউজিয়াম , উইন্ডসর প্যালেসে অথবা এডিনবার্গ মিউজিয়ামে ,টিকিট কেটে আমাদের দেশের ঐশ্বর্য্য, টিপু সুলতানের অস্ত্র, শিরস্ত্রাণ আর আমাদের দেশের মানুষকে দিয়ে তাদেরই সহনাগরিকদের উপর ব্যবহৃত লক্ষ লক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র দেখলেও আমাদের রক্ত গরম হয় না, চোখ ঝাপসা হয় না। মনকে স্তোকবাক্য শোনাই এই বলে, এই দেশে আছে বলে তাও যত্নে আছে, আমাদের দেশে রবি বাবুর নোবেল টাও তো...।

       দেশ জুড়ে জ্বলতে থাকা বিদ্রোহের আগুনে আহুতি দিয়েছিলেন বহু মানুষ। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সহিংস বা অহিংস, সবাই মিলে নিজ নিজ উপায়ে দেশকে স্বাধীন দেখবার জন্য শেষ বিন্দু রক্তটুকু উৎসর্গ করে গেছেন। কালা পানি পেরিয়ে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেলুলার জেলে অমানুষিক অত্যাচার  সহ্য করেছেন, বীরের মত মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের সম্মানার্থে ইতিহাস সত্যতা দাবি করে। যারা জন্মভূমির স্বাধীনতা স্বর্গের চেয়ে প্রিয় ভেবে পুলিশের অথবা ইংরেজদের নির্দেশ পালনরত ভারতীয়দের গুলিতে মারা গেছেন, তাদের মুষ্টিমেয় কয়েকজনের সম্মানার্থে মেট্রো স্টেশন নামকরণ হয় , তৈরী হয় মূর্তি, বেদীতে পড়ে থাকে ফুলের মালা, আর যারা বেঁচে রইলেন, তাদের ছানি পড়া চোখ, অশীতিপর শরীর আজো খুঁজে চলে স্বাধীন ভারতের টিমটিম করে জ্বলতে থাকা দীপশিখা, গহন অন্ধকারের কোলে।

তাই আমাদের নস্টালজিয়ার স্বাধীনতা, ভাঙনের স্বাধীনতা, লজ্জার স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা দিবস নিয়ে তাও বা যেটুকু আহা উহু জনমানসে চোখে পড়ে, প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু মাত্র একটি ছুটির দিন হিসেবে ভারতবর্ষের বুকে বিরাজমান। সিনেমা হলে উগ্রপন্থীর প্ল্যানিংএ  অথবা লাল কেল্লার কুচকাওয়াজের ছবি দেখে মনে পড়ে প্রজাদের স্বার্থে তৈরী ভারতীয় সংবিধান, সর্বধর্ম সমন্বয় গণতন্ত্র দিবস। সারা বিশ্বকে চমকে দেওয়া নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধানের জ্বলন্ত উদাহরণ উপমহাদেশ ভারতবর্ষ। ডঃ আম্বেদকারের দূরদর্শিতা , ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীন সংবিধান যেখানে দেশ পরিচিতি পেয়েছিল এক নতুন আঙ্গিকে, Sovereign Socialist Secular Democratic Republic । আমাদের দেশ, গর্বের দেশ, স্বাধীন ভারতবর্ষ। এক বহু পরিচিত গায়কের কলমে উঠে এসেছে চির পরিচিত সত্যি,
 “এটুকুই সান্ত্বণা , 
দেশ হতে পারলো না, 
চ্যানেল রিপাবলিক হয়েছে”

  স্মৃতি সতত সুখের তবে বড়ই দুর্বল

     বছরের ক্যালেন্ডার হাতে পড়লেই অভ্যস্ত চোখ খুঁজতে থাকে লাল দাগের ফিরিস্তি।হিসেবী মন দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই ভেবে, যাচ্চলে শনিবার! একটা ছুটি মার। ৮০ র দশক অবধি স্বাধীনতা বোধ নিয়ে একটা মাখো মাখো ব্যাপার থাকলেও, এই ২০২৬ সালে প্রজাতন্ত্রদিবস ;  পোস্টারে, পতাকা উত্তোলনে আর স্কুলে বাধ্যতামূলক উপস্থিতিতেই আটকে। প্রজাতন্ত্র দিবস ছোটদের পরীক্ষায় রচনার বিষয়বস্তু হয়ে বেঁচে রয়। সাধারণ মানুষের মনে প্রজাতন্ত্র দিবস নিয়ে কোন তীব্র অনুভূতি চাগাড় দেয় না, প্রজাতন্ত্রের মুখোশ পরে, সংবিধানকে উপেক্ষা করে রাজতন্ত্র দাপিয়ে বেড়ায় দেশের বুকে।

     পাড়ায় পাড়ায় আকাশ আটকে তেরঙ্গা পতাকার জিগজ্যাগ ডেকরেশন আর চোখে পড়ে না। স্বদেশী গানের রেকর্ডের সাথে আজানের সুরে ঘুম ভেঙে সবাই নীচে জড়ো হওয়া, কল্পনা মনে হয়। জ্যাত্যাভিমান, ভাষা নিয়ে গৌরব কবেই ফিকে হয়ে এসেছে, তাই আজ জনগনমন গান অমনোযোগী বাঙালীর কাছে হয়ে যায় জ্যানাগ্যানাম্যানা ।রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত যা আমার মাতৃভাষা বাংলায় রচিত তাকে অনায়াসেই বাংলা জেনেও বিকৃত করে বাহবা পাই। তর্কের আসর বসে, আদৌ কি রবি বাবু গানটা বাংলাতেই লিখেছিলেন নাকি OG হিন্দী anthem আমরা জিভের উচ্চারণের সুবিধার জন্য বাংলা করে নিয়েছি। বাংলা মিডিয়াম গর্বের নয়, এখন পিছিয়ে থাকার পরিচয় বহন করে।শেষ প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সুরে, লেখায় খুঁজে পাই বাংলার প্রতি ভালবাসা আর ভাষার প্রতি গর্ব।

 “আমি বাংলায় কথা কই
   আমি বাংলার কথা কই,
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, 
বাংলায় জেগে রই
    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে,
    করি বাংলায় হাহাকার,
আমি সব দেখে শুনে 
ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার“

        প্রজাতন্ত্র মানে যে তন্ত্রসাধনা নয়, স্বাধীনতা মানে যে একতা , এই মিলেনিয়াম তা বিস্মৃত হয়েছে। ছোটবেলার নীতি কথার গল্পে পড়া ‘একটি লাঠি, আঁটি অপেক্ষা দুর্বল’ জ্ঞান বইতেই সীমাবদ্ধ। স্বাধীনতা এখন সংকীর্ণ অর্থে আমি-তুমিতে আটকে। 
তোমাদের সময়ে কি হয়েছিল ? 
কেন হয়েছিল? 
তাই আমাদের সময়ের অন্যায় ,অপশাসন সবই ন্যায্য ।

     ভারতীয়রা স্থিতিজাড্য অবস্থাতেই অনেক বেশী স্বচ্ছন্দ। খুব একটা প্রলয় না হলে গা ঝাড়া দিয়ে বিবেক জেগে ওঠে না। গত ১৫ বছর ধরে আমরা যেমন সব দায় ঝেড়ে ফেলে আমাদের সমস্ত দুর্ভাগ্যের জন্য দায়ী করে এসেছি ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ঠিক একই অঙ্কে তার আগের অব্যবস্থার জন্য দায়ী ছিল ব্রিটিশ সরকার। আমাদের স্বেচ্ছায় অধীন হবার তীব্র আকাঙ্খা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব আমাদের বর্তমান অবস্থার জন‍্য দায়ী। লোভ বর্জন না করতে পেরে, আমরা ঢুকেছি দোষারোপের মোড়কে। এই সরীসৃপ, শীতঘুমে পড়ে থাকা জাতির মধ্যেও স্ফুলিঙ্গ জন্মেছেন, তারা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে অত্যাচারীকে প্রশ্ন করেছেন, মাথা পেতে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে অন‍্যায়কে ভবিতব্য বলে মেনে নেন নি।

      আজ, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য ফুৎকারে উড়িয়ে নিজেরাই জেনেশুনে খাল কেটে নিয়ে এসেছি সেই হাঙর আর কুমিরদের যারা দেশ এবং মানুষকে পণ্য হিসেবে দেখে। আমাদের নিশ্চিন্ত, আরামপ্রিয় দৈনন্দিন জীবনের ওপারে, তাদের কথা ভাবতে পারিনি যারা কখনো জাতের নামে, কখনো অর্থের দোহাই দিয়ে, কখনো সামাজিক স্তরের বাহনায় কখনো বা ধর্মের হুজুগে ব্যবহৃত হয়েছে, বঞ্চিত হয়েছে শিক্ষা- স্বাস্থ্যর মতো মৌলিক অধিকার থেকে। ভোট মেলায় আজ তারা যন্ত্র, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার শুধুমাত্র ওই একদিনের জন্য। 

      বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ আজ ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস, তবুও দেশের বিশেষ এক প্রান্তের কোন খবর পাওয়া যায় না, যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কোন যাদুবলে, কেউ তার খবর রাখে না। রাজধানীর রাস্তা জুড়ে কৃষকদের শীতে ঝড়ে বসে থেকে প্রতিবাদ করতে হয় মাসের পর মাস। শত দুঃখ কষ্ট অত্যাচার সহ্য করেও তারা আজো লড়াই করে চলে। এবার প্রতিপক্ষ বিদেশী নয় তার দেশের মানুষ, জননেতা। কৃষকদের নিয়ে নিয়ম নীতি নির্ধারণ হয় চুপি চুপি কৃষকদের কোন প্রতিনিধি ছাড়াই। দেশ জুড়ে ধর্ষণ দৈনন্দিন অভ্যেসে পরিণত হয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা যায় না। দেশের  জনসংখ্যা মানুষকে বুঝিয়ে সংযত না করে তাদেরকে নিরক্ষর করে রেখে তৈরী হতে থাকে মূর্খ বারুদের স্তুপ। বৈদেশিক বা স্বদেশী অঙ্গুলি হেলনে তারা নিজের সর্বনাশ করতে প্রস্তুত। লোভী, স্বার্থান্বেষী , আখের গোছানো মানুষের ভিড় বেড়েছে, পিছিয়ে গেছেন সৎ, মূল্যবোধ নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো।

         আমরা প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন তাই, সফুরা জারগারকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকতে হয় কারাগারের মধ্যে , অম্বিকেশ মহাপাত্রকে হেনস্থা হতে হয় সম্পূর্ণ অকারণে, রোহিত ভেমুলাকে সমাজ বাঁচতে দেয় না, উমর খালিদ বিচারের আশায় জেলবন্দী থাকেন বছরের পর বছর, গৌরী লঙ্কেশকে গুলি করে মেরে ফেলা হয় আর অভয়া খুনের বিচার অধরা রয়ে যায়। 

ভোটচক্রে ভগবান ভূত(অতীত) হন আর ভাগ্যবিধাতা হয়ে ওঠে অসৎ, অশুভ শক্তি। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। দেশের সম্পদ খোলা বাজারে নিলাম হয়, মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ধর্মের নানা রঙের ললিপপ । স্বাধীন ভারতের বুকে তাই আজো মানুষ অভুক্ত , আজো নারীভ্রণ নষ্ট হয়, ধর্ষক ঘুমিয়ে থাকে পুরুষ নারীর অবচেতনে। ব্রহ্মান্ড জয় করে আজো মানুষ কুসংস্কার, অশিক্ষার  আঁধারে আচ্ছন্ন। 
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত মৌলিক অধিকার আমরা সবার হাতের নাগালে নিয়ে আসতে ব্যর্থ। রবিবাবুর ভাষায়, শিক্ষাকে বাহন না করে বহন করে নিয়ে চলেছি আমরা।এতগুলো বছর অতিক্রম করে, বাজারে মাংসের দর বেড়েছে, দেশে বিদেশে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হয়ে চলেছে Flesh Trade. নেশার কবলে দেশের যুবশক্তির বড় একটা অংশ, অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বর্ধমান।

জাত-ধর্ম-কুসংস্কার আর রাজনীতি নিয়ে বেশ আছি আমরা, এটাই আমাদের বিনোদন। বিশ্বায়নের জালে খাবি খাওয়া ভারতীয়দের জাতীয়তাবোধ এখন সীমিত বিজ্ঞাপনে, রাজনৈতিক তরজায় আর সিরিয়ালে। করদাতা ভারতীয় এখন দুপ্রকার, ব্ল্যাক এবং হোয়াইট।

২৬ শে জানুয়ারী বা ১৫ই আগষ্ট তাই আমার মতো আরো অনেকের কাছে পাপ প্রক্ষালন করার দিন, অতীত রোমন্থন করার দিন, আত্ম মূল্যায়নের দিন । তবুও ২৬ শে জানুয়ারী দেশের উপর ভরসার দিন, সহনাগরিকদের তাদের ভিন্নতার সাথেই মেনে নেওয়ার দিন, সংবিধানকে সম্মান করার দিন।
প্রকাশের তারিখ: ২৭-জানুয়ারি-২০২৬

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org