গ্রেট নিকোবর প্রকল্পঃ পরিবেশ বিধ্বংসী নকশা

Sourav Chakrabarty
৮-১০ লক্ষ গাছ কাটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বহু শতাব্দী পুরনো 'ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট' ধ্বংস হবে। এ জঙ্গল কার্বন শোষণ করে, বৃষ্টির চক্র নিয়ন্ত্রণ করে, দ্বীপকে ভূমিক্ষয় ও ঝড় থেকে রক্ষা করে।একবার এই বাস্তুতন্ত্র ভেঙে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।

আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ডে কেন্দ্র সরকার একটি বিশাল “হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট” বা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সরকার একে কৌশলগত, বাণিজ্যিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রকল্প বললেও পরিবেশবিদ, ভূতত্ত্ববিদ, সমুদ্রবিজ্ঞানী ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা এটিকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশ-ধ্বংসাত্মক প্রকল্প বলে মনে করছেন।

কী আছে প্রকল্পে?

প্রকল্পটির কেন্দ্র হল Galathea Bay অঞ্চলে একটি বিশাল ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। এর সঙ্গে থাকবে আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,নতুন শহর বা টাউনশিপ

বিদ্যুৎ কেন্দ্র,সড়ক ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো,পর্যটন ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন। প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি প্রাথমিক ব্যয়ের এই প্রকল্পে বাইরে থেকে আসা কয়েক লক্ষ মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এই দ্বীপ এত গুরুত্বপূর্ণ?

গ্রেট নিকোবর কেবল একটি দ্বীপ নয়; এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক অতি সংবেদনশীল জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এখানে আছে বিশ্বের প্রাচীনতম 'গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেনফরেস্টের' অংশ,বিপন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাস,লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল,প্রবাল প্রাচীর, ম্যানগ্রোভ, জলাভূমি, ভূমিকম্প ও সুনামি-সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল, আদিম জনগোষ্ঠী যেমন Shompen ও Nicobarese-এর আবাসভূমি। এই দ্বীপ UNESCO Biosphere Reserve হিসেবেও স্বীকৃত।

ভয়ঙ্কর ক্ষতির দিকগুলি

১. প্রায় ৮-১০ লক্ষ গাছ কাটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বহু শতাব্দী পুরনো 'ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট' ধ্বংস হবে। এ জঙ্গল কার্বন শোষণ করে, বৃষ্টির চক্র নিয়ন্ত্রণ করে, দ্বীপকে ভূমিক্ষয় ও ঝড় থেকে রক্ষা করে।একবার এই বাস্তুতন্ত্র ভেঙে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।

২. লেদারব্যাক কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকট- Leatherback sea turtle পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক কচ্ছপ। Galathea Bay তাদের বাসা বাঁধার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বন্দর, আলো, জাহাজ চলাচল, খনন,শব্দদূষণ ও উপকূল পরিবর্তনের ফলে—ডিম পাড়ার জায়গা নষ্ট হবে,সমুদ্রের কচ্ছপের বাচ্চারা ডিম ফুটে সমুদ্রের দিকে ছুটে গেল, এতে বিভ্রান্তি হবে। কচ্ছপের সংখ্যা কমে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের কচ্ছপ সংরক্ষণে বড় আঘাত নেমে আসবে।

৩. প্রবাল প্রাচীর ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস

বন্দর তৈরির জন্য সমুদ্র খনন (dredging) করা হবে। এর ফলে—প্রবাল প্রাচীর ভেঙে যাবে,জল ঘোলা হবে ফলে সমুদ্রতলে সৌরকিরণ প্রবেশে  বাধার কারণে জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ  কমবে, মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের বাসা  ধ্বংস হবে। প্রবাল  শুধু সৌন্দর্য নয়- সুনামির শক্তি কমায় এবং সমুদ্রের প্রাণ - জৈববৈচিত্র  ধরে রাখে।

৪. সুনামি ও ভূমিকম্প ঝুঁকি উপেক্ষা

এই অঞ্চল ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামিতে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পুরো দ্বীপ tectonic plate boundary-র কাছে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন—সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি,ভূমিকম্প,সুনামি,

উপকূল ভাঙন,এসব বিবেচনায় এই সুবিশাল - স্থায়ী পরিকাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৫. শোমপেন আদিবাসীদের অস্তিত্বের প্রশ্ন

Shompen জনগোষ্ঠী অত্যন্ত ছোট ও বিচ্ছিন্ন। তারা বননির্ভর জীবনযাপন করে। রাস্তা, বহিরাগত জনসংখ্যা, রোগ, বন ধ্বংস ও সামরিকীকরণের ফলে তাদের খাদ্যভিত্তি নষ্ট হবে, সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হবে

বাইরের রোগে মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে,অনেক নৃবিজ্ঞানী একে “slow ethnocide” বা ধীর সাংস্কৃতিক বিনাশের আশঙ্কা বলেছেন।

৬. জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে বিপজ্জনক উন্নয়ন মডেল-

সমালোচকদের মতে, এটি এমন এক উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ যেখানে “বন্দর-শহর-রিয়েল এস্টেট” তৈরির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ecology বলি দেওয়া হচ্ছে।

যে সময়ে বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু সংকট, জৈববৈচিত্রের  ধ্বস, যৌগিক জলবায়ু দুর্যোগ, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে, সেই সময়ে একটি biosphere reserve-এ সুবিশাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে।

সরকার কী বলছে?

সরকারের দাবি—এটি ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।মালাক্কা প্রণালীর কাছে কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগানো যাবে,কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো তৈরি হবে,পরিবেশের ক্ষতি “mitigation” দ্বারা কমানো হবে কিন্তু পরিবেশবিদরা প্রশ্ন তুলছেন—একটি অতি সংবেদনশীল দ্বীপে কি আদৌ “সাসটেইনেবল” ভাবে এই মাত্রার প্রকল্প সম্ভব?

সমালোচকদের মূল বক্তব্য

“এটি শুধু একটি দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি ভারত মহাসাগরের একটি জীবন্ত ecological shield-কে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা” এবং এর প্রভাব কেবল গ্রেট নিকোবরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভারত মহাসাগরীয় জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় সুরক্ষা, জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং আদিবাসী সংস্কৃতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সংকটাপন্ন দুই আদিবাসী জনগোষ্ঠী

'গ্রেট নিকোবর আইল্যাড' এ প্রধানত ২টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে—শোমপেন এবং নিকোবারিজ।

১. শোমপেন (Shompen)

এরা অত্যন্ত ছোট ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী,মূলত গ্রেট নিকোবরের অভ্যন্তরীণ জঙ্গলে বসবাস করে।শিকার, বনজ সম্পদ ও নদীনির্ভর জীবনযাপন,বাইরের বিশ্বের সঙ্গে খুব সীমিত যোগাযোগ,ভারত সরকার এদেরকে Particularly Vulnerable Tribal Group (PVTG) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।জনসংখ্যা খুব কম—আনুমানিক কয়েকশো মাত্র। বিভিন্ন রিপোর্টে ২০০–৪০০ এর মধ্যে বলা হয়।

২. নিকোবারিজ (Nicobarese)

তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস বেশি।নারকেল, মৎস্য, কৃষি ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত

খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যাও অনেক।বাইরের সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ শোমপেনদের তুলনায় বেশি।

নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে এদের বিস্তার রয়েছে।

আন্দামান-নিকোবরের মোট আদিবাসী জনগোষ্ঠী

পুরো আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ঐতিহাসিকভাবে ৬টি প্রধান আদিবাসী জনগোষ্ঠী আছে বলে ধরা হয়—' গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া,ওঙ্গে, সেন্টিনেলিজ,শোমপেন এবং নিকোবারিজ- এর মধ্যে প্রথম পাঁচটির জনসংখ্যা অত্যন্ত কম ও সংকটাপন্ন। বিশেষত সেন্টিনেলিজ জনগোষ্ঠী পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন মানবগোষ্ঠীগুলির একটি।

বাস্তবে 'গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ড 'এর প্রায় সব জীবন্ত বাস্তুতন্ত্রই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—কারণ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, অবস্থান, নির্ভরতা ও সুরক্ষা আলাদা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কেন শোমপেনরা, সেটা বুঝতে হলে তাদের জীবনপ্রণালী দেখতে হবে।

কেন শোমপেনদের বিপদ সবচেয়ে বেশি?

শোমপেনরা মূলত গভীর জঙ্গলে থাকে। বন, নদী, বন্যপ্রাণ, বনজ খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। বাইরের মানুষের সঙ্গে কম যোগাযোগ রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সীমিত। নগর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, অর্থাৎ বন নষ্ট হলে তাদের পুরো জীবনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। রাস্তা, বন্দরের শ্রমিক, নিরাপত্তা বাহিনী, বহিরাগত বসতি - এসব হলে,শিকারক্ষেত্র কমে যাবে,বনভিত্তিক খাদ্যব্যবস্থা নষ্ট হবে।সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে।সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা ভেঙে যাবে।তাই নৃবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা শুধু ecological না, cultural survival-এর প্রশ্নও।

নিকোবারিজদেরও কি ক্ষতি হবে?

অবশ্যই হবে। নিকোবারিজ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও উপকূল বদলে যাবে, মাছের আবাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু ঝুঁকি বাড়বে। বহিরাগত জনসংখ্যার চাপ আসবে,স্থানীয় সংস্কৃতি ও জমির ওপর চাপ বাড়বে-তবে তারা তুলনামূলকভাবে মূলধারার সঙ্গে বেশি যুক্ত, তাই রাষ্ট্র তাদের “rehabilitation” বা পুনর্বাসনের কথা তুলতে পারে। যদিও সমালোচকরা বলছেন, পুনর্বাসন দিয়ে সংস্কৃতি বা ecology ফেরানো যায় না। শুধু মানুষ নয় — পুরো ecosystem ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমস্যাটা আসলে আরও বড়। এখানে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র  রয়েছে— ' রেইনফরেস্ট', ম্যানগ্রোভ, প্রবাল প্রাচীর, কচ্ছপের আবাসতট,নদী ও জলাভূমি, পাখি ও সামুদ্রিক প্রাণী। একটি অংশের ক্ষতি  হলে অন্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।যেমন—জঙ্গল সাফ করলে  ভূমিক্ষয়, নদীতে পলি শেষে  প্রবাল প্রচীরের ক্ষতি। বন্দরের dredging এ মাছ কমে যাওয়া, স্থানীয় জীবিকার ক্ষতি। আলো,  শব্দের জন্য কচ্ছপের বাসা ক্ষতিগ্রস্ত।নগরায়নের জন্য  বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ,ফলে  সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি।

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ দ্বন্দ্ব

অনেক পরিবেশবিদ বলছেন, এখানে  উন্নয়ন বনাম পরিবেশের বিতর্ক  বলে দেখলে ভুল হবে, এখানে উন্নয়ন আর পরিবেশের দ্বন্দ্ব বৈরীতামূলক দ্বন্দ্বে উপনীত হতে চলেছে, দীর্ঘস্থায়ী এক পরিবেশ- ইকোলজির সংকট তৈরী হতে যাচ্ছে, কারণ এখানে প্রশ্ন হচ্ছে একটি ভূমিকম্প-সুনামি প্রবণ biosphere reserve-কে কি mega-port city-তে রূপান্তর করা উচিত?

সমালোচকদের মতে, এই প্রকল্পে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো অপরিবর্তনীয় বাস্তুতান্ত্রিক ক্ষতি,  জৈববৈচিত্রের ধ্বস, জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ, জলবায়ু ঝুঁকি বৃদ্ধি- অর্থাৎ ক্ষতি কেবল কয়েকটি প্রাণী বা কয়েকশো মানুষের নয়; পুরো দ্বীপের ecological balance বদলে যেতে পারে। পরোক্ষভাবে আন্দামান-নিকোবরের অন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলিও প্রভাবিত হতে পারে। তবে Great Nicobar Island প্রকল্পের “সরাসরি” আঘাত মূলত গ্রেট নিকোবরের বাসিন্দাদের ওপরই পড়বে—বিশেষ করে শোমপেন ও নিকোবারিজ  জনগোষ্ঠীর ওপর। অন্য ৪টি জনগোষ্ঠী—জারোয়া,ওঙ্গে,গ্রেট আন্দামানিজ,সেন্টিনেলিজেরা ভৌগোলিকভাবে অন্য দ্বীপে থাকে। তাই বন্দরের জন্য তাদের বন সরাসরি কাটা হবে না।

উদ্বেগ কোথায় রয়েছে?

১. পুরো দ্বীপপুঞ্জের “উন্নয়ন মডেল” বদলে যেতে পারে।

সমালোচকদের মতে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বন্দর,পর্যটন নগরী,সামরিক পরিকাঠামো,রাস্তাঘাট,খনি বা real estate অন্য দ্বীপেও বাড়তে পারে তখন জারোয়া  বা -দের এলাকাও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

২. বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর বহিরাগতদের প্রভাব বড় বিপদের। আন্দামানের বহু indigenous group-এর জনসংখ্যা খুব কম। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে যে, বাইরের রোগ,পর্যটন,রাস্তা নির্মাণ,বন দখলের ফলে জনসংখ্যা দ্রুত কমে গেছে।

উদাহরণ হিসেবে ' গ্রেট আন্দামানিজ' জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ঔপনিবেশিক যুগে কয়েক হাজার থেকে নেমে কয়েক ডজন হয়ে যায়।

৩. সামরিকীকরণ ও কৌশলগত চাপ:

গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের একটি বড় দিক হলো ভারত মহাসাগরে কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানো।সমালোচকরা বলছেন—বেশি জাহাজ,বেশি প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো,

বেশি জনবসতি,দ্বীপগুলিকে “strategic asset” হিসেবে দেখা,এর ফলে পুরো দ্বীপপুঞ্জের ecological governance বদলে যেতে পারে।

৪. বাস্তুতন্ত্রগত শৃঙ্খল পরস্পর যুক্তঃ আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ আলাদা আলাদা দ্বীপ হলেও সমুদ্রস্রোত,মাছের পরিযান,প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক জৈববৈচিত্র পরস্পর সংযুক্ত।একটি অঞ্চলের বড় ecological disturbance দীর্ঘমেয়াদে অন্য অঞ্চলগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে।তবে একটা বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার যে,বর্তমান প্রকল্পের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে: গ্রেট নিকোবরের ' রেইনফরেস্ট 'এর ওপর, শোমপেন জনগোষ্ঠীর ওপর, ' লেদারব্যাক সমুদ্র কচ্ছপ-এর nesting habitat-এর ওপর।উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর।

এই বিশাল প্রকল্পের অংশীদার কারা?

এটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প, যেখানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, পরামর্শদাতা সংস্থা এবং কর্পোরেট গোষ্ঠী জড়িত।  প্রধান অংশীদাররা হল— নীতি আয়োগ যারা প্রকল্পের মূল ধারণা ও মাস্টার প্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল Andaman and Nicobar Islands Integrated Development Corporation প্রকল্পের নোডাল বা বাস্তবায়নকারী সংস্থা। তারা বনভূমি হস্তান্তর, টেন্ডার ও নির্মাণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।Ministry of Environment, Forest and Climate Change পরিবেশগত ও বন সংক্রান্ত ছাড়পত্র দিয়েছে। AECOM India প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও পরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত ছিল। WAPCOS বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও জলসম্পদ সম্পর্কিত সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কর্পোরেট গোষ্ঠী

বন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহপত্র (EOI) জমা দেওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে ছিল আদানি পোর্টস এ্যান্ড এসইজেড, জেএসডব্লু ইনফ্রাস্ট্রাকচার,এসার পোর্টস,রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড,মেঘা ইঞ্জিনীয়ারিং এ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার,নবযুগ ইঞ্জিনীয়ারিং, কনটেনার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া ( CONCOR), রয়্যাল বসকালিস ওয়েস্টমিনিস্টার।

অন্যান্য উপ-প্রকল্প: এই মেগা প্রজেক্টে শুধুমাত্র বন্দর নয়, বরং একটি গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৪৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন টাউনশিপ বা শহর গড়ে তোলা হবে। এগুলোর জন্য আলাদা আলাদা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ: ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই প্রকল্পে ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর (আইল্যান্ড ডিফেন্স কমান্ড) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

পরিবেশকর্মী ও  বিজ্ঞানীদের সমালোচনা হলো, প্রায় ১০ লক্ষ গাছ কাটা, কোরাল রিফ, লেদারব্যাক কচ্ছপের বাসস্থান, শোমপেন ও নিকোবারি জনগোষ্ঠীর উপর প্রভাব—এসব ঝুঁকি জেনেও কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁদের মতে দায় শুধু আদানি গোষ্ঠীর নয়; বরং নীতি-নির্ধারক রাষ্ট্রযন্ত্র, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলিরও।

মার্কসবাদী রাজনৈতিক-অর্থনীতির ভাষায় বলা যায়, এটি কেবল একটি কোম্পানিরই  উদ্যোগ নয়; বরং রাষ্ট্র ও কর্পোরেট পুঁজির জোটবদ্ধ প্রকল্প, যেখানে কৌশলগত, সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য প্রকৃতি ও আদিবাসী সমাজের উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

আারাবল্লী পর্বতমালার পরিবেশ সংকট

আরাবল্লী পর্বতমালার পরিবেশ ধ্বংসের জন্য যেমন কর্পোরেট সংস্থাগুলি দায়ী তেমনই পরিবেশবিদদের মতে, এটি দীর্ঘদিনের খনি উত্তোলন, রিয়েল এস্টেট সম্প্রসারণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত ফল। তবে বিভিন্ন সময়ে যেসব কর্পোরেট বা শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে, UltraTech Cement — আরাবল্লী অঞ্চলে চুনাপাথর খনির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ACC Limited — খনি কার্যক্রম নিয়ে পরিবেশগত প্রশ্ন উঠেছে। Ambuja Cements — খনিজ উত্তোলন সংক্রান্ত বিতর্কে নাম এসেছে। DLF Limited এবং অন্যান্য রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার — বিশেষত Gurugram ও আশপাশে আরাবল্লী অঞ্চলে নগর সম্প্রসারণ নিয়ে পরিবেশবাদীদের আপত্তি রয়েছে।

আরাবল্লীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ খনন (illegal mining)। বহু ক্ষেত্রে ছোট-বড় স্থানীয় খনি মালিক, ঠিকাদার, স্টোন-ক্রাশার ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাই পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলেন, দায়  বড় কোম্পানির যেমন আছে তেমনই দায় একটি বৃহত্তর খনি-রিয়েল এস্টেট-রাষ্ট্র জোটের।

পরিবেশগতভাবে আরাবল্লী ধ্বংসের ফলে—মরুকরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে,দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ধূলিকণা ও বায়ুদূষণ বাড়ছে,ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ কমছে,চিতাবাঘ, হায়না, নীলগাইসহ বহু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মার্কসবাদী পরিবেশবিদদের ভাষায়, আরাবল্লীর সংকটকে "accumulation by dispossession" (David Harvey) এবং "metabolic rift" যা মার্কস অনুসৃত চিন্তায় John Bellamy Foster এর সংযোজন -  এরই মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়—যেখানে প্রকৃতি ও সাধারণ সম্পদকে মুনাফার জন্য ক্রমাগত দখল ও রূপান্তর করা হচ্ছে এবং সে কারণেই প্রকৃতি - মানুষ্য সমাজের মধ্যে বিপাকক্রিয়ায় ফাটল বা 'মেটাবলিক রিফ্ট ' আর তার কারণে আজ পরিবেশ - ইকোলজির সংকট।

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ও কিছু সুত্রায়ন

Herbert Marcuse, মারকুজ বলেছিলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নিরপেক্ষ নয়; তা ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। গ্রেট নিকোবরের ক্ষেত্রে—মেগা পোর্ট, নজরদারির পরিকাঠামো, সামরিক রসদ সরবরাহ,প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আলোচনা - এসবকে প্রযুক্তিগত যৌক্তিকতা হিসেবে দেখানো হয় যেখানে দক্ষতা ও বৃদ্ধির নামে বাস্তুতন্ত্রের বলি  হয়।

Henri Lefebvre, space প্রসঙ্গে লেফেভরের বিখ্যাত ধারণা। ‘Space is produced socially.’- অর্থাৎ জায়গা বা ভূখণ্ড কেবল ভৌগোলিক নয়; রাষ্ট্র ও পুঁজি তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।গ্রেট নিকোবর আগে ছিল বনভূমি, আদিবাসী গোষ্ঠীর বাসস্থান, বাস্তুতান্ত্রিক space, এখন তাকে বদলে: লজিস্টিক space, strategic corridor, বন্দর নগর করা হচ্ছে। এটাই Lefebvre-এর “production of space” ধারণার বাস্তব উদাহরণ।

unequal development সম্পর্কে সামির আমিন বলেছিলেন, বিশ্ব পুঁজিবাদে প্রান্তিয় অঞ্চলকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার স্বার্থে পুনর্গঠন করা হয়। দূরবর্তী দ্বীপ, বনাঞ্চল, আদিবাসী অঞ্চলকে ' নিষ্কাশন অঞ্চল,বানিজ্য কেন্দ্র, সামরিক কৌশলগত পরিকাঠামোতে পরিণত করা এই অসাম্যের উন্নয়নের অংশ।গ্রেট নিকোবরকে ভারত মহাসাগরীয় trade architecture-এর অংশ করা -  এই lens-এ দেখা যায়।

যদিও মার্কসবাদী নন, তা স্বত্বেও ecological conflicts in India-তে রামচন্দ্র গুহ ভারতীয় পরিবেশ আন্দোলন বিশ্লেষণে শ্রেনী  ও ইকেলজিকে একসঙ্গে দেখেছেন। তিনি দেখান ভারতে ecological destruction-এর বোঝা সাধারণত যারা বহন করে, তারা হল আদিবাসী গ্রামীণ দরিদ্র, বননির্ভর মানুষ আর লাভ যায় শহুরে শিল্পসুবিধাভোগী অভিজাতদের কাছে।গ্রেট নিকোবর প্রকল্পেও সমালোচকেরা একই নকশা দেখেন।

সামগ্রিকভাবে এই তাত্ত্বিকদের মিলিয়ে গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে দেখা যায়— সমুদ্রপথ রাজনীতি,স্থানিক পুনর্গঠন, বাস্তুতান্ত্রিক সীমা অস্বীকার, আদীবাসী প্রান্তিকীকরণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি অন্ধ আসক্তি, সামরিকায়িত উন্নয়ন- এসবের সম্মিলিত রূপ হিসেবে অর্থাৎ এটি শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়; বরং আধুনিক রাষ্ট্র-পুঁজি সভ্যতার বাস্তুতান্ত্রিক দ্বন্দ্বের এক তীব্র উদাহরণ।

একচেটিয়া পুঁজি সম্পর্কিত তত্ত্বে পল সুইজি ও পল এ ব্যারান বলেছিলেন উন্নত পুঁজিবাদ ক্রমাগত উদ্বৃত্ত শোষণ করার জন্য নতুন পরিকাঠামো, সামরিকীকরণ ও সম্প্রসারণ খোঁজে। গ্রেট নিকোবরের মহাবন্দরে নৌপরিবহন সম্প্রসারণ, রসদ ব্যবস্থার পরিকাঠামো, কৌশলগত নগরায়ণ —এই উদ্বৃত্ত শোষণের উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের প্রয়োজন নয়, পুঁজি সঞ্চয়ের প্রয়োজন উন্নয়নকে চালাচ্ছে।

“পুঁজিবাদের দ্বিতীয় অন্তর্বিরোধ”-এ জেমস ও'কনর বলেছিলেন: পুঁজিবাদ নিজের মুনাফার ভিত্তি—প্রকৃতি, শ্রম, সামাজিক পরিকাঠামো—ধ্বংস করতে থাকে। এটাই “দ্বিতীয় অন্তর্বিরোধ”।গ্রেট নিকোবরেবর্ষাবনের ধ্বংস, প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতি, উপকূলীয় অস্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অর্থাৎ পুঁজি স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য নিজের পরিবেশগত ভিত্তিকেই দুর্বল করছে।

কোহেই সাইতো — প্রবৃদ্ধি-হ্রাসভিত্তিক সাম্যবাদঃ সাইতো মার্কসের পরিবেশ-সংক্রান্ত নোটবই বিশ্লেষণ করে বলেন: শেষ জীবনের মার্কস সীমাহীন প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছিলেন।সাইতো “প্রবৃদ্ধি-হ্রাসভিত্তিক সাম্যবাদ”-এর কথা বলেন—অর্থাৎ অন্তহীন উন্নয়ন নয়, পরিবেশগত ভারসাম্যভিত্তিক সমাজ। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে তিনি সম্ভবত “প্রবৃদ্ধি-পূজার মানসিকতা”-র উদাহরণ বলতেন।

কার্ল মার্কস উনিশ শতকেই মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ককে সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, শ্রমের মাধ্যমে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে বস্তুগত আদান-প্রদান বা “সামাজিক বিপাক” (social metabolism) গড়ে ওঠে, পুঁজিবাদ সেই সম্পর্ককে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া, সম্পদের একমুখী আহরণ এবং প্রকৃতির পুনরুৎপাদন ক্ষমতার প্রতি উদাসীনতা—এসবকে তিনি “বিপাকীয় বিচ্ছেদ” (metabolic rift)-এর সূচনা হিসেবে দেখেছিলেন। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ গাছ কাটা, বনভূমির ধ্বংস, প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতি এবং দ্বীপের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের উপর চাপ সেই বিচ্ছেদেরই সমকালীন রূপ।

ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস তাঁর “প্রকৃতির দ্বন্দ্বতত্ত্ব” এবং “বানর থেকে মানুষের উত্তরণে শ্রমের ভূমিকা” প্রবন্ধে সতর্ক করেছিলেন যে মানুষ প্রকৃতির উপর প্রতিটি বিজয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির কাছেই মূল্য চোকায়। তিনি লিখেছিলেন, আমরা প্রকৃতির উপর শাসক নই; বরং প্রকৃতিরই অংশ। তাই প্রকৃতির নিয়মকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানবসমাজের বিরুদ্ধেই ফিরে আসে। গ্রেট নিকোবরের মতো সুনামি-প্রবণ, ভূমিকম্প-সংবেদনশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা এঙ্গেলসের সেই সতর্কবার্তাকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সমসাময়িক মার্কসবাদী পরিবেশচিন্তক John Bellamy Foster মার্কসের বিপাকীয় বিচ্ছেদ ধারণাকে সম্প্রসারিত করে দেখিয়েছেন যে বর্তমান পরিবেশ সংকট কোনো প্রযুক্তিগত ভুল বা জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফল নয়; এটি পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত ফলাফল। তাঁর মতে, মুনাফা ও অবিরাম পুঁজি সঞ্চয়ের তাগিদ প্রকৃতিকে কেবল সম্পদভাণ্ডার হিসেবে দেখে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, বন উজাড় এবং পরিবেশগত সংকট ক্রমশ গভীরতর হয়। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দ্বীপকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক রসদ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত স্বার্থের জন্য পুনর্গঠিত করা হচ্ছে।

মার্কস, এঙ্গেলস এবং ফস্টারের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রেট নিকোবরের প্রশ্নটি তাই কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্কের প্রশ্ন, উন্নয়নের চরিত্রের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ সভ্যতার পথনির্বাচনের প্রশ্ন। এই দৃষ্টিতে গ্রেট নিকোবর প্রকল্প আমাদের সামনে মৌলিক প্রশ্ন তোলে— উন্নয়ন কি প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে, নাকি পুঁজি সঞ্চয়ের যুক্তিতে প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও আদিবাসী সমাজকে বলিদান দিয়ে এগিয়ে যাবে?


প্রকাশের তারিখ: ০৫-জুন-২০২৬

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org