কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিরোধে আমাদের কাজ

Prakash Karat
গত এপ্রিল মাসে মাদুরাইতে আমাদের পার্টি কংগ্রেসে আমরা প্রথমবার গণতন্ত্রের উপর এ আক্রমণকে নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্রসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছি। বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আজকের পার্থক্য বোঝানোর জন্য ইচ্ছা করেই “নয়া” শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে।

কমরেড ও বন্ধুরা,

হিন্দুত্ব, তাদের ইতিহাস ও মতাদর্শ প্রসঙ্গে ছ’মাস ব্যাপী এই কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এমন প্রচেষ্টার জন্য উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। হিন্দুত্ব হল আজকের ভারতে শাসক দল ও শাসক শ্রেণীর আদর্শ এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়াস প্রশংসনীয়।

এগারো বছর হল, মোদী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই এগারো বছরে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ভারতকে একটি হিন্দুত্ব রাষ্ট্রে পরিণত করাই আরএসএস বিজেপির মূল প্রকল্প। এটাই আরএসএসের লক্ষ্য। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নিজেদের পার্টি কর্মসূচিতে উল্লেখ করেছে যে ভারতীয় জনতা পার্টি কোনও সাধারণ বুর্জোয়া পার্টি নয়। একে পরিচালনা করে আরএসএস, যাদের ফ্যাসিস্তসুলভ এক স্পষ্ট মতাদর্শ রয়েছে। এই এগারো বছর ধরে বিজেপি’র ক্ষমতায় থাকার সুবাদের আরএসএস রাষ্ট্রশক্তির সমস্ত যন্ত্রে অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। ভারতের রাষ্ট্র ব্যবস্থার ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক চরিত্র পরিবর্তন করে একে একটি হিন্দুত্ব রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে পেরেছে। আমি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ কথাটা বলব না, ‘হিন্দুত্ব রাষ্ট্র’ই বলব, কারণ হিন্দুত্বই আরএসএসের আদর্শ।

আজ থেকে ১০০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৯২৫ সালে আরএসএস তৈরী হয়। প্রথম থেকেই এদের আদর্শ ছিল হিন্দুত্ব। এর দু’বছর আগে, অর্থাৎ ১৯২৩ সালে প্রকাশিত ‘হিন্দুত্ব’ নামক একটি পুস্তিকাতে বিনায়ক দামোদর সাভারকার প্রথম এ ধারণার কথা বলেন। তার প্রতিষ্ঠিত সেই মতবাদই আরএসএস গ্রহণ করে। সাভারকার সহ আরএসএস’র প্রথম দিকের সমস্ত নেতাদের বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু মহাসভার নেতা। এদের ধারণা ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য হিন্দুদের একটি আধা সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, ১৯২১ সালে কংগ্রেস নেতা গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন হয়। গান্ধীজি খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং এর ফলে ব্যাপক সংখ্যক মুসলমান মানুষ তাঁর আন্দোলনে যোগ দেন। এই ঘটনা হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব এবং হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলি ভালভাবে নেয়নি। এরপর মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের রাশ টেনে নিলে অর্থাৎ আন্দোলন বন্ধ করলে কংগ্রেস সম্পর্কে তাঁর অনুগামীদের মনে ব্যাপক দ্বিধা তৈরী হয়। এমন পরিস্থিতি ও দেশবাসীর মানসিকতাকে ব্যবহার করে ১৯২৫ সালে আরএসএস সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিজেদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ও কাজকর্মকে কেবলমাত্র হিন্দুত্বের প্রকল্পকে মজবুত করা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই চালিত করবে, বিশেষত যখন ইতিমধ্যেই মুসলিম লীগ তৈরী হয়ে গেছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস যুক্ত হতে চায়নি এবং এ নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ ছিল না। জাতীয় সংগ্রামে যখন বিপুল অংশের জনগণ অংশগ্রহন করছেন, আরএসএস তা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলেছিল। মহাত্মা গান্ধী নিজে আস্থাশীল এক সনাতনী হিন্দু হলেও আরএসএস তাঁর বিরোধিতা করত, কারণ আরএসএসের দাবী ছিল এভাবে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে হিন্দু-মুসলমানদের একসাথে আনার মাধ্যমে গান্ধী আসলে মুসলমানদের তোষণ করছেন। তাই তারা সামগ্রিকভাবে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামেরও বিরোধিতাই করেছিল। ফলত আরএসএসের পক্ষে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম কোথাও পাওয়া যায় না। তাদের সমস্ত শক্তিই নিয়োজিত হয় নিজেদের এমনভাবে তৈরী করতে, যাতে ব্রিটিশরা কখনও ভারত ছেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হতে পারে।

এবার আরএসএস’র ফ্যাসিস্তসুলভ চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা প্রয়োজন। আরএসএস’র মাধ্যমে ভারতে যে ফ্যাসিজম এসেছে তা কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপে সৃষ্ট ফ্যাসিবাদের থেকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউরোপে ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’র সময়ে। উন্নত ধনতান্ত্রিক দেশ, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি দেশে ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদ ব্যাপক হারে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য সৃষ্টি করে। এই অসন্তোষ ও পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির প্রতি মানুষের বীতশ্রদ্ধ মনোভাবকে ব্যবহার করেই ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলির উত্থান হয়। প্রথমে মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালিতে ব্রাউন শার্টস, ব্ল্যাকশার্টস্দের নিয়ে- পরে জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসীদের উত্থানের মাধ্যমে। ঘটনা হচ্ছে আরএসএস’র শুরুর দিকের নেতাদের লেখায় ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের আদর্শের উল্লেখ ও প্রতিফলন মেলে। যেমন আরএসএসের দ্বিতীয় প্রধান গোলওয়ালকারের লেখা বই “We or our nationhood defined”। জার্মানিতে যেভাবে জাতীয় সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, অর্থাৎ সোজা কথায় ইহুদীদের সাথে যা করা হয়েছে, ঐ বইতে গোলওয়ালকর তার প্রশংসা করেন। হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে তার ধারণা রেশিয়াল (জাতিগত) ও এথনিক (জনগোষ্ঠীগত) জাতীয়তাবাদের কাঠামোর মধ্যেই আটকে রয়েছে। হিন্দুদেরকে গোলওয়ালকার আলাদা একটি জাতি (race) বলছেন, সম্ভবত আর্য। আরও বলেছেন যে এ আর্যদের ভূমি হল ভারত এবং তাদের জাতীয়তাবাদ হল হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ। এই হল তার ধারণার কাঠামো।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, শুরুর দিন থেকেই আরএসএস’র বা বর্তমানে বিজেপির যে জাতীয়তাবাদ, সেটি এক বিকৃত জাতীয়তাবাদ। এর ভিত্তি কোনও অঞ্চলকে ভিত্তি করে অর্থাৎ কোন ভূমিতে আমরা জন্মেছি তা দিয়ে সংজ্ঞায়িত নয়। এর ব্যখ্যায় কোনও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অংশও নেই। এহেন জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হল আর্য জাতি সংক্রান্ত ভ্রান্ত তত্ত্ব। এদের দাবী অনুযায়ী আর্যরা ভারতেই (মূলত উত্তর পশ্চিম ভারতে) জাত, বহিরাগত নয়। অথচ জিন ভিত্তিক যা গবেষণা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে যে আর্যরা বাইরে থেকেই ভারতে এসেছিল। কিন্তু ইতিহাস ভুলিয়ে মিথ্যের বেসাতি করে আরএসএস। ওরা দাবী করে হরপ্পা সভ্যতা নাকি আর্য সভ্যতা ছিল, অথচ বহুবার প্রমাণ করা হয়েছে আর্যরা আসার ঢের আগেই ঐ সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ এক মিথ্যা জাতীয়তাবাদ যা এক নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের জন্যই নির্মিত।

আরএসএসের এই ‘হিন্দুত্ব’ আদর্শের দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য বিষয়টা অবশ্যই এর শ্রেণীচরিত্রে। এই আদর্শের সঙ্গে পুঁজিবাদের কোনও বিরোধ নেই বরং বৃহৎ পুঁজির বেশ দহরম মহরম রয়েছে।  গোলওয়ালকর বারংবার বলেছেন-“মুসলমান ও ক্রিশ্চানদের পর আমাদের তৃতীয় বহিরাগত শত্রু হল কমিউনিস্টরা।” অতএব চরিত্রগত দিক থেকে  আরএসএস হল বৃহৎ পুঁজিপতিদের প্রতিনিধি।

আরএসএস তথা বিজেপির মধ্যে ফ্যাসিস্তসুলভ চরিত্র বরাবরই ছিল। কিন্তু একটানা এগারো বছর ক্ষমতায় থাকার পর সে জিনিস আর কেবল তত্ত্বকথায় সীমাবদ্ধ নেই। রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতিয়ার করে এ ভয়ানক আদর্শ তারা বাস্তবে প্রয়োগ করছে। বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শেষ দশকটিকে বিচার করলে বোঝা যায় আরএসএস কীভাবে ভারত রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানসমুহের চরিত্রকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ এক দীর্ঘকালীন সুপরিকল্পিত ধারণার প্রয়োগ। “এক জাতি, এক ভাষা, এক সংস্কৃতি”- আরএসএস’র এ মন্ত্রের ফল আজ উপলব্ধি করা যাচ্ছে। জাতি বলতে অবশ্যই হিন্দু আধিপত্যবাদের উপর নির্ভর করে নির্মিত জাতীয়বাদের ধারণা। এ কাজ করা হচ্ছে রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে। যেমন ধরুন কয়েক বছর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করে ধর্মীয় পরিচয়কে নাগরিকত্বের সংজ্ঞায় ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, মুসলমান ব্যতিরেকে যে কেউ বাইরের দেশ থেকে এসে ফাস্ট ট্র্যাক বেসিসে নাগরিকত্ব দাবী করতে পারে। তারপর ধরুন, “এক দেশ, এক নির্বাচন”। এ আইন আনতে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টাও চলছে, সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পেশ হয়েছে। কেবল সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে। দাবী হল— একই সময়ে লোকসভা, বিধানসভা এবং পঞ্চায়েত/মিউনিসিপ্যালিটি স্তরের নির্বাচন করতে হবে। এরকম হলে শাসক দল সহজেই রাষ্ট্রশক্তির যথেচ্ছ প্রয়োগ করে ভোটে জিততে পারবে। এর ফলে বিভিন্ন রাজ্যে পাঁচ বছর ব্যাপী নির্বাচিত সরকারের কাজ করার যে বন্দোবস্ত রয়েছে তার ধ্বংসসাধন হবে, সংবিধান বিরোধিতা হবে। অর্থাৎ, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের চরিত্র, নাগরিকত্বের সংজ্ঞা ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র — সবকটিকে ধ্বংস করে তার জায়গায় অন্য কিছু প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল কথা হল, রাষ্ট্র কোনও ধর্মের মানুষকে অন্য ধর্মের চেয়ে বেশী সুবিধা দেবে না, কোনও বিশেষ ধর্মের মানুষের উপর শোষণও চালাবে না। কিন্তু এ চরিত্র আজ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে “ধর্মান্তরিত হওয়ার অধিকার বিরোধী আইন”, “গোহত্যা বিরোধী আইন”, “লাভ জিহাদ বিরোধী আইন” পাশ হচ্ছে। আজ খুব সহজেই নানা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, আসামের একজন সাধারণ মুসলমান মানুষ রাষ্ট্রশক্তির রোষের শিকার হতে পারেন। উত্তরপ্রদেশে, মূলত মুসলমান জনসাধারণ অধ্যুষিত সম্বল শহরে বুলডোজার চালিয়ে ঘরবাড়ি, মসজিদ ধ্বংস করা চলছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে শীতলামাতা বাজার নামে এক অতি প্রাচীন বাজার আছে। টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কাজ এবং সেসবের বাজার বসে ওখানে। সেই জায়গা থেকে মুসলমান দোকানিদের উঠে যেতে বলা হচ্ছে। মুসলমান শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে।  চেষ্টা করা হচ্ছে মুসলমানদের আলাদা করতে। যাতে তারা নাৎসী জার্মানির ইহুদীদের মত ঘেটোয় জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। হিন্দুদের সাথে একসাথে একই সমাজে বাস করে কোনও স্বাভাবিক জীবিকা অর্জন যাতে তারা না করতে পারেন।

এরা চায় রাষ্ট্রটা হবে হিন্দুরাষ্ট্র। আর হিন্দু বলতে সাভারকারের সংজ্ঞা ছিল— যদি ভারত কারোর পিতৃভূমি ও পুণ্যভূমি দুইই ভারত না হয়, তাহলে সে হিন্দু না। যদি তার পুণ্যভূমি মক্কা, মদিনা, ভ্যাটিকান বা জেরুজালেম হয়, তবে সেই ব্যক্তি হিন্দুরাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারবে না। সাভারকারের সেই ধারণাই আজকের ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত হচ্ছে।

এগারো বছরের মোদী সরকারের শাসনকে হিন্দুত্ব-কর্পোরেট জোট শাসন বলে অভিহিত করা যেতে পারে। এরাই মোদী সরকারকে সমর্থন দেয়। কারণ, আমাদের দেশে বৃহৎ পুঁজির মালিকরাই শাসক শ্রেণী। এরাই আজ সম্পূর্ণভাবে নিজেদের আরএসএস এবং তাদের ‘হিন্দুত্ব’র আদর্শের সঙ্গে (কেবলমাত্র বিজেপির সাথেই নয়) এক লাইনে টেনে এনেছে। এই এগারো বছরে বৃহৎ পুঁজির মালিক শ্রেণীকে বারংবার নাগপুরে আরএসএস হেডকোয়ার্টার্সে যেতে দেখা গেছে। প্রতি বছর যখন নাগপুরে বিজয় দশমীর দিন আরএসএস’র প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়, সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে ভারতের সর্ববৃহৎ পুঁজিপতিরা হাজিরা দিয়ে থাকে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নকশা তৈরী করেছে টাটা হাউজিং কন্সট্রাকশন কোম্পানি। এই রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের তরফে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’ই মন্দির তৈরীর দায়িত্বে ছিল, এবং সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়!

বৃহৎ পুঁজির সাহায্যে আরএসএস বিজেপি সারা দেশে হিন্দুত্ব প্রকল্প প্রয়োগের কাজ সহজে করতে পারছে। আবার বিজেপি-আরএসএসের সাহায্যেই ঐ কর্পোরেট গোষ্ঠী ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে বিশাল মুনাফা কামাতে সক্ষম হচ্ছে। ভারতের নন-ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের ২০ শতাংশের বেশী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে আম্বানি, আদানি, টাটা, আদিত্য বিড়লা ও মিত্তালের মালিকানাধীন ভারতী বা এয়ারটেল। একচেটিয়া পুঁজির নিয়ন্ত্রণ এই আরএসএস কর্পোরেট জোটের উপর নির্ভর করেই বেড়ে চলেছে।

সারা দেশের উপর হিন্দুত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ও নয়া-উদারনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, এ দুইয়ের প্রভাবে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন বেড়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র— আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধানের তিনটি স্তম্ভই আজ আরএসএস-কর্পোরেট জোটের দ্বারা আক্রান্ত। গত এপ্রিল মাসে মাদুরাইতে আমাদের পার্টি কংগ্রেসে আমরা প্রথমবার গণতন্ত্রের উপর এ আক্রমণকে নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্রসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছি। বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আজকের পার্থক্য বোঝানোর জন্য ইচ্ছা করেই “নয়া” শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে। আগেই বলেছি, বিংশ শতাব্দীতে ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল বিশ্বজোড়া পুঁজিবাদের সংকটের প্রভাবে সৃষ্ট গ্রেট ডিপ্রেশনের ফলে। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের নেতা, প্রখ্যাত কমিউনিস্ট জর্জি দিমিত্রভ ফ্যাসিজমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন: “লগ্নিপুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল অংশের প্রকাশ্য, সন্ত্রাসবাদী একনায়কতন্ত্র।” প্রসঙ্গত, দিমিত্রভকে জার্মানিতে নাৎসিদের আদালতে বিচার করতে তোলা হয়।

ঐ একনায়কতন্ত্র তৈরী করতে বৃহৎ পুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীই ফ্যাসিস্তদের সমর্থন করে। হিটলার এবং মুসোলিনি দুজনে যেই ক্ষমতায় এলো, সঙ্গে সঙ্গেই বুর্জোয়া গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানটিকে তারা চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলল। বড় বড় কোম্পানিরা যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে পুঁজিবাদী সংকটকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় ওদের যুদ্ধে মদত দিতে লাগল। ফলত ওরা অন্যান্য পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। এতে সাময়িকভাবে হলেও সংকট সত্যিই কেটেছিল, বেকারত্ব কেটেছিল। অবশ্য এর দীর্ঘকালীন ফল এবং জার্মানির মানুষের উপর এর প্রভাব আমরা সবাইই জানি।

এখন ফ্যাসিবাদ অন্যরকম। প্রথমত আলাদা আলাদা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে সংঘাত নেই। ফলে আন্তঃ-সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই। লেনিন যেমন দেখিয়েছিলেন এ যুদ্ধগুলি আসলে সাম্রাজ্যবাদী অর্থাৎ পুঁজিবাদের উচ্চতম স্তর যা প্রতিযোগিতার ফলে সৃষ্ট। কিন্তু আজ সে পরিস্থিতি নেই। বর্তমান পৃথিবীতে সমস্ত বড় পুঁজিবাদী শক্তিগুলি একত্রিত। সামান্য কিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলি আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হয়। আজ ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের শক্তিগুলির কিছু সমস্যা থাকলেও তা যুদ্ধ সৃষ্টি করার মত নয়।  আজকের পৃথিবীতে নানা জায়গায় অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থান হচ্ছে। কিন্তু এর চরিত্র সম্পর্কে ভালরকম পর্যালোচনা করতে হবে— কারণ কার বিরুদ্ধে লড়ছি, সেটা না জানলে যুদ্ধের পদ্ধতি স্থির করা যায় না।

আরএসএস কীভাবে দেশের সংবিধানকে লঙ্ঘন করছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করছে এ বিষয়গুলি নিয়ে আমাদের দেশে বহু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন লিবারাল মানুষ রয়েছেন যারা কথা বলেন ও প্রতিবাদ করেন, কিন্তু এটাই যথেষ্ট না। বিষয়টি শ্রেণীগত ধারনার নিরিখে বোঝা দরকার। ভারতের শাসক শ্রেণীর সবচেয়ে শক্তিশালী অংশেরই অর্থানুকূল্যে আরএসএস’র শক্তি সংগৃহীত। ‘হিন্দুত্ব’ সাম্প্রদায়িকতা ও নয়া উদারনীতি একসাথেই চলে। অতএব আরএসএস-বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে একই সাথে নয়া উদারনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে। যেকোনও একটা লড়াই আলাদা করে চালালে চলবে না, কাজটা কঠিন। কারণ আমরা শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিষয়ের নিরিখেই লড়াই করে অভ্যস্ত। মানুষের রুটি রুজির লড়াই, নানা গোষ্ঠীর মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সূত্রে লড়াই। আজকের শত্রু অন্যরকম। এরা বৃহৎ পুঁজিপতিদের শ্রেণীগত অবস্থান ব্যবহার করে একটি আদর্শগত ও রাজনৈতিক প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল কাঠামোকে ধ্বংস করছে।

অবামপন্থী নানা শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্বাচনী প্রাঙ্গনকেই প্রয়োজনের তালিকায় শীর্ষস্থান দিয়ে থাকে। এ পদ্ধতি যথেষ্ট না, এভাবে ওদের বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। হারানো যাবে না।

কারণ, প্রথমত আরএসএস বিজেপির একটি গণভিত্তি ও প্রভাব আছে।  দু’একটি নির্বাচনে হারলেই ওদের রাজনৈতিক ও আদর্শগত প্রভাব নির্মূল হয়ে যাবে না। ২০০৪ সালে বাজপেয়ী সরকারের পরাজয়ের পরেও ২০১৪ সালে ওরা আবার ফিরে এসেছে। তারপর ধরুন ট্রাম্প। ২০২০ সালে হেরে গিয়ে ২০২৪ সালে আবার নির্বাচিত হল। কারণ ওই সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির নির্মূল না হওয়া। কাজেই বুঝতে হবে যে লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র হল আদর্শগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা জগৎ সম্বন্ধীয়। কারণ এ সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে আরএসএস সমানেই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। আরএসএস তার নির্বাচনী লড়াই তার রাজনৈতিক শাখা, অর্থাৎ বিজেপির উপর ছেড়ে দিয়ে নিজে সামাজিক ক্ষেত্রে, শিক্ষার ক্ষেত্রে, ধর্মীয় ক্ষেত্রে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। মোদী সরকার এই প্রতিটি ক্ষেত্রে আক্রমণ করেছে। এলডিএফ শাসিত কেরালাতে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে থাকা রাজ্যপালকে ব্যবহার করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে আরএসএস। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে তারা এ কাজ খুব সহজে এবং প্রকাশ্যেই করে থাকে। তবে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে ব্যবহার করা ওদের খুব পছন্দের পদ্ধতি। শুধু তাই নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে উচ্চতর শিক্ষা থেকে স্কুলের শিক্ষা— সমস্ত পাঠক্রমেরই আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনের আনুকূল্যে ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান এমনকি প্রকৃতিক বিজ্ঞানের পাঠক্রম অবধি পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। লড়াইয়ের এই ক্ষেত্রটিতে আমাদের জোর দেওয়া দরকার। আমার মনে হয় এ কাজে সকলেই এমনকি বামপন্থীরাও যারা আরএসএসের সবচেয়ে দৃঢ় এবং ব্যতিক্রমহীন শত্রু, তারা পর্যন্ত পিছিয়ে রয়েছে। ওরা কিছু করলে আমরা তার জবাবে কিছু করছি। কিন্তু মানুষের মনে আমাদের প্রভাব বিস্তার করতে গেলে যা করা দরকার, সেভাবে আমরা লড়ছি না। বিহার থেকে মহারাষ্ট্র অঞ্চলের ব্যাপক সংখ্যক মানুষ ইতিমধ্যেই হিন্দুত্ব আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। বিজেপি আরএসএস এক “বিশ্ব হিন্দু” ধাঁচের ধারণা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। এ মানুষগুলির মধ্যে আমরা কীভাবে আমাদের লড়াই চালাব? যাদের মধ্যে হিন্দুত্বের প্রভাব ইতিমধ্যেই সংক্রমিত, তাদের মধ্যে লড়াই চালাতে গেলে আমাদের সেই কৌশল আবিষ্কার করতে হবে। আর কেরালার মত যে রাজ্য যেখানে এখনও হিন্দুত্ব জনগণের মধ্যে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি, সেখানে আমাদের লড়াই, ওদের একঘরে করে দেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। কিন্তু ওরা ওদের চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। আমাদের উচিত হবে, ওরা কখন কী করে তার প্রত্যুত্তর দেওয়ার অপেক্ষা না করে নিজেদের থেকে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা শেষ দুটি পার্টি কংগ্রেসে এবং এই সদ্য হয়ে যাওয়া কংগ্রেসেও এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। একটা অংশে স্রেফ “কীভাবে হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে” তাই আলোচিত হয়েছে। প্রথম কৌশল হিসাবে বলা হয়েছে আমাদের যাবতীয় বৌদ্ধিক সম্পদ প্রয়োগ করে, শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে আরএসএস’র হিন্দুত্ব প্রকল্পের স্বরূপকে উন্মোচিত করা এবং তার বিকল্প সমাধান দেওয়া।

দ্বিতীয় হল নয়া-উদারবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং বিজেপি আরএসএস ও তাদের সাম্প্রদায়িক প্রকল্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আদর্শগত সংগ্রামের মেলবন্ধন ঘটানো।

তৃতীয়, আরএসএসের হিন্দুত্ব প্রকল্পের একটা অংশ যে মনুস্মৃতি নির্ভর, এবং সেকারণেই নারীবিদ্বেষী, দলিত ও আদিবাসী বিরোধী। নানাভাবে এটাকে আড়াল করে ‘হিন্দু ঐক্য’ তৈরী করার চেষ্টা করে ওরা। কিন্তু আমাদের কর্তব্য এই মনুবাদী মতাদর্শের ফলে সৃষ্ট সামাজিক শোষণকে উন্মোচিত করা, এর বিরুদ্ধে লড়াই করা। আর সেটা শুধু সংরক্ষণের অধিকার সংরক্ষণ করেই নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে মনুবাদ কীভাবে দলিত, নারী, আদিবাসীদের শোষণ করছে, নিপীড়ন করছে, তা আমাদের প্রকাশ্যে আনতে হবে।

চতুর্থত, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের যাবতীয় মানব সম্পদ, অর্থাৎ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে হবে যাতে তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশকে রুখতে পারেন।

পঞ্চমত, আরএসএস সামাজিক প্রকল্প, পরিষেবা অনুষ্ঠান করে। আমাদের এসব ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ওদের প্রভাবকে আটকাতে পারি।

ষষ্ঠত, ধর্মস্থান, ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ব্যবহার করে আরএসএস নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। আমাদের কাজ হবে ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষকে বোঝানো যাতে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস হিন্দুত্বের মত একটি রাজনৈতিক প্রকল্পে ব্যবহৃত হতে না পারে। ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষদের মধ্যে কাজ করা, তাদের মধ্যে প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের সঞ্চার ঘটানো— এগুলি আমাদের শিখতে হবে।

এই সবকটি কাজ আমাদের সামনে। আমরা নিশ্চিত যদি সিপিআই(এম) ও বামপন্থী শক্তিগুলি এ কাজ গুরুত্বসহকারে শুরু করে তাহলে আমরা ক্রমেই বৃহত্তর জনসমর্থন পাব এবং ক্রমে ভারতের মানুষ ও সমাজের এই ব্যাপক ক্ষতির জন্য দায়ী আরএসএস-কর্পোরেট পুঁজির জোটের আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পরাজিত করতে পারব।

ধন্যবাদ।

 

কোঝিকোড়ের কেলুয়েত্তান সেন্টারে ‘ক্রিটিক্যাল কোর্স অন হিন্দুত্ব’ শিরোনামে ৬মাস ব্যাপী একটি পাঠ্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই উদ্বোধনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত একটি বক্তৃতা দেন, এই প্রতিবেদনে তারই বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হল।

 

ভাষান্তরঃ সৌভিক ঘোষ, সাত্যকি ভট্টাচার্য


প্রকাশের তারিখ: ২৬-অক্টোবর-২০২৫

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org