|
পুঁজিবাদী আগ্রাসনঃ যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনDr.Tanusree Chakraborty |
পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের ফলে কর্পোরেট সংস্থাগুলি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সস্তা শ্রম ও সস্তা সম্পদ খুঁজে বেড়ায়। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়া হচ্ছে। খনি, বাঁধ, তেল উত্তোলন, বন উজাড়—এসব কার্যকলাপ স্থানীয় মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, পরিবেশকে ধ্বংস করে। অথচ মুনাফা চলে যায় কর্পোরেট কেন্দ্রগুলোতে। |
মানবসভ্যতার ইতিহাসে যুদ্ধ, পুঁজিবাদ ও পরিবেশ সবসময় পরস্পরের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত একটি বিষয়।২১ শতকে জলবায়ু পরিবর্তন এক বিশ্বব্যাপী সংকট, কিন্তু এর মূলে অর্থনৈতিক কাঠামো ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব গভীরভাবে কাজ করছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে যুদ্ধ এক অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। তবে যুদ্ধ মানে শুধু মানুষ হত্যা, দখল, কিংবা রাজনৈতিক সীমান্ত পরিবর্তন নয়। যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি—মাটি, জল, বন, বায়ুমণ্ডল, প্রাণীজগৎ সবই এর শিকার। যুদ্ধ যত আধুনিক হয়েছে, এর ধ্বংসযজ্ঞ ততই বহুমাত্রিক ও গভীর হয়েছে। আধুনিক যুগে যুদ্ধের প্রধান চালিকা শক্তি হলো সামরিক প্রযুক্তি। যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, সাবমেরিন, ক্ষেপণাস্ত্র, এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো চালু রাখতে যে পরিমাণ জ্বালানি পোড়াতে হয়, তা বহু রাষ্ট্রের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের সমান। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মার্কিন সেনাবাহিনী একাই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ “কার্বন দূষণকারী প্রতিষ্ঠান।” অর্থাৎ একটি দেশের সামরিক বাহিনী আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হলে, তা বিশ্বের শীর্ষ দূষণকারীদের মধ্যে থাকবে। যুদ্ধর প্রতিটি ধাপে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পুড়ছে, যার ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে এবং বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ পরিবেশ ধ্বংসের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। মার্কিন সেনারা “Agent Orange” নামক রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা বন ও কৃষিজমি ধ্বংস করার জন্য উপযুক্ত ছিল। এর ফলে লাখ লাখ হেক্টর বন উজাড় হয়, মাটি ও জলের স্থায়ী দূষণ ঘটে, এমনকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের জেনেটিক ত্রুটি দেখা যায়। যুদ্ধের ক্ষতি শুধু যুদ্ধকালীন সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; কয়েক দশক পরও এর প্রতিক্রিয়া থেকে গেছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে যে পরিমান তেল পুড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়েছিল বিপুল পরিমাণ কার্বন ও বিষাক্ত কণিকা তা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিবেশ পুনর্গঠন করা আজও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আসে—যুদ্ধ কি শুধুই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফল? নাকি যুদ্ধ নিজেই একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ? বাস্তবে দেখা যায়, যুদ্ধ সামরিক শিল্প-অর্থনীতিকে (Military-Industrial Complex) টিকিয়ে রাখে। অস্ত্র উৎপাদন ও বিক্রি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা। আর অস্ত্রশিল্প মানেই খনিজ উত্তোলন, ধাতু প্রক্রিয়াকরণ, রাসায়নিক ব্যবহার, এবং বিশাল জ্বালানি খরচ। প্রতিটি ধাপেই পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ হাজারো ভবন ধ্বংস করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হয়েছে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণ ও অস্ত্র ব্যবহারে মাটি, জল ও বাতাস দূষিত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করছে। এর ফলে খাদ্য সংকট বাড়ছে এবং শরণার্থী জনগোষ্ঠী নতুন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপ রাশিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে আবার কয়লা ও তেল ব্যবহার বাড়িয়েছে, ফলে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে। সামরিক কার্যক্রমে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও জাহাজ বিপুল জ্বালানি খরচ করছে। একইসাথে অবকাঠামো ধ্বংস — যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস পাইপলাইন ও শিল্প কারখানা — পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কার্বন খরচ যোগ করছে। ইউক্রেন বিশ্বের প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশগুলির একটি; কৃষি উৎপাদন হ্রাস বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধে নিহত সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সংখ্যা চোখে পড়ে, কিন্তু পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি প্রায়ই অদৃশ্য থেকে যায়। মাটির উর্বরতা হারানো, জলদূষণ, প্রাণীর বিলুপ্তি — এসব ধীরে ধীরে ঘটে, কিন্তু এর প্রভাব শতাব্দীব্যাপী থেকে যায়। একবার উজাড় হওয়া বন পুনর্গঠিত হতে শত বছর লেগে যায়। একইভাবে, রাসায়নিক দূষণের ফলে জমি বা জলের পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখানে একটি বিষয়কে বাদ দিলে, আমার চর্চার মূল বিষয়বস্তু থেকে দূরে চলে যায়। পুঁজিবাদ এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো যেখানে মূল লক্ষ্য মুনাফা সর্বাধিক করা। মানুষ, প্রকৃতি, শ্রম—সবকিছুকে এই ব্যবস্থায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পুঁজিবাদ নিজেকে সভ্যতার চালক হিসেবে উপস্থাপন করে, কিন্তু বাস্তবে এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদকে অতি দ্রুত শোষণ করে চলেছে। আর এই শোষণের ফলাফল এখন স্পষ্ট—অতিবৃষ্টি, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিবেশ ধ্বংসের ইতিহাস শিল্প বিপ্লবের সময় থেকেই শুরু। ১৮শ শতাব্দীর শেষ থেকে ইউরোপে কয়লা, লোহা ও মেশিনের উপর ভিত্তি করে যে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তা বিপুল হারে প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ করতে থাকে। কয়লা জ্বালিয়ে কারখানা চালানো, রেলপথ বসানো, জাহাজ তৈরি—সবকিছুই বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ ঘটাতে থাকে। শিল্প বিপ্লব মানব সমাজকে আধুনিকতার দিকে ঠেলে দিলেও প্রকৃতির উপর আরোপ করল এক দীর্ঘস্থায়ী শোষণ। আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দূষণ উৎস হলো ফসিল ফুয়েল—কয়লা, তেল ও গ্যাস। যা সরাসরি পুঁজিবাদী বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তেল কোম্পানিগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিপুল মুনাফা করছে, অথচ তাদের ব্যবসার মূল প্রভাব হলো কার্বন নিঃসরণ। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০০টি বৃহৎ কর্পোরেশন পৃথিবীর মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী। অর্থাৎ পরিবেশ সংকট কেবল “ব্যক্তিগত অভ্যাসের” ফল নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর ফল। পুঁজিবাদ শুধু উৎপাদন নয়, ভোগকেও নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞাপন, মিডিয়া ও কর্পোরেট প্রচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা হয়। প্রতিদিন নতুন পোশাক, নতুন মোবাইল ফোন, নতুন গাড়ির প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে বাজারকে সচল রাখা হয়। এই ভোগবাদী সংস্কৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, “ফাস্ট ফ্যাশন” (fast fashion) শিল্প বিশ্বব্যাপী 5.জলে দূষণের অন্যতম বড় কারণ। একইভাবে, “ইলেকট্রনিক বর্জ্য” (E-waste) এখন একটি বৈশ্বিক সংকট। পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের ফলে কর্পোরেট সংস্থাগুলি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সস্তা শ্রম ও সস্তা সম্পদ খুঁজে বেড়ায়। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়া হচ্ছে। খনি, বাঁধ, তেল উত্তোলন, বন উজাড়—এসব কার্যকলাপ স্থানীয় মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, পরিবেশকে ধ্বংস করে। অথচ মুনাফা চলে যায় কর্পোরেট কেন্দ্রগুলোতে। আজকাল বড় বড় কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। বিজ্ঞাপনে তারা “সবুজ উদ্যোগ” (green planet) প্রচার করে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং ব্যবহার করে, কিংবা “কার্বন নিরপেক্ষ” হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর বেশিরভাগই কেবল “গ্রিনওয়াশিং” (greenwashing) অর্থাৎ, পরিবেশবান্ধবতার আড়ালে প্রকৃতিকে শোষণ করার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। পুঁজিবাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো বৈষম্য। ধনী দেশগুলো ভোগ করে বিপুল সম্পদ, অথচ পরিবেশ সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করে দরিদ্র দেশগুলো। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার অনেক দেশ খুব কম কার্বন নিঃসরণ করেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও দুর্ভিক্ষে ভুগছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ বিপুল কার্বন নিঃসরণ করেও প্রযুক্তি ও সম্পদ দিয়ে নিজেদের অনেকটা রক্ষা করতে পারছে। এই বৈষম্য জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব হলো—পুঁজিবাদ মুনাফাকে সর্বোচ্চে রাখে, আর প্রকৃতিকে কেবল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু প্রকৃতির সীমা আছে। যুদ্ধ এবং পুঁজিবাদকে অনেক সময় আলাদা দুটি বিষয় বলে মনে করা হয়। একটি রাজনৈতিক সংঘাত, অন্যটি অর্থনৈতিক কাঠামো। কিন্তু বাস্তবে এরা গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ পুঁজিবাদকে খাদ্য জোগায়, আর পুঁজিবাদ যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখে। এর মধ্যবর্তী সম্পর্ক বোঝা জরুরি, কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপথের একটি বড় অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার সতর্ক করেছিলেন “Military-Industrial Complex” সম্পর্কে। এর অর্থ হলো সামরিক বাহিনী, অস্ত্রশিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক শক্তি—সবাই মিলে এমন একটি জোট তৈরি করেছে, যেটি যুদ্ধকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলে। যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, অস্ত্র বিক্রি তত বাড়ে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়, কোম্পানিগুলো মুনাফা পায়। অস্ত্র উৎপাদন মানেই খনিজ উত্তোলন, ধাতু প্রক্রিয়াকরণ, রাসায়নিকের অধিক ব্যবহার এবং বিপুল কার্বন নিঃসরণ। ফলে যুদ্ধ নামক ব্যবসা পৃথিবীর পরিবেশের উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রধানত ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভরশীল। তেল, গ্যাস ও কয়লার নিয়ন্ত্রণকে ঘিরেই বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। উপসাগরীয় যুদ্ধগুলো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া—সব জায়গায় তেলের রাজনীতি সামরিক হস্তক্ষেপের মূল চালিকা শক্তি। কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার জন্য রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধকে ব্যবহার করেছে, যার ফলে তেল ব্যবসা লাভবান হয়েছে, কিন্তু পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায় একটি নতুন শিল্প—পুনর্গঠন ব্যবসা। কাঠামো পুনর্নির্মাণ, নতুন কারখানা, নতুন সড়ক, নতুন সেতু—এসব কাজেও কর্পোরেশনগুলো বিপুল মুনাফা করে। যুদ্ধ মানে তাই দ্বিগুণ মুনাফা: প্রথমে অস্ত্র বিক্রি, পরে পুনর্গঠন চুক্তি। কিন্তু এই দুই প্রক্রিয়াতেই পরিবেশের উপর চাপ বাড়ে—খনিজ উত্তোলন, সিমেন্ট উৎপাদন, ইস্পাত ব্যবহার, সবই উচ্চমাত্রায় কার্বন নির্গমন ঘটায়। দ্বিতীয় পর্ব থাকবেঃ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন জল, খাদ্য বা উর্বর জমির সংকট। যুদ্ধ ও পুঁজিবাদের এই মেলবন্ধন । বিকল্প ব্যবস্থা বাজারী ধান্দার পুঁজিবাজ তাকে গ্রাস করে ফেলছে। ![]() প্রকাশের তারিখ: ১৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|