|
বিজেপি’র ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ — সম্পূর্ণতই ভুল এবং অনৈতিকSujan Chakraborty |
হিন্দুত্ববাদীরা চেয়েছিল খণ্ডিত বাংলায় নিরঙ্কুশ অখণ্ড ‘হিন্দুত্ব’ সাম্প্রদায়িকতা। লিগ চেয়েছিল মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার আওতায় গোটা বাংলার অন্তর্ভুক্তিকরণ। কমিউনিস্ট পার্টি বাংলা ভাগে সম্মতি দিতে বাধ্য হলো — সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আগ্রাসন থেকে বাংলাকে যতটা সম্ভব সুরক্ষা দেবার জন্য। স্বয়ং জ্যোতি বসু লিখে গেছেন— ‘পার্টি দেশবিভাগের বিরোধিতা করেছিল — কিন্তু এর প্রতিরোধ করার মতো শক্তি ও প্রভাব পার্টির ছিল না’। |
| ২০ জুন নাকি পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন! পশ্চিমবঙ্গ দিবস! জনক নাকি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! বিজেপি’র সেরকমই দাবি। অতএব ঢাকঢোল পিটিয়ে জন্মদিনের উৎসব করতে হবে। বিজেপি’র এই প্রস্তাবনা ভুল এবং অনৈতিহাসিক। মাঝে তৃণমূল কংগ্রেস লেগে পড়েছিল পয়লা বৈশাখ নাকি হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। সেটাও একইরকমভাবে বেঠিক। স্বাধীনতা সংগ্রামের কালপর্বে বাংলাকে ভাগ করার ব্রিটিশ চক্রান্ত অনেক পুরনো। কৃষি-শিল্প-শিক্ষা-সংস্কৃতি থেকে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে, প্রতিরোধে বাংলার ভূমিকা বরাবরই অগ্রগন্য। সেই বাংলাকে এবং বাঙালি জাতিসত্তাকে দুর্বল করতেই লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৫ সালে। পারেনি। বাংলা রুখে দিয়েছে। গোটা বাংলা জুড়ে প্রতিরোধে ‘অরন্ধন’ পালন করেছে। ‘রাখিবন্ধন’ করেছে। সামনে থেকেছেন রবীন্দ্রনাথ সহ সবাই। ব্রিটিশের ‘বঙ্গভঙ্গ’কে রোধ করতে পেরেছেন। গর্ববোধ করেছেন বাংলার মানুষ। কিন্তু বাংলাকে দুর্বল করার সেই চক্রান্ত চলতেই থাকল। নানান সময়ে, নানান অজুহাতে, নানান ভঙ্গিতে। অবশেষে, শেষমেষ স্বাধীনতার অংশ হিসাবেই দেশভাগ। পাঞ্জাব এবং বাংলা ভাগ। ১৯৪৭-এর ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন যে, ১৯৪৮ সালের জুন মাসে ভারতবাসীর হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। মাউন্টব্যাটেন ভারতের শেষ ভাইসরয় হিসাবে দায়িত্ব নিলেন মার্চ, ১৯৪৭-এ। কয়েকদিনের মধ্যেই, ৩রা জুন, ঘোষিত হলো মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা। যা ব্রিটিশ ভারতকে বিভাজনেরই একটি ব্লু-প্রিন্ট। কার্যত সেদিনই দেশভাগ এবং বাংলাভাগ ঘোষিত হয়ে গেল। তার অংশ হিসাবেই ১৯৪৭-এর ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার আনুষ্ঠানিক অধিবেশন, ব্রিটিশ পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই। স্বাধীনতার অংশ হিসাবেই দেশভাগ — বাংলা ভাগ। স্বাধীনতার অংশ হিসাবে দেশভাগ অথবা বাংলাভাগ কোনোটাই দেশবাসী চাননি। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের কোনো পক্ষই এরকম দাবি করেনি। চেয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তি। মুসলিম লিগ পাকিস্তান গড়তে চেয়েছে সাম্প্রদায়িক মনোভাবে। তার পিছনে দ্বিজাতি তত্ত্ব। হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি, তারা একসাথে থাকতে পারে না — এটা যেমন মুসলিম লীগ, তেমনই হিন্দুত্ববাদীদের মনোভাব। ৩ জুনের ব্রিটিশ বিবৃতি নিয়ে মাউন্টব্যাটেন বসলেন কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের নেতাদের সঙ্গে। দুই দলের তিনজন করে নেতা এবং সঙ্গে শিখ প্রতিনিধি সরদার বলদেব সিং। বাংলার কোনো প্রতিনিধি এই সভায় ছিলেন না। মুসলিম লিগ তো আগে থেকেই ভারত ভাগের পক্ষে। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা এবং শিখ প্রতিনিধিও মেনে নিলেন এই বিভাজন। বস্তুত পক্ষে তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ‘ঐক্যবদ্ধ ভারতে ঐক্যবদ্ধ বাংলা'র পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এসেছে। বাংলার কংগ্রেস নেতা শরৎ বসু, মুসলিম লিগ নেতা আবুল হাসিম সহ মূল নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ বাংলার পক্ষে। বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতে কী হবে? কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের জাতীয় নেতারা ইতিমধ্যেই দেশভাগ এবং বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছেন। আর বাংলার হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলাভাগের পক্ষে জোরদার সওয়াল করে চলেছেন। দেশভাগ না হলেও বাংলাকে ভাগ করতেই হবে — এই ছিল তার অবস্থান। ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় কি হয়েছিল? ২০ জুন, ১৯৪৭ বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার (Bengal Legislative Assembly) আনুষ্ঠানিক অধিবেশন। প্রকৃত অর্থে অধিবেশনের নামে প্রহসন। কেননা, ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে, দেশ ভাগ হবে। এবং তার সাথে সাথেই বাংলা ভাগ হবে। যে সিদ্ধান্ত হয়ে রয়েছে তাতে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর। কোনো বক্তব্য রাখার সুযোগ সে অধিবেশনে নেই। শুধুই ভোটাভুটি। কেবল প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটদান অথবা বিরত থাকা। বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে তখন ২৫০ জন সদস্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম লিগের ১১৩ জন, কংগ্রেস ৮৬ জন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ৩ জন, (জ্যোতি বসু, রতনলাল ব্রাহ্মণ এবং রূপনারায়ণ রায়) হিন্দু মহাসভার ১ জন (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি)। তার সঙ্গে ইউরোপিয়ান সদস্য ২৫ জন এবং কয়েকজন নির্দল। বিজেপি দাবি করে যে, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিই পশ্চিমবাংলার জনক। হিন্দু মহাসভার একজন সদস্য — অথচ তিনিই হয়ে গেলেন জনক! বস্তুতপক্ষে সেদিনের অধিবেশনে তিনি কোনো প্রস্তাবই করেননি। ওই সময়ের সংবাদপত্রে ওইদিনের অধিবেশনে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকার বিশেষ কোনো উল্লেখও পাওয়া যায় না। কেবলমাত্র নিজের ভোটটি তিনি দিয়েছিলেন। স্বভাবতই এধরনের প্রচার মিথ্যা, উদ্দেশ্যপূর্ন এবং বাতুলতা মাত্র। অধিবেশনে তিনটি ভোট হয়। একটি হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির, অর্থাৎ সমস্ত সদস্যকে নিয়ে যৌথ অধিবেশন। সেখানে ভারতীয় গণপরিষদে অখণ্ড বাংলা যোগ দেবে — এই প্রস্তাব ১২৬-৯০ ভোটে অগ্রাহ্য হয়। ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল। অর্থাৎ অখণ্ড বাংলা ভারতের অংশভুক্ত হবে না। এরপর দুটি ভোট হয়। একটি পশ্চিমবঙ্গীয় অংশের, অপরটি পূর্ববঙ্গীয় অংশের সদস্যদের নিয়ে। পূর্ববঙ্গীয় অংশে বাংলা ভাগের প্রস্তাব ১০৬-৩৫ ভোটে অগ্রাহ্য হয়। পশ্চিমবঙ্গীয় অংশে বাংলা ভাগের সমর্থনে প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। পশ্চিমবঙ্গীয় অংশকে ভারতীয় গণপরিষদে যুক্ত করার প্রস্তাবও ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। বলাবাহুল্য, মুসলিম লিগ সদস্যরা যেমন বাংলাভাগের বিরোধিতা করেছিলেন তেমনই কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট সদস্যরা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। হিন্দু মহাসভার একজন সদস্যও বাংলা ভাগের পক্ষেই ভোট দেন। কমিউনিস্টদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, দেশভাগ কিংবা বাংলা ভাগ প্রতিটি বিষয়েই কমিউনিস্টদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। ২০ জুনের অধিবেশনে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান কি ছিল তা দৈনিক স্বাধীনতা পত্রিকার সংবাদে পরিষ্কার হয়ে যায়। ঐদিনের দুটি শিরোনাম ছিল— ‘আইনসভার ভোটাভুটি যেন বাংলার গৃহযুদ্ধে ইন্ধন না যোগায়’ এবং ‘দুই বাংলার মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাই বাঙালী জাতির ভবিষ্যৎ’। যেহেতু এই অধিবেশনে সদস্যদের বক্তব্য রাখার কোনো সুযোগ ছিল না, তাই আগের দিন অর্থাৎ ১৯ জুন তিনজন কমিউনিস্ট সদস্য কমরেড জ্যোতি বসু, রতনলাল ব্রাহ্মণ এবং রূপনারায়ণ রায় একটি যুক্ত বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে স্পষ্ট বলা হলো — ‘‘মাউন্টব্যাটেন অ্যাওয়ার্ড সার্বভৌম বাংলা গঠনের কোনো উপায় রাখেনি। আমরা বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সমস্ত বিধায়কদের কাছে আবেদন জানাবো যে, তারা যেন এমনভাবে ভোট দেন যাতে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে না যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম লিগ সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করবার যে চেষ্টা করছে তাকে ন্যায়সঙ্গতভাবেই পশ্চিমবঙ্গের অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বলপ্রয়োগ বলে বিবেচনা করতে পারেন। আমরা তাই বাংলাভাগের পক্ষেই ভোট দেব যাতে কোনো অনিচ্ছুক অংশের উপরে বলপ্রয়োগ না হয়।’’ জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে বাংলা বিভাজনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট বিধায়করা। অন্য কোন বিকল্প তখন ছিলনা। হিন্দুত্ববাদীরা চেয়েছিল খণ্ডিত বাংলায় নিরঙ্কুশ অখণ্ড ‘হিন্দুত্ব’ সাম্প্রদায়িকতা। লিগ চেয়েছিল মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার আওতায় গোটা বাংলার অন্তর্ভুক্তিকরণ। কমিউনিস্ট পার্টি বাংলা ভাগে সম্মতি দিতে বাধ্য হলো — সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আগ্রাসন থেকে বাংলাকে যতটা সম্ভব সুরক্ষা দেবার জন্য। স্বয়ং জ্যোতি বসু লিখে গেছেন— ‘পার্টি দেশবিভাগের বিরোধিতা করেছিল — কিন্তু এর প্রতিরোধ করার মতো শক্তি ও প্রভাব পার্টির ছিল না’। বাংলার বিভাজন কোনো গণভোটের ফল নয় ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজিত বাংলা — এটা কোনো গণভোটের ফলাফল নয়। ব্রিটিশের পরিকল্পনা মোতাবেক একটা আনুষ্ঠানিকতা। ভোটে অংশ নিয়েছিলেন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির ২১৯ জন সদস্য মাত্র। সেই আইনসভা গঠিত হয়েছিল সমগ্র নাগরিকদের ভোটে নয়। মাত্র ১৪ শতাংশের সীমাবদ্ধ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। তৎকালীন অখণ্ড বাংলার জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। অথচ এতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত করানো হলো অল্প কয়েকজনের ভোটাভুটিতে। গণভোটে নয়। কি নির্মম পরিহাস! দেড় বছরের ঘোষিত সময়সীমা বদলে ফেলা হলো। জুন,১৯৪৮ এর জায়গায় এগিয়ে আনা হলো আগষ্ট, ১৯৪৭ এ। মাত্র ছ’মাসের মধ্যে তড়িঘড়ি করে, ভারত ভাগ এবং ক্ষমতা হস্তান্তর। মাত্র একমাস সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত তাড়াহুড়ো করে র্যাডক্লিফ কমিশন কর্তৃক বাংলার সীমানা নির্ধারণ। এর কোনোটাই কি স্বাভাবিক? যথাযথ? এসব নিয়ে অনেক আলোচনার সুযোগ থেকেই যায়। কার্যত মানুষকে বাদ দিয়ে, তাদের মতামত পরামর্শ বাদ দিয়েই বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হলো কাঁটাতারের বেড়া। উদ্বাস্তু, অনুপ্রবেশকারী, বে-আইনি, বে-নাগরিক— নানান ধরনের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা। সমস্তটাই চাপিয়ে দেওয়া। বিশেষত, ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাংলার গরিব মানুষের উপর। ইতিমধ্যেই ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত ওপার বাংলায় ভাষার ভিত্তিতে পাকিস্তান ভেঙে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। ভাষা কিংবা জাতিসত্তা ধর্মের বিচারে বিভাজিত হতে পারে না — তা আবারও স্পষ্ট হলো। ১৯৪৬ সালের ২৩ এপ্রিল জনযুদ্ধ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে প্রকাশিত হচ্ছে — ‘‘বঙ্গভঙ্গ হইতে দিব না’’। কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ভবানী সেন লিখছেন। "প্রত্যেক বাঙালীর প্রতি কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ আহ্বান — সাম্রাজ্যবাদীরা আজ বাংলার অস্তিত্ব লোপের জন্য ষড়যন্ত্র করিতেছে, সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলার সর্বসাধারণ আজ এক হউক"। গভীরে গিয়ে চিন্তার অবকাশ তো আছে বটেই। প্রতি পদে পদেই বাংলা ও বাঙালীকে বিপন্ন করার একটা সার্বিক ব্যবস্থাপনা — আজও ধারাবাহিক ভাবে বহমান রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ভুল এবং অনৈতিহাসিক প্রস্তাবনা ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেন? কীভাবে? ২০ জুন কি পশ্চিমবাংলা জন্ম নিয়েছিল? না। ৩ জুনের ঘোষিত প্রস্তাব ব্রিটিশের। ২০ জুন আনুষ্ঠানিকতা। পশ্চিমবঙ্গীয় বাংলা যে ভারতের মধ্যে থাকবে - তার সিদ্ধান্ত আইনসভায়। ভারত দেশ এবং তার মধ্যে অঙ্গরাজ্য হিসাবে পশ্চিমবাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ১৫ আগস্ট। কিন্তু সেই পশ্চিমবাংলার চেহারা কি ছিল? তখন মুর্শিদাবাদ নেই কিন্তু খুলনা আছে পশ্চিমবঙ্গে। এপার ওপার সীমানা নির্ধারন করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক মানচিত্র ১৮ আগস্টের। কিন্তু তাতেও কোচবিহার নেই। কোচবিহারের পশ্চিমবঙ্গ ভুক্তি ১৯৫০-এর ১ জানুয়ারি। তাহলে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হয় কী করে? এরপরে বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রচণ্ড চাপাচাপি চলল কয়েকবছর। সেসব কাটিয়ে শেষমেষ এখনকার পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অংশ হলো ১ নভেম্বর ১৯৫৬। এরপরেও থেকে গেল ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়, ৩১ জুলাই, ২০১৫। এখনকার পশ্চিমবাংলার মানচিত্র অতএব ৩১ জুলাই, ২০১৫-এর। আর মোটা দাগে বিবেচনা করতে চাইলে কোচবিহার, পুরুলিয়া জেলা সহ ১ নভেম্বর, ১৯৫৬ পশ্চিমবঙ্গ দিবস বলে বিবেচিত হতে পারে। অন্য যেকোনো প্রস্তাবনাই ভুল, অনৈতিহাসিক এবং অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত — এবিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে না। খারিজ করতে হবে যে কোন রকমের উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং অনৈতিহাসিক ভুল রাজনৈতিক আখ্যানকেই। বাংলার কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি-মূল্যবোধ, বাংলার পরম্পরা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, বাংলার মাটির গভীরে জন্ম নেওয়া লোকগাথা-লোকশিল্প, বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল, সত্যজিৎ রায়-অমর্ত্য সেন — আমাদের অজস্র সম্পদ। গৌরবের এক একটি পালক। এইসব মিলিয়েই আমাদের শক্তি। বাংলা এবং বাঙালি জাতিসত্ত্বার মাথা উঁচু করে পথ চলার শক্তিকেই বরং দৃঢ় করতে হবে। পুনরুত্থান ঘটাতে হবে বামপন্থারই। ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করতে হবে মানুষকে। প্রতিবেদনটি দেশহিতৈষী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশের তারিখ: ২০-জুন-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|