|
১৭৫ বছর পেরিয়ে- পার্থ মুখোপাধ্যায় ..Partha Mukherjee |
|
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ (মঙ্গলবার)
পুঁজিবাদ বিরোধী বিপ্লবের কর্মসূচি হলেও ইস্তেহার। একচেটিয়া পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের পর্যায়ে আবির্ভূত হওয়ার পূর্বেই ১৮৪৮ সালে ইস্তেহার বিস্ময়কর ভাবে ধনতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার বিকাশ ও বিশ্বায়নের প্রবণতা সম্পর্কে অবহিত করেছেন । অনিয়ন্ত্রিত বাজারের শক্তি এবং বহুজাতিক কর্পোরেটের বিশ্বব্যাপী ভূমিকায় মার্কসের বক্তব্য , "উৎপাদিকা শক্তির ব্যাপক ও বিশাল চেহারা" কে প্রতিষ্ঠিত করেছে কিন্তু এর ফলশ্রুতিতে মানব সভ্যতার খাদ্যাভ্যাস অপুষ্টি অসাস্থ্য প্রভৃতি ব্যাধিগুলিকে নিরসন করতে পারেনি। ইস্তেহার গণতন্ত্র প্রসঙ্গে বলেছে "গণতন্ত্রের লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবের প্রথম ধাপ হল সর্বহারা শ্রেণীকে শাসক শ্রেণীতে স্থাপন করা" ।গণতন্ত্রের এই সংগ্রামে জয়যুক্ত হতে হলে গোষ্ঠীগত অধিকার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অধিকারের নিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এরকম একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত হওয়া দরকার । এই প্রসঙ্গেই বুর্জোয়া জমিদার রাষ্ট্র কাঠামোয় এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বশাসন অথবা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে প্রশ্ন গুলি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ইস্তেহারে আলোচিত প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ শক্তিকে প্রতিটি সমাজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী সৃজনশীল ভাবে মার্কসবাদ এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। যার মধ্যে দিয়ে ইস্তেহারের কাঙ্ক্ষিত মানব মুক্তির লক্ষ্য পূর্ণ হবে। মার্কসবাদীরা গণতন্ত্রের সংগ্রামের সাথে জনগণতন্ত্রের অথবা সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের জীবন্ত সম্পর্ক বুঝতে সক্ষম। কারো কারো মার্কসবাদ বোঝাটা যদি পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমায়িত থাকে তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেণী সংগ্রামের কথা বলে তর্জন-গর্জন করলেও অন্ধকারে কালো বেড়াল খোঁজার মতো দিশেহারা হয়ে পড়েন। কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহারের মূল নীতিগুলি ব্যবহারিক প্রয়োগ নির্ভর করে তার ঐতিহাসিক অবস্থার ওপরে। মূল বিষয়গুলি মৌলিক ।কিন্তু প্রয়োগের দিকটি দেশ কাল পাত্রের ভিত্তিতে আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক। চীন বা ভিয়েতনামের প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মূল লক্ষ্য শ্রমিক শ্রেণীর আধিপত্যের সুরক্ষা দেওয়া। ভারতবর্ষের পথও তার নির্দিষ্ট স্বাভাবিক অবস্থানকে ঘিরেই গড়ে উঠবে। রাশিয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনে রুশ জাতির আধিপত্য থাকায় কমরেড লেলিন 'আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার' টিকে সংযুক্ত করে অন্য জাতি গুলির অধিকার কে সুনিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু ভারতবর্ষে কোন বিশেষ জাতির শোষণ না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে একই ধরনের মানুষের অবস্থান যদি থাকে (নেপালি আদিবাসী)সেক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ অপেক্ষা স্বায়ত্তশাসনের কথাই বিবেচিত হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার আমাদের কাছে ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ করেছে। তার মূল নীতিগুলিকে একটি দেশ ও কালের প্রয়োগ করার মধ্যে দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। আসলে প্রয়োগের মধ্যেই কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর আসল প্রকাশ। প্রকাশের তারিখ: ২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৩ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|