|
"দ্রিম দ্রিম বাজে রণতূর্য " - কনীনিকা ঘোষ...Unknown |
|
২৪ মার্চ ২০২২, বৃহস্পতিবার সুনয়না ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজটা হাতে নিয়েছিল, হঠাৎ মনে পড়ে গেল আজ অফিস তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হবে। সাগ্নিক অর্কপ্রভ আর মেঘা বলেছে আজ ধর্মঘটের জন্য লিফলেট দেবে । ![]() ডরোথি কিসকু ![]() লক্ষী কাহার, নির্মাণ শ্রমিক। রাস্তা, বাড়ি তৈরীর সময় কখনো রাস্তায় ব্রাশ দিয়ে ঝাঁট দেয় কখনো স্টোন চিপস বয়। এখনতো মাঝে মাঝেই কাজ থাকছে না সবাই বলাবলি করছিল মজুরি বাড়ানোর দাবি নাকি আর করা যাবেনা, ![]() রাবেয়া ফোনে রিচার্জ করতে গিয়ে ভাবছিল, উফফ কি পরিমান খরচ হয়েছে ডাটা এই লকডাউন আর কলেজ বন্ধর জন্য । যা ডাটা খরচ বেড়েছে সে কথা বলার নয়। রূপম,পিয়া মেহেনাজ,ঋকরা বারবার এ কথা বলে। ওরা যখন পোস্টারে নতুন শিক্ষানীতি NEP2020 র বিরুদ্ধে লেখে, যখন মাইকে বলে তখন তো এই কথাই বলে, বাবাও বলছিলেন ডাটা কেনার জন্য এত খরচ খুব অসুবিধা হচ্ছে। বাবা কি করবে বেসরকারি অফিসে চাকরি, মায়নেই তো কত কমিয়ে দিয়েছে লকডাউনে, রাবেয়ার টিউশন গুলো ও ছিল না, না অনলাইন এডুকেশন সত্যিই ভালো না, ঠিকই বলে রূপম রা আসলে সরকার ডিজিটাল ডিভাইড করে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে ও ডিভিশন করতে চাইছে। পয়সা থাকলে পড়া যাবে নয়তো পড়া যাবে না।এ কি সিস্টেম? সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে নয়তো ও বোধহয় আর পড়া চালাতে পারবেনা।আমাদের রাজ্য সেখানেও তো এই একই পদ্ধতি চলছে নাকি বেসরকারি হবে, তাহলে ওর পড়ালেখার কী হবে? ভাবে রাবেয়া, না সত্যিই প্রতিবাদ করতেই হবে সরকারের বিরুদ্ধে। ২৮ _২৯ মার্চ অনেকে মিলে দেশ আর দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারের এই মানুষ বিরোধী নীতি গুলোর জন্যই তো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ওই দিন ধর্মঘট কে সমর্থন করে ঐ শিক্ষানীতির, মানুষ মারা নীতিগুলোর বিরোধিতা করবেই। ![]() রীনা খবরের কাগজের পাতা উল্টাতে গিয়েই আবার দেখল ধর্ষণের খবর, সত্যিই কি হয়েছে রাজ্যে, মেয়েদের কি কোন নিরাপত্তাই থাকবে না! প্রতিদিন মেয়েদের প্রতি হিংসার ঘটনা বাড়ছে, আর কেন্দ্র রাজ্য শাসকদের মুখে বড় বড় বুলি। মানুষের কাজের ব্যবস্থা করছে না, হতাশায় ডুবে যাচ্ছে বড় অংশ তখন তাদের বেপথে নিয়ে যাচ্ছে। মদ, সমাজবিরোধী কাজ সবেতেই প্রশ্রয় দিচ্ছে এরা, কিভাবে সমাজ সুস্থ থাকবে, যেমন ভাবে থাকবে নিরাপত্তা! কাল যখন বাসে করে ফিরছিল, শুনছিল মিটিং হচ্ছে, ২৮–২৯ মার্চ নাকি ধর্মঘট, দেশ বাঁচানোর জন্য, দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য।পেট্রোলের দাম গ্যাসের দাম, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছিল, বলছিল মেয়েদের নিরাপত্তা র কথাও সবকিছুর জন্য সরকারকে জোরে ধাক্কা দিতে হবে। "ঠিকই," রিনা ভাবে মানুষকে বাঁচানোর জন্য মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য, সত্যিই ধাক্কা দরকার ২৮_২৯ এর ধধর্মঘট কে ওর সমর্থন করতে ইচ্ছে হলো ভাবলো, ঐদিন সব বন্ধ রাখতেই হবে ২৮–২৯ শে মার্চ ওর ও ধর্মঘট। এরকম সমাজের বিভিন্ন অংশের, বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন জগতের মহিলাদের দাবিও মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ২৮–২৯ শে মার্চের ধর্মঘটের দাবিগুলোর সাথে। আসলে ধর্মঘট যে দেশ বাঁচানোর জন্য দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য মহিলারা যে এই মানুষেরই এই সমাজেরই অংশ। তাই ছাত্রী, যুবতী, ক্ষেতমজুর, শ্রমিক, কর্মচারী, গৃহবধূ সকলের দাবি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ধর্মঘটের দাবিতে। ![]() রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ বেচে দিলে যে দেশের নতুন কাজ তৈরি হবে না।কেমন করে এগোবে দেশ! যারা তৈরি করবে সভ্যতার ভিত, তারা না খেয়ে থাকবে, আর আদানি আম্বানি কোটি কোটি গুণ সম্পদ বাড়াবে এই প্রান্তিক মানুষের রক্ত ঘামের বিনিময়ে তা চলতে পারে না। এক জাতের নামে অন্য জাতকে খেপানো হবে, যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিরীহ মানুষের রক্তে হোলি খেলা হবে, এদেশ এই রাজ্যকে এরকম চলতে দেওয়া যায় না। এই দেশ আমাদের, রাজ্য আমাদের। তাই আজ রণধ্বনি, রণধ্বনি ২৮,২৯ দুদিন আসমুদ্রহিমাচল কে থামিয়ে দিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার। এই লড়াইতে তাই সব অংশের মেয়েরা আছে, আছে সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, আছে অসীম সাহসিকতায়, সামনের সারিতে। ২৮ ও ২৯শে মার্চ তাই ধর্মঘট তাই হরতাল, চাকা বনধ্। অন্যায় অত্যাচার, দেশ লুটের জবাব চাইতে ওই দুদিন আমার আপনার সবার প্রতিবাদের দিন, ধর্মঘট এর দিন। প্রকাশের তারিখ: ২৪-মার্চ-২০২২ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|